📄 জাহান্নাম আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন-
কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে বৃদ্ধা নারীর আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। তার চক্ষুযুগল থাকবে নীল। চেহারা থাকবে বিশ্রী ও কদাকার। দাঁতগুলো থাকবে উঁচু। নাক থাকবে থ্যাবরানো। এই বৃদ্ধা নারীর দিকে ইঙ্গিত করে মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'তোমরা কি এই বৃদ্ধাকে চেনো?' তারা বলবে, 'না, আমরা একে চিনি না। আর চিনতেও চাই না।' তখন তাদেরকে বলা হবে, 'এই বৃদ্ধার নাম দুনিয়া। এরই জন্য তোমরা আত্মহননে লিপ্ত হয়েছ। পরস্পর রক্তপাত করেছ। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছ এবং এরই পেছনে ছুটতে গিয়ে মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়েছ।'
এরপরে ওই কুৎসিত কদাকার বৃদ্ধাকে জাহান্নামের অতলে নিক্ষেপ করা হবে। সে তখন বলতে থাকবে, 'হে আল্লাহ, দুনিয়ায় যারা আমাকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসত, আমার আজ্ঞাবহ হয়ে চলত তারা আজ কোথায়? তাদেরকেও আমার সঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন। আমি তাদেরকে ছাড়া থাকতে পারব না।' তখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে লক্ষ করে বলবেন-
أَلْحِقُوا بِهَا أَتْبَاعَهَا
'যারা দুনিয়াকে ভালোবাসত, তার আজ্ঞাবহ হয়ে চলত তাদেরকেও আজ তার সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো।[৩৮]
ফুদাইল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে অনেক অলংকারে সুসজ্জিত করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে। তখন দুনিয়া বলবে, 'হে আমার রব, আপনি আমাকে ওই বান্দার ঠিকানা বানান যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা তখন বলবেন, 'তুমি আমার সবচেয়ে নিকৃষ্ট বান্দার ঠিকানা হওয়ারও যোগ্য নও। তুমি বরং ধুলিস্যাৎ হয়ে যাও।' তখন দুনিয়া ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।[৩৯]
টিকাঃ
[৩৮] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯。
[৩৯] রাবিউল আবরার: ১/৬০।
📄 দুনিয়াদার যখন মনিব
কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
তোমরা এই দুনিয়াকে ভালোবাসতে-বাসতে এক সময় দুনিয়া এবং দুনিয়াদারদের দাসে পরিণত হবে। আর দুনিয়া এবং দুনিয়াদাররা হবে তোমাদের মনিব। তোমাদের মাঝে এমন একটা সময় আসবে যখন তোমরা ওয়াজ-নসিহতকে অপছন্দ করবে। দুনিয়াটা তখন পাপাচারে ছেয়ে যাবে। মুমিনরা নিজেদের ইমান এমনভাবে গোপন করবে, যেভাবে ফাসিকরা তাদের পাপকে গোপন রাখে। তখন মুমিনদেরকে তাদের ইমানের জন্য এমনভাবে লজ্জা দেওয়া হবে, যেভাবে ফাসিকদেরকে তাদের পাপের কারণে লজ্জা দেওয়া হয়। এজন্য তখন ইমান-আমল নিয়ে থাকাটাই হবে সবচেয়ে বড় 'যুহুদ'।[৪০]
টিকাঃ
[৪০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৫।
📄 বনি ইসরাইলের ধ্বংসের কারণ ছিল দুনিয়া
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
বনি ইসরাইল যথেষ্ট পরিমাণে আল্লাহর ইবাদাত করত। এরপরও তাদেরকে ধ্বংস করার কারণ হলো, তারা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল। দুনিয়ার প্রেমে মত্ত হয়ে পড়েছিল এবং এই দুনিয়ার কারণেই মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়েছিল।[৪১]
টিকাঃ
[৪১] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৩।
📄 দুনিয়ার মোহগ্রস্ত হৃদয় নিষ্প্রভ
মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন- শরীর অসুস্থ হলে যেমন আহার, নিদ্রা কিছুই ভালো লাগে না; ঠিক তেমনি অন্তরটা দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে এবং হৃদয়ের তার ভালোবাসা গেঁথে গেলে ওয়াজ- নাসিহাও ভালো লাগে না। অনেক সময় ওয়াজ-নাসিহা শুনলেও হৃদয়ে বসে না। তাই কোনো সুফলও পাওয়া যায় না।[৪২]
জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- দুনিয়া নিয়ে তুমি যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, হৃদয় থেকে আখিরাতের সে পরিমাণ চিন্তা বিদায় নেবে। আর আখিরাত নিয়ে যে-পরিমাণ চিন্তা করবে, হৃদয় থেকে দুনিয়ার সে পরিমাণ চিন্তা চিন্তা বের হয়ে যাবে।
টিকাঃ
[৪২] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৬২।