📄 দুনিয়া আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র
হুযায়ফা রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইউসুফ ইবনু আসবাত রহিমাহুল্লাহু একবার পত্র মারফত আমাকে বেশ কিছু উপদেশ দেন। সেগুলো হচ্ছে-
'ভাই আমার! আল্লাহকে ভয় করবেন। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলবেন। নিভৃতে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবেন। গভীরভাবে আখিরাতের কথা ভাববেন। কবর ও কবরের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করবেন।
মনে রাখবেন, দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকের। আখিরাতের সুখ অনন্তকালের。
ভাই আমার! দুনিয়া হলো আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। যারা সচেতন, তারা দুনিয়াকে আখিরাতের উন্নতির কাজে ব্যবহার করে। আশা করি, আপনিও তাদেরই একজন। তাই দুনিয়াকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখবেন। সম্মানের চোখে দেখবেন না এবং দুনিয়াদারদের দেখে ধোঁকায় পড়বেন না।
ভাই আমার! একদিন আমাদের সবাইকে আমাদের রবের সামনে দাঁড়াতে হবে। দুনিয়ার হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিতে হবে। সেদিন ছোট বড় সব আমলই আপনার সামনে উপস্থাপিত হবে। আপনার হৃদয়ের অব্যক্ত কথাগুলোও সেদিন প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই এখনই সাবধান হোন। দুনিয়াকে উপেক্ষা করে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং নীরবে-নিভৃতে বেশি বেশি আখিরাতের কথা স্মরণ করুন। ওয়াসসালাম।' [১২]
টিকাঃ
[১২] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৪/২৬৩।
📄 দুনিয়ার অংশটুকু জাহান্নামে যাবে
উবাইদ ইবনু উমায়ের রহিমাহুল্লাহু বলেন-
দুনিয়া হলো আশা ও হতাশার দোলাচল। দুনিয়ার জন্য মেহনত করলে, দুনিয়া অর্জিত হতে পারে; আবার নাও হতে পারে। কিন্তু আখিরাত সুনিশ্চিত। আখিরাতের জন্য কোনো কাজ করলে, আল্লাহ তার প্রতিদান অবশ্যই দেবেন।
উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
يُجَاءُ بِالدُّنْيَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ: مَيِّزُوا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَأَلْقُوا سَائِرَهَا فِي النَّارِ
'কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে উপস্থিত করা হবে। এরপর (ফেরেশতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলা হবে—দুনিয়ার যে-অংশ আল্লাহর জন্য বরাদ্দ ছিল, সে অংশ পৃথক করে রাখো; আর যে-অংশ অবশিষ্ট ছিল, সে অংশ জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। [১৩]
টিকাঃ
[১৩] আত তারগিব: ১/৫৫। হাদিস মাওকুফ।
📄 দুনিয়া অভিশপ্ত
মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، وَمَلْعُونُ مَا فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
'দুনিয়ার যে-অংশ আল্লাহর জন্য নিবেদিত, সেটুকু ব্যতীত দুনিয়া এবং দুনিয়ার সমস্ত কিছু অভিশপ্ত। [১৪]
টিকাঃ
[১৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৫৭। হাদিস-যয়িফ।
📄 দুনিয়ার ওপর আখিরাতের প্রাধান্য
আবু মুসা আশ'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ، وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ، فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى .
'যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসবে, তার আখিরাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে ভালোবাসবে তার দুনিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (তবে মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার লাভ-ক্ষতি ক্ষণস্থায়ী; আর আখিরাতের লাভ-ক্ষতি স্থায়ী) তাই তোমরা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ওপর চিরস্থায়ী আখিরাতকে প্রাধান্য দাও। [১৫]
টিকাঃ
[১৫] মাজমাউয যাওয়েদ: ১০/২৪৯। সনদ: সহিহ।