📄 হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া
মানুষ বিনয় ও নম্রতা হারিয়ে ফেলবে
[৪৪৬] আবু আবদুল্লাহ আল-ফিলিস্তিনি থেকে বর্ণিত, হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ভাই আবদুল আযিয বর্ণনা করেন, হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “তোমরা তোমাদের ধর্মের থেকে প্রথম যে-জিনিসটা হারিয়ে ফেলবে তা বিনয় ও নম্রতা। আর তোমাদের ধর্মের সর্বশেষ যে-জিনিসটা হারিয়ে ফেলবে তা হলো নামায।"
হারাম খাদ্য দ্বারা তৈরি হওয়া রক্ত-মাংস জান্নাতে প্রবেশ করবে না
[৪৪৭] মালিক আল-আহমার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মদবিক্রেতা মদ পানকারীর মতোই; শূকরের পালনকারী শূকরের গোশতখাদকের মতোই। তোমরা তোমাদের দাসদের ব্যাপারে সর্তক দৃষ্টি রাখো এবং খতিয়ে দেখো তারা কোথা থেকে তাদের 'কর' নিয়ে আসে। জান্নাতে এমন কোনো গোশতের টুকরো প্রবেশ করবে না যা হারাম খাদ্য দ্বারা তৈরি হয়েছে।"
সিজদার অবস্থা সবচেয়ে উত্তম
[৪৪৮] আবু ওয়ায়িল-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “বান্দার সবচেয়ে প্রিয় যে অবস্থার কারণে আল্লাহ তায়ালা তার প্রশংসা করে থাকেন তা হলো, আল্লাহর সামনে মস্তকাবনত করে রাখা।"
📄 মুআয ইবনে জাবাল—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া
তিনি বিলাসবহুল মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করলেন
[৪৪৯] তাউস বিন কায়সান আল-ইয়ামানি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আমাদের এলাকায় এলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি যদি নির্দেশ দেন তবে পাথর ও কাঠ সংগ্রহ করা হবে এবং আমরা আপনার জন্য একটি মসজিদ বানিয়ে দেবো। তিনি বললেন, আমি ভয় করি যে, কিয়ামতের দিন তার বোঝা আমার পিঠের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।"
পুত্রের উদ্দেশে উপদেশ
[৪৫০] মুআবিয়া বিন কুররা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর পুত্রকে বলেছেন, হে পুত্র, যখন তুমি কোনো নামায পড়বে তখন জীবনের শেষ নামায হিসেবে পড়বে; তুমি কখনোই এই ধারণা করবে না যে তুমি পুনরায় নামায পড়তে পারবে। হে আমার পুত্র, তুমি জেনে রাখো, মুমিন বান্দা দুটি পুণ্যময় কাজের মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করে : যে-পুণ্যময় কাজ সে মৃত্যুর আগে করেছে, আর যে-পুণ্যময় কাজ সে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিয়েছে।” (অর্থাৎ, সাদকায়ে জারিয়া)।
যিকির শ্রেষ্ঠ আমল
[৪৫১] আবুয যুবায়ের বলেন, যে-ব্যক্তি মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-থেকে শুনেছেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহ তাআলার শাস্তি থেকে আদম-সন্তানকে মুক্তি দানকারী শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো আল্লাহ তাআলার যিকির।” সঙ্গীরা বললেন, "আল্লাহ তাআলার পথে তরবারি নয় কি?” তাঁরা কথাটা তিন বার বললেন। জবাবে মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "আল্লাহর পথে তরবারি দ্বারা জিহাদ করতে করতে যদি শহীদ হয়ে যায় তবে ভিন্ন কথা।"
ঈমানদার ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে
[৪৫২] আবুল হাজ্জাজ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন "যে-ব্যক্তি এই বিশ্বাস ধারণ করে যে, আল্লাহ তাআলা সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং আল্লাহ তাআলা মানুষকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করবেন, সে-ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
সবকিছু পরিমিতরূপে করা
[৪৫৩] আবদুল্লাহ বিন সালামা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে এক ব্যক্তি বললেন, "আপনি আমাকে জ্ঞান শেখান।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি আমার কথা মানবে?" লোকটি বললেন, "আমি আপনার কথা মানার জন্য অতিশয় উদ্গ্রীব।” মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "রোযা রাখো এবং রোযা ছেড়ে দাও। নামায পড়ো এবং ঘুমাও। উপার্জন করো, কিন্তু পাপকাজ কোরো না। প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না। আর মজলুমের বদদোয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো।"
