📄 দুনিয়াদার ইবাদতের স্বাদ পায় না
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন-
بِحَقِّ أَقُولُ لَكُمْ: كَمَا يَنْظُرُ الْمَرِيضُ إِلَى طَيِّبِ الطَّعَامِ فَلَا يَلْتَذُّ بِهِ مِنْ شِدَّةِ الْوَجَعِ، كَذَلِكَ صَاحِبُ الدُّنْيَا لَا يَلْتَذُّ الْعِبَادَةَ، وَلَا يَجِدُ حَلَاوَتَهَا مَعَ مَا يَجِدُ مِنْ حُبِّ الدُّنْيَا .
'আমি তোমাদেরকে একটি বাস্তব কথা বলছি, অসুস্থ ব্যক্তি যেমন অসুস্থতার কারণে ভালো খাবারেরও স্বাদ পায় না; ঠিক তেমনি দুনিয়াদার ব্যক্তিও দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা পোষণের কারণে আল্লাহর ইবাদাতে স্বাদ পায় না।'
📄 দুনিয়াদার ভুল ধারণার শিকার হয়
ইসহাক ইবনু আব্বাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে একজন জ্ঞানী লোক বলেছিলেন-
'মানুষের চরিত্র ও প্রকৃতি দেখলে বড় অবাক লাগে। তারা দুনিয়াকে আসল ঠিকানা মনে করে। কাজেই তুমি যদি দুনিয়াদারকে সদুপদেশ দিতে যাও, তাহলে সে তোমাকে শত্রু ভেবে বসবে।'
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'দুনিয়াদাররা দুনিয়ায় ধোঁকার শিকার হয়। আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [৪৪]
টিকাঃ
[৪৪] বাহজাতুল মাজালিস: ২/২৯৭।
📄 দুনিয়ার চিন্তা আখিরাতের চিন্তাকে দূর করে দেয়
মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'তুমি এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জন্য যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, তোমার হৃদয় থেকে আখিরাতের চিন্তা সে-পরিমাণ হ্রাস পাবে। অনুরূপ তুমি আখিরাত নিয়ে যতটুকু চিন্তা করবে, তোমার অন্তর থেকে দুনিয়ার চিন্তা ততটুকু কমে যাবে। [৪৫]
টিকাঃ
[৪৫] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৪।
📄 একটি চিঠির হৃদয় নিংড়ানো কথা
ইসহাক ইবনু আবদুল মুমিন রহিমাহুল্লাহু বলেন, আহমাদ ইবনু আসেম ইনতাকি রহিমাহুল্লাহু একবার আমার কাছে দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
মুহতারাম, আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। দুশ্চিন্তা আমাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। আমি এখন খেই হারিয়ে ফেলেছি। বর্তমানে আলিমরা দুনিয়া ও সম্পদের ফিতনায় জর্জরিত। আর মূর্খরা দুনিয়া নিয়েই তৃপ্ত ও পরিতৃপ্ত।
ভাই আমার! বুজুর্গদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করবেন। তাঁরা আপনাকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করবেন। মুমিন মুত্তাকিদের সাথে উঠা-বসা করবেন। তারা আপনাকে তাকওয়ার পাঠ দেবেন।
কখনোই দুনিয়াদারদের সাথে মিশবেন না। তারা আপনার দ্বীন ও ইমান বরবাদ করে ফেলবে। অসৎ পথে পরিচালিত করবে। তখন অবচেতনেই আপনি দুনিয়ামুখী হয়ে পড়বেন।
ভাই আমার, কামনাবাসনা থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে অবস্থায় রাখেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন। প্রবৃত্তির দাসত্ব করবেন না। কারণ, সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তিই সবচেয়ে বড় বাধা।
কখনো দুনিয়ার পেছনে কখনো পড়বেন না। কারণ, দুনিয়া মানুষের স্থায়ী ঠিকানা নয়। এটা মুসাফিরের সরাইখানার মতো। বিশ্রাম শেষ হলেই আপনাকে এখান থেকে প্রস্থান করতে হবে।