📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালমান ফারেসি—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 সালমান ফারেসি—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করলে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন
[২৫৫] জারীর-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু- আমাকে বলেছেন, “হে জারীর, আল্লাহ তাআলার জন্য বিনীত হও; যে-ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার জন্য বিনীত হয়, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।"
নাফরমানিমূলক কথা পাপাচারের দিকে টেনে নেয়
[২৫৬] শিমর বিন আতিয়্যা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যারা আল্লাহ তাআলার নাফরমানিমূলক কথা বেশি বলে তারাই বেশি পাপ করে।"
ভাতা পাওয়ামাত্রই লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন
[২৫৭] হাসান বসরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ভাতা ছিলো পাঁচ হাজার দিরহাম। তা ছাড়া তিনি প্রায় তিরিশ হাজার মুসলমানের আমীর ছিলেন। তিনি যে-আলখাল্লাটি গায়ে দিয়ে লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতেন তার একটি অংশ বিছিয়ে বসতেন, আরেকটি অংশ পরিধান করতেন। তিনি তাঁর ভাতা পাওয়ামাত্রই তা লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন। তিনি নিজ হাতে রোজগার করে খেতেন।"
মুশরিক নারীর ঘরে নামায পড়লেন
[২৫৮] নাফে বিন জুবাইর-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-নামাযের জায়গা তালাশের জন্য একজন অনারব কাফের নারী অথবা একজন মুশরিক নারীর ঘরে এলেন। ওই নারী তাঁকে বললেন, "একটি পবিত্র চিত্তের অন্বেষণ করুন এবং যেখানে খুশি নামায পড়ুন।" সালমান ফারেসি- রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাকে বললেন, "তুমি বুদ্ধিমতী।"
বাজার শয়তানের কেন্দ্র
[২৫৯] আবু উসমান আন-নাহদি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তুমি বাজারে প্রথম প্রবেশকারী এবং শেষ প্রস্থানকারী হোয়ো না। কেননা, বাজারে শয়তানের অবতরণস্থল ও তার ঝান্ডার কেন্দ্র রয়েছে।” ইয়াহইয়া বলেন, "অর্থাৎ, বাজার হলো শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র।"
অমুসলিমের অন্তর থেকেও প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা উৎসারিত হয়
[২৬০] মাইমুন বিন মিহরান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, হুযায়ফাহ ও সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-একজন নাবাতি নারীর বাড়িতে অবতরণ করলেন। নামাযের সময় হলে তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "এখানে কি পবিত্র স্থান আছে, যেখানে আমরা নামায আদায় করতে পারি?” জবাবে ওই নারী বললেন, "আপনাদের অন্তর পবিত্র করুন।" তখন তাঁদের একজন অপর জনকে বললেন, "কাফেরের অন্তর থেকে প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা গ্রহণ করুন।"
সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে
[২৬১] ইবরাহিম আত-তাইমি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না সেই দিন সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় পাবে: ১. এমন ব্যক্তি, যে তার মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে বলে, আমি তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি এবং দ্বিতীয় জনও অনুরূপ কথা বলে। ২. এমন ব্যক্তি, যিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং আল্লাহর ভয়ে তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়। ৩. ওই ব্যক্তি, যিনি ডান হাত দ্বারা দান করেন; কিন্তু বাম হাত থেকে তা গোপনে রাখেন। ৪. এমন ব্যক্তি, যাকে কোনো সুন্দরী-রূপসী নারী প্ররোচিত করে, তখন তিনি তাকে বলেন, আমি তো আল্লাহ তাআলাকে ভয় করি। ৫. এমন ব্যক্তি, যাঁর হৃদয় মসজিদের ভালোবাসার কারণে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ৬. ওই ব্যক্তি, যিনি নামাযের ওয়াক্ত জানার জন্য সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করেন। ৭. এমন ব্যক্তি যিনি কথা বললে জ্ঞানের সঙ্গে কথা বলেন এবং যদি চুপ থাকেন তবে সেটাও হয় প্রজ্ঞার কারণে।"
পূর্বসূরিদের থেকে জ্ঞান শেখা অপরিহার্য
[২৬২] আবুল বাখতারি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "মানুষের মধ্যে কল্যাণ ততোদিনই অব্যাহত থাকবে যতোদিন পূর্বসূরিদের থেকে উত্তরসূরিরা জ্ঞান শিখবে। আর যদি উত্তরসূরিদের জ্ঞান অর্জনের পূর্বেই পূর্বসূরিরা চলে যায়, তবে তো তাদের ধ্বংসের সময় চলে আসবে।"
আল্লাহ তাআলা কাউকে নিরাশ করেন না
[২৬৩] আবু উসমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "মানুষ যদি জানতো আল্লাহ তাআলা দুর্বলদের কীভাবে সাহায্য করেন তবে কখনোই তারা প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতো না।” তিনি বলেন, “যে-বান্দা আল্লাহ তাআলা উদ্দেশে দুই হাত প্রসারিত করে এবং কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।" তিনি আরও বলেন, "এক ব্যক্তি রাত জেগে চুলোয় আগুন ঠেলে এবং আরেক জন আল্লাহ তাআলার যিকির করে রাত কাটায়, তবে আমি মনে করি, আল্লাহর যিকিরকারী ও কুরআন তেলাওয়াতকারীই শ্রেষ্ঠ।” তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি ভালোভাবে ওজু করে এবং একমাত্র নামাযের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসে, তবে সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী হয় এবং আল্লাহ তাআলার জন্য আবশ্যক হলো তাঁর সাক্ষাৎকারীকে সম্মানিত করা।"
যতোবার বলবে ততোবার লেখা হবে
[২৬৪] আবু উসমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "একজন ব্যক্তি যখন বেশি বেশি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে, তখন ফেরেশতা সেটা লিখতে কঠিনবোধ করে। অবশেষে যখন সে তার প্রভুর দ্বারস্থ হয় তখন তিনি বলেন, "আমার বান্দা যেভাবে তা বেশি বেশি বলেছে, তুমিও তা সেভাবে লেখো।"
হাউযে কাউসারে তিনি নবীজীর সঙ্গে মিলিত হবেন
[২৬৬৫] আবু সুফয়ান তাঁর কয়েক জন শায়খ থেকে বর্ণনা করেন, সা'দ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে দেখার জন্য তাঁর কাছে গেলেন। তাঁকে দেখে সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেঁদে ফেললেন। সা'দ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে বললেন, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কেন কাঁদছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ইন্তেকাল করেছেন এই অবস্থায় যে তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন; হাউযে কাউসারে আপনি তাঁর সঙ্গে মিলিত হবেন এবং আপনার সঙ্গীদের সঙ্গেও মিলিত হবেন।" সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তখন বললেন, "হ্যাঁ, আমি তো মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি না এবং দুনিয়ার প্রতি লালায়িত হয়েও কাঁদছি না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আমাদেরকে দৃঢ়ভাবে বলেছেন:
لِتَكُنْ بُلْغَةُ أَحَدِكُمْ مِنَ الدُّنْيَا مِثْلُ زَادِ الرَّاكِبِ "দুনিয়াতে তোমাদের প্রয়োজনপূরণের সম্পদ যেনো একজন মুসাফিরের পাথেয়র মতো হয়।"
তিনি বলেন, "অথচ আমার চারপাশে কত সম্পদ।" বর্ণনাকারী বলেন, "তাঁর কাছে তখন একটি পানপাত্র, একটি খাবারের পাত্র, একটি ওজু বা গোসলের পাত্র ছিলো।” সা'দ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি আমাদের এমন একটি উপদেশ দিন যা আমরা আপনার মৃত্যুর পর পালন করবো।" সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "হে সা'দ, আপনি আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করুন যখন আপনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন, আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করুন যখন আপনি সম্পদ বণ্টন করেন এবং আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করুন যখন কোনো বিচারের ফয়সালা দেন।"
তাঁর লজ্জাশীলতা
[২৬৬] কায়স বিন হারিস-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আমার কোনো মুসলমানের সতর দেখা অথবা কোনো মুসলমানের আমার সতর দেখা থেকে আমার কাছে প্রিয় হলো আমার মৃত্যুবরণ করে পুনরুত্থিত হওয়া, আবারও মৃত্যুবরণ করে পুনরুত্থিত হওয়া, আবারও মৃত্যুবরণ করে পুনরুত্থিত হওয়া।”
তখন আল্লাহ তাআলার অভিসম্পাত নেমে আসবে
