📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার মোহ সমস্ত পাপের মূল

📄 দুনিয়ার মোহ সমস্ত পাপের মূল


হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
حُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ .
'দুনিয়ার মোহ সমস্ত পাপের মূল ও উৎস।[৬৩]
মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন—
'দুনিয়ার মোহ সকল মন্দের মূল। নারীরা হলো শয়তানের ফাঁদ। মদ গর্হিত কাজের দিকে আহ্বানকারী।'

টিকাঃ
[৬৩] কানযুল উম্মাল: ৩/ ১৯৪।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া-বিষয়ে ইবলিস ও তার দোসরদের কথোপকথন

📄 দুনিয়া-বিষয়ে ইবলিস ও তার দোসরদের কথোপকথন


আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়ত প্রাপ্তির পর ইবলিসের দোসররা এসে তাকে জানাল—
'গুরুজি, শেষ নবির আগমন ঘটেছে। ইতিমধ্যে তার একদল অনুসারীও তৈরি হয়ে গেছে।'
'আচ্ছা, তার অনুসারীদের মধ্যে কি দুনিয়ার মোহ ও মহব্বত আছে?'
'হুম, তা আছে। তারা দুনিয়াকে ভীষণ ভালোবাসে।'
'ব্যস, হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে যদি দুনিয়ার মোহ থাকে, তবে তারা মূর্তি পূজা না- করলেও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, আমি তাদেরকে এরচেয়েও বড় ক্ষতিতে নিক্ষেপ করব। আমি তাদেরকে দিন-রাত তিনটি কাজে লিপ্ত রাখব। এক. অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন। দুই. অবৈধ খাতে ব্যয়। তিন. বৈধ খাত পরিত্যাগ। আর তোমরা তো ভালো করেই জানো, এই তিনটি কাজই হলো সমস্ত অন্যায়ের মূল।'[৬৪]
সাবিত রহিমাহুল্লাহু বলেন-
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করার পর ইবলিস- পাড়ায় হইচই শুরু হয়ে যায়। ইবলিস তার অনুচরদের ডেকে বলে, 'দেখো তো সম্প্রতি বিশেষ কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা?'
তারা দুনিয়া ব্যাপী অনুসন্ধান করে ফিরে এসে বলে, না, উস্তাদ। বিশেষ কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারিনি। তখন ইবলিস নিজেই বেরিয়ে পড়ে। এরপর ফিরে এসে বলে, 'দুনিয়ায় একজন নবির আভির্বাব ঘটেছে। তিনিই শেষনবি। পূর্ববর্তীদের মতো এই নবির উম্মতকে ভ্রষ্ট করতে পারলেই আমরা সফল। তোমরা যাও, যেকোনো মূল্যে তাদেরকে বিপথগামী করো এবং পাপকাজে প্ররোচিত করো।'
কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে ইবলিসের কাছে এসে বলল, গুরুজি, এমন মানুষ আমরা জীবনেও দেখিনি। সামান্য পাপ হলেই তারা সালাতে দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহর কাছে তাওবা করে। অঝোরে অশ্রু ঝরায়। অমনি আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন।' ইবলিস তখন তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, 'ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মন খারাপ করো না। এই তো ক'দিন অপক্ষো করো। অচিরেই তারা অনেক ধনসম্পদের মালিক হবে। তাদের অন্তরে দুনিয়ার লোভলালসা প্রবেশ করবে। তখন তোমরা অনায়েসেই তাদেরকে দিকভ্রান্ত ও ধ্বংস করে ফেলতে পারবে।'

টিকাঃ
[৬৪] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৩। সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আবি কাইস অপরিচিত।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ভালোবাসা যখন হৃদয়ে গেঁথে যায়

📄 দুনিয়ার ভালোবাসা যখন হৃদয়ে গেঁথে যায়


ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত শুআইব আলাইহিস সালাম একবার ইউনুস আলাইহিস সালামকে বলেন-
'জনাব! কোনো আলিমের অন্তরে যখন দুনিয়ার মহব্বত প্রবেশ করে, তখন সে আল্লাহর কাছে দোয়া-মুনাজাতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়।'
আবু বকর আল আবদি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি বিশ্বস্ত ও বরেণ্য ব্যক্তিদের থেকে জানতে পেরেছি যে, হজরত ইসা আলাইহিস সালামকে দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়ার পূর্বে তিনি তার অনুসারীদেরকে কিছু উপদেশ প্রদান করেন-
প্রিয় সাথিবর্গ, আমি দুনিয়াকে অধোমুখী করে ছেড়েছি। সুতরাং আমার প্রস্থানের পরে তোমরা তাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিয়ো না। [৬৫]
দুনিয়ার দুটি ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এক. দুনিয়া অর্জন করতে গেলে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে হয়। দুই, দুনিয়া ত্যাগ করা ব্যতীত আখিরাত লাভ করা যায় না। সুতরাং তোমরা দুনিয়ার দরিয়া পার হও; কিন্তু তাতে ডুব দিয়ো না।
মনে রেখো, যে কাজে আল্লাহর বিরোধিতা আছে; সে কাজে কোনো কল্যাণ নেই।
যে ঘর ছেড়ে অন্য ঘরে যেতে হয়; সে ঘরেও মৌলিক কোনো কল্যাণ থাকে না।
সমস্ত অনিষ্টের মূল হচ্ছে 'দুনিয়ার মোহ ও মহব্বত।'
দুনিয়ার অনেক কাজের পেছনেই পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করতে হয়। মেধা খরচ করতে হয়। স্বস্তি বিসর্জন দিতে হয়। তাই দুনিয়ার ব্যাপারে সজাগ ও সাবধান থেকো।

টিকাঃ
[৬৫] অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার মোহমুক্ত থাকার সার্বিক শিক্ষা দিয়েছি। দুনিয়াকে তোমাদের সামনে নিতান্ত তুচ্ছ বস্তু বলে প্রমাণ করেছি। সুতরাং আমার ঊর্ধ্বলোকে গমনের পরে তোমরা এই শিক্ষা ভুলে যেয়ো না। দুনিয়ার মোহে পড়ো না এবং দুনিয়াকে মহান করে দেখো না।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুর্ভাগ্যের লক্ষণ

📄 দুর্ভাগ্যের লক্ষণ


হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন- চারটি জিনিস দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। ১. হৃদয়ের কাঠিন্য। [৬৬] ২. অশ্রু সংকট। [৬৭] ৩. পার্থিব জীবনের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষ। [৬৮] ৪. দুনিয়ার মোহ ও মহব্বত।[৬৯]
ইবনু আমর রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম বলেছেন-
দুনিয়াটা ধোঁকায় পূর্ণ। সে মানুষকে সব সময় ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। হৃদয়ের প্রশান্তি কেড়ে নেয়।

টিকাঃ
[৬৬] অর্থাৎ, হৃদয় অত্যধিক পাষাণ হওয়ার কারণে সেখানে আল্লাহর ভয় জাগ্রত না-হওয়া।
[৬৭] অর্থাৎ, আল্লাহর প্রেমে ও আকর্ষণে চোখ অশ্রুসিক্ত না-হওয়া।
[৬৮] অর্থাৎ, দুনিয়ার ব্যাপারে এতবেশি আশা পোষণ করা, যা আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষতির কারণ হয়।
[৬৯] কানযুল উম্মাল: ৩/২১৩। এই বর্ণনাটি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর থেকে মারফু হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00