📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


কুরআন মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে
[৩০২] ইবনে আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "নিশ্চয় কুরআন এমন শাফাআতকারী, যার শাফাআত কবুল করা হবে এবং এমন দাবি উত্থাপনকারী, যার দাবি গৃহীত হবে। সুতরাং যে-ব্যক্তি কুরআনকে তার সামনে রাখবে, কুরআন তাঁকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর যে-ব্যক্তি কুরআনকে তার পেছনে রাখবে, কুরআন তাঁকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাবে।"
আদম-সন্তান আল্লাহ ও শয়তানের সামনে নিক্ষিপ্ত
[৩০৩] আওন বিন আবদুল্লাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "আদম-সন্তানের অবস্থা হলো আল্লাহ তাআলার সামনে এবং শয়তানের সামনে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তুর মতো। তাতে যদি আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন থাকে তাহলে আল্লাহ তাআলা তা শয়তানের আয়ত্ত থেকে তা নিয়ে নেন; আর যদি তাতে আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন না থাকে তবে ওই ব্যক্তি ও শয়তানের মাঝে পথ উন্মুক্ত করে দেন।"
মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ বড় ধরনের পাপ
[৩০৪] আবু ওয়ায়েল—রাহিমাহুল্লাহ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ এই আকাঙ্ক্ষা করবে যে, যদি সে দুনিয়াতে জীবনধারণের জন্য যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু খাবারই খেতো। তোমাদের কেউ দুনিয়াতে যে-অবস্থায়ই সকাল ও সন্ধ্যা (দিন) যাপন করুক না কেন, তা তার কোনো ক্ষতি করবে না, যদি না তার অন্তরে মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে।"
মুমিন বান্দার আরাম-আয়েশ নেই
[৩০৫] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহ তাআলার সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুমিন বান্দার কোনো আরাম-আয়েশ নেই।"
মৃত্যু ও দরিদ্রতা তাঁর প্রিয়
[৩০৬] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "দুটি অপছন্দনীয় বিষয় কতই-না চমৎকার: মৃত্যু ও দরিদ্রতা। আল্লাহর কসম! হয় সচ্ছলতা না-হয় দরিদ্রতা, (এর বাইরে কিছু নেই।) এর যে-কোনো একটি দিয়ে আমি পরীক্ষিত হই-না কেন, আমি তা পরোয়া করি না। কারণ, সচ্ছলতা দ্বারা পরীক্ষা করা হলে তার দ্বারা অন্যের প্রতি অনুগ্রহ করা যায়; আর দরিদ্রতা দ্বারা পরীক্ষা করা হতে তাতে ধৈর্য ধারণ করা যায়।"
অন্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি নামাযে দাঁড়াতেন
[৩০৭] উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পড়তো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-জেগে উঠে নামাযে দাঁড়াতেন এবং মৌমাছির গুঞ্জনের মতো আমি তাঁর (কুরআন পাঠের) গুঞ্জন শুনতে পেতাম।"
পাখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩০৮] দাহহাক বিন মুযাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "হায়, আমি যদি পালকশোভিত ডানাবিশিষ্ট পাখি হতাম!"
ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩০৯] কাসিম বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এক ব্যক্তি বললেন, "হায়, আমি যদি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম!" এই কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "হায়, মৃত্যুর পর আমাকে যদি উঠানো না হোতো!"
তিনি রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের একজন ছিলেন
[৩১০] আবু ইসহাক-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, আবু মুসা আশআরি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, আমি নবী করীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসেছি এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে তাঁর পরিবারের একজনরূপে দেখেছি। তাঁর প্রতি তাঁদের যে-স্নেহ দেখেছি তা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে।
বিনয়ী ব্যক্তির মর্যাদা উঁচু হবে
[৩১১] আবু ওয়ায়িল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি বিনম্র হয়ে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিনয় অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর মর্যাদা উঁচু করে দেবেন। আর যে-ব্যক্তি আত্মম্ভরিতার সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখাবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে অপদস্থ করবেন।"
জিহ্বাকে সংযত রাখার নির্দেশ
[৩১২] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর পুত্রকে বলেছেন, হে বৎস, তোমার ঘরই যেনো তোমার জন্য যথেষ্ট হয়। তুমি তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো এবং তোমার পাপের কথা মনে করে কাঁদো।"
পাপকাজের কারণে ইলম ভুলে যায়
[৩১৩] হাসান বিন সা'দ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আমি মনে করি, মানুষ তার পাপকাজের কারণে ইলম ভুলে যায়, যে-ইলম একসময় সে জানতো।"
আল্লাহ তাআলা দাম্ভিক ও অহংকারীকে অপদস্থ করেন
[৩১৪] আবু ইয়াস আল-বাজালী-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, "যে-ব্যক্তি অহমিকার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে বেড়ায় আল্লাহ তাআলা তাকে অপমানিত করেন। আর যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে বিনম্র হয়ে বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তাকে মর্যাদাবান করেন। নিশ্চয় ফেরেশতার একটি দল রয়েছে এবং শয়তানের একটি দল রয়েছে। ফেরেশতার দলের কাজ হলো কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তোমরা যখন এগুলো দেখতে পারে, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করবে। আর শয়তানের দলের কাজ হলো অসৎ ও অন্যায় কাজ করা এবং সত্যকে অস্বীকার করা। তোমরা যখন এগুলো দেখতে পাবে, আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাইবে।"
বিপদে ফেলার জন্য শয়তান ঘুরতে থাকে
[৩১৫] আমর বিন মাইমুর-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “নিশ্চয় শয়তান জিকিরে মগ্ন মজলিসের লোকদের চারপাশে ঘুরতে থাকে তাদের বিপদে ফেলার জন্য; কিন্তু সে তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না। শয়তান দুনিয়াবি আলোচনায় লিপ্ত লোকদের বৈঠকে আসে এবং তাদের উস্কানি দেয়, ফলে তারা পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়। যিকিরকারীরা যখন উঠে দাঁড়ান, তাঁদের মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা (নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে) আলাদা হন।"
কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা ইলম চর্চাকারীর জন্য অপরিহার্য
[৩১৬] আবু ইসহাক-রাহিমাহুল্লাহ-মুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে চায় সে যেনো কুরআনকে অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ অধ্যয়ন করে। কারণ কুরআনে পূর্ববর্তীদের ও পরবর্তীদের জ্ঞান রয়েছে।"
সুস্থতা ও স্বস্তি আল্লাহর বড় নেয়ামত
[৩১৭] আমের আশ-শা'বী-ইমাম শা'বী রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ "এরপর অবশ্যই সেই দিন তোমাদের নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। " আয়াতটির ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, এখানে নাঈম (নেয়ামত)-এর অর্থ হলো "স্বস্তি ও সুস্থতা”।
গাধার বংশধর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩১৮] হুমাইদ বিন হিলাল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "হায়, আমাকে যদি গাধার মলরূপে সৃষ্টি করা হতো এবং গাধার দিকেই আমার বংশধারাকে সম্পৃক্ত করা হতো এবং আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ না বলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওসাহ বলা হতো! হায়, আমি যদি জানতে পারতাম যে আল্লাহ তাআলা আমার একটি গুনাহ হলেও ক্ষমা করে দিয়েছেন!"
বংশধারা না জানার আকাঙ্ক্ষা
[৩১৯] আবু ওয়ায়িল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, “হায়, আমি যদি জানতে পারতাম যে আল্লাহ তাআলা আমার গুনাহসমূহের একটি গুনাহ বা পাপসমূহের একটি পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন! হায়, আমি যদি আমার কোনো বংশধারা না জানতাম!"
জাহান্নামের জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবেন
[৩২০] শাকীক বিন সালামা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, وَحِيْءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ “সেই দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে।” আয়াতটির ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "সত্তর হাজার লাগামে বেঁধে জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, প্রতিটি লাগাম ধরে রাখবেন সত্তর হাজার ফেরেশতা, তারা জাহান্নামকে টেনে নিয়ে আসবেন।"
দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা চলে গেছে
[৩২১] আবু হুযায়ফাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা চলে গেছে এবং তার কদর্যতা বাকি রয়েছে। বর্তমান সময়ে মৃত্যুই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার ঢাল।"
ইবাদতের কথা প্রকাশ না করার নির্দেশ
[৩২২] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তোমরা যখন রোযা রাখবে, কেশতেল ব্যবহার করবে।” (যাতে মানুষ বুঝতে না পারে যে তোমরা রোযাদার।)
ঈমানের হাকিকত প্রসঙ্গে
[৩২৩] আওন বিন আবদুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কোনো মুসলমান ঈমানের হাকীকত উপলব্ধি করতে পারবে না যতোক্ষণ না সে ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে। সে ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে না যতোক্ষণ না তার কাছে সচ্ছলতা থেকে দরিদ্রতা প্রিয় হবে, সম্মান থেকে বিনয় প্রিয় হবে এবং তার চোখে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হবে।" আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাগরেদগণ তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, "যতোক্ষণ না তার কাছে হারাম মাল দ্বারা সচ্ছলতা অর্জনের চেয়ে হালাল উপার্জনের ক্ষেত্রে দরিদ্রতা প্রিয় হবে; যতোক্ষণ না আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে সম্মান অর্জনের চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বিনয় প্রকাশ করা প্রিয় হবে; এবং যতোক্ষণ না সত্যের ক্ষেত্রে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী তার চোখে সমান হবে।"
মূর্খতা মানুষকে ধোঁকায় ফেলে
[৩২৪] কাসিম বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহভীতির জন্য ইলমই যথেষ্ট এবং ধোঁকায় পতিত হওয়ার জন্য মূর্খতাই যথেষ্ট।”
নামাযে ধীরতা-স্থিরতা
[৩২৫] মানসুর বিন আল-মু'তামার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁকে একটি নিক্ষিপ্ত কাপড়ের মতো মনে হতো। (তিনি এতোটাই ধীরতা-স্থিরতার সঙ্গে নামায আদায় করতেন।)
কুরআনের নির্দেশ কান লাগিয়ে শোনা
[৩২৬] মা'ন বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তুমি যদি নিজেই বর্ণনাকারী হতে পারো (তবে মানুষের কাছে বর্ণনা করতে পারো, তাতে সমস্যা নেই।) যখন يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا বা "হে ঈমানদারগণ" দিয়ে শুরু হওয়া কোন বাণী শুনবে তখন কান লাগিয়ে শুনবে। কারণ, তা কোনো কল্যাণ ও সৎকাজের নির্দেশ দিচ্ছে অথবা অন্যায় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করছে।"