[২৬৭] আলা বিন আল-মুসাইয়িব-রাহিমাহুল্লাহ-বলে সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-থেকে মারফু হাদিসরূপে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যখন ইলম ব্যাপক হবে, কিন্তু আমল (কিছু লোকের মধ্যে) সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে; মানুষের জিহ্বাসমূহ একই কথা বলবে, কিন্তু তাদের অন্তর হবে ভিন্ন ভিন্ন; (তাদের মুখের কথা ও মনের ভাবনার কোনো মিল থাকবে না); প্রত্যেকেই তার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। সেই সময় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করবেন; তাদের বধির করে দেবেন এবং চক্ষুসমূহকে অন্ধ করে দেবেন।”
তিনটি বিষয় হাসির এবং তিনটি বিষয় কান্নার
[২৬৮] জাফর—রাহিমাহুল্লাহ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালমান ফارهসি— রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলতেন, “তিনটি বিষয় আমাকে হাসায় এবং তিনটি বিষয় আমাকে কাঁদায়। আমার হাসি পায় দুনিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষীকে দেখে, যাকে মৃত্যু পিছু ধাওয়া করছে; হাসি পায় ওই গাফেলকে দেখে, যাকে সব সময় নজরে রাখা হচ্ছে এবং হাসি পায় এমন লোককে দেখে যে অট্টহাসি হাসছে, অথচ সে জানে না সে কি তার প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করছে না-কি সন্তুষ্ট করছে। আর তিনটি বিষয় আমাকে কাঁদায় : মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেমিকগণ ও তাঁর সঙ্গীসাথিদের বিদায়; মৃত্যুযন্ত্রণার সময় উপস্থিত হওয়ার ভীতি, রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হওয়া, যখন আমি জানতে পারবো না আমি কি জান্নাতে যাবো না-কি জাহান্নামে যাবো।”
ইবাদতের জন্য বাড়ির ছাদে ঘর
[২৬৯] উইয়াইনাহ বিন আবদুর রহমান—রাহিমাহুল্লাহ—তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আবুল আস—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যদি জুমআর নামায এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জামাত না থাকতো তাহলে আমি আমার এই বাড়ির ছাদে ছোট একটি ঘর বানাতাম এবং কবরে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত তা থেকে বের হতাম না।"
বিলাল—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এর দোয়া
[২৭০] উমাইর বিন হানি আল-আনাসি—রাহিমাহুল্লাহ—বিলাল—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এর স্ত্রী হিন্দা আল-খাওলানিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমি বিলালকে বলতে শুনেছি যে, “হে আল্লাহ, আমার ভালো আমলগুলো কবুল করুন এবং পাপসমূহ মার্জনা করুন এবং আমার অসুস্থতার সময়ে আমাকে ক্ষমা করুন।"
পথে কখনো কোনো ময়লা ফেলতেন না
[২৭১] ইসমাঈল বিন উবাইদ বলেন, আয়েয বিন আমর—রাহিমাহুল্লাহ— বলেছেন, “মুসলমানদের চলার পথে আমার চিলুমচির ময়লাপানি ফেলার চেয়ে সেটাকে আমার বাসরঘরে ফেলাকে অধিক শ্রেয় মনে করি।” বর্ণনাকারী বলেন, “তাঁর বাড়ি থেকে কোনো পানি বের হতো না; এমনকি বৃষ্টির পানিও না।” বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি জান্নাতবাসী হয়েছেন।"
শোকে তিন দিন তিন রাত না খেয়ে থাকলেন
[২৭২] শাইবানি—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আমরা কনস্ট্যান্টিনোপলের যুদ্ধে মাসলামা বিন আবদুল মালিকের সঙ্গে ছিলাম। (ভয়ংকর যুদ্ধ হয়েছিলো সেদিন।) মানজানিকগুলোর পাশ থেকে হতাহতদের সরিয়ে নেওয়া যাচ্ছিলো। কিন্তু মাসআলা বিন আবদুল মালিকের সামনে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছিলো। তখন আমি একজন লোককে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলতে শুনলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তাআলা আপনাকে রহম করুন, আপনি ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বললেন? তিনি বললেন, আমরা মালিক বিন আবদুল্লাহ আল-কাসআমীর সঙ্গে একটি যুদ্ধে ছিলাম। সেখানে মুসলমানদের একজন লোক আক্রান্ত হলো (নিহত হলো)। তারপর মালিক বিন আবদুল্লাহর সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করা হলো। কিন্তু তিনি খেলেন না। পরের দিন তিনি রোযা রাখলেন। এভাবে তিনি তিন তিন ও তিন রাত না খেয়ে থাকলেন, তা কেবল ওই নিহত মুসলমানের শোকে। এমনকি মুসলমানদের সবাই ওই নিহত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশ করছে, যেভাবে আপন বন্ধু মৃত্যুবরণ করলে শোক প্রকাশ করে।”
তা আল্লাহর পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে
[২৭৩] মালিক বিন আবদুল্লাহ—রাহিমাহুল্লাহ—এর আযাদকৃত গোলাম হাসান— রাহিমাহুল্লাহ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “তাঁর পায়ের নলায়—অর্থাৎ, মালিকের পায়ের নলায় একটি রগে ‘আল্লাহু’ শব্দটি লেখা ছিলো। তিনি ওজু করার সময় আমি ওই রগটির দিকে তাকিয়েছিলাম। তিনি বললেন, “তাকিয়ে কী দেখছো? জেনে রাখো, এই শব্দটি (দুনিয়ার) কোনো লেখক লেখেননি।”
মজলিস থেকে ওঠে এলে তাদের সালাম দেওয়া
[২৭৪] মুআবিয়া বিন কুররা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, "হে বৎস, তুমি যদি এমন একদল লোকের সঙ্গে থাকো যারা আল্লাহ তা'আলার যিকির করছে, তখন তোমার ওখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন হলো, তবে উঠে আসার সময় তুমি তাদের সালাম দাও। তা এ-কারণে যে, তারা যতোক্ষণ বসে থাকবে ততোক্ষণ তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।"
সৎ মানুষের অন্তর আল্লাহ তা'আলার পাত্র
[২৭৫] আবু উমামা আল-বাহেলি-রাদিয়াল্লাহু আনহু- বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
إِنَّ لِلَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى آنِيَةً فِي الْأَرْضِ وَأَحَبُّ الْآنِيَةِ إِلَيْهِ مَا رَقَ مِنْهَا وَصَفَا، وَآنِيَةُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ قُلُوبُ الْعِبَادِ الصَّالِحِينَ
"নিশ্চয় জমিনের বুকে আল্লাহ তা'আলার কিছু পাত্র রয়েছে। আল্লাহ তা'আলার সেটিই সবচেয়ে প্রিয় পাত্র যা নরম ও কোমল। জমিনের বুকে আল্লাহর পাত্রসমূহ হলো সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর।"

টিকাঃ
৪২. علج: বিশাল-বপু অনারব কাফের বা যে-কোনো কাফের।
৪৩. মূল কিতাবে এই হাদীসটি 'ফাদলু আবি হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু' শিরোনামাধীন আনা হয়েছে।
৪৪. মূল কিতাবে এই হাদীসটি ‘ফাদলু আবি হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু’—শিরোনামাধীন আনা হয়েছে।
৪৫. মূল কিতাবে এই হাদীসটি ‘ফাদলু আবি হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু’ শিরোনামাধীন আনা হয়েছে।

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


দীর্ঘ সফর ও স্বল্প পাথেয়র জন্য কান্না
[২৭৬] সালেম বিন হাজাল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর মৃত্যুশয্যায় কাঁদছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন, "আরে, আমি তো তোমাদের এই দুনিয়ার প্রতি লালায়িত হয়ে কাঁদছি না; বরং আমি কাঁদছি আমার দীর্ঘ সফর ও স্বল্প পাথেয়র কারণে; আমি তো দাঁড়িয়ে আছি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি টিলার ওপর এবং আমি জানি না এই দুটির মধ্যে কোনটির দিকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হবে।"
কুরআন পড়ে শোনাতেন এবং দোয়া করতেন
[২৭৭] হাবীব আল-মুআল্লিম-রাহিমাহুল্লাহ-আবুল মুহাযযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে আসতাম। তিনি আমাদের কুরআন পড়ে শোনাতেন, দোয়া করতেন এবং আমাদের শিক্ষামূলক কাহিনি শোনাতেন।"
কন্যাকে বিলাসিতা পরিহারের নির্দেশ
[২৭৮] হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর কন্যাকে বলতেন, "হে আমার প্রিয় কন্যা, তুমি স্বর্ণখচিত পোশাক পরিধান কোরো না, তাহলে আমি তোমার ব্যাপারে জ্বলন্ত আগুনের আশংকা করি। রেশমের পোশাক পরিধান কোরো না, তাহলে আমি তোমার ব্যাপারে প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের আশংকা করি।"
কিয়ামতের দিন কিছু মানুষ হায় পিপাসা বলে চিৎকার করবে
[২৭৯] মুহাম্মদ বিন মুনকাদির বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু- বলেছেন, "যেনো আমি আমাদের দেখতে পাচ্ছি, আমরা হাউযে কাউসার থেকে হিসাব দেওয়ার উদ্দেশে বেরিয়ে এলাম। একজন আরেক জনKকে এই সংবাদ দিচ্ছিলো। তখন একজন আরেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি কাউসার পান করেছো? সে বললো, না, হায় পিপাসা!"
