📄 যুহদের প্রাথমিক সংজ্ঞা
[৮১] সুফিয়ান ইবনু উইয়ানাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার কয়েক জন আলিম ইমাম যুহুরি রহিমাহুল্লাহুর কাছে 'যুহুদ'-এর সংজ্ঞা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যুহুদ হলো, ধৈর্য সহকারে হারাম থেকে বিরত থাকা এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে হালাল গ্রহণ করা।'
📄 যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার অর্থ
[৮২] ইউনুস ইবনু মাইসারা রহিমাহুল্লাহু বলেন- দুনিয়াবিমুখতার অর্থ এই নয় যে, হালাল বস্তুকে হারাম মনে করতে হবে কিংবা সমস্ত সম্পদ জলে ফেলে দিতে হবে। বরং দুনিয়াবিমুখতার অর্থ হলো, আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে, যা দেননি-তার ওপর বেশি বিশ্বাস রাখা। সুখে-দুঃখে সব সময় একই আচরণ করা। হকের ক্ষেত্রে কেউ নিন্দা বা প্রশংসা করলে নিজের মধ্যে কোনো প্রকার ভাবান্তর ঘটতে না-দেওয়া এবং সর্বাবস্থায় স্বাভাবিক ও নির্লিপ্ত থাকা।[৪৮]
টিকাঃ
[৪৮] কাসরুল আমাল: ৩২। এক হাদিসে আছে নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- لَيْسَ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا بِتَحْرِيمِ الْحَلَالِ، وَلَا فِي إِضَاعَةِ الْمَالِ، وَلَكِنِ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا أَنْ لَا تَكُونَ بِمَا فِي يَدَيْكَ أَوْثَقَ مِنْكَ بِمَا فِي يَدِ اللهِ، وَأَنْ تَكُونَ فِي ثَوَابِ الْمُصِيبَةِ، إِذَا أُصِبْتَ بِهَا، أَرْغَبَ مِنْكَ فِيهَا، لَوْ أَنَّهَا أُبْقِيَتْ لَكَ . 'হালালকে হারাম মনে করা এবং সম্পদ ব্যয় করে দেওয়ার নাম দুনিয়াত্যাগ নয়, বরং দুনিয়া ত্যাগ হলো, তোমার হাতে যা আছে তার তুলনায় আল্লাহর হাতে যা কিছু রয়েছে তার প্রতি তুমি অনেক ভরসা রাখবে। এবং মুসিবতে না পড়ার থেকে মুসিবতে পড়াকে অধিক কামনা করবে।' [আস সুনান ইবনু মাজাহ : ৩১০০]
📄 যুহদের ব্যাখ্যা
[৮৩] আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যুহুদ হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য ও তাকদিরে সন্তুষ্ট রাখা।'
📄 যুহদের আরও কিছু ব্যাখ্যা
[৩৬৫] আহমাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি হিশাম আবদুল মালেক রহিমাহুল্লাহুকে জিজ্ঞেস করি, 'আচ্ছা, যুহুদ কী? তিনি বলেন, 'যুহুদ হচ্ছে, আশা-আকাঙ্ক্ষার লাগাম টেনে ধরা, প্রিয় বস্তু দান করা এবং আরাম-আয়েশ ত্যাগ করা।'
[৮৪] ইউসুফ ইবনু আসবাত রহিমাহুল্লাহু বলেন-
‘দুনিয়ার দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ ও হালাল রুজি অন্বেষণ 'যুহুদ' বা দুনিয়াবিমুখতার মূল। [৪৯]
[৮৫] সালাম ইবনু আবি মুতি রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যুহুদ তিন প্রকার। এক. একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা। দুনিয়ার জন্য নিজেকে ব্যতিব্যস্ত না-রাখা। দুই. আল্লাহর আদেশ পালন করা। নিষেধগুলো এড়িয়ে চলা। তিন. বৈধ বিলাসিতা থেকেও বিরত থাকা। তৃতীয় প্রকারের যুহুদ হলো সর্বোত্তম যুহুদ।
[৮৬] উহাইব আল মাক্কি রহিমাহুল্লাহু বলেন- যুহুদের ব্যাখ্যা হলো, আপনি যা পাননি, তা নিয়ে আফসোস ও দুশ্চিন্তা না করা। আর যা পেয়েছেন, তা নিয়ে অহংকার বা কৃপণতা না করা।
টিকাঃ
[৪৯] যুহুদ, ইমাম বাইহাকি রহিমাহুল্লাহু: ১৭৫।