📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া তুচ্ছ বলেই পাপীদের আহার জোটে

📄 দুনিয়া তুচ্ছ বলেই পাপীদের আহার জোটে


আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
‘দুনিয়ার মূল্য যদি মহান আল্লাহর কাছে মাছির ডানা পরিমাণও হতো, তাহলে তিনি ফিরাউন-এর মতো নাফরমানকে এক ঢোক পানি কিংবা এক লুকমা খাবারও খাওয়াতেন না।’

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 এ জীবন মরীচিকাময়

📄 এ জীবন মরীচিকাময়


সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা রহিমাহুল্লাহু বলেন—
‘মহান রবের শপথ, দুনিয়ায় মানুষকে যা কিছু দেওয়া হয়, তা কেবলই পরীক্ষার জন্য। সচ্ছলতা দেওয়া হলেও পরীক্ষার জন্য; আবার দারিদ্র্য দেওয়া হলেও পরীক্ষার জন্য। এর বড় প্রমাণ হলো, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি অনেক সময় না খেয়েও থাকতেন। তোমরা তো দিব্যি পেট পুরে খেতে পারো।’
‘হে বনি আদম, এখনই তোমরা আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নাও। আমলনামা হাতে পাওয়ার পূর্বেই সেটাকে ঢেলে সাজাও। আর মনে রেখো! তোমাদেরকে মহান সত্তার সামনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তোমাদের আমলের হিসাব নেওয়া হবে। দুনিয়ার জীবনের কোনো স্থায়ীত্ব নেই। আর যার কোনো স্থায়িত্ব নেই, তার কোনো মূল্যও নেই।’
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
একবার নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু হাদিয়া নিয়ে আসা হয়। তখন তিনি হাদিয়া রাখার জন্য একটি পাত্র খুঁজেন। এরপর ওই পাত্রে হাদিয়া রেখে বলেন, ‘এগুলো ঘরের সবচেয়ে সাধারণ জায়গাটিতে রেখে এসো। মহান আল্লাহর কাছে যদি এই দুনিয়ার সামান্য মূল্যও থাকত, তাহলেও তিনি কোনো কাফিরকে মাছির ডানা পরিমাণ খাদ্য-পানীয় দিতেন না। [২৬]
সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ একবার বলেন-
'সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার যতটুকু ব্যয় হয়েছে, তার চেয়ে আমার এই পুরাতন চাদরটি বেশি মূল্যবান। আর যেটুকু বাকি আছে, সেটুকুও ব্যয়িত অংশের চেয়ে মহোত্তম নয়।'
হারুন ইবনু ইয়াযিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুর কাছে জানতে চাওয়া হয়-
ثَمَنًا قَلِيلًا
'তার মূল্য সামান্য।' [সুরা বাকারা: ৪১]
উপরোক্ত আয়াতাংশের ব্যাখ্যা কী। উত্তরে তিনি বলেন, এর অর্থ হলো, 'সমগ্র দুনিয়া নিতান্ত তুচ্ছ'।

টিকাঃ
[২৬] কানযুল উম্মাল: ৬০৮৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00