আল্লাহভীতিই ইলম
[৩২৭] আওন বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "অধিক বর্ণনার (রেওয়ায়েতের) নাম ইলম নয়; বরং আল্লাহর ভীতির নামই ইলম।"
ধ্বংস হওয়ার জন্য প্রার্থনা
[৩২৮] আ'দী বিন আ'দী-রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করে না সে ধ্বংস হোক। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাকে ইলম দিতে পারেন। আর যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করে কিন্তু সেই ইলম অনুযায়ী আমল করে না সে সাত বার ধ্বংস হোক।"
[৩২৯] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে এক ব্যক্তি বললেন, "আমি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না; বরং নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াই আমার পছন্দনীয়।" এই কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "কিন্তু এখানে একজন মানুষ আছেন, যার আকাঙ্ক্ষা এই যে, মৃত্যুর পর যদি তাঁকে পুনরুজ্জীবিত না করা হোতো।" (এ-কথা বলে তিনি নিজেকে বোঝাতেন।)
[৩৩০] আবু উবায়দুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"
[৩৩১] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "বিদআতমূলক কাজের মধ্যে ইজতিহাদ করার চেয়ে সুন্নাহর ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উত্তম।"
[৩৩২] মালিক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, রবী বিন খুসাইম প্রতি জুমআর দিনে আলকামা—রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে আসতেন। তো তিনি এক জুমআর দিনে তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন, আপনি কি এই ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হবেন না যে আহলে কিতাবদের একজন ব্যক্তি আমার কাছে এলেন?— তারপর তিনি আমাকে বললেন, "আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে মানুষ অসংখ্য দোয়া করে, কিন্তু তাদের অল্পসংখ্যক দোয়াই কবুল করা হয়? তারা কি জানে, কী কারণে এমনটা হয়? শুনুন, তার কারণ এই যে, নিশ্চয় আল্লাহ উত্তম দোয়া ছাড়া কোনো দোয়া কবুল করেন না। তখন আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—ওই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, "এই ব্যক্তি যা বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ওই সকল লোকের দোয়া কবুল করেন না যারা লোকদের শুনিয়ে দোয়া করে, যারা লোকদের দেখিয়ে দোয়া করে অথবা হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে দোয়া করে। তবে কেউ যদি একনিষ্ঠভাবে অন্তর থেকে দোয়া করে আল্লাহ তাআলা তাঁর দোয়া কবুল করেন।”
নামায থেকে দূরত্ব তৈরি হয়
[৩৩৪] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যে-ব্যক্তিকে তার নামায সৎকাজের আদেশ করে না এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে না, নামাযের প্রতি তার কেবল দূরত্বই তৈরি হয়।”
অলস লোককে অপছন্দ
[৩৩৪] আল-মুসাইয়িব বিন রাফে রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “আমি এমন লোককে খুবই অপছন্দ করি যাকে দেখি অলস বসে আছে, আখেরাতের কাজও করছে না, দুনিয়ার কাজও করছে না।”
জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়াপ্রদর্শনের নির্দেশ
[৩৩৫] আবু উবায়দাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”
যারা ভ্রান্তিতে ডুবে আছে তাদের পাপ সবচেয়ে বেশি হবে
[৩৩৬] হুসাইন বিন উকবাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “কিয়ামতের দিন ওইসব লোকের পাপ সবচেয়ে বেশি হবে যারা ভ্রান্তিমূলক বিষয়াবলিতে ডুবে আছে।” (ওয়াকি’উ শব্দ স্থলে ذُنُوبًا শব্দটি ব্যবহার করেছেন।)
আল্লাহকে স্মরণ না করে ঘুমালে শয়তান কানে পেশাব করে
[৩৩৭] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যে-ব্যক্তি আল্লাহর যিকির না করে ঘুমায়, শয়তান তার কানের মধ্যে পেশাব করে। আল্লাহ তাআলার কসম! গতকাল রাতে শয়তান তোমাদের সঙ্গীর সঙ্গে এই কাণ্ড করেছে।" (তোমাদের সঙ্গী বলে তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন।)
বোঝা হালকা করার নির্দেশ
[৩৩৮] আবু উবায়দাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-অসুস্থ মুজাম্মা বিন হারিসাকে দেখার জন্য তার ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর চারপাশে কিছু আসবাবপত্র দেখতে পেলেন। তাই বললেন, "তুমি নিজের থেকে বোঝা হালকা করে নাও। লোকজন তো উটের পেছনে ছুটতে শুরু করবে।" হারিস বিন আল-আযমা বলেন, মুগীরা বিন শু'বা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বললেন, "আজকের চেয়ে গতকাল ভালো ছিলো। আজ আগামীকালের চেয়ে ভালো। আগামীকাল পরশুদিনের চেয়ে ভালো। এইভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আমাদের এই বছরের তুলনায় আগের বছর অধিক ফলনশীল ছিলো।" এই ঘটনা মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে উল্লেখ করা হলো। তিনি মন্তব্য করলেন, "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কথাগুলো আখেরাতের বিবেচনায় বলেছেন এবং মুগীরা ইবনে শু'বা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কথাগুলো দুনিয়াবি বিবেচনায় বলেছেন।"
হাপরের আগুন দেখে ভীত হলেন
[৩৩৯] আবু হাইয়ান-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যারা হাপরে ফুঁ দিচ্ছিল। তখন তিনি পড়ে গেলেন।"
কথা ও কাজের মিল না থাকলে নিজেকে তিরস্কার করা ছাড়া উপায় নেই
[৩৪০] মা'ন বিন আবদুর রহমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "সব মানুষই ভালো ভালো কথা বলে। যার কথা তার কাজের অনুরূপ হয় সে তো তার প্রতিদান লাভ করে। আর যার কথা তার কাজের বিপরীত হয় সে কেবল নিজেকেই তিরস্কৃত করে।"
তিনি দোয়ায় এসব শব্দ বলতেন
[৩৪১] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর দোয়ায় এই শব্দগুলো বলতেন: خَائِفًا (ভীত হয়ে), مُسْتَجِيرًا (আশ্রয় প্রার্থনাকারী হয়ে), بَائِسًا (দুনিয়ার প্রতি নিরাশ হয়ে), مُسْتَغْفِرًا (ক্ষমা প্রার্থনাকারী হয়ে), رَاغِبًا (আগ্রহী হয়ে), رَاهِبًا (দুনিয়াবিমুখ হয়ে)।
জ্ঞানহীনরাই পার্থিব সম্পদ জমা করে
[৩৪২] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “দুনিয়া ওই ব্যক্তির বাড়ি যার কোনো বাড়ি নেই, ওই ব্যক্তির সম্পদ যার কোনো সম্পদ নেই। এই দুটি জিনিস ওই ব্যক্তিই জমা করে যার কোনো জ্ঞান নেই।”
অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়ার আকাঙ্শা
[৩৪৪৩] কাতাদা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “আমি যদি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে থাকি এবং আমাকে যদি আমার সমস্ত আমল কবুল করা এবং আমার অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দেওয়া হয় তবে আমি আমার অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়াটাই গ্রহণ করবো।"
আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন
[৩৪৪] আবু ওয়ায়িল-রাহيمাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তার চিত্তে হেদায়েতের প্রেরণা বদ্ধমূল করে দেন।"
কতিপয় উপদেশ
[৩৪৫] আল-কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-ও অন্যান্য থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, তোমরা ইলমের কথা বলো, তার দ্বারা তোমরা পরিচিত হবে; তোমরা ইলম অনুযায়ী আমল করো তাহলে 'আহলে ইলম'গণের অন্তর্ভুক্ত হবে। তোমরা অস্থিরচিত্ত হোয়ো না, লৌকিকতা প্রদর্শনকারী হোয়ো না এবং অপচয়কারী হোয়ো না।"
নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীই প্রকৃত যুদ্ধগ্রস্ত
[৩৪৬] সাইয়ার—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আমি শা'বীকে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—তাঁর খুতবায় বলেছেন, "মূলত সে-ই যুদ্ধগ্রস্ত ব্যক্তি যে তার ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।"
জানাযার সময় হাসার কারণে কথা বন্ধ করে দিলেন
[৩৪৭] আবদুর রহমান বিন হুমাইদ—রাহিমাহুল্লাহ্‌—থেকে বর্ণিত, তিনি বনি আবসের একজন শায়খ থেকে শুনেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এক লোককে জানাযার সময় হাসতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, "তুমি কি জানাযার সময় হাসছো? আমি তোমার সঙ্গে কখনো কথা বলবো না।"
মজলিসগুলোকে জ্ঞান ও তাকওয়ায় সমৃদ্ধ বানানোর উপদেশ
[৩৪৪৮] আবদুর রহমান বিন হুজায়রাহ্‌—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আমি শা'বী-কে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—যখন (উপদেশদানের) উদ্দেশ্যে বসতেন, বলতেন, "দিবস ও রজনীর গমনাগমনের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সংক্ষিপ্ত সময় এবং সংরক্ষণযোগ্য আমল। আর মৃত্যু আসবে অকস্মাৎ। সুতরাং যে-ব্যক্তি কল্যাণের বীজ বপন করবে সে আগ্রহের সঙ্গে তার ফসল আয় করবে এবং যে-ব্যক্তি অন্যায়ের বীজ বপন করবে সে অনুশোচনার সঙ্গে তার ফসল তুলবে। প্রত্যেক বীজ বপনকারীর জন্য তা-ই থাকবে যা সে বপন করেছে। ধীরগামীরা কখনো তাদের অংশ নিয়ে আগে যেতে পারবে না। লোভীদের ভাগ্যে যা লেখা হয় তা তারা কিছুতেই অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং যাকে কল্যাণ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলাই তা দিয়েছেন। আর যে-ব্যক্তি অন্যায় থেকে বিরত থাকে, তাকে আল্লাহ তাআলাই বিরত রেখেছেন। মুত্তাকীগণ হলেন নেতা, ফকীহগণ হলেন পরিচালক এবং তাঁদের মজলিসগুলো জ্ঞান ও তাকওয়ায় সমৃদ্ধ।"
আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মার্জনা করে দেবেন
[৩৪৯] আবু ওয়ায়িল—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে ডাকবেন এবং তাঁর দুই হাত দ্বারা অন্তরাল সৃষ্টি করবেন। তারপর (বান্দার পাপগুলো দেখিয়ে) তাকে জিজ্ঞেস করবেন, 'এগুলো তোমার পাপ বলে কি স্বীকার করো?' বান্দা বলবে, 'হ্যাঁ, স্বীকার করি, হে আমার প্রতিপালক।' তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'আমি তোমার এ-সকল পাপ মার্জনা করে দিলাম।"
মানুষের অন্তর হলো সংরক্ষণপাত্র
[৩৫০] আবদুর রহমান বিন আসওয়াদ-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, তোমাদের এই অন্তরগুলো হলো সংরক্ষণপাত্র। সুতরাং সেগুলো কুরআন দ্বারা পূর্ণ করো; অন্য কিছু দ্বারা নয়।"
কুরআনের ধারক-বাহকের যা উচিত
[৩৫১] মুসাইয়িব বিন ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাতকে সজীব রাখা, যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে; দিবসে রোযা রাখা যখন মানুষ পানাহার করে; দুঃখ-ভারাক্রান্ত থাকা যখন মানুষ আনন্দ-ফুর্তি করে; ক্রন্দন করা যখন মানুষ হাসি-তামাশা করে; চুপ থাকা যখন মানুষ অনর্থক ও ভুল কথা বলে; আল্লাহ তাআলার প্রতি বিনম্র হওয়া, যখন মানুষ দম্ভ করে। কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত ক্রন্দনকারী হওয়া, দুঃখ-ভারাক্রান্ত হওয়া, সহিষ্ণু হওয়া এবং প্রশান্ত হওয়া। কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত নয় কঠিনহৃদয় হওয়া, উদাসীন (গাফেল) হওয়া, শোরগোলকারী হওয়া, অট্টহাস্যকারী হওয়া এবং কর্কশ হওয়া।"
