📄 দুনিয়া বিশ্বাস ঘাতকতার পরম ক্ষেত্র
জাবের ইবনু আওন আল আসাদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিক খলিফা হওয়ার পরে সর্বপ্রথম প্রদত্ত ভাষণে বলেন-
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর। তিনি যা ভাবেন, তাই করেন। যাকে ইচ্ছা, মর্যাদার উচ্চাসনে উন্নীত করেন। আবার যাকে ইচ্ছা, অমর্যাদার অতলে অবনমিত করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা, দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা, বঞ্চিত করেন। নিঃসন্দেহে এই ধূসর দুনিয়া ধোঁকায় পূর্ণ। প্রতারণা ও বিশ্বাস ঘাতকতার পরম ক্ষেত্র। এই দুনিয়া যেকোনো সময় যেকোনো রূপ ধারণ করতে পারে। যেকোনো জায়গায় যে কাউকে ধোঁকায় ফেলতে পারে। আজ এক রূপে একজনের কাছে; কাল আবার আরেক জনের কাছে আরেক রূপে।
সে বেদনাহত ব্যক্তির মুখে সহসাই হাসি ফোটায়। আবার আনন্দিত ব্যক্তিকে এক নিমিষেই কাঁদিয়ে ফেলে। নিরাপদকে আতঙ্কগ্রস্ত করে; আবার আতঙ্কগ্রস্তকে নিরাপদ করে। ধনীকে গরিব করে; আবার গরিবকে ধনী করে।
সম্মানিত উপস্থিতি! আপনারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতারিত কুরআন আঁকড়ে ধরুন। কুরআনকে নিজেদের আদর্শ ও সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করুন। এই কিতাব পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে রহিত করে দিয়েছে। এর পরে আল্লাহ তাআলা আর কোনো কিতাব নাযিল করবেন না। মনে রাখবেন, এই কুরআন শয়তানের ষড়যন্ত্র ও কূটচাল এমনভাবে স্পষ্ট করে দেয়, যেভাবে প্রভাতের আলো রাতের আঁধারকে দূর করে দেয়। [৩৬]
টিকাঃ
[৩৬] যুহুদ, ইমাম বাইহাকি: ২১৫।
📄 প্রতারণা দুনিয়া ও দুনিয়ার মানুষের মজ্জাগত
হিশাম ইবনু ইসমাইল রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'প্রাচীন কালে লোকেরা পায়ে হেঁটে কিংবা কোনো পশুর পিঠে চড়ে দূরদূরান্তে সফর করত। পাথেয় হিসেবে হালকা পোশাক, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ সাথে নিত। বিভিন্ন এলাকার ডাকাতদের এ কথা খুব ভালো করে জানা ছিল। তাই তারা মুসাফিরদের টাকা-পয়সা লুট করার জন্য বিজন প্রান্তরে ওত পেতে থাকত। সুযোগ পেলেই তাদেরকে হত্যা করে টাকা-পয়সা নিয়ে যেত। একদিন এক মুসাফির জনমানবহীন একটি মরু- এলাকা অতিক্রম করছিল। একদল ডাকাতের চোখ পড়ে যায় ওই মুসাফিরের ওপর। সুযোগ বুঝে তারা ওই মুসাফিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে হত্যা করে ফেলে। কিন্তু তার দেহ ও পাথেয় তল্লাশি করে কেবল একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সে চিরকুটটিতে লেখা ছিল-
এক. আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ভাগ্য ও তাকদির সত্য। সুতরাং দুনিয়ার অর্থসম্পদ ও মান-সম্মানের জন্য অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ করা অর্থহীন।
দুই. প্রতারণা মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। সুতরাং কাউকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করাই উন্নত মানবীয় গুণ।
তিন. মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কাজে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকা এক ধরনের বোকামি।'
📄 দুনিয়া ধোঁকায় পূর্ণ
আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
يَا عَجَبًا كُلَّ الْعَجَبِ لِلْمُصَدِّقِ بِدَارِ الْخُلُودِ وَهُوَ يَسْعَى لِدَارِ الْغُرُورِ .
'আফসোস তাদের জন্য, যারা পরকালের চিরস্থায়ী বাসস্থানের ওপর বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও; ধোঁকায় পূর্ণ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করে।[৩৭]
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু নিচের আয়াতটি—
فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ .
'পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে। আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।' [সুরা লোকমান: ৩৩]
তিলাওয়াত করার সময় বলতেন, 'এ কথাটি কে বলেছেন, জানো?' এরপর নিজেই বলতেন, 'এটা হচ্ছে সেই মহান রবের কথা যিনি এই দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি দুনিয়া সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত।'
টিকাঃ
[৩৭] আল ইতহাফ: ৮/৮২। হাদিস, মুরসাল।
📄 দুনিয়া সবাইকে ফাঁদে ফেলে
ফুদাইল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার বাদশাহ হারুনুর রশিদ একবার কাবা-চত্বরে দাঁড়িয়ে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন—
'মুহতারাম হাজিরিন! দুনিয়া ধোঁকায় পূর্ণ। সীমাহীন প্রবঞ্চক। সে কারও ক্ষতি বৈ উপকার করতে পারে না। সে আমাদের অনেক পূর্ববর্তীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করেছে। একসময় আমাদেরকেও ধ্বংস করবে। সুতরাং সাবধান! দুনিয়ার প্রতারণার জালে পা দেবেন না। নিজেদের আখিরাতের বরবাদি ডেকে আনবেন না।'
ফুদাইল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহু বলেন, তার এই বক্তব্য শুনে আমার হৃদয় কেঁপে উঠে। চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে।