📄 যুহদ কাকে বলে?
আহমাদ ইবনু আবিল হাওয়ারি রহিমাহুল্লাহু বলেন—
একবার আমি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করি, ‘আচ্ছা, হজরত! যুহুদ বা দুনিয়াবিমুখতা কাকে বলে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘সুখের সময়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আর দুঃখের সময়ে ধৈর্যধারণ করা।’ আমি আবার জানতে চাই, ‘কারও যদি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উপযুক্ত কোনো নিয়ামত না থাকে এবং ধৈর্যধারণের মতো বিশেষ দুঃখও থাকে—তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে প্রকৃত যাহিদ হবে?’ উত্তরে তিনি বলেন—‘সে আখিরাত নিয়ে চিন্তা করবে। এটাই তার ‘যুহুদ’।’[৫২]
টিকাঃ
[৫২] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/২৭৩।
📄 দুনিয়াবিমুখতা হৃদয়ে প্রশান্তি আনে
তারুস রহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا يُرِيحُ الْقَلْبَ وَالْبَدَنَ، وَالرَّغْبَةُ فِي الدُّنْيَا تُطِيلُ الْهَمَّ وَالْحَزَنَ .
‘দুনিয়াবিমুখতা দেহ ও মনে প্রশান্তি বয়ে আনে। আর দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে।’[৫৩]
আহমাদ ইবনু আবিল হাওয়ারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মা’জা রহিমাহুল্লাহু সিবা’ আল মাওসিলি রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করেন, আবু মুহাম্মাদ! যুহুদ যাহিদদের জীবনে কী পরিণাম বয়ে আনে? উত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহর নৈকট্য ও তার ভালোবাসা।
টিকাঃ
[৫৩] কানযুল উম্মাল: ৬০৬১। মুরসাল।
📄 দুনিয়া ত্যাগীদেরকে বিশ্বের দাওয়াত
একবার ইসা আলাইহিস সালাম কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আকাশে মেঘেরা গর্জন করতে শুরু করে। অনবরত বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। ইসা আলাইহিস সালাম তখন বৃষ্টির প্রকোপ থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকেন। এমন সময় রাস্তার পাশে জঙ্গলের ভেতর একটি তাঁবু চোখে পড়ে। অমনি তিনি তাঁবুতে গিয়ে উপস্থিত হন। গিয়ে দেখেন, একজন নারী আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছে। তাই তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন。
পাশেই একটি পাহাড় দেখতে পান। পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য সেখানে ছুটে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন, একটি বাঘ ওই গুহায় আশ্রয় নিয়েছে। অগত্যা তিনি দু-হাত তুলে মহান প্রভুকে ডেকে বলেন, 'হে আমার রব, আপনি সবাইকে আশ্রয় দিয়েছেন; কিন্তু আমাকে নিরাশ্রয় ছেড়ে দিয়েছেন।'
আল্লাহর পক্ষ থেকে তখন এই মর্মে অহি আসে, 'হে ইসা, দুনিয়ায় তোমার আশ্রয় নয়। তোমার প্রকৃত আশ্রয় তো আমার রহমতের ছায়ায়। আখিরাতে আমি তোমার সাথে একশত চিরযৌবনা হুরের বিয়ে দেবো। দীর্ঘ চার হাজার বছর বিয়ের ওলিমা খাওয়াব। আর এই চার হাজার বছরের প্রতিটি দিন হবে, দুনিয়ার মোটা বয়সের সমান。
সেদিন আমি ঘোষককে এই মর্মে ঘোষণা করতে বলব-
أَيْنَ الزُّهَادُ فِي دَارِ الدُّنْيَا؟ زُورُوا عُرْسَ الزَّاهِدِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ .
'দুনিয়াত্যাগীরা আজ কোথায়? তোমরা দুনিয়াবিমুখ ইসা ইবনু মারইয়ামের ওলিমায় শরিক হও।'[৫৪]
টিকাঃ
[৫৪] তারিখে দিমাশক: ২০/১১৭১।
📄 দুনিয়ত্যাগীরা আখিরাতে ওলিমান দাওয়াত খাবে
আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন-
জান্নাতে হজরত ইয়াহইয়া ও ইসা আলাইহিমাস সালাম-এর ওলিমা উপলক্ষ্যে তিনশ বছর মেহমানদারি করানো হবে। তাদের ওলিমায় অংশ গ্রহণের জন্য এই বলে দাওয়াত করা হবে-
'দুনিয়া ত্যাগীরা কোথায়? এসো। নবির বিয়ের ওলিমা খেয়ে যাও।'