আনন্দে মৃত্যুবরণ করবে
[৩৫২] আমর বিন মাইমুন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যদি জাহান্নামের অধিবাসীদের এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, একদিনের জন্য তাদের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, তবে তারা আনন্দে মৃত্যুবরণ করবে।"
জিহ্বাকে সব সময় কারাবন্দি করে রাখা উচিত
[৩৫৩] আমর বিন মাইমুন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "ওই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, জমিনের বুকে জিহ্বা ছাড়া এমন কোনো বস্তু নেই যা দীর্ঘ সময় কারাবন্দি করে রাখার উপযোগী।"
কথাই বিপদ ডেকে আনে
[৩৫৪] ইবরাহিম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষের কথার কারণেই তার ওপর বিপদ নেমে আসে।”
কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের নির্দেশ
[৩৫৫] আবু আবদুর রহমান—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “তোমরা (কুরআন ও সুন্নাহর) অনুসরণ করো; নিজেরা নতুন কিছু উদ্ভাবন কোরো না। এটাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। প্রতিটি বিদআত (ধর্মের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়) পথভ্রষ্টতা।”
পূর্বসূরিদের পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ
[৩৫৬] আম্মার বিন উমায়ের—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “তোমাদের জন্য প্রথম পন্থা (পূর্বসূরিদের পন্থা) অবলম্বন করা আবশ্যক।”
মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট
[৩৫৭] আবুল আহওয়াস—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষ যা শোনে তা-ই যদি বলে বেড়ায়, তবে এটা তার মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।”
কেউ আলেম হয়ে জন্মগ্রহণ করে না
[৩৫৮] আবুল আহওয়াস—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “কোনো মানুষ আলেম হয়ে জন্মগ্রহণ করে না; বরং শিক্ষার দ্বারা ইলম ও জ্ঞান অর্জন করে।”
লৌহদণ্ড দেখে কেঁদে ফেললেন
[৩৫৯] মুগীরা বিন সা'দ বিন আখরাম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—কয়েক জন কর্মকারের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন একটি উত্তপ্ত লৌহখণ্ড দেখতে পেলেন এবং কেঁদে ফেললেন।”
প্রতিটি আনন্দের সঙ্গে রয়েছে বেদনা
[৩৬০] আবুল আহওয়াস-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "প্রতিটি আনন্দের ঘটনার সঙ্গে বেদনার ঘটনা রয়েছে। কোনো ঘর যদি আনন্দ দ্বারা পরিপূর্ণ হয় তবে তা (একসময়) চোখের পানি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়।"
আল্লাহর শিষ্টাচার হলো কুরআন
[৩৬১] মা'ন বিন আবদুর রহমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "প্রত্যেক শিষ্টাচারপূর্ণ ব্যক্তিই চায় তার শিষ্টাচার পালিত হোক। আর আল্লাহ তাআলার শিষ্টাচার হলো আল-কুরআন।"
আযাবের ভয় ও রহমতের আকাঙ্ক্ষা
[৩৬২] যাহর বিন রবীআ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যে-সত্তার হাতে আবদুল্লাহর প্রাণ তার কসম! দুনিয়ার কোনো মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার আযাব সম্পর্কে জানে যে তা কতটা কঠিন, তাহলে যে-মানুষ তা জেনেছে তার চোখ ততোক্ষণ পর্যন্ত জাগ্রত থাকবে যতোক্ষণ না সে জানতে পারবে যে আল্লাহর আযাব তাকে গ্রাস করবে না-কি সে ওই আযাব থেকে মুক্তি পাবে। আর দুনিয়ার কোনো মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার রহমত সম্পর্কে জানে যে তা কতটা বিস্তৃত, তাহলে সে সুসংবাদ গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করবে।"
মুমিন বান্দার অন্তর সবচেয়ে পরিশুদ্ধ
[৩৬৩] সাঈদ বিন মাসরুক বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর যুগে শহুরে ব্যবসায়ীরা কুফায় এলো। তারা (অন্যদের তুলনায়) নিজেদের ভালো স্বাস্থ্য ও গায়ের রং দেখে বিস্মিত হতে লাগলো। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাদের বললেন, "কেন তোমরা বিস্মিত হচ্ছো? তোমরা মুমিন বান্দাকে দেখবে, তার অন্তর সবচেয়ে পরিশুদ্ধ, যদিও তার দেহ রুগ্‌ণ। আর পাপাচারী ও মুনাফিকদের দেখবে, তাদের দেহ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান, কিন্তু তাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলার কসম! যদি তোমাদের দেহ স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে এবং তোমাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে গুবরে পোকা থেকে নিকৃষ্ট বলে বিবেচিত হবে।"
ঋণ পরিশোধ না-করা জুলুম
[৩৬৪] আবু উসমান আল-ইজলি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "নিকৃষ্ট লোক মানুষ হলেও সে নিকৃষ্ট লোকই।” তিনি আরও বলতেন, "(সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা জুলুম হওয়ার জন্য যথেষ্ট।"
পৃথিবীর সব মানুষ অতিথি
[৩৬৫] দাহহাক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "পৃথিবীতে যতো মানুষ জন্ম নেয় তারা প্রত্যেকে এক জন অতিথি। তার যতো সম্পদ রয়েছে তা হলো ধারের বস্তু। অতিথিকে চলে যেতে হয় এবং ধারের বস্তুগুলো ফেরত দিতে হয়।"
বান্দার সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথন
[৩৬৬] আবদুল্লাহ বিন উকাইম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে মসজিদে বসে বলতে শুনেছি, আমাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আগে তিনি আল্লাহর নামে শপথ করেছেন, তিন বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রত্যেককে নিভৃতে ডেকে নেবেন, যেভাবে তোমরা পূর্ণিমার রাতে চাঁদের সঙ্গে নিভৃতচারী হও। তারপর জিজ্ঞেস করবেন, হে আদম-সন্তান, কোন জিনিস তোমাকে ধোঁকায় ফেলেছে? হে আদম-সন্তান, তুমি নবীগণকে কী জবাব দিয়েছো? হে আদম-সন্তান, তুমি যে-ইলম অর্জন করেছো সেই ইলম অনুযায়ী কী আমল করেছো?"
ইসলামের ওপর অটল ব্যক্তিকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না
[৩৬৭] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ইসলামের ওপর সকাল যাপন করে এবং ইসলামের ওপর সন্ধ্যা যাপন করে, তবে দুনিয়ার যা-কিছু তাকে আক্রান্ত করেছে তা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"

টিকাঃ
৪৮. মূল কিতাবে ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আলোচনার জন্য আলাদা কোনো অধ্যায় রচনা করা হয়নি; বরং আবু হুরাইরাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর অধ্যায়ে বর্ণনাগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে আমরা এখানে আলাদা অধ্যায় আকারে উপস্থাপন করলাম। (সম্পাদক)
৪৯. تثوير القرآن : البحث عن معانيه وعن علمه
৫০. সূরা তাকাসুর (১০২) : আয়াত ৮
৫১. হতে পারে আগুন দেখে তার জাহান্নামের কথা স্মরণ হয়েছে। (সম্পাদক)
৫৩. দহাকীন শব্দটি বহুবচন; একবচন হলো دهقان دهقان এটি ফারসি ভাষা থেকে গৃহীত আরবি শব্দ। শব্দটি শহুরে ব্যবসায়ী বা সম্পদশালীকে বোঝায়।

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আয়েশা সিদ্দীকা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া

📄 আয়েশা সিদ্দীকা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া


পরিতৃপ্তিসহ খাবার খাননি
[৩৬৮] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা- বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আমি পরিতৃপ্তির সঙ্গে খাবার খাইনি। যদি আমি কাঁদতে চাইতাম তবে কাঁদতে পারতাম। (আমার দুঃখ-বেদনা প্রকাশ করতে পারতাম।) মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তৃপ্তিসহকারে খেতে পায়নি।"
আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা
[৩৬৯] আবুদ দুহা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, যিনি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলতে শুনেছেন তিনি বর্ণনা করেছেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা- “فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ তারপর আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” আয়াতটি পাঠ করতেন এবং বলতেন, "হে আমার প্রতিপালক, আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।"
আল্লাহ তাআলাই বান্দার জন্য যথেষ্ট
[৩৭০] আবুল মুরাইকাহ-রাহিমাহুল্লাহ-আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে গিয়ে মানুষের বিরাগভাজন হয়, মানুষের বিপক্ষে আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট। আর যে-ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার বিরাগভাজন হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের মুখাপেক্ষী করে দেন।"
এমনভাবে কাঁদতেন যে তাঁর ওড়না ভিজে যেতো
[৩৭১] আবুদ দুহা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, যিনি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলতে শুনেছেন তিনি বর্ণনা করেছেন, "আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
"আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না। তোমরা সালাত আদায় করবে এবং যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে।" আয়াতটি পাঠ করতেন এবং খুব কাঁদতেন, এমনকি তার ওড়না ভিজে যেতো।"
বিস্মৃত হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭২] হিশাম-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, "হায়, আমি যদি চিরতরে বিস্মৃত হয়ে যেতাম!"
বৃক্ষ হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭৩] উসামা বিন যায়দ-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি যায়িদার আযাদকৃত গোলাম ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, "হায়, আমি যদি বৃক্ষ হতাম এবং মানুষ তা কেটে ফেলতো! হায়, আমাকে যদি সৃষ্টি করা না হতো!"
বিনয় অবলম্বন শ্রেষ্ঠ ইবাদত
[৩৭৪] আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, আয়েশা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, তোমরা যেসব ইবাদত করো তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো বিনয় অবলম্বন করা।
পাপ থেকে বেঁচে থাকা শ্রেষ্ঠ আমল
[৩৭৫] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, “তোমরা পাপকাজ কম করো, কারন তোমরা কিছুতেই পাপের স্বল্পতার চেয়ে উত্তম অন্য কিছু নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হতে পারবে না।
বিপুল বিত্ত থাকা সত্ত্বেও ওড়নায় তালি লাগিয়েছেন
[৩৭৬] উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে দেখেছি, তিনি সত্তর হাজার দিরহাম মানুষের মাঝে বণ্টন (দান) করে দিয়েছেন, অথচ তিনি নিজে তাঁর ওড়নাতে তালি লাগিয়েছেন।”
প্রশংসাকারীরা নিন্দাকারীতে পরিণত হয়
[৩৭৭] আমের বিন রাবীআ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে এই কথা লিখে চিঠি পাঠালেন, “পরসমাচার এই যে, বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার নাফরমানিমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের মধ্যে যারা তার প্রশংসাকারী ছিলো তারা তার নিন্দাকারীতে পরিণত হয়।”
গাছের পাতা হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭৮] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা-একটি গাছের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন বললেন, “হায় আফসোস, আমি যদি এই গাছের একটি পাতা হতাম!”
