📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া বৃদ্ধা নারীর মতো

📄 দুনিয়া বৃদ্ধা নারীর মতো


আলি ইবনু যিয়াদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি অতিশয় এক বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখি। বার্ধক্যের কারণে তার চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে। কিন্তু দেহজুড়ে বহুমূল্য স্বর্ণালংকার থাকায় তাকে বেশ অপরূপ লাগছে। একেবারে ষোড়শী যুবতী মনে হচ্ছে। তার চারপাশে শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ ভিড় করেছে। তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে আমি খুবই অবাক হই। কারণ উদঘাটনের জন্য ধীরে-ধীরে বৃদ্ধার দিকে অগ্রসর হই এবং কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি—
'আপনি কে?'
'তুমি কি আমাকে চিনতে পারোনি?'
'না। আমি আপনাকে কীভাবে চিনব! আমি তো আপনাকে এর আগে কখনো দেখিনি।'
'আমার নাম—দুনিয়া।'
'আমি আপনার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে চাই।'
'সত্যিই যদি তুমি আমার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে চাও, তবে কখনো টাকা-পয়সার মোহে পড়ো না।[২৭]
সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে আবু বকর ইবনু আইয়াশ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'আমি দুনিয়াকে বৃদ্ধা নারীর আকৃতিতে দেখেছি।[২৮]
ইবরাহিম ইবনু সাইদ রহিমাহুল্লাহু বর্ণনা করেন, আবু বকর ইবনু আইয়াশ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে একজন কদাকার বৃদ্ধাকে দেখি। তার মাথার চুলগুলো ছিল আধাপাকা ও এলোমেলো। সে মনের সুখে হাত-তালি দিয়ে, কোমর দুলিয়ে হাঁটছিল। বেশ কিছু মানুষ উন্মাদের ন্যায় নৃত্য করতে করতে তাকে অনুসরণ করছিল। আমার পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বৃদ্ধা আমাকে বলল, 'তোমাকে বাগে আনতে পারলে এদের মতোই হাল করে ছাড়ব।' উল্লেখ্য যে, আমি স্বপ্নে যে বৃদ্ধা নারীকে দেখেছিলাম, সে ছিল দুনিয়া।[২৯]

টিকাঃ
[২৭] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯। মুসনাদু আহমাদ: ৩১২।
[২৮] হিলইয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম: ৮/৩০৪।
[২৯] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯।

আলি ইবনু যিয়াদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি অতিশয় এক বৃদ্ধাকে স্বপ্নে দেখি। বার্ধক্যের কারণে তার চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে। কিন্তু দেহজুড়ে বহুমূল্য স্বর্ণালংকার থাকায় তাকে বেশ অপরূপ লাগছে। একেবারে ষোড়শী যুবতী মনে হচ্ছে। তার চারপাশে শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ ভিড় করেছে। তার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে আমি খুবই অবাক হই। কারণ উদঘাটনের জন্য ধীরে-ধীরে বৃদ্ধার দিকে অগ্রসর হই এবং কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করি—
'আপনি কে?'
'তুমি কি আমাকে চিনতে পারোনি?'
'না। আমি আপনাকে কীভাবে চিনব! আমি তো আপনাকে এর আগে কখনো দেখিনি।'
'আমার নাম—দুনিয়া।'
'আমি আপনার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে চাই।'
'সত্যিই যদি তুমি আমার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে চাও, তবে কখনো টাকা-পয়সার মোহে পড়ো না।[২৭]
সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে আবু বকর ইবনু আইয়াশ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'আমি দুনিয়াকে বৃদ্ধা নারীর আকৃতিতে দেখেছি।[২৮]
ইবরাহিম ইবনু সাইদ রহিমাহুল্লাহু বর্ণনা করেন, আবু বকর ইবনু আইয়াশ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন আমি স্বপ্নে একজন কদাকার বৃদ্ধাকে দেখি। তার মাথার চুলগুলো ছিল আধাপাকা ও এলোমেলো। সে মনের সুখে হাত-তালি দিয়ে, কোমর দুলিয়ে হাঁটছিল। বেশ কিছু মানুষ উন্মাদের ন্যায় নৃত্য করতে করতে তাকে অনুসরণ করছিল। আমার পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বৃদ্ধা আমাকে বলল, 'তোমাকে বাগে আনতে পারলে এদের মতোই হাল করে ছাড়ব।' উল্লেখ্য যে, আমি স্বপ্নে যে বৃদ্ধা নারীকে দেখেছিলাম, সে ছিল দুনিয়া।[২৯]

