📄 যুহদ হলো অন্তরের সচ্ছলতা
ইবরাহিম ইবনু আসআছ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি একবার ফুদাইল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করি, 'আচ্ছা 'যুহুদ' কাকে বলে?' উত্তরে তিনি বলেন, 'দুনিয়ার ব্যাপারে অল্পেতুষ্টিকেই 'যুহুদ' বলে। আর এটাই অন্তরের সচ্ছলতা।'
📄 দুনিয়াবিমুখতায় আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়
উসমান ইবনু উমারা রহিমাহুল্লাহু বলেন— 'তাকওয়া মানুষকে যুহুদ অবলম্বনে অনুপ্রাণিত করে। আর যুহুদ তাকে আল্লাহর ভালোবাসায় সুসিক্ত করে।'[৫৯]
টিকাঃ
[৫৯] বাইহাকি: ৩১৩।
📄 দুনিয়াবিমুখীরাই সৌভাগ্যবান
মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব রহিমাহুল্লাহু বলতেন— 'দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেই আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য যারা সৌভাগ্যবান, তারা দুনিয়াকে উপেক্ষা করে আখিরাত অভিমুখে ধাবিত হয়। আর যারা হতভাগা, তারা দুনিয়ার মায়া-মহব্বতে মজে থাকে。
মনে রেখো, দুনিয়া আল্লাহর প্রতি মানুষের আনুগত্যবোধ দূর করে দেয়। দুনিয়াদারদের বিপদ ডেকে আনে। এজন্যই নিরেট দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জন করা এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা। দুনিয়ার সচ্ছলতা এক ধরনের দরিদ্রতা, প্রাচুর্য এক ধরনের দেউলিয়াত্ব এবং সুখ-দুঃখ ও ধন-ঐশ্বর্য এক ধরনের অস্থিরতা।
📄 প্রকৃত যাহিদ
মুআবিয়া ইবনু আবদুল কারিম রহিমাহুল্লাহু বলেন— একবার কয়েকজন আলিম হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুর নিকট গিয়ে 'যুহুদ' বিষয়ে আলোচনা করেন। তখন কেউ বলেন, যুহুদের ক্ষেত্র হলো পোশাক। আবার কেউ বলেন, যুহুদের ক্ষেত্র হলো আহার-বিহার। সেদিন অনেকেই যুহুদ সম্পর্কে অনেক রকম মন্তব্য করেন। সব শেষে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, প্রকৃত যাহিদ কেবল তাকেই বলা যায়, যে অন্যকে দেখে বলে, 'তিনি আমার চেয়ে অনেক ভালো।'[৬০]
টিকাঃ
[৬০] যুহুদ, বাইহাকি: ৭৯।