মানুষ তার কর্ম ও আমল দ্বারাই পবিত্র থাকে
[২৮০] ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবুদ দারদা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে চিঠি লিখে জানালেন, আপনি পবিত্র ভূমিতে চলেন আসুন। সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁকে প্রত্যুত্তরে জানালেন, "ভূমি কাউকে পবিত্র করতে পারে না; বরং মানুষকে পবিত্র করতে পারে তাঁর আমল ও কর্ম। আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনি ডাক্তার হয়েছেন; যদি আপনি এর থেকে মুক্ত হন তবে তা আপনার জন্য কতই-না উত্তম! আর যদি সত্যই আপনি ডাক্তার হয়ে থাকেন তবে কোনো মানুষকে হত্যা করা থেকে সতর্ক থাকুন। কারণ, এর ফলে আপনাকে জাহান্নামে যেতে হবে।" আবুদ দারদা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন দু-জন মানুষের মধ্যে ফয়সালা দিতেন এবং তারা চলে যেতে শুরু করতো, তিনি তাদের দিকে তাকাতেন এবং বলতেন, "আল্লাহর কসম! আমি একজন শিক্ষানবিশ (চিকিৎসা বা ফয়সালার ক্ষেত্রে); তোমরা আবার আমার কাছে ফিরে এসো, আবার তোমরা আমার কাছে তোমাদের মোকাদ্দমা পেশ করো।"
সাবধান থাকার পরামর্শ
[২৮১] মালিক বিন দিনার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আবুদ দারদা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে চিঠি লিখে জানালেন, "আমি শুনেছি যে মানুষদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য আপনি একজন চিকিৎসক নিযুক্ত করেছেন। সুতরাং সাবধান থাকবেন, কোনো মুসলমানকে যেনো হত্যা করে না ফেলেন। তাহলে আপনার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে পড়বে।"
তিনি মনের কথাই বলেছেন
[২৮২] আল-আ'মাশ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি শায়খগণকে আলোচনা করতে শুনেছি, হুযায়ফাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কি আপনার জন্য একটি ঘর বানাবেন না?" বর্ণনাকারী বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এই প্রশ্নটাকে পছন্দ করলেন না। তখন হুযায়ফাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "কিছুদিন অপেক্ষা করুন, তখন আমি আপনাকে জানাবো যে আমি আপনার জন্য একটি ঘর বানাবো, আপনি তাতে শয়ন করলে আপনার মাথা থাকবে একপাশে আর আপনার পা দুটি থাকবে অন্যপাশে। আর আপনি যখন দাঁড়াবেন আপনার মাথা ঠেকে যাবে।” তখন সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "আপনি ঠিক আমার মনের কথাই বলেছেন।"
খাদেমকে দিয়ে একাধিক কাজ করাতে অপছন্দ করতেন
[২৮৩] আবু কিলাবাতা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে একজন লোক এলেন। তিনি তখন আটার খামির তৈরি করছিলেন। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, কী করছেন আপনি? তিনি বললেন, "আমি খাদেমকে একটি কাজে বাইরে পাঠিয়েছি। আর আমি তার জন্য দুটি কাজ একত্র করাকে অপছন্দ করি।" তারপর ওই লোক বললেন, "অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি (এই এলাকায়) কখন এসেছো?" লোকটি জবাব দিলেন, "অতো অতো দিন আগে।" তিনি বললেন, "তুমি যদি এই সালাম আমার কাছে না পৌঁছাতে সে তা অনাদায়কৃত আমানতরূপে তোমার ওপর থেকে যেতো।"
আখেরাতের জীবনযাপনই আসল
[২৮৪] হাসান বিন আবদুল আযিয আল-জাওরী বলেন, ইবনে শাওযাবের পক্ষ থেকে দামরাহ আমাদের কাছে লিখে পাঠালেন যে, সালমান ফারেসি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাথা মুণ্ডন করছিলেন তাঁর এক বন্ধু। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, এটা কী হচ্ছে? তিনি জবাব দিলেন, "প্রকৃত জীবনযাপন তো আখেরাতের জীবনযাপন।"
শীতকালে রোযা রাখা সহজ গনিমত
[২৮৫] আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আমি কি তোমাদের একটি শীতল (সহজ) গনিমত দেখিয়ে দেবো না?” তাঁরা সবাই বললেন, "সেটা কী, হে আবু হুরায়রাহ?” তিনি বললেন, "শীতকালে রোযা রাখা।"
ধোঁকায় পড়ে অর্থহীন বিষয়ের পেছনে ছুটে চলা
[২৮৬] আবুস সালিব-দারিব বিন নুফাইর-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তোমাদের মন তোমাদের সঙ্গে সত্য বলে না। তোমরা এমন-সব বিষয়ের আশা পোষণ করে থাকো যার নাগাল তোমরা কখনো পাবে না। তোমরা এমন সম্পদ জমা করে থাকো যা তোমরা ভোগ করতে পারবে না। তোমরা এমন অট্টালিকা নির্মাণ করে থাকো যাতে তোমরা বসবাস করতে পারবে না।"
সারা রাত তাঁদের নামাযে কেটে যেতো
[২৮৭] উসমান আন-নাহদি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, "আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-রাতের এক-তৃতীয়াংশ নামায আদায় করে কাটাতেন, তাঁর স্ত্রী অপর তৃতীয়াংশ নামায আদায় করে কাটাতেন, তাঁর পুত্র অপর তৃতীয়াংশ নামায আদায় করে কাটাতেন। এক জন ঘুমিয়ে পড়লে অপর জন উঠে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।"
তিনি বাহনে চড়তে অপছন্দ করতেন
[২৮৮] ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলা হলো, "আপনি কি কোনো বাহনে চড়ে কারও সাক্ষাতে যেতেন পারেন না?" জবাবে তিনি বললেন, "আমি বাহনে চড়তে অপছন্দ করি। আমি বাহনের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বিপক্ষে জামিনদার হতে চাই না।"
শাস্তির পরিবর্তে মুক্ত করে দিলেন
[২৮৯] ইসমাঈল আল-আবদি আবুল মুতাওয়াক্কিল-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর একটি নিগ্রো দাসী ছিলো। সে কাজ করে তাদের সহযোগিতা করতো। একদিন (কোনো কারণে) তিনি দাসীটির ওপর চাবুক উঠালেন এবং বললেন, "যদি শাস্তির প্রতিবিধান না থাকতো তবে এই চাবুক দ্বারা আমি তোমাকে পেটাতাম। কিন্তু আমি তোমাকে তাঁর (আল্লাহর) কাছেই বিক্রি করবো যিনি আমাকে সবচেয়ে বেশি বিনিময়মূল্য দেবেন। যাও, তুমি আল্লাহর তাআলার ওয়াস্তে মুক্ত।"
বরকতময় থলে
[২৯০] ইসমাঈল আল-আবদি আবুল মুতাওয়াক্কিল-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আমাকে কিছু খেজুর দেন। সেগুলো একটি থলেতে রাখি এবং থলেটি বাড়ির ছাদে ঝুলিয়ে রাখি। আমরা তা থেকেই খেতে থাকলাম; কিন্তু তা শেষ হতো না। শামের (সিরিয়ার) অধিবাসীরা মদিনায় আক্রমণ চালানোর সময় থলেটি নষ্ট করে ফেলে। ফলে খেজুর শেষ হয়ে যায়।"
পাপ মোচনের মজলিস
[২৯১] ইসমাঈল আল-আবদি আবুল মুতাওয়াক্কিল-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও তাঁর সঙ্গীরা সাহরির সময় বসতেন। বলতেন, "আমরা আমাদের পাপ মোচন করছি।"
পেটের জন্য আফসোস
[২৯২] উসমান আশ-শাহহাম আবু সালামা বর্ণনা করেন, ফারকাদ আস-সাবাহি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেছেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতেন এবং বলতেন, "আমার পেটের কারণে আমার ধ্বংস! যদি আমি পেটকে তৃপ্ত করি তবে তা আমাকে অলস বানিয়ে দেয়; আর যদি পেটকে ক্ষুধার্ত রাখি তবে তা আমাকে কাহিল করে ফেলে।"
বান্দাদের দান করলে আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়া যাবে
[২৯৩] হাসান বসরি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, "আমার বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলো, তুমি তাকে খাওয়াওনি। তুমি যদি সেইদিন তাকে খাওয়াতে তবে আজকে আমি তোমাকে খাওয়াতাম। আমার বান্দা তোমার পানি পান করতে চেয়েছিলো, তুমি তাকে পানি পান করাওনি। সেইদিন যদি তুমি তাকে পানি পান করাতে তবে আজকে আমি তোমাকে পানি পান করাতাম।”
মানুষ নিজের বড় বড় দোষ-ত্রুটি দেখতে পায় না
[২৯৪] ইয়াযিদ বিন আসাম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবু হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "তোমাদের প্রত্যেকে তার ভাইয়ের চোখে সামান্য ময়লা (পিচুটি) থাকলেও দেখতে পায়; কিন্তু নিজের চোখে গাছের গুঁড়ি (বা গাছের ডাল) থাকলেও তা দেখতে পায় না। (মানুষ অন্যের সামান্য অপরাধ থাকলেও তা দেখতে পায়; কিন্তু নিজেদের বড় বড় অপরাধও চোখে পড়ে না।)
যারা বেশি কথা বলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে
[২৯৫] ইয়াযিদ বিন আসাম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আমি আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "যারা বেশি কথা বলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; তবে তারা ব্যতীত যারা এমন এমন কথা বলে। এ-কথা বলে তিনি দুই হাত দ্বারা তাঁর সামনে, তাঁর পেছনে, তাঁর ডানে ও বাঁয়ে ইশারা করলেন। তারপর বললেন, তাদের সংখ্যা খুবই কম। ইয়াযিদ বিন আসাম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন, "যদি আমি এই কথা আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—থেকে শুনে না থাকি", তাঁর দুই আঙুল দ্বারা তাঁর দুই কানে ইশারা করে, "তবে যেনো আমার এই দুই কান বধির হয়ে যায়।"
আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী জাহান্নামে প্রবেশ করবে না
[২৯৬] ঈসা বিন তালহা—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ভয়ে কাঁদবে সে কিছুতেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যতোক্ষণ না দুধ ওলানে ফিরে যায়।” (অর্থাৎ, যে-ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদবে তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশ অসম্ভব।)
দীর্ঘ সফর ও অল্প পাথেয় তাঁকে কাঁদায়
[২৯৭] আবদুল্লাহ বিন শাওযাব—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, যখন আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তখন তাঁকে বলা হলো, হে আবু হুরায়রাহ, কোন জিনিস আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, "দীর্ঘ সফর, অল্প পাথেয় এবং দুর্লঙ্ঘনীয় গিরিপথ; জানি তার থেকে কোথায় গিয়ে পড়বো, জান্নাতে না-কি জাহান্নামে।"
নামায শেষে পরিবারের কাজে যাওয়ার নির্দেশ
[২৯৮] আবদুল্লাহ বিন আবু সুলাইমান—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবু হুরায়রাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—মসজিদে প্রবেশ করলেন। তাতে একজন বালককে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, "হে ছেলে, তুমি তোমার পরিবারের কাজে যাও। আমি নামায পড়তে এসেছি।” তারপর বললেন, “তুমি আগেই নামায পড়েছো, এখন আমি নামায পড়বো।"
যিকিরের সওযাব
[২৯৯] আবু সালেহ্‌-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ্‌-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে ‘আল-হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তিরিশটি সওয়াব লিখে দেবেন এবং তার তিরিশটি গুনাহ মার্জনা করে দেবেন। আর যে-ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য বিশটি সওয়াব লিখে দেবেন এবং তার বিশটি গুনাহ মার্জনা করে দেবেন। আর যে-ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য বিশটি সওয়াব লিখে দেবেন এবং তার বিশটি গুনাহ মার্জনা করে দেবেন।”
বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো
[৩০০] আবদুল্লাহ বিন আবু সুলাইমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, “আবু হুরায়রাহ্‌-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কুঠুরিতে তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো, তাঁর ঘরে তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো, তাঁর কামরায় তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো, তাঁর বাড়িতে তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো। তাঁর বাড়ির ফটকে তাঁর নামাযের জায়গা ছিলো। যখন বাড়িতে প্রবেশ করতেন এই সব কয়টি নামাযের জায়গায় নামায আদায় করে নিতেন। যখন বাড়ি থেকে বের হতেন তখনও এই সব কয়টি নামাযের জায়গায় নামায পড়ে নিতেন।"
আনুমানিক ধারণা বড় ধরনের মিথ্যা
[৩০১] তাউস বিন কায়সান আল-ইয়ামানি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবু হুরায়রাহ্‌-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “তোমরা কারও সম্পর্কে (মন্দ) ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, অনুমান নির্ভর ধারণা বড় ধরনের মিথ্যা। গোয়েন্দাগিরি কোরো না। কারও কোনো দোষের কথা জানতে চেষ্টা কোরো না। পরস্পর লোভ-লালসা কোরো না। একে অন্যের পেছনে লেগো না। পরস্পর শত্রুতা কোরো না; বরং পরস্পর এক আল্লাহর বান্দা এবং ভাই ভাই হয়ে থাকো, যেমন আল্লাহ তাআলা তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।"

টিকাঃ
৪৬. মূল কিতাবে 'যুহদু আবি হুরায়রাহ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-" নামে দুই জায়গায় দুটি অধ্যায় রচনা করা হয়েছে। এখানে দুই অধ্যায়ের হাদিস একত্র করে দেওয়া হয়েছে। (অনুবাদক)
৪৭. আল্লাহ তাআলা নির্দেশ : وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হোয়ো না।” [সূরা আলে ইমরান (০৩) : আয়াত ১০৩]

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া

📄 আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর চোখে দুনিয়া


কুরআন মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে
[৩০২] ইবনে আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "নিশ্চয় কুরআন এমন শাফাআতকারী, যার শাফাআত কবুল করা হবে এবং এমন দাবি উত্থাপনকারী, যার দাবি গৃহীত হবে। সুতরাং যে-ব্যক্তি কুরআনকে তার সামনে রাখবে, কুরআন তাঁকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর যে-ব্যক্তি কুরআনকে তার পেছনে রাখবে, কুরআন তাঁকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে যাবে।"
আদম-সন্তান আল্লাহ ও শয়তানের সামনে নিক্ষিপ্ত
[৩০৩] আওন বিন আবদুল্লাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "আদম-সন্তানের অবস্থা হলো আল্লাহ তাআলার সামনে এবং শয়তানের সামনে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তুর মতো। তাতে যদি আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন থাকে তাহলে আল্লাহ তাআলা তা শয়তানের আয়ত্ত থেকে তা নিয়ে নেন; আর যদি তাতে আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন না থাকে তবে ওই ব্যক্তি ও শয়তানের মাঝে পথ উন্মুক্ত করে দেন।"
মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ বড় ধরনের পাপ
[৩০৪] আবু ওয়ায়েল—রাহিমাহুল্লাহ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষ এই আকাঙ্ক্ষা করবে যে, যদি সে দুনিয়াতে জীবনধারণের জন্য যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু খাবারই খেতো। তোমাদের কেউ দুনিয়াতে যে-অবস্থায়ই সকাল ও সন্ধ্যা (দিন) যাপন করুক না কেন, তা তার কোনো ক্ষতি করবে না, যদি না তার অন্তরে মানুষের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ থাকে।"
মুমিন বান্দার আরাম-আয়েশ নেই
[৩০৫] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহ তাআলার সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুমিন বান্দার কোনো আরাম-আয়েশ নেই।"
মৃত্যু ও দরিদ্রতা তাঁর প্রিয়
[৩০৬] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "দুটি অপছন্দনীয় বিষয় কতই-না চমৎকার: মৃত্যু ও দরিদ্রতা। আল্লাহর কসম! হয় সচ্ছলতা না-হয় দরিদ্রতা, (এর বাইরে কিছু নেই।) এর যে-কোনো একটি দিয়ে আমি পরীক্ষিত হই-না কেন, আমি তা পরোয়া করি না। কারণ, সচ্ছলতা দ্বারা পরীক্ষা করা হলে তার দ্বারা অন্যের প্রতি অনুগ্রহ করা যায়; আর দরিদ্রতা দ্বারা পরীক্ষা করা হতে তাতে ধৈর্য ধারণ করা যায়।"
অন্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি নামাযে দাঁড়াতেন
[৩০৭] উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে পড়তো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-জেগে উঠে নামাযে দাঁড়াতেন এবং মৌমাছির গুঞ্জনের মতো আমি তাঁর (কুরআন পাঠের) গুঞ্জন শুনতে পেতাম।"
পাখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩০৮] দাহহাক বিন মুযাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "হায়, আমি যদি পালকশোভিত ডানাবিশিষ্ট পাখি হতাম!"
ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩০৯] কাসিম বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এক ব্যক্তি বললেন, "হায়, আমি যদি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হতাম!" এই কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "হায়, মৃত্যুর পর আমাকে যদি উঠানো না হোতো!"
তিনি রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের একজন ছিলেন
[৩১০] আবু ইসহাক-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, আবু মুসা আশআরি-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, আমি নবী করীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসেছি এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে তাঁর পরিবারের একজনরূপে দেখেছি। তাঁর প্রতি তাঁদের যে-স্নেহ দেখেছি তা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে।
বিনয়ী ব্যক্তির মর্যাদা উঁচু হবে
[৩১১] আবু ওয়ায়িল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি বিনম্র হয়ে আল্লাহ তাআলার প্রতি বিনয় অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর মর্যাদা উঁচু করে দেবেন। আর যে-ব্যক্তি আত্মম্ভরিতার সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখাবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে অপদস্থ করবেন।"
জিহ্বাকে সংযত রাখার নির্দেশ
[৩১২] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর পুত্রকে বলেছেন, হে বৎস, তোমার ঘরই যেনো তোমার জন্য যথেষ্ট হয়। তুমি তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো এবং তোমার পাপের কথা মনে করে কাঁদো।"
পাপকাজের কারণে ইলম ভুলে যায়
[৩১৩] হাসান বিন সা'দ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আমি মনে করি, মানুষ তার পাপকাজের কারণে ইলম ভুলে যায়, যে-ইলম একসময় সে জানতো।"
আল্লাহ তাআলা দাম্ভিক ও অহংকারীকে অপদস্থ করেন
[৩১৪] আবু ইয়াস আল-বাজালী-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, "যে-ব্যক্তি অহমিকার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে বেড়ায় আল্লাহ তাআলা তাকে অপমানিত করেন। আর যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে বিনম্র হয়ে বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তাকে মর্যাদাবান করেন। নিশ্চয় ফেরেশতার একটি দল রয়েছে এবং শয়তানের একটি দল রয়েছে। ফেরেশতার দলের কাজ হলো কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সত্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তোমরা যখন এগুলো দেখতে পারে, আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করবে। আর শয়তানের দলের কাজ হলো অসৎ ও অন্যায় কাজ করা এবং সত্যকে অস্বীকার করা। তোমরা যখন এগুলো দেখতে পাবে, আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাইবে।"
বিপদে ফেলার জন্য শয়তান ঘুরতে থাকে
[৩১৫] আমর বিন মাইমুর-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “নিশ্চয় শয়তান জিকিরে মগ্ন মজলিসের লোকদের চারপাশে ঘুরতে থাকে তাদের বিপদে ফেলার জন্য; কিন্তু সে তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না। শয়তান দুনিয়াবি আলোচনায় লিপ্ত লোকদের বৈঠকে আসে এবং তাদের উস্কানি দেয়, ফলে তারা পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়। যিকিরকারীরা যখন উঠে দাঁড়ান, তাঁদের মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা (নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে) আলাদা হন।"
কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা ইলম চর্চাকারীর জন্য অপরিহার্য
[৩১৬] আবু ইসহাক-রাহিমাহুল্লাহ-মুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে চায় সে যেনো কুরআনকে অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ অধ্যয়ন করে। কারণ কুরআনে পূর্ববর্তীদের ও পরবর্তীদের জ্ঞান রয়েছে।"
সুস্থতা ও স্বস্তি আল্লাহর বড় নেয়ামত
[৩১৭] আমের আশ-শা'বী-ইমাম শা'বী রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ "এরপর অবশ্যই সেই দিন তোমাদের নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। " আয়াতটির ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, এখানে নাঈম (নেয়ামত)-এর অর্থ হলো "স্বস্তি ও সুস্থতা”।
গাধার বংশধর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
[৩১৮] হুমাইদ বিন হিলাল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "হায়, আমাকে যদি গাধার মলরূপে সৃষ্টি করা হতো এবং গাধার দিকেই আমার বংশধারাকে সম্পৃক্ত করা হতো এবং আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ না বলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওসাহ বলা হতো! হায়, আমি যদি জানতে পারতাম যে আল্লাহ তাআলা আমার একটি গুনাহ হলেও ক্ষমা করে দিয়েছেন!"
বংশধারা না জানার আকাঙ্ক্ষা
[৩১৯] আবু ওয়ায়িল-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি, “হায়, আমি যদি জানতে পারতাম যে আল্লাহ তাআলা আমার গুনাহসমূহের একটি গুনাহ বা পাপসমূহের একটি পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন! হায়, আমি যদি আমার কোনো বংশধারা না জানতাম!"