টিকাঃ
[২৭] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯। মুসনাদু আহমাদ: ৩১২।
[২৮] হিলইয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম: ৮/৩০৪।
[২৯] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া প্রাণ সংহারকারী পক্ষির মতো

📄 দুনিয়া প্রাণ সংহারকারী পক্ষির মতো


লাইছ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ইসা আলাইহিস সালাম দুনিয়াকে রূপবতী বৃদ্ধা মহিলার আকৃতিতে দেখতে পান। তখন তিনি দুনিয়াকে জিজ্ঞেস করেন- 'এ যাবৎ তুমি মোট কত জনকে বিয়ে করে ছেড়ে দিয়েছ?' 'অনেককে। তবে সঠিক সংখ্যাটা মনে নেই।' 'আচ্ছা, তারা সবাই কি মৃত্যুবরণ করেছে না তোমাকে তালাক দিয়েছে?' 'কেউ মরেনি। আমাকে তালাকও দেয়নি; বরং আমি তাদের সবাইকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছি।' 'তবে তোমার বর্তমান স্বামীরাও ধ্বংস হোক। তারা পূর্বের স্বামীদের পরিণতি দেখে শিক্ষা নেয় না কেন? তুমি তাদেরকে সারাজীবন তোমার রূপের চাদরে আবৃত করে রাখো; সাথে নিয়ে দেশদেশান্তরে ঘুরে বেড়াও-এরপরও এই হতভাগারা তোমার পিছু ছাড়ে না কেন? আফসোস এদের জন্য। শুধুই আফসোস![৩০]

টিকাঃ
[৩০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯।

লাইছ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ইসা আলাইহিস সালাম দুনিয়াকে রূপবতী বৃদ্ধা মহিলার আকৃতিতে দেখতে পান। তখন তিনি দুনিয়াকে জিজ্ঞেস করেন- 'এ যাবৎ তুমি মোট কত জনকে বিয়ে করে ছেড়ে দিয়েছ?' 'অনেককে। তবে সঠিক সংখ্যাটা মনে নেই।' 'আচ্ছা, তারা সবাই কি মৃত্যুবরণ করেছে না তোমাকে তালাক দিয়েছে?' 'কেউ মরেনি। আমাকে তালাকও দেয়নি; বরং আমি তাদের সবাইকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেছি।' 'তবে তোমার বর্তমান স্বামীরাও ধ্বংস হোক। তারা পূর্বের স্বামীদের পরিণতি দেখে শিক্ষা নেয় না কেন? তুমি তাদেরকে সারাজীবন তোমার রূপের চাদরে আবৃত করে রাখো; সাথে নিয়ে দেশদেশান্তরে ঘুরে বেড়াও-এরপরও এই হতভাগারা তোমার পিছু ছাড়ে না কেন? আফসোস এদের জন্য। শুধুই আফসোস![৩০]

টিকাঃ
[৩০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৯।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 গল্পে দুনিয়ার স্বরূপ উন্মোচন