আরাম-আয়েশের জন্য তিনি বেঁচে থাকেননি
[৪৫৪] আমর বিন কায়স-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, দেখো, ভোর হয়েছে কি? তাঁকে জানানো হলো, না, ভোর হয়নি। তারপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, দেখো, ভোর হয়েছে কি? তাঁকে জানানো হলো, না, এখনো ভোর হয়নি। তারপর আরও কিছু সময় কেটে গেলে তাঁকে বলা হলো যে, হ্যাঁ, এখন ভোর হয়েছে। তখন মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "আল্লাহ তাআলার কাছে এমন রাত থেকে পানাহ চাই যার ভোর জাহান্নামে নিয়ে যাবে। মৃত্যুকে অভিবাদন! অভিবাদন দীর্ঘদিনের অনুপস্থিত প্রিয় দর্শনার্থীকে, যিনি আমার দরিদ্রাবস্থায় এসেছেন! হে আল্লাহ, আমি আপনাকে ভয় করেছি, আজ আমি আপনার থেকে প্রত্যাশা করি। হে আল্লাহ আপনি জানেন যে, আমি এই দুনিয়াকে চেয়েছি এবং তাতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছি দিবানিদ্রার জন্য নয় এবং গাছ রোপণের জন্য নয়; বরং রৌদ্রপ্রখর দুপুরে পিপাসার্ত থাকার জন্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইবাদতে সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করার জন্য এবং বাহনে চড়ে যিকিরের মজলিসে আলেম-উলামার সঙ্গে ভিড় জমানোর জন্য।"
আমল করা ছাড়া কোনো প্রতিদান নেই
[৪৫৫] সুলাইমান বিন মুসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআয ইবনে জাবাল- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, তোমাদের আমল করার যতো ইচ্ছা ততো আমল করতে থাকো; কারণ, আমল করা ছাড়া কিছুতেই তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে না।"
সাদাসিধে জীবনের নমুনা
[৪৫৬] মুহাম্মদ বিন সিরিন-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন কোনো গভর্নর নিযুক্ত করতেন তার নিয়োগপত্রে লোকদের উদ্দেশে লিখে দিতেন: "তোমরা তার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো, যতোক্ষণ সে তোমাদের মধ্যে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করে।” তিনি হুযায়ফাহ ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে মাদায়িনে গভর্নর নিযুক্ত করলেন। তাঁর নিয়োগপত্রে লিখে দিলেন: "তোমরা তার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো এবং সে তোমাদের কাছে যা চায় তা তাকে প্রদান করো।" মাদায়িনের লোকেরা তাঁকে অভিনন্দন জানালো এই অবস্থায় যে, তিনি একটি শীর্ণ গাধার পিঠে বসে আছেন, তার হাতে সামান্য বস্তু তিনি তা থেকে খাচ্ছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর নিয়োগপত্র, অর্থাৎ, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চিঠি পাঠ করে শোনালেন। তারা বললো, আপনার প্রয়োজন কী? আমিরুল মুমিনীন আপনার ব্যাপারে যা আমাদের লিখেছেন তা ইতোপূর্বে কখনো লেখেননি। হুযায়ফাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "আমার প্রয়োজন এই যে, আমি যতোদিন তোমাদের মধ্যে থাকি তোমরা আমাকে রুটি খাওয়াবে, আমার গাধাটাকে ঘাস খাওয়াবে এবং তোমাদের ভূমিকর সংগ্রহ করবে।" মাদায়িনে তাঁর কাজ শেষ করার পর তিনি মদিনায় ফিরে এলেন। আমিরুল মুমিনীন তাঁর আগমনের সংবাদ শুনে রাস্তায় গিয়ে বসে থাকলেন এটা দেখার জন্য যে, হুযায়ফাহ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে যে-অবস্থায় পাঠিয়েছিলেন সেই অবস্থাতেই আছেন, না-কি পরিবর্তন ঘটেছে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন তাঁকে আগের অবস্থাতেই দেখলেন, তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললেন, "তুমি আমার ভাই এবং আমি তোমার ভাই। তুমি আমার ভাই এবং আমি তোমার ভাই।"
তাঁর একটি ভাষণ