তাঁর ভ্রমণ ছিলো পরিমিত
[৩৭৯] আবদ বিন সাঈদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে তাঁর ভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, “তা ছিলো পরিমিত।"

টিকাঃ
৫৪. সূরা তুর (৫২): আয়াত ২৭।
৫৫. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবের পূর্বের যুগ। অন্য মতে নূহ-আলাইহিস সালাম-এর কাল। অন্য এক মতে ইবরাহীম-আলাইহিস সালাম-এর যুগ থেকে ঈসা-আলাইহিস সালাম-এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত। বর্ণনায় আছে, সেই যুগে নারীরা বাইরে সৌন্দর্য প্রকাশ করে বেড়াতো। বায়হাকী।
৫৬. সূরা আহযাব (৩৩) : আয়াত ৩৩

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 উন্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া

📄 উন্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া


দুনিয়া যেনো তোমাদের নিয়ে না খেলে
[৩৮০] বনি তামীম গোত্রের আবু হাযযার নামের এক শায়খ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উন্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা—আমাকে বললেন, হে আবু হাযযার, খাটিয়ার ওপর রাখা মৃত ব্যক্তি কী বলে সেটা কি আমি তোমাকে বলবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, “সে বলে, হে আমার পরিবার, হে আমার প্রতিবেশীরা, হে আমার খাটিয়ার বহনকারীরা, দুনিয়া যেনো তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে যেভাবে আমাকে ধোঁকায় ফেলেছে। দুনিয়া তোমাদের নিয়ে যেনো না খেলে যেভাবে আমাকে নিয়ে খেলেছে। আমার পরিবার আমার পাপসমূহের সামান্য অংশও বহন করবে না (দায়ভার নেবে না)। আজ তারা আমাকে বেষ্টন করে আছে, অথচ কিয়ামতের আল্লাহ তাআলার সামনে যুক্তিতর্কে তারা আমাকে হারিয়ে দেবে।” উম্মুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা—আরও বললেন, “দুনিয়া কোনো বান্দার অন্তরকে মোহগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে হারুত ও মারুতের চেয়েও অধিক শক্তিশালী। কোনো বান্দা যদি দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয় তবে দুনিয়া তার গাল ভেঙে দেয়।"
প্রতিটি কর্মে ইবাদতকে অনুসন্ধান করা
[৩৮১] আওন বিন আবদুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমরা উম্মুদ দারদা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে বসতাম। তাঁর কাছে বসে আমরা আল্লাহ তাআলার যিকির করতাম। সবাই একদিন তাঁকে বললেন, আমরা মনে হয় আপনাকে বিরক্ত করে ফেলেছি। তিনি বললেন, “তোমরা দাবি করছো যে তোমরা আমাকে বিরক্ত করে ফেলেছো। অথচ আমি প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ইবাদতের অনুসন্ধান করি। আমি যিকিরের মজলিসের চেয়ে আমার চিত্তকে প্রশান্তকারী এবং আমার দীনপালনের ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত আর কিছু পাইনি।"

টিকাঃ
৫৭. হারুত ও মারুত দুইজন ফেরেশতার নাম। বনী ইসরাঈলের মানুষদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যাদেরকে যাদুবিদ্যা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। (সম্পাদক)

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আলী ইবনুল হুসাইন—রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 আলী ইবনুল হুসাইন—রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


একশো পরিবারের ভরণপোষণ করতেন
[৩৮২] শাইবা বিন নাআমাতা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-কৃপণতা করতেন। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর সবাই দেখতে পেলো যে, তিনি মদিনায় একশো পরিবারের ভরণপোষণ করতেন।” বর্ণনাকারী বলেন, জারীর বিন আবদুল হামীম ইদানীং বা পূর্বে বলেছেন, "আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-মৃত্যুবরণ করার পর সবাই তাঁর পিঠে কিছু দাগ দেখতে পেলো; দাগগুলো ছিলো তিনি গরিব-মিসকিনদের জন্য যেসব ঝুলি বহন করে নিয়ে যেতেন সেগুলোর।"
হাশেমি বংশে তিনি ছিলেন মহত্তর
[৩৮৩] সুফয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, ইমাম যুহরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "আমি হাশেমি বংশের মধ্যে আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-এর চেয়ে মহত্তর কাউকে দেখিনি। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।"
দান করার আগে ভিক্ষুকের হাতে চুমু খেতেন
[৩৮৪] আবুল মিনহাল আত-তায়ি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "আলী ইবনুল হুসাইন-রাহيمাহুল্লাহ-যখন কোনো ভিক্ষুক বা প্রার্থনাকারীকে দান-সাদকা করতেন, তখন আগে তাকে চুমু খেতেন, তারপর দান-সাদকা করতেন।"
অট্টহাসির ফলে জ্ঞান হ্রাস পায়
[৩৮৫] ফুযাইল বিন গাযওয়ান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "যে-ব্যক্তি এক বার অট্টহাসি হাসলো সে এক কুলি পরিমাণ জ্ঞান ফেলে দিলো।"
নিজ হাতে গরিব-মিসকিনকে দান করতেন
[৩৮৬] আবুল মিনহাল আত-তায়ি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "আমি আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখেছি, তিনি নিজ হাতে গরিব-মিসকিনকে দান করছেন।"
দান-সাদকা আল্লাহর ক্রোধ নির্বাপিত করে
[৩৮৭] আবু হামযা আস-সুমালি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-নিজে রুটির ঝুলি বহন করে নিয়ে যেতেন এবং বলতেন, "রাতের বেলা যে-সাদকা করা হয় তা মহান রাব্বুল আলামীনের ক্রোধ নির্বাপিত করে।"
তাঁর মৃত্যুর পর তাদের খোরপোশ বন্ধ হয়ে গেলো
[৩৮৮] মুহাম্মদ বিন ইসহাক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মদিনার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক মানুষ খোরপোশ পেতো ঠিক, কিন্তু তারা জানতো না যে কোথা থেকে তাদের খורপোশ আসছে। যখন আলী ইবনুল হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-মৃত্যুবরণ করলেন তখন তাদের কাছে রাতের বেলা যে-খোরপোশ আসতো সেটা আসা বন্ধ হয়ে গেলো।"
উপকারী ইলম পাওয়ার উপযুক্ত নয়
[৩৮৯] মিসআর বলেন, আবদুল আ'লা আত-তাইমি-রাহিমাহুল্লাহ-আমাকে বলেছেন, "যাকে ইলম দান করা হয়েছে, অথচ ওই ইলম তাকে কাঁদায় না, তাহলে সে উপকারী ইলম পাওয়ার উপযুক্তই নয়।"
বিনয় ও নম্রতা বাড়ানোর নির্দেশ
[৩৯০] মিসআর বলেন, আবদুল আ'লা আত-তাইমি-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর সিজদায় বলতেন, হে আমার প্রতিপালক, তুমি তোমার প্রতি আমাদের বিনয় ও নম্রতা বাড়িয়ে দাও, যেভাবে তোমার শত্রুরা ঘৃণা বাড়িয়ে দিয়েছে। হে আমার প্রতিপালক, তোমার উদ্দেশে সিজদাবনত হওয়ার পর তুমি আমাদের উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ কোরো না।"
তরবারি উঁচু করে ধরে রাখা অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে
[৩৯১] সুফয়ান সাওরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, ইয়াহইয়া বিন হানি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "শাহাদাতবরণকারী ব্যক্তি তার তরবারি উঁচু করে ধরে রাখা অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
অহংকার অসৎকাজ বাড়িয়ে দেয়
[৩৯২] খালাফ বিন খলীফা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, মানসুর বিন যাযান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "দুশ্চিন্তা ও দুঃখ সৎকাজ বাড়িয়ে দেয় এবং পাপাচার ও আত্মম্ভরিতা অসৎকাজ বাড়িয়ে দেয়।"
দিনে-রাতে তিন বার কুরআন খতম করতেন
[৩৯৩] মুহাম্মদ বিন ফুযাইল বিন গাযওয়ান তাঁর পিতা ফুযাইল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, "কুরয-রাহিমাহুল্লাহ-এর মেয়ে তাঁর কাছে গেলেন। তিনি তাঁর কাছে একটি জায়নামায দেখতে পেলেন, যাতে তিনি শুকনো ঘাস ভরে নিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ নামায পড়ার কারণে তিনি জায়নামাযটির ওপর একটি চাদর বিছিয়ে নিয়েছেন। তিনি দিন ও রাত মিলিয়ে তিন বার কুরআনুল কারীম খতম করতেন। মিহরাবে তিনি একটি লাঠি রাখতেন। যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেন তখন এই লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।" মুহাম্মদ বিন ফুযাইল তাঁর থেকে অথবা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, কুরয-রাহিমাহুল্লাহ-যখন বাইরে বেরুতেন, লোকদের সৎকাজের আদেশ করতেন। ফলে তারা তাঁকে, এমনভাবে পেটাতো যে একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়তেন।"
পরিচ্ছন্ন ভূমি পেলেই নামায পড়তেন
[৩৯৪] সুফয়ান সাওরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে শুবরুমাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "আমি একটি সফরে কুরয-রাহিমাহুল্লাহ-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি যখনই পরিচ্ছন্ন ভূমি পেতেন, সেখানে নামতেন এবং নামায পড়তেন।"
দিনে দুই লাখ বার তাসবিহ পাঠ
[৩৯৫] সাঈদ বিন আবদুল আযিয বলেন, আমি মারুফ বিন হানি-রাহিমাহুল্লাহ-কে বললাম, আমি দেখছি যে আপনার জিহ্বা কখনো আল্লাহ তাআলার যিকির থেকে বিরত হয় না। তাহলে আপনি দিনে কত বার তাসবিহ পাঠ করেন? তিনি বললেন, "দুই লাখ বার। তবে আমার আঙুল যদি গোনায় ভুল করে সেটা ভিন্ন কথা।"
যিনি ইলম অনুযায়ী আমল করেন তিনিই ভালো আলেম
[৩৯৬] আবু মা'মার বলেন, সুফ্যান বিন উইয়াইনাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "যিনি মন্দ বিষয়গুলো থেকে কল্যাণকর ও ভালো বিষয়গুলোকে আলাদা করতে পারেন তিনিই আলেম নন; বরং আলেম হলেন ওই ব্যক্তি যিনি কল্যাণকর ও ভালো বিষয়গুলো জানেন এবং সেগুলোর অনুসরণ করেন এবং মন্দ বিষয়গুলো জানেন ও সেগুলো থেকে দূরত্বে সরে থাকেন।"
শয়তানের আফসোস
[৩৯৭] মালিক বিন মিগওয়াল বলেন, আবদুল্লাহ আযিয বিন রাফি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "যখন মুমিনের আত্মা ঊর্ধ্বাকাশে পৌঁছে যায় তখন ফেরেশতাগণ-আলাইহিমুস সালাম বলেন, সপ্রশংস মহিমা ওই সত্তার যিনি এই বান্দাকে শয়তান থেকে উদ্ধার করেছেন।" কিন্তু শয়তান তখন বলে, "হায় আফসোস, কীভাবে সে মুক্তি পেলো!"
দুনিয়াতে আখেরাতের পুণ্য সঞ্চয়ের কথা ভুলে যেয়ো না
[৩৯৮] মুবারক বিন সাঈদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, শায়খ মানসুর বিন মু'তামার বিন আবদুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-পবিত্র কুরআনের
وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا
"এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না” আয়াতের ব্যাখ্যা বলেন, "এটা দুনিয়ার (সম্পদসমূহের) কোনো অংশ নয়; বরং সেই অংশ হলো তোমার জীবন, তুমি তাতে আখেরাতের পুণ্য সঞ্চয় করবে।"
জ্ঞানের শিক্ষক বরকতময়
[৩৯৯] লাইস বিন আইমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন,
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ
"আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন।” এই আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুজাহিদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "বরকতময় কথাটির অর্থ হলো কল্যাণের (কল্যাণকর জ্ঞানের) শিক্ষক।"
মুমিন বান্দা ধৈর্যশক্তিতে অটল থাকে
[৪০০] আবদুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি উবায়দুল্লাহ বিন আবু লুবাবা-রাহিমাহুল্লাহ-কে কা'বা শরীফে তাওয়াফ করতে দেখলাম। তিনি তখন দুর্বল ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি যদি নিজের প্রতি একটু মমতা দেখাতেন! জবাবে তিনি বললেন, “কে মুমিন বান্দা সেটা তার ধৈর্যশক্তি দ্বারা নির্ণীত হয়।"
আল্লাহর সামনে ফলকে যা লেখা আছে
[৪০১] সাঈদ বিন আবদুল আযিয-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, ইউনুস বিন মাইসারাহ বিন হালবাস-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, আল্লাহ তাআলার সামনে ফলকে লেখা আছে:
إِنِّي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، أَرْحَمُ وَأَتَرَحَمُ، سَبَقَتْ رَحْمَتِي غَضَبِي وَعَفْوِي عُقُوبَتِي، وَأَذِنْتُ لِمَنْ جَاءَ بِوَاحِدَةٍ مِنْ ثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةَ أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ
“আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি পরম করুণাময়, দয়ালু। আমি দয়া করি, অনুগ্রহ করি। আমার রহমত আমার ক্রোধকে অতিক্রম করে গেছে এবং আমার ক্ষমা আমার শাস্তিকে ছাড়িয়ে গেছে। আমি এই অনুগ্রহ করেছি যে, যে-ব্যক্তি তিনশো তিরিশটির কোনো একটি নিয়ে উপস্থিত হবে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করবো।"
কুরআন ও মৃত্যু পাপাচার নিবৃত্ত রাখে
[৪০২] আবু আফফান বলেন, আমি ইয়াযিদ বিন তামীম-রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, “যে-ব্যক্তিকে পবিত্র কুরআন এবং (অন্য মানুষের) মৃত্যু (পাপাচার থেকে) নিবৃত্ত করতে পারলো না, তার সামনে যদি সারিবদ্ধভাবে পাহাড়ও দণ্ডায়মান থাকে, তবু সে পাপাচার থেকে নিবৃত্ত হবে না।"
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন
[৪০৩] আবু যুরআ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, উমাইয়া খলীফা সুলাইমান তাঁর পুত্র যুবরাজ আইয়ুবের সঙ্গে হানি বিন কুলসুমের কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তাঁর কাছে। কিন্তু হানি বিন কুলসুম এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি পরিবারের কাছে ফিরে এলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাইকে ডেকে পাঠালেন। তার কাছে তাঁর কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। এই সংবাদ শুনে সুলাইমান বললেন, "তিনি যদি আমার কাছে দুনিয়াও চাইতেন, তবু আমি আমার পুত্রকে তাঁর কন্যার সঙ্গে বিয়ে দিতাম।"
তিনি আয়তলোচনা হুর দেখেছিলেন
[৪০৪] আমর বিন আবু সালামা বলেন, আমি সাঈদ বিন আবদুল আযিয-রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, "আমরা এমন কাউকে জানতাম না যিনি স্বপ্ন ছাড়া নিজ চোখে সরাসরি আয়তলোচনা হুর দেখেছেন। তবে আমরা আবু মাখরামাহ থেকে যা শুনেছি তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তা এই যে, তিনি একদিন কোনো এক প্রয়োজনে প্রবেশ করলেন। তিনি হুরদের তাদের পালকির ওপর ও খাটের ওপর দেখতে পেলেন। তিনি তাদের দেখামাত্রই তাদের থেকে তাঁর চোখ ঘুরিয়ে নিলেন। একজন হুর তখন বললো, 'হে আবু মাখরামাহ, আমার কাছে আসুন; আমি আপনার স্ত্রী। আর এ হলো অমুকের স্ত্রী।' তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর সঙ্গীদের কাছে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁদের এই সংবাদ জানান। তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের ওসিয়ত লেখেন। বর্ণনাকারী বলেন, ওখানে যতো জন ওসিয়ত লিখেছিলেন তাঁদের প্রত্যেকেই শাহাদাতবরণ করেন।"
বিশ বছর যাবৎ জিহ্বার চিকিৎসা
[৪০৫] আবদুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ি -রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সিরিয়ায় ইবনে আবু যাকারিয়া-রাহিমাহুল্লাহ-এর চেয়ে মর্যাদাবান কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি বলেছেন, "আমি বিশ বছর যাবৎ আমার জিহ্বার চিকিৎসা (সংশোধন) করার পর সে আমার অনুগত হয়েছে।"
তখন রাজতন্ত্রের উদ্ভব ঘটবে
[৪০৬] হুমাইদ বিন হিলাল বলেন, খালিদ বিন উমায়ের-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, উতবা বিন গাযওয়ান-রাদিয়াল্লাহু আনহু খুতবা দিলেন: আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, তারপর কথা এই যে, দুনিয়া তো বিচ্ছেদের অনুমতি নিয়েছে এবং দ্রুতগতিতে বিনাশের পথে ধাবমান রয়েছে। তোমাদের কেউ যখন পাত্রের পানি ফেলে দেয়, তারপর পাত্রে যতোটুকু পানি অবশিষ্ট থাকে, দুনিয়ারও ঠিক ততোটুকুই অবশিষ্ট রয়েছে। তোমরা এমন এক আবাসস্থলের দিকে ধাবিত হচ্ছো যার কোনো ধ্বংস নেই। সুতরাং তোমাদের কাছে উত্তম যা-কিছু রয়েছে তা নিয়েই দুনিয়া থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, জাহান্নামের মুখ থেকে একটি পাথর নিচে পড়তে শুরু করলে তা সত্তর বছরের গভীরতায় গিয়ে পৌঁছেছে। এবং অবশ্যই এই জাহান্নাম (মানবমণ্ডলী দ্বারা) পূর্ণ হবে। তোমরা কি আশ্চর্যান্বিত হচ্ছো! তবে জেনে রাখো, আমার কাছে এই বর্ণনাও পৌঁছেছে যে, জান্নাতের দরজার দুটি পাল্লার মধ্যে চল্লিশ বছরের দূরত্ব রয়েছে। এমন একদিন আসবে যখন এই দরজায় প্রচণ্ড ভিড় লেগে যাবে। আমি নিজেকে এই অবস্থায় মনে করতে পারি যে, (মক্কাবাসীদের অবরোধ আরোপের সময় আবু তালিব গিরিখাদে) রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে যে-সাত জন ছিলেন আমি তাদের সপ্তম জন। তখন গাছের পাতা ছাড়া আমাদের আর কোনো খাবার ছিলো না। গাছের পাতা খেতে খেতে আমাদের চোয়াল ক্ষতযুক্ত হয়ে পড়েছিলো। আমি একটি চাদর কুড়িয়ে পেয়েছিলাম; আমি সেটাকে আমার মধ্যে ও সা'দের মধ্যে ভাগ করে নিলাম। তার অর্ধেকটা দিয়ে আমি লুঙ্গি বানিয়ে পরলাম; বাকি অর্ধেক দিয়ে সা'দ লুঙ্গি বানিয়ে পরলেন। এখন আমাদের (ওই সাত জনের) মধ্যে যাঁরা জীবিত আছেন তাঁদের প্রত্যেকেই কোনো-না-কোনো শহরের আমীর। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাই নিজেকে বড় মনে করা থেকে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে ছোট হওয়া থেকে। বিষয় তো এই যে, নবুওতের শিক্ষা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তার পরিণতিরূপে (খিলাফতের পরিবর্তে) রাজতন্ত্রের উদ্ভব ঘটবে। আমাদের পরে তোমরা অবশ্যই ফেতনায় আক্রান্ত হবে এবং আমীর-উমারাদের শাসনের অভিজ্ঞতা লাভ করবে।"
সেই যুগে অবৈধ কাজকেও বৈধ মনে করা হবে
[৪০৭] আমর বিন মুররাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আদি বিন হাতিম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তোমরা বর্তমান সময়ে এমন একটি যুগে আছো যখন বৈধ কাজকেও অবৈধ মনে করা হয়। এই যুগ সত্বর অতিবাহিত হয়ে যাবে। তারপর এমন যুগ আসবে যখন অবৈধ ও খারাপ কাজকেও বৈধ ও ভালো মনে করা হবে।"
তিনি সব সময় নামাযের প্রতি আগ্রহী থাকতেন
[৪০৮] আমর বিন মুররাহ-রাহيمাহুল্লাহ-বলেন, আদি বিন হাতিম-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কখনো এমন হয়নি যে, নামাযের সময় হয়েছে অথচ আমি নামাযে প্রতি আগ্রহী ছিলাম না।"
বিত্তশালী হওয়ার পরও তিনি বাসি রুটি খেতেন
[৪০৯] সাঈদ বিন শাইবান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমাকে যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি দেখেছেন, "আদি বিন হাতিম -রাদিয়াল্লাহু আনহু - বাসি শুকনো রুটি (খাওয়ার জন্য) টুকরো টুকরো করছেন।"
তাড়াহুড়ো করে নামায পড়ার কারণে তিরস্কার
[৪১০] মাইমুন বিন মিহরান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, একজন মুহাজির সাহাবি - রাদিয়াল্লাহু আনহু - এক ব্যক্তিকে নামায পড়তে দেখলেন। লোকটি খুব সংক্ষিপ্তভাবে নামায শেষ করলো। ফলে মুহাজির সাহাবি তাকে তিরস্কার করলেন। লোকটি বললো, আমার একটি হারানো জিনিসের কথা মনে পড়ে গেছে, তাই নামায সংক্ষিপ্ত করেছি। তখন মুহাজির সাহাবি বললেন, "তুমি সবচেয়ে বড় হারানো জিনিস খুইয়ে ফেলেছো।"
একটি কারামত ও আল্লাহর নিদর্শন
[৪১১] কুদামা বিন হামাতা ইবনে উখুতি সাহম বিন মিনজাব বলেন, আমি সাহম বিন মিনজাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "আমরা আলা বিন আল-হাদরামী-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে দারিন-এ যুদ্ধ করি। তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে তিনটি দোয়া করলেন। এবং তাঁর তিনটি দোয়াই কবুল করা হলো। আমরা একটি মনযিলে শিবির স্থাপন করলাম। তিনি ওজু করার জন্য পানি চাইলেন। কিন্তু পানি পাওয়া গেলো না। ফলে তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়লেন। তারপর এই দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ, আমরা তো আপনার বান্দা। আমরা আপনার পথে আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করি। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের বৃষ্টির পানি পান করান (আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করুন)। আমরা ওই পানি পান করবো এবং ওজু করবো। আমাদের ওজু করার পর তাতে আর কারও জন্য কোনো অংশ থাকবে না।" আমরা একটু সামনে এগিয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম। এইমাত্র আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করেছে। আমরা ওই পানি ওজু করলাম এবং সঙ্গে করেও নিয়ে নিলাম। আমি আমার একটি ছোট চামড়ার পাত্র পানি দ্বারা ভরলাম এবং ওই স্থানে রেখে দিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিলো এটা দেখা যে, তাঁর দয়া কবুল হয়েছে না-কি হয় নি। আমরা কিছুদূর এগিয়ে গেলাম। তারপর আমার সঙ্গীদের বললাম, আমি আমার একটি পাত্র ভুলে রেখে এসেছি। সুতরাং আমি ওই স্থানে ফিরে এলাম। তো দেখতে পেলাম যে, ওখানে যেনো কোনো কুঠো পানিও ছিলো না। তারপর আমরা আবার চলতে শুরু করলাম এবং দারিম-এর এসে পৌঁছালাম। আমাদের ও শব্দের মধ্যে সমুদ্র বাধা হয়ে দাঁড়ালো! আ'লা বিন আল-হাদরামী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- দ্বিতীয় বার দোয়া করলেন: "হে আল্লাহ, আপনি প্রতাপম্ন, আপনি সর্বোচ্চ সত্তা, আপনি মহান; আমরা তো আপনার বান্দা, আপনার পথে আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য তাদের কাছে পৌঁছার পথ করে দাও।" সমুদ্রের ঢেউ তখন আমাদেরে বহন করে ফেললো। আমরা ঘোড়ার জিন (ঘোড়ার পিঠের ওপর যে নরম গদি থাকে) পর্যন্ত সমুদ্রে পানিতে ডুবে গেলাম। এভাবে ওপর তীরে শত্রুদের কাছে গিয়ে পৌঁছালাম। আমাদের ফিরে আসার সময় আ'লা বিন আল-হাদরামী-রাদিয়াল্লাহু আনহু- পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলেন। ওই রোগীই তিনি মুয়াবরণ করলেন। তাঁকে গোসল করানোর জন্য পানি খুঁজলাম, কিন্তু পেলাম না। আমরা তাঁর কাপড়ের তাঁর কাপড়ের তাঁকে কাফন করালাম এবং দাফন করে দিলাম। তারপর আমরা কিছুদূর এগিয়ে গেলাম। ওখানে অনেক পানি পেলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, আমরা যদি পেছনে ফিরে গিয়ে তাঁকে কবর থেকে তুলে যদি গোসল দিতে তাহলে ভালো হয়। আমরা পেছনে ফিরে গেলাম এবং তাঁর লাশ খুঁজলাম। কিন্তু পেলামই না। তখন আমাদের দলের একজন ব্যক্তি বললো, আমি তাঁকে এই দোয়া করতে শুনেছি, (দ্বিতীয় দোয়া), তিনি বলেছেন, “হে আল্লাহ, হে সর্বোচ্চ সত্তা, হে প্রতাপম্ন, হে মহান, আমার মুখাপেক্ষীবাদের তাঁদের (শত্রুদের) থেকে গোপন করে রেখো (বা অনুগ্রহ কোনো কথা বলেছেন)। এবং কাউকে আমার হুকুম দেখার সুযোগ দিও না।" আমরা তাঁর জন্য ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করলাম এবং তাঁকে রেখেই ফিরে এলাম।"
ইবাদত করতে না পারার জন্য অশেষ আফসোস
[৪১২] মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান -রাহিমাহ্-বলেন, বিলাল বিন আবুল দারদা-রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তাঁর মা আসসামাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহা অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন। একদিন তাঁর পুত্র তাঁর কাছে গেলেন। ইতোমধ্যে তিনি নামায পড়ে নিয়েছিলেন। আসসামাহ জিজ্ঞেস করলেন, হে প্রিয়পুত্র, তুমি কি নামায পড়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, পড়েছি। তখন আসসামাহ নিম্নলিখিত কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:
عَنَّامُ مَالَكِ لَاهِيَهُ ، حَلَّتْ بِدَارِكِ دَاهِيَهْ ابْكِي الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا . إِنْ كُنْتِ يَوْمًا بَاكِيَهْ وَابْكِ الْقُرَانَ إِذَا تُلِي . قَدْ كُنْتِ يَوْمًا تَالِيَهْ تَتْلِينَهُ بِتَفَكَّرٍ. وَدُمُوعُ عَيْنِكِ جَارِيَهُ فَالْيَوْمَ لَا تَتْلِينَهُ ، إِلَّا وَعِنْدَكَ تَالِيَهْ لَهْفِي عَلَيْكِ صَبَابَةً . مَا عِشْتُ طُولَ حَيَاتِيَهُ
"হে আসসাম, কী হলো তোমার, তুমি তো গাফেল হয়ে পড়েছো! তোমার গৃহে তো দুর্যোগ নেমে এসেছে।"
"সময়মতো নামাযের (নামায না পড়ার) জন্য কাঁদো যদি তুমি কোনোদিন কেঁদে থাকো।”
"কুরআনের জন্য কাঁদো, যখন তা তেলাওয়াত করা হয় তুমিও তো একদিন কুরআন তেলাওয়াতকারী ছিলে।"
"তুমি চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে কুরাআন তিলাওয়াত করতে এবং তোমার চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতো।"
"আজ তুমি কুরআন তেলাওয়াত করতে পারো না তবে তোমার কাছে তেলাওয়াতকারী রয়েছে।"
"তোমর প্রতি আমার অশেষ আফসোস যতোদিন তুমি বেঁচে থাকো।"
শপথ ভঙ্গ করে মক্কা পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছেন
[৪১৩] আমর বিন আবু সালামা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, সাঈদ বিন আবদুল আযিয-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "আমরা বিলাল বিন আবুদ দারদার মা আসসামাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহা-ছাড়া এমন কাউকে জানি না যিনি মক্কায় হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং তা (কাফফারা আদায়) পূর্ণ করেছেন। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং মক্কা পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছেন। পাঁচশো দিনার দানও করেছেন। (উদাহরণ: আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, যদি আমি অমুক কাজটি করতে না পারি তবে মক্কা পর্যন্ত হেঁটে যাবো।)
তাঁরা রাতের শুরুর ভাগে ও শেষভাগে নামায পড়তেন
[৪১৪] সালামা বিন ইয়াহইয়া-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, তাঁর ফুফু উম্মে ইসহাক বিনতে তালহা-রাহিমাহাল্লাহ-বলেছেন, "হাসান বিন আলী-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-রাতের শুরুভাগেই রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) আদায় করতেন এবং "হুসাইন বিন আলী-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-রাতের শেষভাগে রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) আদায় করতেন।"
[৪১৫] জা'ফর বিন আওন-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, মিসআর বলেন, যিনি আমাকে জানিয়েছেন তিনি বলেছেন, "হুসাইন বিন আলী-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা- একবার দরিদ্রদের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন তিনি তাদের সঙ্গে বসলেন। তারপর কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন:
إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ
"নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অহংকারী দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।"
এশার আগে রাতের নামায পড়ে নিতেন
[৪১৬] মাখলাদ বিন হুসাইন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, ইবনে জুরাইজ বলেছেন, "হাসান বিন আলী-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-মাগরিব থেকে নিয়ে এশা পর্যন্ত পুরো সময়টা নামায পড়তেন। এই নামাযের ব্যাপারে তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো। জবাবে তিনি বললেন, "নিশ্চয় তা রাত্রিজাগরণ।"
দুনিয়াবিমুখতা উত্তম আমল
[৪১৭] ইয়াজইয়া বিন আবদুর রহমান—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন, “আমরা সব আমল পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করে দেখেছি। আখেরাত (আখেরাতে সাফল্য) প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দুনিয়াবিমুখতার চেয়ে উত্তম কোনো আমল আমরা পাইনি।"
তাঁদের পরনের মতো চাদর ছিলো না
[৪১৮] আবু হাযেম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “আমি আহলে সুফ্ফার সত্তর জন সদস্য দেখেছি। তাদের কারোরই পরনের মতো চাদর ছিলো না।"
তিনি এতো সামগ্রী চাননি
[৪১৯] মুহাম্মদ বিন আবু উমর থেকে বর্ণিত, ফুযাইল বিন ইয়ায—রাহিমাহুল্লাহ— বলেছেন, আমি আলীকে (অর্থাৎ, তাঁর পুত্রকে) বললাম, “তুমি যদি আমার এই দুর্দিনে আমাকে কিছুটা সাহায্য করতে! (এই কথা শুনে) সে একটি ঝুড়ি নিলো এবং (খাদ্যসামগ্রী) আনার জন্য বাজারে চলে গেলো। একজন লোক এসে আমাকে ব্যাপারটি জানালো। ফলে আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং তাকে বাজারে ফেরত পাঠালাম। তাকে বললাম, আমি এটা চাইনি।” (অথবা তিনি বলেছেন,) “আমি তো এই সবকিছু চাইনি।"
তাঁর সততা ও সত্যবাদিতা
[৪২০] মুহাম্মদ বিন আবু উসমান—রাহিমাহুল্লাহ—ফুযাইল বিন ইয়ায—রাহিমাহুল্লাহ—থেকে বর্ণনা করেন, ফুযাইল বিন ইয়াযের কয়েকটি উট ছিলো। তাঁর পুত্র আলী উটগুলোকে খাদ্যদ্রব্য বহন করার কাজে ব্যবহার করতেন। (উটগুলোকে ভাড়ায় খাটাতেন; অন্য ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়া করতেন।) একবার তিনি যে-খাদ্যদ্রব্য বহন করে আনলেন তা কম হলো। (এ-কারণে উটগুলো যারা ভাড়া নিয়েছিলো তারা ভাড়া আটকে দিলো।) ফলে আলী ভাড়াকারীদের সঙ্গে বসে রইলেন। (এই সংবাদ শুনে) ফুযাইল বিন ইয়ায তাদের কাছে এলেন। তাদের বললেন, “তোমরা আলীর সঙ্গে এটা কী আচরণ করলে? (তোমরা কি ভাবছো যে আলী ওখান থেকে খাদ্যদ্রব্য সরিয়েছে? তবে জেনে রাখো,) আমরা যখন কুফায় ছিলাম আমাদের একটি ছাগী ছিলো। ছাগীটি একটি আমীর বা নেতাশ্রেণির এক ব্যক্তির সামান্য ঘাস খেয়ে ফেলেছিলো। এরপর থেকে কোনোদিন আমি ওই ছাগীর দুধ পান করিনি।" ভাড়াকারীরা তখন বললো, "হে আবু আলী, উটগুলো যে আপনার তা আমাদের জানা ছিলো না।"
অর্ধেক রাখলেন, বাকি অর্ধেক দান করে দিলেন
[৪২১] মুহাম্মদ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি ফুযাইল বিন ইয়ায-রাহিমাহুল্লাহ- থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উচ্চ দ্রব্যমূল্যের দিনে এক দিনার দিয়ে যব কেনেন। তখন উম্মে আলী ফুযাইলকে বলেন, "পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য দুই থালা পরিমাণ যব বণ্টন করে দিন। প্রত্যেকে এক থালা নিজে নিজের জন্য গ্রহণ করবে, অপর থালা সাদকা করে দেবে। (আলী দুই থালা নেবে; এক থালা নিজের জন্য রাখবে, অপর থালা সদকা করে দেবে।) যতোক্ষণ না তা শেষ হওয়ার উপক্রম করে বা অনুরূপ খাদ্যের ব্যবস্থা হয় (ততোক্ষণ এভাবে চলতে থাকবে)।"
সহজ-সরল জীবনের নমুনা
[৪২২] হাসান বিন আবদুল আযিয বলেন, আমি ইয়াহইয়া বিন হাসসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "মাঝে মাঝে আমি ফুযাইল বিন ইয়াযকে দেখতাম, তখন তার প্রতি আমার মায়া লাগতো। একদিন আমি তাঁকে দেখে তাঁর কাছে গেলোম। দেখলাম তার হাতে সামান্য পরিমাণ বিচি। তিনি একজন সবজি-বিক্রেতাকে। খুঁজছেন। সবজি-বিক্রেতা থেকে বিচিগুলোর বিনিময়ে সবজি কিনবেন। আমি তাঁকে আর কোনোকিছু জিজ্ঞেস করলাম না। তাঁর থেকে দূরে সরে এলাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।"
হাদিস শুনে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন
[৪২৩] মুহাম্মদ বিন উসমান বলেন, আলী ইবনে ফুযাইল-রাহিমাহুল্লাহ- সুফিয়ান ইবনে উইয়ানাহ-রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে ছিলেন। সুফিয়ান সাওরি একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, তাতে জাহান্নামের আলোচনা ছিলো। আলীর হাতে একটি কাগজ ছিলো, কাগজের মধ্যে কিছু-একটা বাঁধা ছিলো। হাদিস শুনে তিনি জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলেন এবং পড়ে গেলেন। তিনি তাঁর হাতের কাগজটি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন অথবা তা তাঁর হাত থেকে পড়ে গেলো। সুফিয়ান সাওরি তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "আমি যদি জানতাম আপনি এখানে আছেন তবে আমি এই হাদিস বর্ণনা করতাম না।" অনেকক্ষণ পর আলীর হুঁশ ফিরে এলো। তখন তিনটি বিষয় কম হবে
[৪২৪] মুআফি বিন ইমরান থেকে বর্ণিত, ইমাম আওযায়ি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন, বলা হতো যে, "মানুষের মাঝে এমন একটি যুগ আসবে যখন তিনটি জিনিস সবচেয়ে কম হবে: ১. উপকারী সহৃদয় ভাই; ২. হালাল উপার্জনের টাকা এবং ৩. সুন্নত অনুযায়ী আমল।"