📄 গল্পে দুনিয়ার স্বরূপ উন্মোচন


লাইছ রহিমাহুল্লাহু বলেন—
একবার জনৈক ব্যক্তি হজরত ইসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলল, 'আমি আপনার সাথে কিছুদিন থাকতে চাই।' ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'ঠিক আছে।'
এরপর থেকে তার দুজন এক সঙ্গে অবস্থান করতে লাগলেন। একদিন তারা সফরে বের হলেন। চলতে চলতে তারা একটি নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছলেন। ততক্ষণে ক্ষুধা ও ক্লান্তি তাদেরকে পেয়ে বসেছে। ইসা আলাইহিস সালাম সঙ্গীকে খাবার বের করতে বললেন। তাঁদের সাথে তিনটি রুটি ছিল। তাঁরা দুজনে দুটি রুটি খেয়ে একটি রুটি রেখে দিলেন। খাওয়ার পরে ইসা আলাইহিস সালাম নদীতে পানি পান করতে গেলেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, রেখে যাওয়া রুটিটি নেই। ইসা আলাইহিস সালাম তখন সফরসঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ভাই, ওই রুটিটা কোথায়?' সে উত্তর দিল, 'আমি জানি না।'
ইসা আলাইহিস সালাম কোনো মন্তব্য না-করে গন্তব্য অভিমুখে চলতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে যাওয়ার পর সুন্দর একটি হরিণ দেখতে পেলেন। হরিণের সাথে দুটি বাচ্চাও ছিল। ইসা আলাইহিস সালাম একটি হরিণের বাচ্চাকে ডেকে জবাই করলেন। এরপরে হরিণের গোস্ত ভুনা করে দুজনে আহার করলেন। আহার শেষে হরিণের বাচ্চার হাড্ডিগুলো একত্রিত করে বললেন—'হে হরিণ-শাবক, আল্লাহর হুকুমে তুমি জীবিত হয়ে যাও।' ব্যস, সাথে বাচ্চাটি জীবিত হয়ে তার মায়ের সাথে চলে গেল।
ইসা আলাইহিস সালাম তখন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, 'আল্লাহর অলৌকিক ঘটনা তো তুমি নিজ চোখেই দেখলে, এবার বলো, ওই রুটিটি কে খেয়েছে?' কিন্তু এবারও সে পূর্বের মতো একই উত্তর দিল। বলল, 'আমি জানি না।'
ইসা আলাইহিস সালাম কথা না-বাড়িয়ে সঙ্গীকে নিয়ে আবারও সামনে চলতে লাগলেন। অনেকক্ষণ চলার পরে তারা একটি পানি ভরা উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছলেন। ইসা আলাইহিস সালাম লোকটির হাত ধরে পানির ওপর দিয়ে উপত্যাকা পার হলেন。
এরপর পুনরায় লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তুমি আল্লাহর মুজিযা দেখলে তো! আমি এই মুজিযার দোহাই দিয়ে বলছি, সত্যি করে বলো, ওই রুটিটি কে নিয়েছে?' লোকটি এবারও আগের উত্তরেরই পুনরাবৃত্তি করল। বলল, 'আমি জানি না।'
তারা আবার সামনে চলতে শুরু করলেন। এবার তারা হাঁটতে হাঁটতে একটি জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছালেন। ইসা আলাইহিস সালাম গহীন জঙ্গলের এক জায়গা থেকে এক মুঠো মাটি তুলে বললে, 'হে মাটি, তুমি আল্লাহর হুকুমে স্বর্ণ হয়ে যাও।' তার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই হাতের মাটিগুলো স্বর্ণ হয়ে গেল। এবার ইসা আলাইহিস সালাম স্বর্ণগুলোকে তিন ভাগ করে বললেন, 'এই স্বর্ণগুলোর একভাগ তোমার, এক ভাগ আমার, আর অন্যভাগ যে তৃতীয় রুটিটি নিয়েছিল তার।'
এবার লোকটি আবেগের সুরে বলল, 'তৃতীয় রুটিটি তো আমি নিয়েছিলাম।' প্রতুত্তরে ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'তাহলে সব স্বর্ণ আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।' একথা বলে তিনি লোকটিকে সেখানে একাকী রেখে অন্যত্র চলে গেলেন。
ইসা আলাইহিস সালাম সেখান থেকে যেতে না যেতেই দুই জন লোক এসে সেখানে হাজির হলো। তারা এত স্বর্ণ দেখে লোভ সামলাতে পারল না। তাই স্বর্ণের মালিককে বলল, তোমার স্বর্ণ আমাকে দিয়ে দাও। অন্যথায় আমরা তোমাকে খুন করে ফেলব। মালিক তখন কৌশল খাটিয়ে বলল, খুনখারাবির দরকার নেই। এই স্বর্ণ আমরা তিনজনে সমানভাবে ভাগ করে নেব। তার এই প্রস্তাব ডাকাতদের মনে ধরল। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল。
এরপর তারা খাবার কেনার জন্য একজনকে বাজারে পাঠাল। লোকটি বাজারে যেতে যেতে মনে-মনে ভাবল, সমস্ত স্বর্ণ সে একাই নেবে। তাই সে ফন্দি করে খাবারে বিষ মিশিয়ে নিয়ে গেল。
ওদিকে অপর দুইজন ভাবল, আমরা একটি অংশ শুধু অন্য একজনকে কেন দিতে যাব? এরচেয়ে বরং লোকটি বাজার থেকে ফেরা মাত্রই আমরা তাকে হত্যা করে ফেলব এবং সমস্ত স্বর্ণ দু-ভাগে ভাগ করে নিয়ে নেব。
ব্যস, যেই কথা, সেই কাজ। লোকটি খাবার নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। এরপর তারা মনের সুখে খাবার খেতে বসল। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেল এবং ধীরে ধীরে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এভাবে তারা তিনজনই মারা পড়ল。
ইসা আলাইহিস সালাম সফর থেকে ফেরার পথে তাদের এই অবস্থা দেখে স্বগতোক্তির মতো করে মন্তব্য করলেন, 'এটাই হলো 'দুনিয়া'। [৩১]