জাহান্নামের জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবেন
[৩২০] শাকীক বিন সালামা-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, وَحِيْءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ “সেই দিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে।” আয়াতটির ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "সত্তর হাজার লাগামে বেঁধে জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, প্রতিটি লাগাম ধরে রাখবেন সত্তর হাজার ফেরেশতা, তারা জাহান্নামকে টেনে নিয়ে আসবেন।"
দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা চলে গেছে
[৩২১] আবু হুযায়ফাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "দুনিয়ার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা চলে গেছে এবং তার কদর্যতা বাকি রয়েছে। বর্তমান সময়ে মৃত্যুই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার ঢাল।"
ইবাদতের কথা প্রকাশ না করার নির্দেশ
[৩২২] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তোমরা যখন রোযা রাখবে, কেশতেল ব্যবহার করবে।” (যাতে মানুষ বুঝতে না পারে যে তোমরা রোযাদার।)
ঈমানের হাকিকত প্রসঙ্গে
[৩২৩] আওন বিন আবদুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কোনো মুসলমান ঈমানের হাকীকত উপলব্ধি করতে পারবে না যতোক্ষণ না সে ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে। সে ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে না যতোক্ষণ না তার কাছে সচ্ছলতা থেকে দরিদ্রতা প্রিয় হবে, সম্মান থেকে বিনয় প্রিয় হবে এবং তার চোখে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হবে।" আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাগরেদগণ তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, "যতোক্ষণ না তার কাছে হারাম মাল দ্বারা সচ্ছলতা অর্জনের চেয়ে হালাল উপার্জনের ক্ষেত্রে দরিদ্রতা প্রিয় হবে; যতোক্ষণ না আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে সম্মান অর্জনের চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে বিনয় প্রকাশ করা প্রিয় হবে; এবং যতোক্ষণ না সত্যের ক্ষেত্রে তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী তার চোখে সমান হবে।"
মূর্খতা মানুষকে ধোঁকায় ফেলে
[৩২৪] কাসিম বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহভীতির জন্য ইলমই যথেষ্ট এবং ধোঁকায় পতিত হওয়ার জন্য মূর্খতাই যথেষ্ট।”
নামাযে ধীরতা-স্থিরতা
[৩২৫] মানসুর বিন আল-মু'তামার-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাঁকে একটি নিক্ষিপ্ত কাপড়ের মতো মনে হতো। (তিনি এতোটাই ধীরতা-স্থিরতার সঙ্গে নামায আদায় করতেন।)
কুরআনের নির্দেশ কান লাগিয়ে শোনা
[৩২৬] মা'ন বিন আবদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "তুমি যদি নিজেই বর্ণনাকারী হতে পারো (তবে মানুষের কাছে বর্ণনা করতে পারো, তাতে সমস্যা নেই।) যখন يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا বা "হে ঈমানদারগণ" দিয়ে শুরু হওয়া কোন বাণী শুনবে তখন কান লাগিয়ে শুনবে। কারণ, তা কোনো কল্যাণ ও সৎকাজের নির্দেশ দিচ্ছে অথবা অন্যায় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করছে।"
আল্লাহভীতিই ইলম
[৩২৭] আওন বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "অধিক বর্ণনার (রেওয়ায়েতের) নাম ইলম নয়; বরং আল্লাহর ভীতির নামই ইলম।"
ধ্বংস হওয়ার জন্য প্রার্থনা
[৩২৮] আ'দী বিন আ'দী-রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করে না সে ধ্বংস হোক। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাকে ইলম দিতে পারেন। আর যে-ব্যক্তি ইলম অর্জন করে কিন্তু সেই ইলম অনুযায়ী আমল করে না সে সাত বার ধ্বংস হোক।"
[৩২৯] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে এক ব্যক্তি বললেন, "আমি ডান দিকের দলের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না; বরং নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াই আমার পছন্দনীয়।" এই কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বললেন, "কিন্তু এখানে একজন মানুষ আছেন, যার আকাঙ্ক্ষা এই যে, মৃত্যুর পর যদি তাঁকে পুনরুজ্জীবিত না করা হোতো।" (এ-কথা বলে তিনি নিজেকে বোঝাতেন।)
[৩৩০] আবু উবায়দুল্লাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।"
[৩৩১] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "বিদআতমূলক কাজের মধ্যে ইজতিহাদ করার চেয়ে সুন্নাহর ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উত্তম।"
[৩৩২] মালিক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, রবী বিন খুসাইম প্রতি জুমআর দিনে আলকামা—রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে আসতেন। তো তিনি এক জুমআর দিনে তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন, আপনি কি এই ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হবেন না যে আহলে কিতাবদের একজন ব্যক্তি আমার কাছে এলেন?— তারপর তিনি আমাকে বললেন, "আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে মানুষ অসংখ্য দোয়া করে, কিন্তু তাদের অল্পসংখ্যক দোয়াই কবুল করা হয়? তারা কি জানে, কী কারণে এমনটা হয়? শুনুন, তার কারণ এই যে, নিশ্চয় আল্লাহ উত্তম দোয়া ছাড়া কোনো দোয়া কবুল করেন না। তখন আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—ওই মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, "এই ব্যক্তি যা বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ওই সকল লোকের দোয়া কবুল করেন না যারা লোকদের শুনিয়ে দোয়া করে, যারা লোকদের দেখিয়ে দোয়া করে অথবা হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে দোয়া করে। তবে কেউ যদি একনিষ্ঠভাবে অন্তর থেকে দোয়া করে আল্লাহ তাআলা তাঁর দোয়া কবুল করেন।”
নামায থেকে দূরত্ব তৈরি হয়
[৩৩৪] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যে-ব্যক্তিকে তার নামায সৎকাজের আদেশ করে না এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে না, নামাযের প্রতি তার কেবল দূরত্বই তৈরি হয়।”
অলস লোককে অপছন্দ
[৩৩৪] আল-মুসাইয়িব বিন রাফে রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “আমি এমন লোককে খুবই অপছন্দ করি যাকে দেখি অলস বসে আছে, আখেরাতের কাজও করছে না, দুনিয়ার কাজও করছে না।”
জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়াপ্রদর্শনের নির্দেশ
[৩৩৫] আবু উবায়দাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।”
যারা ভ্রান্তিতে ডুবে আছে তাদের পাপ সবচেয়ে বেশি হবে
[৩৩৬] হুসাইন বিন উকবাহ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “কিয়ামতের দিন ওইসব লোকের পাপ সবচেয়ে বেশি হবে যারা ভ্রান্তিমূলক বিষয়াবলিতে ডুবে আছে।” (ওয়াকি’উ শব্দ স্থলে ذُنُوبًا শব্দটি ব্যবহার করেছেন।)
আল্লাহকে স্মরণ না করে ঘুমালে শয়তান কানে পেশাব করে
[৩৩৭] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “যে-ব্যক্তি আল্লাহর যিকির না করে ঘুমায়, শয়তান তার কানের মধ্যে পেশাব করে। আল্লাহ তাআলার কসম! গতকাল রাতে শয়তান তোমাদের সঙ্গীর সঙ্গে এই কাণ্ড করেছে।" (তোমাদের সঙ্গী বলে তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন।)
বোঝা হালকা করার নির্দেশ
[৩৩৮] আবু উবায়দাহ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-অসুস্থ মুজাম্মা বিন হারিসাকে দেখার জন্য তার ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর চারপাশে কিছু আসবাবপত্র দেখতে পেলেন। তাই বললেন, "তুমি নিজের থেকে বোঝা হালকা করে নাও। লোকজন তো উটের পেছনে ছুটতে শুরু করবে।" হারিস বিন আল-আযমা বলেন, মুগীরা বিন শু'বা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বললেন, "আজকের চেয়ে গতকাল ভালো ছিলো। আজ আগামীকালের চেয়ে ভালো। আগামীকাল পরশুদিনের চেয়ে ভালো। এইভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আমাদের এই বছরের তুলনায় আগের বছর অধিক ফলনশীল ছিলো।" এই ঘটনা মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে উল্লেখ করা হলো। তিনি মন্তব্য করলেন, "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কথাগুলো আখেরাতের বিবেচনায় বলেছেন এবং মুগীরা ইবনে শু'বা-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কথাগুলো দুনিয়াবি বিবেচনায় বলেছেন।"
হাপরের আগুন দেখে ভীত হলেন
[৩৩৯] আবু হাইয়ান-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যারা হাপরে ফুঁ দিচ্ছিল। তখন তিনি পড়ে গেলেন।"
কথা ও কাজের মিল না থাকলে নিজেকে তিরস্কার করা ছাড়া উপায় নেই
