📄 একটি চিঠির হৃদয় নিংড়ানো কথা
ইসহাক ইবনু আবদুল মুমিন রহিমাহুল্লাহু বলেন, আহমাদ ইবনু আসেম ইনতাকি রহিমাহুল্লাহু একবার আমার কাছে দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
মুহতারাম, আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। দুশ্চিন্তা আমাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। আমি এখন খেই হারিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে আলিমরা দুনিয়া ও সম্পদের ফিতনায় জর্জরিত। আর মূর্খরা দুনিয়া নিয়েই তৃপ্ত ও পরিতৃপ্ত।
ভাই আমার! বুজুর্গদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করবেন। তাঁরা আপনাকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করবেন। মুমিন মুত্তাকিদের সাথে উঠা-বসা করবেন। তারা আপনাকে তাকওয়ার পাঠ দেবেন।
কখনোই দুনিয়াদারদের সাথে মিশবেন না। তারা আপনার দ্বীন ও ইমান বরবাদ করে ফেলবে। অসৎ পথে পরিচালিত করবে। তখন অবচেতনেই আপনি দুনিয়ামুখী হয়ে পড়বেন।
ভাই আমার, কামনাবাসনা থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে অবস্থায় রাখেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন। প্রবৃত্তির দাসত্ব করবেন না। কারণ, সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তিই সবচেয়ে বড় বাধা।
কখনো দুনিয়ার পেছনে কখনো পড়বেন না। কারণ, দুনিয়া মানুষের স্থায়ী ঠিকানা নয়। এটা মুসাফিরের সরাইখানার মতো। বিশ্রাম শেষ হলেই আপনাকে এখান থেকে প্রস্থান করতে হবে।
📄 দুনিয়াদার দ্বীন বিসর্জন দেয়
যাকারিয়া ইবনু আদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইসা আলাইহিস সালাম বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্যে বলেন—
'তোমরা সর্বাবস্থায় দ্বীনকে নিরাপদ রাখবে। প্রয়োজনে দুঃখ-দারিদ্র্যে ধৈর্য ধারণ করবে। দুনিয়ার অপ্রাপ্তি বা ক্ষতির কারণে কখনো দুঃখিত হবে না—যেমন দুনিয়াদাররা দ্বীন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দুঃখিত হয় না।'
📄 দুনিয়ার মহব্বত পোষণ করা অনুচিত
দাউদ ইবনু হিলাল রহিমাহুল্লাহু বলেন, আল্লাহ তাআলা একবার দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট এ মর্মে অহি প্রেরণ করেন যে—
'যারা আমার বন্ধু, তাদের হৃদয়ে দুনিয়ার মহব্বত থাকা উচিত নয়। কেননা দুনিয়ার মহব্বত আমার সঙ্গে কথোপকথনের স্বাদ নষ্ট করে দেয়।
হে দাউদ, আপনি আমার ও আপনার মাঝে দুনিয়াদার আলিমকে টেনে আনবেন না। কারণ, তাদের আনলে আমার ও আপনার মধ্যকার মহব্বত হ্রাস পেতে থাকে। দুনিয়াদার আলিম আমার মুমিন বান্দাদের জন্য ডাকাতের মতো। তাই তাদেরকে কখনো কাছে ডাকবেন না।'
ইয়াযিদ ইবনু হাযেম রহিমাহুল্লাহু বলেন, সুলাইমান ইবনু আবদুল মালেক রহিমাহুল্লাহু প্রতি জুমায় আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলতেন-
'দুনিয়াদাররা সব সময় অসম্ভব রকম অস্থিরতা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে। তারা দুনিয়া হারানোর ভয়ে কারও ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে না। কোথাও গিয়ে দু-দণ্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে না। এরই মধ্যে একদিন মৃত্যুর পরোয়ানা চলে আসে। অমনি সব কিছু ছেড়ে কবরদেশে চলে যেতে হয়। জীবনের সমস্ত অর্জন ও উপার্জন পরবর্তীরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। সারা জীবনের মূল্যবান সম্পদ অন্যদের হাতে চলে যায়।' এই সংক্ষিপ্ত নাসিহার পরে তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন-
أَفَرَأَيْتَ إِنْ مَتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ ثُمَّ جَاءَهُمْ مَا كَانُوا يُوعَدُونَ مَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يُمَتَّعُونَ .
'তুমি ভেবে দেখো, যদি আমি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাস দিই এবং পরে তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল তা তাদের নিকট এসে পড়ে, তখন তাদের ভোগ-বিলাসের উপকরণ তাদের কোনো কাজে আসবে কি?' [সূরা শু'আরা : ২০৫-২০৭]
📄 উমর ইবনু আবদুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহর চিঠি
সালেহ ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু আদি ইবনু আরতাত নামের জনৈক গভর্নরের নিকট নিম্নোক্ত পত্রটি প্রেরণ করেন-
'গভর্নর, মহান আল্লাহ প্রিয়-অপ্রিয় সবাইকে দুনিয়া দান করেন। তবে যারা প্রিয়, দুনিয়া তাদের দুঃখ ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়। আর যারা অপ্রিয়, দুনিয়া পেয়ে তারা ধোঁকা ও প্রবঞ্চনার শিকার হয়।'