টিকাঃ
[৩১] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৪২।

লাইছ রহিমাহুল্লাহু বলেন—
একবার জনৈক ব্যক্তি হজরত ইসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে বলল, 'আমি আপনার সাথে কিছুদিন থাকতে চাই।' ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'ঠিক আছে।'
এরপর থেকে তার দুজন এক সঙ্গে অবস্থান করতে লাগলেন। একদিন তারা সফরে বের হলেন। চলতে চলতে তারা একটি নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছলেন। ততক্ষণে ক্ষুধা ও ক্লান্তি তাদেরকে পেয়ে বসেছে। ইসা আলাইহিস সালাম সঙ্গীকে খাবার বের করতে বললেন। তাঁদের সাথে তিনটি রুটি ছিল। তাঁরা দুজনে দুটি রুটি খেয়ে একটি রুটি রেখে দিলেন। খাওয়ার পরে ইসা আলাইহিস সালাম নদীতে পানি পান করতে গেলেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখলেন, রেখে যাওয়া রুটিটি নেই। ইসা আলাইহিস সালাম তখন সফরসঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'ভাই, ওই রুটিটা কোথায়?' সে উত্তর দিল, 'আমি জানি না।'
ইসা আলাইহিস সালাম কোনো মন্তব্য না-করে গন্তব্য অভিমুখে চলতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে যাওয়ার পর সুন্দর একটি হরিণ দেখতে পেলেন। হরিণের সাথে দুটি বাচ্চাও ছিল। ইসা আলাইহিস সালাম একটি হরিণের বাচ্চাকে ডেকে জবাই করলেন। এরপরে হরিণের গোস্ত ভুনা করে দুজনে আহার করলেন। আহার শেষে হরিণের বাচ্চার হাড্ডিগুলো একত্রিত করে বললেন—'হে হরিণ-শাবক, আল্লাহর হুকুমে তুমি জীবিত হয়ে যাও।' ব্যস, সাথে বাচ্চাটি জীবিত হয়ে তার মায়ের সাথে চলে গেল।
ইসা আলাইহিস সালাম তখন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, 'আল্লাহর অলৌকিক ঘটনা তো তুমি নিজ চোখেই দেখলে, এবার বলো, ওই রুটিটি কে খেয়েছে?' কিন্তু এবারও সে পূর্বের মতো একই উত্তর দিল। বলল, 'আমি জানি না।'
ইসা আলাইহিস সালাম কথা না-বাড়িয়ে সঙ্গীকে নিয়ে আবারও সামনে চলতে লাগলেন। অনেকক্ষণ চলার পরে তারা একটি পানি ভরা উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছলেন। ইসা আলাইহিস সালাম লোকটির হাত ধরে পানির ওপর দিয়ে উপত্যাকা পার হলেন。
এরপর পুনরায় লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'তুমি আল্লাহর মুজিযা দেখলে তো! আমি এই মুজিযার দোহাই দিয়ে বলছি, সত্যি করে বলো, ওই রুটিটি কে নিয়েছে?' লোকটি এবারও আগের উত্তরেরই পুনরাবৃত্তি করল। বলল, 'আমি জানি না।'