[৪৫৭] আবু ইয়াযিদ আল-সাদানি বলেছেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-মদিনার মসজিদে মিম্বরে দাঁড়ালেন; তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-চৌকাঠের যে-জায়গায় দাঁড়াতেন সেই জায়গায় নয়। দাঁড়িয়ে বললেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আবু হুরায়রাহকে ইসলামের পথপ্রদর্শন করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আবু হুরায়রাহকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আবু হুরায়রাহর প্রতি মুহাম্মাদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-দ্বারা অনুগ্রহ করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে খামির (আটার রুটি) খাইয়েছেন এবং পোশাক পরিধান করিয়েছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বিনতে গাযওয়ানের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন, অথচ আমি তার (তাদের বাড়িতে) পেটে-ভাতে শ্রমিক ছিলাম। বিনতে গাযওয়ান আমাকে পিতা বানালেন, এবং আমি তাকে মাতা বানালাম যেভাবে তিনি আমাকে পিতা বানিয়েছেন (আমার ঔরসের সন্তান তিনি তাঁর গর্ভে ধারণ করলেন)।" তারপর বললেন, আরবদের ধ্বংস এমন এক অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী। তাদের ধ্বংস শিশুদের শাসনের কারণে, যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে রাষ্ট্র চালাবে, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মানুষকে হত্যা করবে। হে বনু ফাররুখ, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, হে বনু ফাররুখ, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! দীনে ইসলাম যদি সুরাইয়া তারকাতেই ঝুলন্ত থাকে তবুও তোমাদের একদল মানুষ তা পালন করতে সমর্থ হবে।”
আয়াতটি পড়ে কাঁদতে শুরু করলেন
[৪৫৮] আবুদ দুহা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামিম দারি- রাদিয়াল্লাহু আনহু-সূরা আল-জাসিয়া পাঠ করছিলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছলেন: أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ "দুষ্কৃতকারীরা কি মনে করে যে আমি জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তাদের ওইসব লোকের সমান গণ্য করবো যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে।"
তিনি আয়াতটি পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। এইভাবে ভোর হয়ে গেলো।
বহুরূপী হওয়া থেকে বিরত থাকো
[৪৫৯] শাকিক বিন সালামা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু মাসঊদ উকবা বিন আমর আল-আনসারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আমাদের কাছে এলেন। আমরা তাঁকে আরজ করলাম, আপনি আমাদের নসিহত করুন। তিনি বললেন, "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমি এমন ভোর থেকে পানাহ চাই যা জাহান্নামে নিয়ে যাবে। দীনের (ইসলামের) ক্ষেত্রে বহুরূপী হওয়ার থেকে বেঁচে থাকো; আজ যা স্বীকার করে নিয়েছো আগামীকাল তা অস্বীকার কোরো না এবং যা অস্বীকার করেছো আগামীকাল তা স্বীকার করে নিয়ো না।"
অল্পে তুষ্টিই প্রকৃত সচ্ছলতা
[৪৬০] ইকরিমা বিন খালিদ-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা'দ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর পুত্রের উদ্দেশে বলেছেন, "হে আমার পুত্র, আমার মৃত্যুর পর তুমি তোমার জন্য আমার চেয়ে অধিক কল্যাণকামী কারও সাক্ষাৎ পাবে এমন ধারণা থেকে দূরে থাকো। (সুতরাং জেনে রাখো,) যখন নামায পড়তে চাইবে, ভালোভাবে ওজু করবে। তারপর নামায পড়ো এই কথা ভেবে যে, এই নামাযের পরে তুমি আর নামায পড়তে পারবে না (এটিই তোমার জীবনের শেষ নামায)। লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ, লোভ-লালসা দরিদ্রতাকে উপস্থিত করে। অল্পে তুষ্ট থাকো; কারণ, অল্পে তুষ্টিই প্রকৃত সচ্ছলতা। এমন কোনো কথা বলা ও কাজ করা থেকে বিরত থাকো যার জন্য জবাবদিহি করতে হয়, অনুশোচনা করতে হয়। (এগুলো ব্যতীত) তোমার যা ভালো মনে হয় করো।"
নিজে আমল না করে অন্যকে উপদেশ দেওয়া ক্ষতিকর
[৪৬১] সাফওয়ান বিন মুহরিয-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, জুন্দুব বিন আবদুল্লাহ আল-জাবালি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আমার কাছে অবতরণ করলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, তিনি বলছেন, “যে-ব্যক্তি অন্য মানুষকে উপদেশ দেয় এবং নিজের কথা ভুলে যায় সে হলো ওই বাতির মতো যে-বাতি অন্যকে আলো দেয় কিন্তু নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে।"
অহংকার দূর করার জন্য কাঠের বোঝা বহন করতেন
[৪৬২] আবদুল্লাহ বিন হানযালা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন সালাম আল-খাযরাজি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বাজারে হাঁটছিলেন এবং তাঁর কাঁধে কাঠের একটি বোঝা ছিলো। তখন তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ তাআলা কি আপনাকে এমন কষ্ট করা থেকে মুক্তি দেননি? তিনি জবাবে বললেন, অবশ্যই মুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমি এই কাজ দ্বারা আমার অহংকার দূর করতে চাই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ
“যে-ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
মন-গলানোর উপদেশ
[৪৬৩] আবু সাঈদ বিন নুমান-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পাশ দিয়ে একটি কাফেলা গেলো এবং কাফেলার সবাই আমাকে নসিহত করলেন। কাফেলার শেষে রয়েছেন একজন কমবয়সী যুবক। তিনি তাঁর পায়ের অগ্রভাগ ও বাহনের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেনো তিনি এমন একটি জিনিসের দিকে তাকিয়ে আছেন যার দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তেছে। আমি তাঁকে বললাম, আমাকে উপদেশ দিন, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তিনি আমাকে বললেন, কাফেলার সবাই আপনাকে উপদেশ দিয়েছে। আমি বললাম, তাহলে আপনিও, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, আমাকে উপদেশ দিন। সুতরাং তিনি বললেন, কেউই তার দুনিয়ার যে-অংশ রয়েছে তা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না, অথচ সবাই আখেরাতের অংশের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী। সুতরাং যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে বিরোধ বাধবে, একটি আখেরাতের বিষয়, অপরটি দুনিয়ার বিষয়, তখন আখেরাতের বিষয়টি দিয়ে শুরু করুন এবং সেটিকে প্রাধান্য দিন। তার ওপর আমল করুন, তা ভালোভাবে উপলব্ধি করুন, তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন, তা যেখানে ক্ষান্ত হয় আপনি তার সঙ্গে সেখানে ক্ষান্ত হোন।"
আবু সাঈদ বিন নুমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, কাফেলার অন্যদের উপদেশ যেনো আমার মন থেকে মুছে গেলো। আর এই যুবক যা বললেন তা আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে বদ্ধমূল করে দিলেন। কাফেলা যখন আমাকে ছাড়িয়ে চলে গেলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই যুবকটি কে? তখন কেউ একজন বললো, "মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু।"
শিশুসুলভ শাসনের আশংকা
[৪৬৪] তারিক বিন আবদুর রহমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, শামে (সিরিয়ায়) মহামারি শুরু হলো। দাবানল ছড়িয়ে পড়লো। লোকেরা বলাবলি করতে শুরু করলো, এটা তুফান ছাড়া কিছু নয়, তবে এই তুফানে পানি নেই। মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এই সংবাদ পৌছালো। ফলে তিনি সবার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বলেন, "তোমরা যা বলাবলি করছো তা আমার কাছে পৌঁছেছে। এটা তো তোমাদের মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রহমত এবং তোমাদের নবী মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দোয়া। তোমাদের পূর্বে যাঁরা সৎকর্মপরায়ণ ছিলেন তাঁদের জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু এটার চেয়ে যা আরও বেশি ভয়ংকর তা ভয় করো। তা হলো, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ঘরে ফিরে আসবে, অথচ তার জানাই থাকবে না সে মুমিন আছে না-কি মুনাফিক হয়ে গেছে। এবং তোমরা শিশুদের শাসনকে ভয় করো।"
তিনটি কাজ তিরস্কারের উপযুক্ত
[৪৬৫] মুহাম্মদ বিন নাদ্র আল-হারিসি-রাহিমাহুল্লাহ-মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-থেকে মারফুরূপে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, যে-ব্যক্তি তিনটি কাজ করবে সে অবশ্যই ঘৃণা ও তিরস্কারের উপযুক্ত: বিস্মিত হওয়া ছাড়াই হাসি, রাত্রিজাগরণ ছাড়াই ঘুম এবং ক্ষুধা ছাড়াই খাদ্যগ্রহণ।"
ইনসাফের দৃষ্টান্ত
[৪৬৬] ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দু-জন স্ত্রী ছিলেন। তিনি যদি তাদের একজনের ঘরে থাকতেন, তবে অপর জনের ঘর থেকে এক ফোঁটা পানিও পান করতেন না।
অন্যরা যখন গাফেল তখন আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ
[৪৬৭] আবু ইদরিস আল-খাওলানি-রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “তোমাকে অবশ্যই এমন লোকদের সঙ্গে মিশতে হবে যারা গল্প-গুজবে লিপ্ত থাকে। যখন তুমি দেখবে যে তারা (আল্লাহর যিকির থেকে) গাফেল হয়ে পড়েছে, তখন তুমি একমাত্র আল্লাহ তাআলার প্রতি সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করবে।” আবু তালহা হাকিম বিন দিনার বলেন, সালাফে সালেহিন বলতেন, মাকবুল দোয়ার আলামত এই যে, যখন তুমি লোকদেরকে (আল্লাহর যিকির থেকে) গাফেল হয়ে যেতে দেখবে, তখন তুমি আল্লাহ তাআলার প্রতি সম্পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করবে।”
যিকির শ্রেষ্ঠ আমল
[৪৬৮] আবু বাহরিয়্যাহ (আবদুল্লাহ বিন কায়স আল-কিন্দি রাহيمাহুল্লাহ) বলেন, মুআয ইবনে জাবাল-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “আদম-সন্তান যতো আমল করে তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে উদ্ধারকারী শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহর যিকির।” সঙ্গীরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু আবদুর রহমান, আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ নয় কি?” জবাবে তিনি বললেন, “তাও না, তবে কেউ যদি জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে যায় তবে ভিন্ন কথা। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন:
وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ “আর আল্লাহর যিকিরই তো সর্বশ্রেষ্ঠ”।
টিকাঃ
৭৫. সূরা জাসিয়া (৪৫): আয়াত ২১।
৭৬. হাদীসটি ইমাম আহমাদ-রাহিমাহুল্লাহ-তার মুসনাদে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ৩৭৮৯, ৪৩১০ (সম্পাদক)
৭৭. আবু নুআঈম হাদীসটি ইমাম আহমাদের সূত্রেই বর্ণনা করেছেন, দেখুন-হিলয়াতুল আউলিয়া ১/২৩৭ (সম্পাদক)
৭৮. সূরা আনকাবুত (২৯): আয়াত ৪৫।
📄 আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া
মূল্যবান উপদেশ
[৪৬৯] আবুল হাসান বিন খালিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—সৈনিকদের সঙ্গে চলছিলেন এবং বলছিলেন, “সাবধান, কত শুভ্র পোশাকধারী আছে যারা তাদের দীনকে পদপিষ্ট করে; সাবধান, কত লোক আছে যারা নিজেদের সম্মানিত করতে চায়, অথচ নিজেদের অপমানিতই করে। তোমরা তোমাদের অতীতকালে কৃত পাপকাজগুলোকে নতুন নতুন সৎকাজ দ্বারা বদল করে নাও। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ যদি জমিন থেকে নিয়ে আসমান পর্যন্ত পাপ করে, তারপর (সমস্ত পাপকাজ বর্জন করে) সৎকাজ করে, তবে তার সৎকাজ তার অসৎকাজের ওপর প্রাধান্য পাবে, এমনকি সেগুলোকে দূরীভূত করে দেবে।"
তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ যে-কারও মতো হওয়ার চেষ্টা
[৪৭০] কাতাদা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ— রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষের মধ্যে যে-কোনো ব্যক্তি—লাল বা কালো, স্বাধীন বা দাস, অনারব বা বিশুদ্ধভাষী স্বাধীন—যদি আমি জানতে পারি সে তাকওয়ার ব্যাপারে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে অবশ্যই আমি তার মতো হওয়াটাকেই ভালোবাসবো।"
ভেড়া হওয়ার আকাঙ্শা
[৪৭১] কাতাদা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ— রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “হায়, আমি যদি ভেড়া হতাম আর আমার পরিবার আমাকে জবাই করে ফেলতো, তারপর আমার গোশত খেয়ে ফেলতো এবং আমার ঝোল চুষে নিতো!"
