📄 দুনিয়াদার ধিকৃত; দুনিয়া নয়
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াররাক আমাকে একটি কবিতা শুনিয়েছিলেন। কবিতাটি হলো— 'মৃত্যু দুনিয়ার সৌন্দর্য কেড়ে নিয়েছে। দুনিয়াদারদেরকে অপদস্থ করে ছেড়েছে। দুনিয়াকে কখনো ভর্ৎসনা করো না। কারণ, দুনিয়ার প্রকৃতি ও চরিত্র একেবারে পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট। সে তার ভক্তদের ত্রুটি প্রকাশ করে দেয়। তাদেরকে অপদস্থ করে। দুনিয়া ব্যক্তি, পরিবার, আত্মীয়স্বজন—সবাইকে ধ্বংস করে দেয়। যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, দুনিয়া তার অনুগত হয়। দুনিয়া মানুষদের সাথে শত্রুসুলভ আচরণ করা সত্ত্বেও মানুষ দুনিয়ার প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ করে।'
আবি সুলাইমান রহিমাহুল্লাহু বলেন— যারা দিন-রাত দুনিয়ার তালাশে ব্যতিব্যস্ত থাকে, দুনিয়া তাদের হাতে ধরা দিতে চায় না। আর যারা দুনিয়া থেকে দূরে থাকে, দুনিয়া তাদের পদতলে মাথা ঠুকে। দুনিয়াদাররা দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় আয়ু শেষ করে ফেলে। এরপর সবকিছু ছেড়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পরপারে পাড়ি জমায়। অতএব তুমি ভেবে দেখো, কী করবে? [৪৩]
টিকাঃ
[৪৩] যুহুদ, ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহু: ৫৩৯।
📄 দুনিয়াদার ইবাদতের স্বাদ পায় না
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন-
بِحَقِّ أَقُولُ لَكُمْ: كَمَا يَنْظُرُ الْمَرِيضُ إِلَى طَيِّبِ الطَّعَامِ فَلَا يَلْتَذُّ بِهِ مِنْ شِدَّةِ الْوَجَعِ، كَذَلِكَ صَاحِبُ الدُّنْيَا لَا يَلْتَذُّ الْعِبَادَةَ، وَلَا يَجِدُ حَلَاوَتَهَا مَعَ مَا يَجِدُ مِنْ حُبِّ الدُّنْيَا .
'আমি তোমাদেরকে একটি বাস্তব কথা বলছি, অসুস্থ ব্যক্তি যেমন অসুস্থতার কারণে ভালো খাবারেরও স্বাদ পায় না; ঠিক তেমনি দুনিয়াদার ব্যক্তিও দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা পোষণের কারণে আল্লাহর ইবাদাতে স্বাদ পায় না।'
📄 দুনিয়াদার ভুল ধারণার শিকার হয়
ইসহাক ইবনু আব্বাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে একজন জ্ঞানী লোক বলেছিলেন-
'মানুষের চরিত্র ও প্রকৃতি দেখলে বড় অবাক লাগে। তারা দুনিয়াকে আসল ঠিকানা মনে করে। কাজেই তুমি যদি দুনিয়াদারকে সদুপদেশ দিতে যাও, তাহলে সে তোমাকে শত্রু ভেবে বসবে।'
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'দুনিয়াদাররা দুনিয়ায় ধোঁকার শিকার হয়। আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [৪৪]
টিকাঃ
[৪৪] বাহজাতুল মাজালিস: ২/২৯৭।
📄 দুনিয়ার চিন্তা আখিরাতের চিন্তাকে দূর করে দেয়
মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'তুমি এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জন্য যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, তোমার হৃদয় থেকে আখিরাতের চিন্তা সে-পরিমাণ হ্রাস পাবে। অনুরূপ তুমি আখিরাত নিয়ে যতটুকু চিন্তা করবে, তোমার অন্তর থেকে দুনিয়ার চিন্তা ততটুকু কমে যাবে। [৪৫]
টিকাঃ
[৪৫] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৪।