তারা আবার সামনে চলতে শুরু করলেন। এবার তারা হাঁটতে হাঁটতে একটি জঙ্গলে গিয়ে পৌঁছালেন। ইসা আলাইহিস সালাম গহীন জঙ্গলের এক জায়গা থেকে এক মুঠো মাটি তুলে বললে, 'হে মাটি, তুমি আল্লাহর হুকুমে স্বর্ণ হয়ে যাও।' তার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই হাতের মাটিগুলো স্বর্ণ হয়ে গেল। এবার ইসা আলাইহিস সালাম স্বর্ণগুলোকে তিন ভাগ করে বললেন, 'এই স্বর্ণগুলোর একভাগ তোমার, এক ভাগ আমার, আর অন্যভাগ যে তৃতীয় রুটিটি নিয়েছিল তার।'
এবার লোকটি আবেগের সুরে বলল, 'তৃতীয় রুটিটি তো আমি নিয়েছিলাম।' প্রতুত্তরে ইসা আলাইহিস সালাম বললেন, 'তাহলে সব স্বর্ণ আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।' একথা বলে তিনি লোকটিকে সেখানে একাকী রেখে অন্যত্র চলে গেলেন。
ইসা আলাইহিস সালাম সেখান থেকে যেতে না যেতেই দুই জন লোক এসে সেখানে হাজির হলো। তারা এত স্বর্ণ দেখে লোভ সামলাতে পারল না। তাই স্বর্ণের মালিককে বলল, তোমার স্বর্ণ আমাকে দিয়ে দাও। অন্যথায় আমরা তোমাকে খুন করে ফেলব। মালিক তখন কৌশল খাটিয়ে বলল, খুনখারাবির দরকার নেই। এই স্বর্ণ আমরা তিনজনে সমানভাবে ভাগ করে নেব। তার এই প্রস্তাব ডাকাতদের মনে ধরল। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল。
এরপর তারা খাবার কেনার জন্য একজনকে বাজারে পাঠাল। লোকটি বাজারে যেতে যেতে মনে-মনে ভাবল, সমস্ত স্বর্ণ সে একাই নেবে। তাই সে ফন্দি করে খাবারে বিষ মিশিয়ে নিয়ে গেল。
ওদিকে অপর দুইজন ভাবল, আমরা একটি অংশ শুধু অন্য একজনকে কেন দিতে যাব? এরচেয়ে বরং লোকটি বাজার থেকে ফেরা মাত্রই আমরা তাকে হত্যা করে ফেলব এবং সমস্ত স্বর্ণ দু-ভাগে ভাগ করে নিয়ে নেব。
ব্যস, যেই কথা, সেই কাজ। লোকটি খাবার নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে হত্যা করে ফেলল। এরপর তারা মনের সুখে খাবার খেতে বসল। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেল এবং ধীরে ধীরে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এভাবে তারা তিনজনই মারা পড়ল。
ইসা আলাইহিস সালাম সফর থেকে ফেরার পথে তাদের এই অবস্থা দেখে স্বগতোক্তির মতো করে মন্তব্য করলেন, 'এটাই হলো 'দুনিয়া'। [৩১]

