📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


মূল্যবান উপদেশ
[৪৬৯] আবুল হাসান বিন খালিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—সৈনিকদের সঙ্গে চলছিলেন এবং বলছিলেন, “সাবধান, কত শুভ্র পোশাকধারী আছে যারা তাদের দীনকে পদপিষ্ট করে; সাবধান, কত লোক আছে যারা নিজেদের সম্মানিত করতে চায়, অথচ নিজেদের অপমানিতই করে। তোমরা তোমাদের অতীতকালে কৃত পাপকাজগুলোকে নতুন নতুন সৎকাজ দ্বারা বদল করে নাও। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ যদি জমিন থেকে নিয়ে আসমান পর্যন্ত পাপ করে, তারপর (সমস্ত পাপকাজ বর্জন করে) সৎকাজ করে, তবে তার সৎকাজ তার অসৎকাজের ওপর প্রাধান্য পাবে, এমনকি সেগুলোকে দূরীভূত করে দেবে।"
তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ যে-কারও মতো হওয়ার চেষ্টা
[৪৭০] কাতাদা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ— রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষের মধ্যে যে-কোনো ব্যক্তি—লাল বা কালো, স্বাধীন বা দাস, অনারব বা বিশুদ্ধভাষী স্বাধীন—যদি আমি জানতে পারি সে তাকওয়ার ব্যাপারে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে অবশ্যই আমি তার মতো হওয়াটাকেই ভালোবাসবো।"
ভেড়া হওয়ার আকাঙ্শা
[৪৭১] কাতাদা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ— রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “হায়, আমি যদি ভেড়া হতাম আর আমার পরিবার আমাকে জবাই করে ফেলতো, তারপর আমার গোশত খেয়ে ফেলতো এবং আমার ঝোল চুষে নিতো!"
তাঁর বাড়িতে তরবারি, ঢাল ও বর্শা ছাড়া কিছু ছিলো না
[৪৭২] হিশাম বিন উরওয়া তাঁর পিতা উরওয়া-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-শামে (সিরিয়ায়) এলেন। তিনি সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সেনাপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, আমার ভাই কোথায়? সবাই জিজ্ঞেস করলো, তিনি কে? উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, আবু উবায়দাহ। লোকেরা বললেন, তিনি এখন আপনার কাছে আসবেন। আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-মাথায় রশি-বাঁধা একটি উটনীর ওপর চড়ে এলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে সালাম দিলেন এবং কুশল জিজ্ঞেস করলেন। তারপর লোকদের বললেন, তোমরা চলে যাও। তারপর তিনি আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাড়িতে এলেন এবং সেখানে নামলেন। তিনি তাঁর বাড়িতে তাঁর তরবারি, ঢাল ও বর্শা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে বললেন, আপনি যদি কিছু আসবাবপত্র বা কিছু জিনিস গ্রহণ করতেন (তাহলে ভালো হতো)। আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, “হে আমিরুল মুমিনীন, এগুলো তো আমাকে দ্বিপ্রহরের ঘুমে নিমজ্জিত করবে।"

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইমাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইমাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


