📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার অংশটুকু জাহান্নামে যাবে

📄 দুনিয়ার অংশটুকু জাহান্নামে যাবে


উবাইদ ইবনু উমায়ের রহিমাহুল্লাহু বলেন-
দুনিয়া হলো আশা ও হতাশার দোলাচল। দুনিয়ার জন্য মেহনত করলে, দুনিয়া অর্জিত হতে পারে; আবার নাও হতে পারে। কিন্তু আখিরাত সুনিশ্চিত। আখিরাতের জন্য কোনো কাজ করলে, আল্লাহ তার প্রতিদান অবশ্যই দেবেন।
উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
يُجَاءُ بِالدُّنْيَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ: مَيِّزُوا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَلْقُوا سَائِرَهَا فِي النَّارِ
'কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে উপস্থিত করা হবে। এরপর (ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলা হবে—দুনিয়ার যে-অংশ আল্লাহর জন্য বরাদ্দ ছিল, সে অংশ পৃথক করে রাখো; আর যে-অংশ অবশিষ্ট ছিল, সে অংশ জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। [১৩]

টিকাঃ
[১৩] আত তারগিব: ১/৫৫। হাদিস মাওকুফ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া অভিশপ্ত

📄 দুনিয়া অভিশপ্ত


মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، وَمَلْعُونُ مَا فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
'দুনিয়ার যে-অংশ আল্লাহর জন্য নিবেদিত, সেটুকু ব্যতীত দুনিয়া এবং দুনিয়ার সমস্ত কিছু অভিশপ্ত। [১৪]

টিকাঃ
[১৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৫৭। হাদিস-যয়িফ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ওপর আখিরাতের প্রাধান্য

📄 দুনিয়ার ওপর আখিরাতের প্রাধান্য


আবু মুসা আশ'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ، وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ، فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى .
'যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসবে, তার আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসবে তার দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (তবে মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার লাভ-ক্ষতি ক্ষণস্থায়ী; আর আখিরাতের লাভ-ক্ষতি স্থায়ী) তাই তোমরা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ওপর চিরস্থায়ী আখিরাতকে প্রাধান্য দাও। [১৫]

টিকাঃ
[১৫] মাজমাউয যাওয়েদ: ১০/২৪৯। সনদ: সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার সঙ্গে নবিজির কথোপকথন

📄 দুনিয়ার সঙ্গে নবিজির কথোপকথন


যায়েদ ইবনু আরকাম রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, একদিন আমরা আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু-এর পাশে বসা ছিলাম। এমন সময় তিনি পানি চাইলেন। তাকে মধু মিশ্রিত পানি দেওয়া হলো। পানি মুখের কাছে নিতেই তিনি মধুর ঘ্রাণ পেলেন। অমনি কাঁদতে শুরু করে দিলেন। তার কান্না দেখে অন্যরাও কাঁদতে লাগলেন। ধীরে-ধীরে অন্যদের ক্রন্দন থেমে গেলেও তিনি অনবরত কাঁদতে থাকলেন। দীর্ঘ সময় পর তার কান্না থামল। তিনি চোখ মুছলেন। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, 'আমিরুল মুমিনিন, আপনি এভাবে কাঁদলেন কেন?' জবাবে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন হঠাৎ দেখি, তিনি কী যেন দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন, অথচ তাঁর সামনে তখন কিছুই ছিল না। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এভাবে কী তাড়াচ্ছেন?' উত্তরে তিনি বললেন-
هَذِهِ الدُّنْيَا مُثَّلَتْ لِي فَقُلْتُ لَهَا : إِلَيْكِ عَنِّي ، ثُمَّ رَجَعَتْ فَقَالَتْ : إِنَّكَ إِنْ أَفْلَتَ مِنِّي فَلَنْ يَفْلِتَ مِنِّي مَنْ بَعْدَكَ .
'আমার সামনে দুনিয়া স্বরূপে উপস্থিত হয়েছিল। তাই আমি তাকে বলছিলাম, তুমি আমার সামনে থেকে চলে যাও। আমার কথা শুনে সে চলে গেল ঠিকই; কিন্তু যাওয়ার সময় বলে গেল, আপনি আমার ছলনা থেকে বেঁচে গেলেও আপনার আগত উম্মত কিছুতেই বাঁচতে পারবে না। [১৬]

টিকাঃ
[১৬] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৫৪। সনদ যয়িফ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00