📄 দুনিয়াদারদের এক বিস্ময়কর ঘটনা
আম্মার ইবনু সাইদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার হজরত ইসা আলাইহিস সালাম তাঁর সহচরদের নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারা একটি এলাকার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। তখন গভীর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেন, এলাকাবাসীদের কেউ বেঁচে নেই। সবাই মারা গেছে এবং তাদের মৃতদেহগুলো এখানে-সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ মর্মান্তিক অবস্থা দেখে তিনি সহচরদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
'প্রিয় সহচরবৃন্দ, এরা আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তোষের কারণে ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এজন্য তাদের কাফনদাফনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তারা যদি স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করত, তবে তাদের কাফনদাফনের ব্যবস্থা হতো'
সহচররা তখন বলেন, 'আল্লাহর নবি, আপনি আমাদেরকে তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলুন।' তখন ইসা আলাইহিস সালাম দু-হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তৎক্ষণাৎ আল্লাহ অহির মাধ্যমে তাঁকে জানিয়ে দেন যে, আপনি গভীর রাতে এখানে এসে তাদেরকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকবেন। তখন তারাই আপনাকে নিজেদের ঘটনা বর্ণনা করে শোনাবে।'
মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ইসা আলাইহিস সালাম গভীর রাতে অতি সন্তর্পণে সেখানে এসে উপস্থিত হন। এরপর একটি টিলার ওপর দাঁড়িয়ে তাদেরকে উঁচু আওয়াজে ডেকে বলেন, 'আমি আল্লাহর নবি ইসা বলছি। তোমরা কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? প্রতিউত্তরে মৃতদের থেকে একজন বলে উঠে-
'হে রুহুল্লাহ, আপিন বলুন। আমরা শুনতে পাচ্ছি।'
'তোমরা কেমন আছ?'
'আমরা রাতে শান্তি থেকে নিরাপদ থাকি। কিন্তু সকাল হলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হই।'
'কিন্তু কেন?'
'কারণ, আমরা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াকে বেশি ভালোবাসতাম। পাপকাজের ক্ষেত্রেও মানুষের কথামতো চলতাম।'
'দুনিয়ার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা কেমন ছিল?'
'মায়ের প্রতি দুগ্ধপোষ্য সন্তানের ভালোবাসার মতো। সন্তান যেমন মাকে পেলে আনন্দিত হয়; আমরাও তেমন দুনিয়ার অর্থ-সম্পদ পেলে আনন্দিত হতাম। আবার কোনো কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে হতাশ ও পেরেশান হয়ে পড়তাম।'
'তুমি একাই কেন সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছ? তোমার সাথি-সঙ্গীরা কোথায়?'
'তাদের মুখে আগুনের লাগাম পরানো হয়েছে। কঠোর হৃদয় ফেরেশতারা সেই লাগام টেনে ধরে রেখেছে।'
'সবার এই করুণ অবস্থা হয়ে থাকলে, তুমি কথা বলছ কী করে?'
'আমি দুনিয়াকে তাদের মতো ভালোবাসতাম না। তবে তাদের সাথে চলাফেরা করতাম। আমি এখন 'আ'রাফ' তথা জাহান্নামের পাড়ে অবস্থান করছি। জানি না, আল্লাহ আমাকে এখান থেকে মুক্তি দেবেন নাকি জাহান্নামে ঠেলে দেবেন।'[৪৬]
টিকাঃ
[৪৬] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২০।