দুনিয়াবিমুখতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
[৪৭৩] মালিক বিন দিনার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব-রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন সিরিয়ায় এলেন, ছোটো ছোটো এলাকাগুলো পরিদর্শন করলেন। একপর্যায়ে হিমসের কাছে অবতরণ করলেন এবং এই এলাকাকে দরিদ্র লোকদের জন্য লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। উমর- রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বণ্টনপত্র পেশ করা হলো। তাতে তিনি হিমসের আমির সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম দেখতে পেলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-জিজ্ঞেস করলেন, এই সাঈদ বিন আমের কে? তাঁরা জবাব দিলেন, আমাদের আমির। তিনি বললেন, তোমাদের আমির? তাঁরা বললেন, জী, হ্যাঁ। এ-কথা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের আমির কীভাবে দরিদ্র হলেন? তাঁর ভাতা কোথায়? তাঁর সম্মানী কোথায়? তাঁরা বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন, রাজকোষ থেকে তিনি কিছু গ্রহণ করেন না। শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি এক হাজার দিনার আলাদা করলেন এবং সেগুলো একটি থলেতে রাখলেন। থলেটি একজন লোক মারফত সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পাঠালেন। লোকটিকে তিনি বলেন দিলেন, "তুমি আমার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে সালাম পৌঁছাবে এবং তাকে বলবে, আমিরুল মুমিনীন এই দিনারগুলো আপনার জন্য পাঠিয়েছেন, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজনপূরণে এগুলোর সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।" বর্ণনাকারী বলেন, দূত সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এলেন। তিনি থলেটি হাতে নিয়ে দেখলেন যে ভেতরে দিনার। তখন তিনি ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়তে শুরু করলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ওগো, কী হয়েছে আপনার? আমিরুল মুমিনীন কি মারা গেছেন? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ তাআলার কোনো নির্দশন প্রকাশ পেয়েছে? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের কোনো আলামত কি প্রকাশ পেয়েছে? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন, আমার হাতে দুনিয়া চলে এসেছে। ফেতনা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনি এগুলো দিয়ে যা চান তা করুন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কি কোনো বুদ্ধি আছে? তাঁর স্ত্রী বললেন, হ্যাঁ, আছে। তারপর সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম—রাদিয়াল্লাহু আনহু—একটি কাপড় নিলেন এবং কাপড়ে দিনারগুলো বণ্টন করলেন। তারপর সেগুলো একটি থলেতে ভরে মুসলমানদের একটি সেনাবাহিনীর দলের কাছে পেশ করলেন এবং সবগুলো দিনার বণ্টন করে দিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি কিছু দিনার রেখে দিতেন তবে আমরা প্রয়োজনে সেগুলোর সাহায্য নিতে পারতাম। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
لَوِ اطَّلَعَتِ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ مَلَأَتِ الْأَرْضَ رِيحَ مسك
“জান্নাতের কোনো রমণী যদি দুনিয়াবাসীর সামনে চলে আসে তবে গোটা দুনিয়া মিসকের ঘ্রাণে ভরে যাবে।”
সুতরাং আমি তোমাকে তাদের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না। এই কথা শুনে তাঁর স্ত্রী চুপ করে গেলেন।

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 উমাইর বিন হাবিব বিন হামাসা—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 উমাইর বিন হাবিব বিন হামাসা—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


নির্বোধের সাহচর্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ
[৪৭৪] জাফর আল-খাতামি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর দাদা উমাইর বিন হাবিবের সাহচর্য ছিলো। তিনি তাঁর সন্তানদের উদ্দেশে নসিহত করে বলেন, “হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, তোমরা কিছুতেই নির্বোধদের সংশ্রবে যাবে না। নির্বোধদের সংশ্রব হলো একটা ব্যাধি। নির্বোধের থেকে যদি কেউ কিছু শেখে তবে তার সেই শিক্ষার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। নির্বোধ ব্যক্তি যা বলে ও করে তার অল্পকিছু নিয়ে যদি কেউ পালিয়ে না আসে তবে তাকে অনেক বেশি কিছু নিয়ে পালিয়ে আসতে হয়। যে-ব্যক্তি অপছন্দনীয় বিষয়ের ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারে সে যা ভালোবাসে তা লাভ করে। আর তোমাদের কেউ যদি মানুষকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে চায় তবে সে যেনো নিজেকে কষ্ট-যন্ত্রণায় ধৈর্য ধারণ করার জন্য প্রস্তুত রাখে এবং একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে প্রতিদানের আশা রাখে। যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার থেকে প্রতিদান পাওয়ার বিশ্বাস রাখে, সে কষ্ট-যন্ত্রণার স্পর্শ পায় না।"
চুপ থাকায় রয়েছে কল্যাণ
[৪৭৫] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমরা সা’দ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, আমি আমার এই চুপ থাকার মাঝে এমন কিছু কথা বলেছি যা ফুরাত ও নীল নদ যে-জল সিঞ্চন করে তার থেকেও উত্তম।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কী বলেছেন? তিনি বললেন,
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ " “সমস্ত মহিমা আল্লাহর, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তো অতি মহান।”
পরিধেয় জুব্বায় কাফন পরানোর ওসিয়ত
[৪৭৬] ইবনে শিহাব-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো। তখন তিনি তাঁর একটি পশমের তৈরি পুরনো জুব্বা নিয়ে আসতে বললেন। তারপর বললেন, “তোমরা আমাকে এই জুব্বায় কাফন পরাবে। বদরের যুদ্ধের দিন আমি মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, সেইদিন এই জুব্বা আমার পরনে ছিলো। এ-কারণে আমি জুব্বাটি লুকিয়ে রেখেছিলাম।"
কিয়ামত দিবসের অবস্থা
[৪৭৭] আবু আবদুল্লাহ আল-জাদালি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, উবাদা বিন সামিত ও কা’ব আল-আহবার-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, “কিয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ সমবেত হবে তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, “আজ চূড়ান্ত ফয়সালার দিন। সুতরাং তারা কোথায় যাদের শরীরের পার্শ্বদেশ (ইবাদতের কারণে) শয্যা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতো? তারা কোথায় যারা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করতো দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় এবং শোয়া অবস্থায়?” এমনকি তিনি এই সকল শব্দ উল্লেখ করবেন। তারপর জাহান্নাম থেকে একটি গলা বেরিয়ে আসবে। গলাটি বলবে, “তিন প্রকারের লোককে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন উপাসনা নির্ধারণ করেছে, প্রত্যেক অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তি এবং প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী। আমি এরূপ মানুষকে পিতা যেমন সন্তানকে চেনে এবং সন্তান যেমন পিতাকে চেনে তার চেয়ে বেশি চিনি।” বর্ণনাকারী বলেন, “দরিদ্র মুসলমানদের জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। যাওয়ার পথে ফেরেশতারা তাদের আটকে দেবে। তখন তারা বলবে, তোমরা আমাদের আটকে দিচ্ছো, অথচ আমাদের সম্পদ ছিলো না এবং আমরা আমিরও ছিলাম না।”
লাল উটের ওপর চড়ে ভাষণ
[৪৭৮] সালামা বিন নুবাইত-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমার পিতা, আমার দাদা ও আমার চাচা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। আমার পিতা আমাকে বলেছেন, "আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি, আরাফাতের দিন সন্ধ্যায় একটি লাল উটের ওপর চড়ে ভাষণ দিয়েছেন।"
ফজরের দুই রাকাত সুন্নত পড়ার তাকিদ
[৪৭৯] সালামা বিন নুবাইত-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমার পিতা আমাকে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়ার উপদেশ দিলেন। আমি বললাম, বাবা, আমি তো তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সামর্থ্য রাখি না। (তাহাজ্জুদের সময় ঘুম থেকে উঠতে পারি না।) তখন তিনি বললেন, তাহলে অবশ্যই ফজরের ফরয নামাযের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায পড়বে, কখনো তা ছাড়বে না। আর কখনো ফেতনায় জড়াবে না।"
তিনি গরিব-মিসকিনদের ভালোবাসতেন
[৪৮০] সাঈদ বিন আবু সাঈদ আল-মাকবুরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, জাফর বিন আবু তালিব গরিব- মিসকিনদের ভালোবাসতেন। তিনি তাদের সঙ্গে বসতেন, তাদের সঙ্গে গল্প করতেন। গরিব লোকেরাও তাঁর সঙ্গে গল্প করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-তাঁর নাম দিয়েছিলেন আবুল মাসাকিন (মিসকিনদের পিতা)।
নামাযে খুশু-খুযুর দৃষ্টান্ত
[৪৮১] ইবনুল মুনকাদির বলেন, তুমি যদি যুবাইর ইবনুল আওয়াম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে নামায পড়তে দেখতে তাহলে বলতে, "গাছের একটি ডাল, যাকে বাতাস নাড়া দিচ্ছে; মানজানিক থেকে এখানে-ওখানে পাথর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, অথচ এর প্রতি তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই।"
তিনি উত্তমরূপে নামায আদায় করতেন
[৪৮২] মক্কার আলেমগণ বলতেন, ইবনে জুরাইজ নামায শিখেছেন আতা বিন আবু রাবাহ থেকে, আতা বিন আবু রাবাহ নামায শিখেছেন উরওয়া ইবনুয যুবাইর থেকে, উরওয়া ইবনুয যুবাইর নামায শিখেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-থেকে, উমর ইবনুল খাত্তাব-রাদিয়াল্লাহু আনহু-নামায শিখেছেন রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-থেকে। আবদুর রাজ্জাক বলেন, “আমি ইবনে জুরাইজ থেকে উত্তমরূপে আর কাউকে নামায পড়তে দেখিনি।"
যিকিরকারীই উত্তম
[৪৮৩] জাবির বিন আমর আবুল ওয়াযযা বলেন, আবু বুরদা আসলামি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির কোলে যদি দিনার থাকে এবং সে তা দান করে দেয় আর অপর ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার যিকির করে, তবে যিকিরকারীই উত্তম।” আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল-রাহিমাহুমুল্লাহ-তাঁর পিতার মৃত্যুর কথা স্মরণ করলেন এবং বললেন, তিনি মৃত্যুর সময় কয়েকটি খুচরো দিরহাম রেখে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি কসমের কাফফারারূপে এগুলো দান করে দিয়ো। আমার মনে হয় কসমটি আমি ভেঙে ফেলেছিলাম।”
এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে পড়ার উপদেশ
[৪৮৪] মুআবিয়া বিন কুররা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতার নিজের সন্তানদের এশার নামায পড়ার পর বলতেন, হে আমার সন্তানেরা, তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তোমাদের রাতের বেলায় কল্যাণ দান করবেন।”