তাঁর বাড়িতে তরবারি, ঢাল ও বর্শা ছাড়া কিছু ছিলো না
[৪৭২] হিশাম বিন উরওয়া তাঁর পিতা উরওয়া-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-শামে (সিরিয়ায়) এলেন। তিনি সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সেনাপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, আমার ভাই কোথায়? সবাই জিজ্ঞেস করলো, তিনি কে? উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, আবু উবায়দাহ। লোকেরা বললেন, তিনি এখন আপনার কাছে আসবেন। আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-মাথায় রশি-বাঁধা একটি উটনীর ওপর চড়ে এলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে সালাম দিলেন এবং কুশল জিজ্ঞেস করলেন। তারপর লোকদের বললেন, তোমরা চলে যাও। তারপর তিনি আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাড়িতে এলেন এবং সেখানে নামলেন। তিনি তাঁর বাড়িতে তাঁর তরবারি, ঢাল ও বর্শা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে বললেন, আপনি যদি কিছু আসবাবপত্র বা কিছু জিনিস গ্রহণ করতেন (তাহলে ভালো হতো)। আবু উবায়দাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, “হে আমিরুল মুমিনীন, এগুলো তো আমাকে দ্বিপ্রহরের ঘুমে নিমজ্জিত করবে।"
📄 সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইমাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া
দুনিয়াবিমুখতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
[৪৭৩] মালিক বিন দিনার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব-রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন সিরিয়ায় এলেন, ছোটো ছোটো এলাকাগুলো পরিদর্শন করলেন। একপর্যায়ে হিমসের কাছে অবতরণ করলেন এবং এই এলাকাকে দরিদ্র লোকদের জন্য লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। উমর- রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বণ্টনপত্র পেশ করা হলো। তাতে তিনি হিমসের আমির সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম দেখতে পেলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-জিজ্ঞেস করলেন, এই সাঈদ বিন আমের কে? তাঁরা জবাব দিলেন, আমাদের আমির। তিনি বললেন, তোমাদের আমির? তাঁরা বললেন, জী, হ্যাঁ। এ-কথা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-অত্যন্ত বিস্মিত হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের আমির কীভাবে দরিদ্র হলেন? তাঁর ভাতা কোথায়? তাঁর সম্মানী কোথায়? তাঁরা বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন, রাজকোষ থেকে তিনি কিছু গ্রহণ করেন না। শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেঁদে ফেললেন। তারপর তিনি এক হাজার দিনার আলাদা করলেন এবং সেগুলো একটি থলেতে রাখলেন। থলেটি একজন লোক মারফত সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে পাঠালেন। লোকটিকে তিনি বলেন দিলেন, "তুমি আমার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে সালাম পৌঁছাবে এবং তাকে বলবে, আমিরুল মুমিনীন এই দিনারগুলো আপনার জন্য পাঠিয়েছেন, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজনপূরণে এগুলোর সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।" বর্ণনাকারী বলেন, দূত সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এলেন। তিনি থলেটি হাতে নিয়ে দেখলেন যে ভেতরে দিনার। তখন তিনি ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়তে শুরু করলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ওগো, কী হয়েছে আপনার? আমিরুল মুমিনীন কি মারা গেছেন? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ তাআলার কোনো নির্দশন প্রকাশ পেয়েছে? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের কোনো আলামত কি প্রকাশ পেয়েছে? তিনি বললেন, বরং তার চেয়েও বড় কিছু ঘটেছে। তাঁর স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন, আমার হাতে দুনিয়া চলে এসেছে। ফেতনা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনি এগুলো দিয়ে যা চান তা করুন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কি কোনো বুদ্ধি আছে? তাঁর স্ত্রী বললেন, হ্যাঁ, আছে। তারপর সাঈদ বিন আমের বিন খুযাইম—রাদিয়াল্লাহু আনহু—একটি কাপড় নিলেন এবং কাপড়ে দিনারগুলো বণ্টন করলেন। তারপর সেগুলো একটি থলেতে ভরে মুসলমানদের একটি সেনাবাহিনীর দলের কাছে পেশ করলেন এবং সবগুলো দিনার বণ্টন করে দিলেন। তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি কিছু দিনার রেখে দিতেন তবে আমরা প্রয়োজনে সেগুলোর সাহায্য নিতে পারতাম। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
لَوِ اطَّلَعَتِ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ مَلَأَتِ الْأَرْضَ رِيحَ مسك
“জান্নাতের কোনো রমণী যদি দুনিয়াবাসীর সামনে চলে আসে তবে গোটা দুনিয়া মিসকের ঘ্রাণে ভরে যাবে।”
সুতরাং আমি তোমাকে তাদের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না। এই কথা শুনে তাঁর স্ত্রী চুপ করে গেলেন।