📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াদার যখন মনিব

📄 দুনিয়াদার যখন মনিব


কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
তোমরা এই দুনিয়াকে ভালোবাসতে-বাসতে এক সময় দুনিয়া এবং দুনিয়াদারদের দাসে পরিণত হবে। আর দুনিয়া এবং দুনিয়াদাররা হবে তোমাদের মনিব। তোমাদের মাঝে এমন একটা সময় আসবে যখন তোমরা ওয়াজ-নসিহতকে অপছন্দ করবে। দুনিয়াটা তখন পাপাচারে ছেয়ে যাবে। মুমিনরা নিজেদের ইমান এমনভাবে গোপন করবে, যেভাবে ফাসিকরা তাদের পাপকে গোপন রাখে। তখন মুমিনদেরকে তাদের ইমানের জন্য এমনভাবে লজ্জা দেওয়া হবে, যেভাবে ফাসিকদেরকে তাদের পাপের কারণে লজ্জা দেওয়া হয়। এজন্য তখন ইমান-আমল নিয়ে থাকাটাই হবে সবচেয়ে বড় 'যুহুদ'।[৪০]

টিকাঃ
[৪০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৫।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 বনি ইসরাইলের ধ্বংসের কারণ ছিল দুনিয়া

📄 বনি ইসরাইলের ধ্বংসের কারণ ছিল দুনিয়া


হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
বনি ইসরাইল যথেষ্ট পরিমাণে আল্লাহর ইবাদাত করত। এরপরও তাদেরকে ধ্বংস করার কারণ হলো, তারা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল। দুনিয়ার প্রেমে মত্ত হয়ে পড়েছিল এবং এই দুনিয়ার কারণেই মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়েছিল।[৪১]

টিকাঃ
[৪১] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হৃদয় নিষ্প্রভ

📄 দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হৃদয় নিষ্প্রভ


মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন- শরীর অসুস্থ হলে যেমন আহার, নিদ্রা কিছুই ভালো লাগে না; ঠিক তেমনি অন্তরটা দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে এবং হৃদয়ের তার ভালোবাসা গেঁথে গেলে ওয়াজ- নাসিহাও ভালো লাগে না। অনেক সময় ওয়াজ-নাসিহা শুনলেও হৃদয়ে বসে না। তাই কোনো সুফলও পাওয়া যায় না।[৪২]
জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- দুনিয়া নিয়ে তুমি যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, হৃদয় থেকে আখিরাতের সে পরিমাণ চিন্তা বিদায় নেবে। আর আখিরাত নিয়ে যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, হৃদয় থেকে দুনিয়ার সে পরিমাণ চিন্তা চিন্তা বের হয়ে যাবে।

টিকাঃ
[৪২] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৬২।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াদারদের জন্য আফসোস

📄 দুনিয়াদারদের জন্য আফসোস


সিররি ইবনু ইয়ান 'আম রহিমাহুল্লাহু বলেন- আফসোস দুনিয়া প্রেমীদের জন্য! তোমরা কি এমন কিছুকে ভালোবাসবে, যেটাকে আল্লাহ অপছন্দ করেন?
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক জ্ঞানী বলেছেন, দুনিয়াদারদের শিক্ষার জন্য কি এতটুকু যথেষ্ট নয় যে, তারা দুনিয়ার পঙ্কিল অবস্থা দেখছে! জীবন এবং সম্পদের মধ্যে বিপদ-আপদ, উত্থান-পতন দেখছে। শরীরের ভালো-মন্দ, সুস্থতার উঠানামা অনুভব করছে? তারপরেও তারা দুনিয়ার ব্যাপারে উদাসীন কেন?
আবদুল ওয়াহিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন- আফসোস, ওই সকল আবেদের জন্য-যারা রাত-দিন একাকার করে দুনিয়া তালাশ করে। অথচ তারা জানে, মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেন। এরপরও দুনিয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে তাদের বিবেকে বাঁধে না?
হুসাইন ইবনু কাসেম রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যায়েদ রহিমাহুল্লাহু কসম করে বলেন, আমার দৃষ্টিতে দুনিয়ার লোভলালসা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতএব, বন্ধুরা আমার! দুনিয়াদারদেরকে দেখলে আপনারা ঈর্ষা করবেন না।
তাদের বিপুল উপার্জন ও অর্থকড়ি দেখে লালায়িত হবেন না। বরং তাদেরকে সব সময় বাঁকা চোখে দেখবেন। তাদের প্রতি দৃষ্টি গেলেই, কিয়ামত দিবসে মহান রবের সামনে তাদের অপরাধী হয়ে দাঁড়ানোর করুণ দৃশ্য কল্পনা করবেন।
বন্ধুরা আমার! লোভ দুই প্রকার। এক. উপকারী লোভ। আর এই লোভের তাৎপর্য হলো, অনবরত মহান রবের ইবাদাত করা সত্ত্বেও হৃদয় পরিতৃপ্ত না হওয়া। আরও বেশি বেশি ইবাদাত করার আগ্রহ পোষণ করা। দুই. ক্ষতিকর লোভ। এই লোভের তাৎপর্য হলো, সব সময় দুনিয়ার প্রতি লালায়িত থাকা। কিছু পেলে আরও বেশি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।
প্রিয় ভায়েরা আমার! মানুষ দুনিয়াকে এত বেশি ভালোবাসে ও গুরুত্ব দেয় যে, পরকালের জন্য কোনো কাজ করার সময় পায় না। তারা অনবরত দুনিয়া জমা করে চলেছে। অথচ এই দুনিয়া চিরকাল তাদের হাতে থাকবে না। একদিন এই সব ছেড়ে আখিরাতে পাড়ি জমাতে হবে। আখিরাত বাকি থাকবে। কিন্তু আফসোস, আখিরাত নিয়ে মানুষের কোনো চিন্তা নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00