টিকাঃ
[৩১] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৪২।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া যেন সরাইখানা

📄 দুনিয়া যেন সরাইখানা


যাবের রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু আলি রহিমাহুল্লাহু একবার আমাকে ডেকে বলেন-
‘যাবের! আমি খুব অস্বস্তি বোধ করছি।’
‘কিন্তু কেন?’
‘আমার মনে হয়, স্বচ্ছ হৃদয়ে যখন নির্মল দ্বীনের প্রবেশ ঘটে, তখন সেখানে দুনিয়ার মায়া-মোহ বলতে কিছু থাকে না। বরং দুনিয়ার মায়া-মোহ তখন একেবারেই মেকি মনে হয়। কারণ, বাস্তবে দুনিয়া নিতান্তই তুচ্ছ।
যাবের! দুনিয়া মূলত আরোহণের বাহনের মতো—একটু পরেই তোমাকে গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে। কিংবা পরিধানের কাপড়ের মতো—একটু পরেই তুমি তা খুলে ফেলবে। কিংবা ফুলশয্যায় শায়িত নারীর মতো—একটু পরে যে তোমার বিরক্তি উৎপাদন করবে।
যাবের! তুমি সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। দুনিয়ার চিন্তা মনে ঠাঁই দেবে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ, যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, দুনিয়া তাদেরকে ধোঁকা দিতে পারে না। দুনিয়ার চাকচিক্য তাদের হৃদয়কে আপ্লুত করতে পারে না। মনে রেখো, দুনিয়া একটি সরাইখানার মতো—যেখানে মুসাফির ও পথচারীরা কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়। এরপর আবার যাত্রা শুরু করে। কেউ সেখানে চিরকাল থাকে না। তাই তুমিও দুনিয়ায় চিরকাল থাকার কথা ভেবো না। নিজের প্রতি খেয়াল রেখো। আল্লাহ তোমাকে যেভাবে হিফাজত করছেন, তুমিও ঠিক সেভাবে তাঁর দ্বীনকে হিফাজত করো।’

যাবের রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু আলি রহিমাহুল্লাহু একবার আমাকে ডেকে বলেন-
‘যাবের! আমি খুব অস্বস্তি বোধ করছি।’
‘কিন্তু কেন?’
‘আমার মনে হয়, স্বচ্ছ হৃদয়ে যখন নির্মল দ্বীনের প্রবেশ ঘটে, তখন সেখানে দুনিয়ার মায়া-মোহ বলতে কিছু থাকে না। বরং দুনিয়ার মায়া-মোহ তখন একেবারেই মেকি মনে হয়। কারণ, বাস্তবে দুনিয়া নিতান্তই তুচ্ছ।
যাবের! দুনিয়া মূলত আরোহণের বাহনের মতো—একটু পরেই তোমাকে গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে। কিংবা পরিধানের কাপড়ের মতো—একটু পরেই তুমি তা খুলে ফেলবে। কিংবা ফুলশয্যায় শায়িত নারীর মতো—একটু পরে যে তোমার বিরক্তি উৎপাদন করবে।
যাবের! তুমি সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। দুনিয়ার চিন্তা মনে ঠাঁই দেবে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ, যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, দুনিয়া তাদেরকে ধোঁকা দিতে পারে না। দুনিয়ার চাকচিক্য তাদের হৃদয়কে আপ্লুত করতে পারে না। মনে রেখো, দুনিয়া একটি সরাইখানার মতো—যেখানে মুসাফির ও পথচারীরা কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়। এরপর আবার যাত্রা শুরু করে। কেউ সেখানে চিরকাল থাকে না। তাই তুমিও দুনিয়ায় চিরকাল থাকার কথা ভেবো না। নিজের প্রতি খেয়াল রেখো। আল্লাহ তোমাকে যেভাবে হিফাজত করছেন, তুমিও ঠিক সেভাবে তাঁর দ্বীনকে হিফাজত করো।’

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00