[৩৪০] মা'ন বিন আবদুর রহমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "সব মানুষই ভালো ভালো কথা বলে। যার কথা তার কাজের অনুরূপ হয় সে তো তার প্রতিদান লাভ করে। আর যার কথা তার কাজের বিপরীত হয় সে কেবল নিজেকেই তিরস্কৃত করে।"
তিনি দোয়ায় এসব শব্দ বলতেন
[৩৪১] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাঁর দোয়ায় এই শব্দগুলো বলতেন: خَائِفًا (ভীত হয়ে), مُسْتَجِيرًا (আশ্রয় প্রার্থনাকারী হয়ে), بَائِسًا (দুনিয়ার প্রতি নিরাশ হয়ে), مُسْتَغْفِرًا (ক্ষমা প্রার্থনাকারী হয়ে), رَاغِبًا (আগ্রহী হয়ে), رَاهِبًا (দুনিয়াবিমুখ হয়ে)।
জ্ঞানহীনরাই পার্থিব সম্পদ জমা করে
[৩৪২] কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “দুনিয়া ওই ব্যক্তির বাড়ি যার কোনো বাড়ি নেই, ওই ব্যক্তির সম্পদ যার কোনো সম্পদ নেই। এই দুটি জিনিস ওই ব্যক্তিই জমা করে যার কোনো জ্ঞান নেই।”
অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়ার আকাঙ্শা
[৩৪৪৩] কাতাদা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “আমি যদি জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে থাকি এবং আমাকে যদি আমার সমস্ত আমল কবুল করা এবং আমার অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো একটি গ্রহণ করার এখতিয়ার দেওয়া হয় তবে আমি আমার অনস্তিত্বশীল হয়ে যাওয়াটাই গ্রহণ করবো।"
আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন
[৩৪৪] আবু ওয়ায়িল-রাহيمাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তার চিত্তে হেদায়েতের প্রেরণা বদ্ধমূল করে দেন।"
কতিপয় উপদেশ
[৩৪৫] আল-কাসিম-রাহিমাহুল্লাহ-ও অন্যান্য থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, তোমরা ইলমের কথা বলো, তার দ্বারা তোমরা পরিচিত হবে; তোমরা ইলম অনুযায়ী আমল করো তাহলে 'আহলে ইলম'গণের অন্তর্ভুক্ত হবে। তোমরা অস্থিরচিত্ত হোয়ো না, লৌকিকতা প্রদর্শনকারী হোয়ো না এবং অপচয়কারী হোয়ো না।"
নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীই প্রকৃত যুদ্ধগ্রস্ত
[৩৪৬] সাইয়ার—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আমি শা'বীকে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—তাঁর খুতবায় বলেছেন, "মূলত সে-ই যুদ্ধগ্রস্ত ব্যক্তি যে তার ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।"
জানাযার সময় হাসার কারণে কথা বন্ধ করে দিলেন
[৩৪৭] আবদুর রহমান বিন হুমাইদ—রাহিমাহুল্লাহ্‌—থেকে বর্ণিত, তিনি বনি আবসের একজন শায়খ থেকে শুনেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—এক লোককে জানাযার সময় হাসতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, "তুমি কি জানাযার সময় হাসছো? আমি তোমার সঙ্গে কখনো কথা বলবো না।"
মজলিসগুলোকে জ্ঞান ও তাকওয়ায় সমৃদ্ধ বানানোর উপদেশ
[৩৪৪৮] আবদুর রহমান বিন হুজায়রাহ্‌—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আমি শা'বী-কে বলতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—যখন (উপদেশদানের) উদ্দেশ্যে বসতেন, বলতেন, "দিবস ও রজনীর গমনাগমনের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সংক্ষিপ্ত সময় এবং সংরক্ষণযোগ্য আমল। আর মৃত্যু আসবে অকস্মাৎ। সুতরাং যে-ব্যক্তি কল্যাণের বীজ বপন করবে সে আগ্রহের সঙ্গে তার ফসল আয় করবে এবং যে-ব্যক্তি অন্যায়ের বীজ বপন করবে সে অনুশোচনার সঙ্গে তার ফসল তুলবে। প্রত্যেক বীজ বপনকারীর জন্য তা-ই থাকবে যা সে বপন করেছে। ধীরগামীরা কখনো তাদের অংশ নিয়ে আগে যেতে পারবে না। লোভীদের ভাগ্যে যা লেখা হয় তা তারা কিছুতেই অর্জন করতে পারবে না। সুতরাং যাকে কল্যাণ দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলাই তা দিয়েছেন। আর যে-ব্যক্তি অন্যায় থেকে বিরত থাকে, তাকে আল্লাহ তাআলাই বিরত রেখেছেন। মুত্তাকীগণ হলেন নেতা, ফকীহগণ হলেন পরিচালক এবং তাঁদের মজলিসগুলো জ্ঞান ও তাকওয়ায় সমৃদ্ধ।"
আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মার্জনা করে দেবেন
[৩৪৯] আবু ওয়ায়িল—রাহিমাহুল্লাহ্‌—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে ডাকবেন এবং তাঁর দুই হাত দ্বারা অন্তরাল সৃষ্টি করবেন। তারপর (বান্দার পাপগুলো দেখিয়ে) তাকে জিজ্ঞেস করবেন, 'এগুলো তোমার পাপ বলে কি স্বীকার করো?' বান্দা বলবে, 'হ্যাঁ, স্বীকার করি, হে আমার প্রতিপালক।' তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'আমি তোমার এ-সকল পাপ মার্জনা করে দিলাম।"
মানুষের অন্তর হলো সংরক্ষণপাত্র
[৩৫০] আবদুর রহমান বিন আসওয়াদ-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, তোমাদের এই অন্তরগুলো হলো সংরক্ষণপাত্র। সুতরাং সেগুলো কুরআন দ্বারা পূর্ণ করো; অন্য কিছু দ্বারা নয়।"
কুরআনের ধারক-বাহকের যা উচিত
[৩৫১] মুসাইয়িব বিন ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাতকে সজীব রাখা, যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে; দিবসে রোযা রাখা যখন মানুষ পানাহার করে; দুঃখ-ভারাক্রান্ত থাকা যখন মানুষ আনন্দ-ফুর্তি করে; ক্রন্দন করা যখন মানুষ হাসি-তামাশা করে; চুপ থাকা যখন মানুষ অনর্থক ও ভুল কথা বলে; আল্লাহ তাআলার প্রতি বিনম্র হওয়া, যখন মানুষ দম্ভ করে। কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত ক্রন্দনকারী হওয়া, দুঃখ-ভারাক্রান্ত হওয়া, সহিষ্ণু হওয়া এবং প্রশান্ত হওয়া। কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত নয় কঠিনহৃদয় হওয়া, উদাসীন (গাফেল) হওয়া, শোরগোলকারী হওয়া, অট্টহাস্যকারী হওয়া এবং কর্কশ হওয়া।"
আনন্দে মৃত্যুবরণ করবে
[৩৫২] আমর বিন মাইমুন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যদি জাহান্নামের অধিবাসীদের এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, একদিনের জন্য তাদের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, তবে তারা আনন্দে মৃত্যুবরণ করবে।"
জিহ্বাকে সব সময় কারাবন্দি করে রাখা উচিত
[৩৫৩] আমর বিন মাইমুন-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "ওই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, জমিনের বুকে জিহ্বা ছাড়া এমন কোনো বস্তু নেই যা দীর্ঘ সময় কারাবন্দি করে রাখার উপযোগী।"
কথাই বিপদ ডেকে আনে
[৩৫৪] ইবরাহিম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষের কথার কারণেই তার ওপর বিপদ নেমে আসে।”
কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের নির্দেশ
[৩৫৫] আবু আবদুর রহমান—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “তোমরা (কুরআন ও সুন্নাহর) অনুসরণ করো; নিজেরা নতুন কিছু উদ্ভাবন কোরো না। এটাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। প্রতিটি বিদআত (ধর্মের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়) পথভ্রষ্টতা।”
পূর্বসূরিদের পন্থা অবলম্বনের নির্দেশ
[৩৫৬] আম্মার বিন উমায়ের—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “তোমাদের জন্য প্রথম পন্থা (পূর্বসূরিদের পন্থা) অবলম্বন করা আবশ্যক।”
মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট
[৩৫৭] আবুল আহওয়াস—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “মানুষ যা শোনে তা-ই যদি বলে বেড়ায়, তবে এটা তার মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।”
কেউ আলেম হয়ে জন্মগ্রহণ করে না
[৩৫৮] আবুল আহওয়াস—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—বলেছেন, “কোনো মানুষ আলেম হয়ে জন্মগ্রহণ করে না; বরং শিক্ষার দ্বারা ইলম ও জ্ঞান অর্জন করে।”
লৌহদণ্ড দেখে কেঁদে ফেললেন
[৩৫৯] মুগীরা বিন সা'দ বিন আখরাম—রাহিমাহুল্লাহ—বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু—কয়েক জন কর্মকারের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন একটি উত্তপ্ত লৌহখণ্ড দেখতে পেলেন এবং কেঁদে ফেললেন।”
প্রতিটি আনন্দের সঙ্গে রয়েছে বেদনা
[৩৬০] আবুল আহওয়াস-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "প্রতিটি আনন্দের ঘটনার সঙ্গে বেদনার ঘটনা রয়েছে। কোনো ঘর যদি আনন্দ দ্বারা পরিপূর্ণ হয় তবে তা (একসময়) চোখের পানি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়।"
আল্লাহর শিষ্টাচার হলো কুরআন
[৩৬১] মা'ন বিন আবদুর রহমান-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "প্রত্যেক শিষ্টাচারপূর্ণ ব্যক্তিই চায় তার শিষ্টাচার পালিত হোক। আর আল্লাহ তাআলার শিষ্টাচার হলো আল-কুরআন।"
আযাবের ভয় ও রহমতের আকাঙ্ক্ষা
