📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াবিমুখতা হৃদয়ে প্রশান্তি আনে

📄 দুনিয়াবিমুখতা হৃদয়ে প্রশান্তি আনে


তারুস রহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا يُرِيحُ الْقَلْبَ وَالْبَدَنَ، وَالرَّغْبَةُ فِي الدُّنْيَا تُطِيلُ الْهَمَّ وَالْحَزَنَ .
‘দুনিয়াবিমুখতা দেহ ও মনে প্রশান্তি বয়ে আনে। আর দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে।’[৫৩]
আহমাদ ইবনু আবিল হাওয়ারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মা’জা রহিমাহুল্লাহু সিবা’ আল মাওসিলি রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করেন, আবু মুহাম্মাদ! যুহুদ যাহিদদের জীবনে কী পরিণাম বয়ে আনে? উত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহর নৈকট্য ও তার ভালোবাসা।

টিকাঃ
[৫৩] কানযুল উম্মাল: ৬০৬১। মুরসাল।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া ত্যাগীদেরকে বিশ্বের দাওয়াত

📄 দুনিয়া ত্যাগীদেরকে বিশ্বের দাওয়াত


একবার ইসা আলাইহিস সালাম কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আকাশে মেঘেরা গর্জন করতে শুরু করে। অনবরত বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। ইসা আলাইহিস সালাম তখন বৃষ্টির প্রকোপ থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকেন। এমন সময় রাস্তার পাশে জঙ্গলের ভেতর একটি তাঁবু চোখে পড়ে। অমনি তিনি তাঁবুতে গিয়ে উপস্থিত হন। গিয়ে দেখেন, একজন নারী আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছে। তাই তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন。
পাশেই একটি পাহাড় দেখতে পান। পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য সেখানে ছুটে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন, একটি বাঘ ওই গুহায় আশ্রয় নিয়েছে। অগত্যা তিনি দু-হাত তুলে মহান প্রভুকে ডেকে বলেন, 'হে আমার রব, আপনি সবাইকে আশ্রয় দিয়েছেন; কিন্তু আমাকে নিরাশ্রয় ছেড়ে দিয়েছেন।'
আল্লাহর পক্ষ থেকে তখন এই মর্মে অহি আসে, 'হে ইসা, দুনিয়ায় তোমার আশ্রয় নয়। তোমার প্রকৃত আশ্রয় তো আমার রহমতের ছায়ায়। আখিরাতে আমি তোমার সাথে একশত চিরযৌবনা হুরের বিয়ে দেবো। দীর্ঘ চার হাজার বছর বিয়ের ওলিমা খাওয়াব। আর এই চার হাজার বছরের প্রতিটি দিন হবে, দুনিয়ার মোটা বয়সের সমান。
সেদিন আমি ঘোষককে এই মর্মে ঘোষণা করতে বলব-
أَيْنَ الزُّهَادُ فِي دَارِ الدُّنْيَا؟ زُورُوا عُرْسَ الزَّاهِدِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ .
'দুনিয়াত্যাগীরা আজ কোথায়? তোমরা দুনিয়াবিমুখ ইসা ইবনু মারইয়ামের ওলিমায় শরিক হও।'[৫৪]

টিকাঃ
[৫৪] তারিখে দিমাশক: ২০/১১৭১।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ত্যাগীরা আখিরাতে ওলিমান দাওয়াত খাবে

📄 দুনিয়ত্যাগীরা আখিরাতে ওলিমান দাওয়াত খাবে


আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন-
জান্নাতে হজরত ইয়াহইয়া ও ইসা আলাইহিমাস সালাম-এর ওলিমা উপলক্ষ্যে তিনশ বছর মেহমানদারি করানো হবে। তাদের ওলিমায় অংশ গ্রহণের জন্য এই বলে দাওয়াত করা হবে-
'দুনিয়া ত্যাগীরা কোথায়? এসো। নবির বিয়ের ওলিমা খেয়ে যাও।'

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 প্রকৃত ফকিহ কে?

📄 প্রকৃত ফকিহ কে?


কালবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, মক্কায় অবস্থান কালে একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। আমি একটু অধৈর্য হয়ে বলে ফেললাম, 'হে ফকিহগণ, আমরা আপনাদেরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করি, কিন্তু আপনারা কোনো উত্তর দেন না! (বেশ! তাহলে অন্তত এতটুকু বলে দেন যে, আমরা কার নিকট মাসআলা জিজ্ঞেস করব!) তখন হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বললেন, 'ধিক তোমাকে! তুমি কি কখনো সত্যিকার ফকিহ দেখেছ? তুমি কি জানো প্রকৃত ফকিহ কে? প্রকৃত ফকিহ হলো সে, যে দুনিয়া ত্যাগ করে আখিরাতমুখি হয়; সব সময় ইবাদাতে লেগে থাকে; নিজের দোষত্রুটি সংশোধনে ব্যস্ত থাকে এবং দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে। [৫৫]
আবু নাসর ইবনুল হারিস রহিমাহুল্লাহু বলেন- একবার সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহু বকর আল-আবিদকে লক্ষ করে বলেন, হে বকর! তুমি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করো-দু-দণ্ড শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। তুমি দৈহিক শান্তির জন্য ন্যূনতম মাত্রায় দুনিয়া গ্রহণ করতে পারো, তবে আত্মিক প্রশান্তির জন্য তোমাকে অবশ্যই আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

টিকাঃ
[৫৫] হিলইয়াতুল আউলিয়া: ২/২৪৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00