তাঁর পরনে ছিলো তালিযুক্ত জামা
[৪২৫] আলী বিন হামলাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া—রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে দামেস্কের মিম্বরে খুতবা দিতে দেখেছি। তখন তাঁর পরনে ছিলো তালিযুক্ত জামা।"
বান্দার সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথন
[৪২৬] আবু ইমরান আল-জুনি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কাছে টেনে নেবেন। তিনি তাঁর হাত দ্বারা তাকে মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির অন্তরালে নিয়ে নেবেন। ওই অন্তরালেই তিনি বান্দার কাছে তার আমলনামা দেবেন। তারপর বলবেন, হে আদম-সন্তান, তুমি তোমার আমলনামা পাঠ করো। তখন সে তার নেক আমলগুলোর বিবরণ পাঠ করবে এবং চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, তার অন্তর পুলকিত হয়ে উঠবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আমার বান্দা, তুমি কি তোমার এই নেক আমলগুলোর কথা জানো? বান্দা বলবে, হে আমার রব, হ্যাঁ, আমি জানি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি তোমার থেকে তোমার নেক আমলগুলো কবুল করে নিয়েছি। এই কথা শুনে বান্দা আল্লাহর সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদম-সন্তান, তুমি তোমার মাথা তোলো এবং পুনরায় তোমার আমলনামা হাতে নাও। এবার বান্দা তার আমলনামা হাতে নিয়ে তার বদ আমল ও পাপের বিবরণ পাঠ করবে এবং তার চেহারা কালো হয়ে যাবে এবং তার অন্তর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আমার বান্দা, তুমি কি তোমার পাপের কথা স্বীকার করো? জবাবে বান্দা বলবে, হে আমার রব, হ্যাঁ, আমি আমার পাপের কথা স্বীকার করি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি তোমার পাপসমূহ মার্জনা করে দিলাম।” আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেন, "বান্দার নেক আমল যতোক্ষণ কবুল করা হবে ততোক্ষণ সে সেজদা দেবে এবং যতোক্ষণ তার পাপসমূহ মার্জনা করা হবে ততোক্ষণও সে সেজদা দেবে। অন্যান্য মানুষ ও সৃষ্টি বান্দার সেজদা ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। তখন তারা পরস্পরকে বলতে থাকবে, এই বান্দার কল্যাণ হোক, সে কখনো আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করেনি। আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেন, "ওই বান্দার মধ্যে ও আল্লাহ তাআলার মধ্যে কী ঘটেছে তা অন্যরা জানতে পারবে না। তা কেবল ওই বান্দাই জানতে পারবে।"
বিশ লাখ গুণ সওয়াব
[৪২৭] আবু উসমান আন-নাহদি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার একটি পুণ্যের কাজকে হাজার হাজার পুণ্যের কাজ বানিয়ে দেবেন।" আবু উসমান আন-নাহদি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সেই বছর আমি হজ করলাম, যদিও আমার সেই বছর হজ করার ইচ্ছা ছিলো না। (আমার উদ্দেশ্য ছিলো আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।) আমি আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার কাছে এই বক্তব্য পৌঁছেছে যে, আপনি বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার একটি পুণ্যের কাজকে হাজার হাজার পুণ্যের কাজ বানিয়ে দেবেন।” তখন আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "আমি তো এভাবে বলিনি। যে-ব্যক্তি তোমার কাছে বর্ণনা করেছে সে আমার কথা মুখস্থ রাখতে পারেনি।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কথাটা কীভাবে বলেছিলেন? তিনি বললেন, "বরং বিশ লাখ গুণ বাড়িয়ে দেবেন।" তারপর বললেন, "তোমরা কি আল্লাহ তাআলার কিতাবে তা পড়োনি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কোন জায়গায়?” তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً
"কে সে যে আল্লাহকে করযে হাসানা প্রদান করবে? আল্লাহ তা তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।"
আর আল্লাহ তাআলা পক্ষ থেকে যদি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তার অর্থ হলো, বিশ লাখ বা তার চেয়েও বেশি।
আল্লাহর সন্তুষ্টি শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
[৪২৮] ইউনুস বিন মুহাম্মদ বলেন, বসরায় একজন বিচারক ছিলেন, তাঁর ডাকনাম ছিলো আবু সালেম। তাঁর মর্যাদা বর্ণনা করে তিনি বলেন, তিনি একজন শায়খের মসজিদে ছিলেন। আমি তাঁর পাশে বসলাম। তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, "তিনি নামায পড়ছিলেন। কুরআন তেলাওয়াত করতে করতে এই আয়াতে পৌঁছলেন,
مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ
"তারা হেলান দিয়ে বসবে এমন ফরাশে যার অভ্যন্তরে রয়েছে রেশমের পুরু স্তর।"
তখন দোয়া করলেন, হে আমার প্রতিপালক, এটা তো ভেতরগত অবস্থা, তাহলে বাহ্যিক অবস্থা কী? তখন অদৃশ্য থেকে ডাকা হলো, এবং তিনি জানলেন না যে কে তাঁকে ডাকলো, ডেকে বললো, বাহ্যিক অবস্থা হবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।" ইউনুস বলেন, তিনি ফার্সি ভাষায় গল্প করতেন।
হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে সাক্ষাৎ
[৪২৯] ইবনে শাওযাব বলেন, সালেহ বিন খালেদ -রাহিমাহুল্লাহ-বলছেন, "কেনো একজন মানুষ তার বন্ধুর সঙ্গে বিরক্ত চেহারা নিয়ে সাক্ষাৎ করে? তুমি তোমার মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় সাক্ষাৎ করো। তোমার কাছে যদি কোনো কল্যাণকর কথা (জ্ঞান) থাকে, তবে তা তুমি তাকে জানাও।"
দুনিয়াবিমুখ ইবাদতকারী ব্যক্তিই সফলকাম
[৪৩০০] আবুস সাবিল বলেন, আমাদের মজলিসে একজন শায়খ থামলেন। তিনি বললেন, আমার কাছে আমার বাবা (অথবা বলেছেন, আমার দাদা) বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জান্নাতুল বাকিতে দেখেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বললেন, "কোন সে ব্যক্তি আজ এমন এক সাদকা করবে, যার ব্যাপারে আমি কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য প্রদান করবো।" তখন একটি লোক এগিয়ে এলো। আল্লাহর কসম! জান্নাতুল বাকিতে তার মতো কদর্য চেহারার, তার মতো খাটো এবং তার মতো কুৎসিত চোখের এক জন লোকও ছিলো না। সে একটি উট নিয়ে এলো। আল্লাহর কসম! এই উটটির মতো সুন্দর উট জান্নাতুল বাকিতে একটিও ছিলো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "এটাই কি তোমার সাদকা?" লোকটি বললো, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই সময় অন্য একজন লোক এই লোকটিকে কটাক্ষ হানলো এবং বললো, "সে যেনো তা সাদকা করে। আল্লাহর কসম! উটটি তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর।" কিন্তু রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-তাঁর কথা শুনে ফেললেন এবং (ক্রুদ্ধ স্বরে) বললেন, "তুমি মিথ্যা বলেছো, সে তোমার থেকেও উত্তম, উটটি থেকেও উত্তম। তুমি মিথ্যা বলেছো, সে তোমার থেকেও উত্তম, উটটি থেকেও উত্তম।" এই কথা তিনি তিন বার বললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-বললেন, “যে-ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখ হয়েছে ও ইবাদতে সর্বশক্তি ব্যয় করেছে সে সফল হয়েছে। যে-ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখ হয়েছে ও ইবাদতে সর্বশক্তি ব্যয় করেছে সে সফল হয়েছে।"
আল্লাহভীতু ব্যক্তির কুরআন তেলাওয়াত সবচেয়ে সুন্দর
[৪৩১] আবদুল করিম আবু উমাইয়া বলেন, তাল্ক বিন হাবিব-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, "ওই ব্যক্তির কুরআন তেলাওয়াতের স্বর সবচেয়ে সুন্দর, তুমি যাকে দেখবে যে কুরআন তেলাওয়াতের সময় সে আল্লাহর ভয়ে ভীত।” আবদুল করীম বলেন, তাল্ক বিন হাবীব-রাহিমাহুল্লাহ-এমনই এক ব্যক্তি ছিলেন। আবদুল করীম বলেছেন, তাল্ক বিন হাবীব আরও বলেন, "যতোক্ষণ না আমার মেরুদণ্ডে ব্যথা হয় ততোক্ষণ আমি নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালোবাসি।" তাল্ক বিন হাবীব-রাহিমাহুল্লাহ-সূরা বাকারা দ্বারা নামায শুরু করতেন এবং সূরা আনকাবুতে পৌঁছার আগে রুকুতে যেতেন না।"
আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করলেন
[৪৩২] আবদুস সামাদ বিন মা'কিল বিন মুনাব্বিহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আমার চাচা ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ-রাহিমাহুল্লাহ-কে দেখলাম যে তাঁকে একজন ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন, "হে আবু আবদুল্লাহ, আমি একজন জারজসন্তানকে ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দেবো কি?" তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তারপর ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ-রাহিমাহুল্লাহ-বর্ণনা করতে শুরু করলেন, বললেন, "আল্লাহ তাআলার ইবাদতগুজার বান্দাদের একটি দল ছিলো। তাদের মধ্যে একটি তরুণ ছিলো। তারা তরুণটিকে সম্মান দেখাতো, তাকে খাবার দিতো এবং তার প্রতি খুব শ্রদ্ধার ভাব বজায় রাখতো। একদিন তাদের কুরবানি পেশ করার সময় এলো। দলটির সবাই কুরবানি পেশ করলো, তরুণটিও কুরবানি পেশ করলো। তখন দলটির সবারই কুরবানি কবুল হলো; কিন্তু তরুণটির কুরবানি প্রত্যাখ্যাত হলো।" ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ্‌-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "তখন তরুণটি ইবাদতে অত্যন্ত মনোযোগী হলো এবং প্রচেষ্টা ব্যয় করলো। সে চিন্তা করতে লাগলো, ব্যাপারটা কী, কেন তার আমলের ক্ষেত্রে এমন হচ্ছে। কিন্তু সে কোনো ত্রুটি খুঁজে পেলো না। ফলে সে তার মায়ের কাছে এলো। মাকে জিজ্ঞেস করলো, হে মা, আমার ওপর এক বিরাট আপদ আপতিত হয়েছে। আমি আমার কিছু ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম, তারা আমাকে সম্মান দেখাতো, আমাকে খাবার খাওয়াতো এবং আমার প্রতি খুব শ্রদ্ধার ভাব পোষণ করতো। এভাবে একদিন তাদেরও কুরবানি দেওয়ার সময় হলো, আমারও কুরবানি দেওয়ার সময় হলো। তারা কুরবানি পেশ করলো, আমিও কুরবানি পেশ করলাম। তখন তাদের কুরবানি কবুল করা হলো; কিন্তু আমার কুরবানি প্রত্যাখ্যাত হলো। আমি আমার ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভেবেছি; কিন্তু কোনো ত্রুটি পাইনি। হে মা, আমাকে যে-বাবার ঔরসের সন্তান বলে দাবি করা হয় আমি কি তার সন্তান, না-কি তার নই? মা বললেন, তুমি এই কথা বলে কী বোঝাতে চাচ্ছো? তরুণটি বললো, হে মা, আপনি সর্বাবস্থায় আমার মা। সুতরাং আপনি আমাকে বলুন। মা বললেন, আমি একদিন রাতের বেলা কাঠ সংগ্রহের জন্য বের হই। তখন একটি পুরুষ আমাকে কাবু করে ফেলে (এবং আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে)। তুমি সেই পুরুষের সন্তান। যুবকটি তখন বলো, হে মা, আল্লাহ তাআলা আপনাকে ক্ষমা করুন। তারপর যুবকটি সিজদায় পড়ে গেলো এবং কাঁদতে শুরু করলো। কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো, হে আমার প্রতিপালক, আমার বাবা-মা টকফল খাবে আর টক হবে কি আমার দাঁত? হে আল্লাহ, তা থেকে আপনি চিরমহান, চিরপবিত্র। অন্যদের যদি কামরিপু ঘায়েল করে ফেলে তবে তার পাপের বোঝা কি আমার ওপর বর্তাবে? হে আল্লাহ, তা থেকে আপনি চিরমহান, চিরপবিত্র। সে কাঁদতে থাকলো এবং দোয়া করতে থাকলো। অবশেষে তার কুরবানি কবুল করা হলো।"
অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতেন
[৪৩৩] আবু আসিম আল-আবাদানি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, একজন লোক দাউদ আত-তায়ি-রাহিমাহুল্লাহ-কে বললেন, আপনার ঘরের ছাদে যেসব মাকড়সার জাল রয়েছে আপনি যদি নির্দেশ দিতেন তবে সেগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হতো। দাউদ আত-তায়ি-রাহিমাহুল্লাহ-বললেন, "তুমি কি জানো না যে, তাঁরা (পূর্বসূরি আলেমগণ) অনর্থক দৃষ্টিপাত অপছন্দ করতেন?" তারপর তিনি বললেন, "আমি জানি যে, মুজাহিদ-রাহিমাহুল্লাহ-এর বাড়িতে তাঁর মাথার ওপর তিরিশ বছর পর্যন্ত মাকড়সার জাল ছিলো। কিন্তু তিনি তা টের পাননি।"
সব সময় ভরপেট খেলে আকল-বুদ্ধি কমে যায়
[৪৩৪] আবদুল্লাহ বিন শুমাইত বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি দুনিয়াদারদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন, “যে-লোক সব সময় ভরপেট খায় তার আকল-বুদ্ধি কম থাকে; তার একমাত্র চিন্তাই হলো পেট, যৌনাঙ্গ ও চামড়া (পেটের ক্ষুধা ও যৌনক্ষুধা মেটানো এবং সৌন্দর্যচর্চা করা)। সে সব সময় (মনে মনে) বলে, "সকাল হলেই খাবো, পান করবো, হাসি-তামাশা করবো, আমোদ-ফুর্তি করবো। যখন সন্ধ্যা হবে, ঘুমিয়ে পড়বো।” এই ধরনের লোক হলো রাতের বেলায় মৃতদেহ এবং দিনের বেলায় অকর্মণ্য।
নিজের চেয়ে অন্যকে শ্রেষ্ঠ মনে করা
[৪৩৫] ইবরাহিম বিন ঈসা আল-ইয়াশকুরি বলেন, আমি বকর বিন আবদুল্লাহ আল-মুযানি-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "যখনই আমি বাড়ি থেকে বের হই এবং যে-কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে, তাকে আমি নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করি। কারণ, নিজের ব্যাপার আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে (যে আমি কতটুকু কী)। কিন্তু মানুষের বেলায় আমি সন্দিহান। (কারণ, তাদের যে-কেউ আমার থেকে উত্তম হতে পারে।)
ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বাঁধা
[৪৩৬] আনাস বিন মালিক-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেন, আবু তালহা আনসারি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আমরা ক্ষুধার্ত আছি বলে অভিযোগ পেশ করলাম। তখন আমরা আমাদের পেটের কাপড় উঁচু করে দেখালাম প্রত্যেকের পেটে একটি করে পাথর বাঁধা আছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-তাঁর পেটের কাপড় উঁচু করে দেখালেন যে, তাঁর পেটে দুটি পাথর বাঁধা রয়েছে।"
বিনাশগ্রস্তকে বিনাশ থেকে বাঁচানো যায় না
[৪৩৭] আবদুল্লাহ বিন শুমাইত বলেন, তাঁর পিতা শুমাইত-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, আল্লাহ তাআলা দাউদ-আলাইহিস সালাম-এর কাছে ওহি প্রেরণ করলেন: “তুমি যদি কোনো বিনাশগ্রস্তকে তার বিনাশ হওয়া থেকে বাঁচাতে পারো তবে আমি তোমার নাম দেবো দুর্দান্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি।"
পূর্বসূরিরা ভয়ের ফলে কাঁদতেন
[৪৩৮] ইকরিমা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আসমা বিনতে আবু বকর—রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে জিজ্ঞেস করা হলো, “পূর্বসূরিদের কেউ কি ভয়ের কারণে অজ্ঞান হয়ে যেতেন?” তিনি বললেন, “না; বরং তাঁরা কাঁদতেন।"
সালাম মুসলমানদের জন্য অভিনন্দন
[৪৩৯] মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-আলহানি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আমি আবু উমামা আল-বাহিলি—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাত ধরে যাচ্ছিলাম। তিনি যখনই কারও পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তাকে সালাম দিচ্ছিলেন। তারপর তিনি বললেন, “সালাম আমাদের আহলে যিম্মিদের জন্য নিরাপত্তা আর আমাদের ধর্মীয় ভাইদের জন্য অভিনন্দন।"
প্রকাশ্যে ইবাদত করার কারণে নিন্দা করলেন
[৪৪০] মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-আলহানি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, “আবু উমামা আল-বাহিলি—রাদিয়াল্লাহু আনহু—একজন সেজদারত লোকের পাশ দিয়ে গেলেন। সে দীর্ঘক্ষণ সিজদায় পড়ে ছিলো এবং কাঁদছিলো। আবু উমামা—রাদিয়াল্লাহু আনহু—তাকে পা দিয়ে আঘাত করলেন। তারপর বললেন, হায় সিজদা! তুমি যদি তা তোমার বাড়িতে করতে (তাহলে কত-না ভালো হতো)!"
অন্যকে উপদেশ দেওয়ার পূর্বে নিজে আমল করতে হবে
[৪৪১] সুলাইম বিন আমের—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, উম্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা—আমাকে নাওফ আল-বিক্কালি এবং আরেকটি লোকের কাছে পাঠালেন। তাঁরা দুজন মসজিদে বসে গল্প করছিলেন। উম্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা—আমাকে বললেন, তুমি তাদের গিয়ে বলো, “আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। আর আপনারা মানুষদের যেসব উপদেশ দিয়ে বেড়ান তা যেনো আপনাদের নিজেদের জন্যও প্রযোজ্য হয়।”
শুধু শুধু প্রশ্ন করা বিপক্ষে দলিল হবে
[৪৪২] ওয়াহাব আল-মাক্কি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, একটি যুবক লোক উম্মুদ দারদা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে আমল-ইবাদতের ব্যাপারে প্রশ্ন করতো। অনেক বেশি প্রশ্ন করতো। উন্মুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা-তাকে বললেন, "তুমি আমাকে যা-কিছু জিজ্ঞেস করো, তার প্রতিটিই আমল করো?” যুবকটি বললো, না। তখন উন্মুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা-বললেন, "তাহলে কেন তোমার বিপক্ষে আল্লাহ তাআলার দলিল বৃদ্ধি করছো?"
মিথ্যাবাদীর জন্য দোয়া
[৪৪৩] হারিস বিন সুওয়াইদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, কুফার বাসিন্দাদের একজন ব্যক্তি আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আম্মার বিন ইয়াসির আল-আনাসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিরুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতিতে অভিযোগ করলো। পরে আম্মার-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাকে বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো তবে আল্লাহ তাআলা তোমার সম্পদ বাড়িয়ে দিক, তোমার সন্তান বাড়িয়ে দিক এবং তোমাকে আমির বানান।"
তিনটি ব্যাপারই যথেষ্ট
[৪৪৪] ইয়াসির বিন উবায়দ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আম্মার বিন ইয়াসির আল- আনাসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "উপদেশ দানকারী হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট; আর অমুখাপেক্ষিতা হিসেবে বিশ্বাসই যথেষ্ট এবং ইবাদতই ব্যস্ততা হিসেবে যথেষ্ট।"
নিজেকে ধ্বংস করার আকাঙ্ক্ষা
[৪৪৫] আবদুর রহমান বিন আবযা-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আম্মার বিন ইয়াসির আল-আনাসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু- ফুরাত নদীর তীরে ভ্রমণ করছিলেন। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, যদি আমি জানতে পারতাম যে, ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দেওয়া আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করবে তবে আমি সেটাই করতাম। হে আল্লাহ, যদি আমি জানতে পারতাম যে, আগুন প্রজ্বলিত করে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়া আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করবে তবে আমি সেটাই করতাম। হে আল্লাহ, যদি আমি জানতে পারতাম যে, আমার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করবে তবে আমি সেটাই করতাম।"

টিকাঃ
৫৮. পুরো নাম: আবু আবদুল্লাহ কুরয বিন ওয়াবারাহ আল-হারিসী আল-কুফী। তাঁকে আল্লাহ তাআলার বিস্ময়কর ওলী এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য বলে আখ্যায়িত করা হয়।
৫৯. সূরা কাসাস (২৮) : আয়াত ৭৭।
৬০. সূরা মারইয়াম (১৯) : আয়াত ৩১।
৬১. পুরো নাম: সুলাইমান বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান বিন আল-হাকাম বিন আবুল আস বিন উমাইয়া। জন্ম ৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে এবং মৃত্যু ৭১৭ খ্রিস্টাব্দে। সপ্তম উমাইয়া খলীফা। তাঁকে শক্তিশালী উমাইয়া খলীফা গণ্য করা হয়। তাঁর পুত্র আইয়ুব তাঁর জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করেন।
৬২. উতবা বিন গাযওয়ান-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী। সপ্তদশ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
৬৪. দারিন: ইয়ামানের একটি এলাকা। মধ্যযুগে ভারত থেকে দারিন-এ 'মিস্ক' রপ্তানি করা হতো।
৬৬. এই আসসামাহ কে তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। এই হাদীস অনুযায়ী যদি তিনি বিলাল বিন আবুদ দারদার মা হন তবে তাঁর মূল নাম খায়রাহ বিনতে আবু হাদরাদ। আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দুই জন স্ত্রীর মধ্যে তিনি প্রথম জন। দ্বিতীয় মত, তিনি বিলাল বিন আবুদ দারদার মা নন; বরং তার কন্যা। (তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকির, ৬৯তম খণ্ড) তৃতীয় মত, তিনি বিলাল বিন আবুদ দারদার পুত্রবধূ, অর্থাৎ, সুলাইমান বিন বিলালের স্ত্রী এবং মুহাম্মদ বিন সুলাইমানের মা। (সাফওয়াতুস সাফওয়া, ইবনুল জাওযী, তৃতীয় খণ্ড)
৬৭. সূরা নাহল (১৬): আয়াত ২৩।
৬৮. ফুযাইল বিন ইয়ায—রাহিমাহুল্লাহ—হিজরি দ্বিতীয় শতকের শ্রেষ্ঠ হাদীসবেত্তাদের একজন। তাঁর উপাধি ছিলো 'আবিদুল হারামাইন'। জীবনকাল : ১০৭-১৮৭ হিজরি।
৬৯. বর্ণনাটি এই কিতাবে সংক্ষিপ্ত আকারে এসেছে। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ও অন্য কিতাবে বিস্তারিত এসেছে।
৭০. সূরা বাকারা (০২): আয়াত ২৪৫।
৭১. সূরা আর-রাহমান (৫৫) : আয়াত ৫৪।
৭২. মুসনাদে আহমাদ: ২০৩৬০, সনদ যঈফ। এর সনদে আবুস সালীল নামক রাবী রয়েছে তিনি অপরিচিত। (সম্পাদক)
৭৩. এটি একটি ঈসরাঈলী বর্ণনা। এমন বর্ণনার ক্ষেত্রে নীতি হলো, যদি তা কুরান-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক না হয় তবে তার ব্যাপারে সত্য-মিথ্যা কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে নীরবতা অবলম্বন করা। (সম্পাদক)
৭৪. مُوَطَّأَ الْعَقِبَيْنِ : শব্দটির অর্থ যার অধিক অনুসারী রয়েছে বা অধিক মানুষ দ্বারা অনুসৃত। কিন্তু এখানে সুলতান বা আমির বা ধনাঢ্য ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার পেছনে লোকেরা লেগে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00