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবু মাসঊদ আল-আনসারি—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবু মাসঊদ আল-আনসারি—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


দীনও ধ্বংস হচ্ছে, দুনিয়াও ধ্বংস হচ্ছে
[৪৮৫] আবদুর রহমান বিন আবু লায়লা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু মাসউদ আল-আনসারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-দুনিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা দুনিয়াকে কলজের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখো, আল্লাহর কসম! তোমরা আখেরাতে দুনিয়া থেকে একটি দিনার বা একটি দিরহাম নিয়ে যেতে পারবে না। তোমরা সেগুলোকে ভূপৃষ্ঠে ও ভূগর্ভেই রেখে যাবে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা রেখে গেছে। অথচ তোমার এই দুনিয়া নিয়েই ঝগড়া-বিবাদ যা করার করছো, পরস্পরকে যা ধোঁকা দেওয়ার ধোঁকা দিচ্ছো। এভাবে তো তোমাদের দীনও ধ্বংস হয়ে, দুনিয়াও ধ্বংস হয়ে যাবে।"
উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করলেন
[৪৮৬] মুহাম্মদ বিন সিরিন আল-আনসারি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু মাসউদ আল-আনসারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-একজন লোকের জন্য তার কোনো প্রয়োজনে সুপারিশ করলেন। তারপর বাড়িতে পরিবারের কাছে এলেন এবং উপঢৌকন দেখতে পেলেন। ইবনে আওন বলেন, আমার ধারণা, মুহাম্মদ বিন সিরিন বলেছেন, উপঢৌকন ছিলো হাঁস ও মুরগি। আবু মাসউদ আল-আনসারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কী? তাঁরা বললেন, "আপনি যে-লোকটির জন্য সুপারিশ করেছিলেন সেই লোক এগুলো পাঠিয়েছে।” তিনি বললেন, "এগুলো বের করো, এগুলো বের করো। আমি কি আমার সুপারিশের প্রতিদান এই দুনিয়াতেই গ্রহণ করবো?"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00