📄 যুহদের আরও কিছু ব্যাখ্যা
[৩৬৫] আহমাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি হিশাম আবদুল মালেক রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করি, 'আচ্ছা, যুহুদ কী? তিনি বলেন, 'যুহুদ হচ্ছে, আশা-আকাঙ্ক্ষার লাগাম টেনে ধরা, প্রিয় বস্তু দান করা এবং আরাম-আয়েশ ত্যাগ করা।'
[৮৪] ইউসুফ ইবনু আসবাত রহিমাহুল্লাহু বলেন-
‘দুনিয়ার দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ ও হালাল রুজি অন্বেষণ 'যুহুদ' বা দুনিয়াবিমুখতার মূল। [৪৯]
[৮৫] সালাম ইবনু আবি মুতি রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যুহুদ তিন প্রকার। এক. একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা। দুনিয়ার জন্য নিজেকে ব্যতিব্যস্ত না-রাখা। দুই. আল্লাহর আদেশ পালন করা। নিষেধগুলো এড়িয়ে চলা। তিন. বৈধ বিলাসিতা থেকেও বিরত থাকা। তৃতীয় প্রকারের যুহুদ হলো সর্বোত্তম যুহুদ।
[৮৬] উহাইব আল মাক্কি রহিমাহুল্লাহু বলেন- যুহুদের ব্যাখ্যা হলো, আপনি যা পাননি, তা নিয়ে আফসোস ও দুশ্চিন্তা না করা। আর যা পেয়েছেন, তা নিয়ে অহংকার বা কৃপণতা না করা।
টিকাঃ
[৪৯] যুহুদ, ইমাম বাইহাকি রহিমাহুল্লাহু: ১৭৫।
📄 যুহদ মানে চাহিদার লাগাম টেনে ধরা
[৮৭] সুফিয়ান রহিমাহুল্লাহু বলেন- যুহুদ হলো চাহিদার লাগাম টেনে ধরা। নিছক শক্ত খাবার গ্রহণ করা কিংবা মোটা কাপড় পরিধান করার অর্থ যুহুদ নয়। [৫০]
টিকাঃ
[৫০] আমাদের দেশে জুমার দিনে খতিব সাহেবরা পরিধান করে থাকে।
📄 যুহদের নিগূঢ় অর্থ
[৮৮] হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন- প্রয়োজন পরিমাণ দুনিয়া অর্জন করা দুনিয়াপ্রীতি নয়। তবে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দুনিয়া অর্জন না করার নাম হলো- 'যুহুদ বা দুনিয়াবিমুখতা।' যে বান্দা মরীচিকাময় দুনিয়ায় কোনো কিছু পেলে খুশি হয়, তার হৃদয় থেকে আখিরাতের চিন্তা দূর হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সে ভ্রষ্টতার দিকে ধাবিত হয়।
📄 সর্বোত্তম যুহদ
[৮৯] আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহিমাহুল্লাহু বলেন- সর্বোত্তম যুহুদ হলো, দুনিয়া ত্যাগের বিষয়টি সবার কাছ থেকে গোপন রাখা। (কারণ, এটা প্রকাশ পেয়ে গেলে অন্তরে অহংকার ও লৌকিকতার অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে।)