[৩৬২] যাহর বিন রবীআ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ- রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "যে-সত্তার হাতে আবদুল্লাহর প্রাণ তার কসম! দুনিয়ার কোনো মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার আযাব সম্পর্কে জানে যে তা কতটা কঠিন, তাহলে যে-মানুষ তা জেনেছে তার চোখ ততোক্ষণ পর্যন্ত জাগ্রত থাকবে যতোক্ষণ না সে জানতে পারবে যে আল্লাহর আযাব তাকে গ্রাস করবে না-কি সে ওই আযাব থেকে মুক্তি পাবে। আর দুনিয়ার কোনো মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার রহমত সম্পর্কে জানে যে তা কতটা বিস্তৃত, তাহলে সে সুসংবাদ গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করবে।"
মুমিন বান্দার অন্তর সবচেয়ে পরিশুদ্ধ
[৩৬৩] সাঈদ বিন মাসরুক বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর যুগে শহুরে ব্যবসায়ীরা কুফায় এলো। তারা (অন্যদের তুলনায়) নিজেদের ভালো স্বাস্থ্য ও গায়ের রং দেখে বিস্মিত হতে লাগলো। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-তাদের বললেন, "কেন তোমরা বিস্মিত হচ্ছো? তোমরা মুমিন বান্দাকে দেখবে, তার অন্তর সবচেয়ে পরিশুদ্ধ, যদিও তার দেহ রুগ্‌ণ। আর পাপাচারী ও মুনাফিকদের দেখবে, তাদের দেহ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান, কিন্তু তাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলার কসম! যদি তোমাদের দেহ স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে এবং তোমাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে গুবরে পোকা থেকে নিকৃষ্ট বলে বিবেচিত হবে।"
ঋণ পরিশোধ না-করা জুলুম
[৩৬৪] আবু উসমান আল-ইজলি-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "নিকৃষ্ট লোক মানুষ হলেও সে নিকৃষ্ট লোকই।” তিনি আরও বলতেন, "(সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা জুলুম হওয়ার জন্য যথেষ্ট।"
পৃথিবীর সব মানুষ অতিথি
[৩৬৫] দাহহাক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, "পৃথিবীতে যতো মানুষ জন্ম নেয় তারা প্রত্যেকে এক জন অতিথি। তার যতো সম্পদ রয়েছে তা হলো ধারের বস্তু। অতিথিকে চলে যেতে হয় এবং ধারের বস্তুগুলো ফেরত দিতে হয়।"
বান্দার সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথন
[৩৬৬] আবদুল্লাহ বিন উকাইম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে মসজিদে বসে বলতে শুনেছি, আমাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার আগে তিনি আল্লাহর নামে শপথ করেছেন, তিন বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রত্যেককে নিভৃতে ডেকে নেবেন, যেভাবে তোমরা পূর্ণিমার রাতে চাঁদের সঙ্গে নিভৃতচারী হও। তারপর জিজ্ঞেস করবেন, হে আদম-সন্তান, কোন জিনিস তোমাকে ধোঁকায় ফেলেছে? হে আদম-সন্তান, তুমি নবীগণকে কী জবাব দিয়েছো? হে আদম-সন্তান, তুমি যে-ইলম অর্জন করেছো সেই ইলম অনুযায়ী কী আমল করেছো?"
ইসলামের ওপর অটল ব্যক্তিকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না
[৩৬৭] আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ইসলামের ওপর সকাল যাপন করে এবং ইসলামের ওপর সন্ধ্যা যাপন করে, তবে দুনিয়ার যা-কিছু তাকে আক্রান্ত করেছে তা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।"

টিকাঃ
৪৮. মূল কিতাবে ইবনে মাসউদ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আলোচনার জন্য আলাদা কোনো অধ্যায় রচনা করা হয়নি; বরং আবু হুরাইরাহ—রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর অধ্যায়ে বর্ণনাগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে আমরা এখানে আলাদা অধ্যায় আকারে উপস্থাপন করলাম। (সম্পাদক)
৪৯. تثوير القرآن : البحث عن معانيه وعن علمه
৫০. সূরা তাকাসুর (১০২) : আয়াত ৮
৫১. হতে পারে আগুন দেখে তার জাহান্নামের কথা স্মরণ হয়েছে। (সম্পাদক)
৫৩. দহাকীন শব্দটি বহুবচন; একবচন হলো دهقان دهقان এটি ফারসি ভাষা থেকে গৃহীত আরবি শব্দ। শব্দটি শহুরে ব্যবসায়ী বা সম্পদশালীকে বোঝায়।

📘 সাহাবিদের চোখে দুনিয়া > 📄 আয়েশা সিদ্দীকা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া

📄 আয়েশা সিদ্দীকা—রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর চোখে দুনিয়া


পরিতৃপ্তিসহ খাবার খাননি
[৩৬৮] মাসরুক-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা- বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আমি পরিতৃপ্তির সঙ্গে খাবার খাইনি। যদি আমি কাঁদতে চাইতাম তবে কাঁদতে পারতাম। (আমার দুঃখ-বেদনা প্রকাশ করতে পারতাম।) মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তৃপ্তিসহকারে খেতে পায়নি।"
আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা
[৩৬৯] আবুদ দুহা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, যিনি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলতে শুনেছেন তিনি বর্ণনা করেছেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা- “فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ তারপর আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।” আয়াতটি পাঠ করতেন এবং বলতেন, "হে আমার প্রতিপালক, আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।"
আল্লাহ তাআলাই বান্দার জন্য যথেষ্ট
[৩৭০] আবুল মুরাইকাহ-রাহিমাহুল্লাহ-আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, “যে-ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে গিয়ে মানুষের বিরাগভাজন হয়, মানুষের বিপক্ষে আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট। আর যে-ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার বিরাগভাজন হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের মুখাপেক্ষী করে দেন।"
এমনভাবে কাঁদতেন যে তাঁর ওড়না ভিজে যেতো
[৩৭১] আবুদ দুহা-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, যিনি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলতে শুনেছেন তিনি বর্ণনা করেছেন, "আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
"আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না। তোমরা সালাত আদায় করবে এবং যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে।" আয়াতটি পাঠ করতেন এবং খুব কাঁদতেন, এমনকি তার ওড়না ভিজে যেতো।"
বিস্মৃত হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭২] হিশাম-রাহিমাহুল্লাহ-তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, "হায়, আমি যদি চিরতরে বিস্মৃত হয়ে যেতাম!"
বৃক্ষ হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭৩] উসামা বিন যায়দ-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি যায়িদার আযাদকৃত গোলাম ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, "হায়, আমি যদি বৃক্ষ হতাম এবং মানুষ তা কেটে ফেলতো! হায়, আমাকে যদি সৃষ্টি করা না হতো!"
বিনয় অবলম্বন শ্রেষ্ঠ ইবাদত
[৩৭৪] আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, আয়েশা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, তোমরা যেসব ইবাদত করো তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো বিনয় অবলম্বন করা।
পাপ থেকে বেঁচে থাকা শ্রেষ্ঠ আমল
[৩৭৫] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-বলেছেন, “তোমরা পাপকাজ কম করো, কারন তোমরা কিছুতেই পাপের স্বল্পতার চেয়ে উত্তম অন্য কিছু নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হতে পারবে না।
বিপুল বিত্ত থাকা সত্ত্বেও ওড়নায় তালি লাগিয়েছেন
[৩৭৬] উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আমি আয়েশা সিদ্দীকা-রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে দেখেছি, তিনি সত্তর হাজার দিরহাম মানুষের মাঝে বণ্টন (দান) করে দিয়েছেন, অথচ তিনি নিজে তাঁর ওড়নাতে তালি লাগিয়েছেন।”
প্রশংসাকারীরা নিন্দাকারীতে পরিণত হয়
[৩৭৭] আমের বিন রাবীআ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা- রাদিয়াল্লাহু আনহা-মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান-রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে এই কথা লিখে চিঠি পাঠালেন, “পরসমাচার এই যে, বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার নাফরমানিমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের মধ্যে যারা তার প্রশংসাকারী ছিলো তারা তার নিন্দাকারীতে পরিণত হয়।”
গাছের পাতা হওয়ার আকাঙ্শা
[৩৭৮] ইবরাহিম-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা-একটি গাছের পাশ দিয়ে গেলেন। তখন বললেন, “হায় আফসোস, আমি যদি এই গাছের একটি পাতা হতাম!”
তাঁর ভ্রমণ ছিলো পরিমিত
[৩৭৯] আবদ বিন সাঈদ-রাহিমাহুল্লাহ-বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে তাঁর ভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, “তা ছিলো পরিমিত।"

টিকাঃ
৫৪. সূরা তুর (৫২): আয়াত ২৭।
৫৫. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবের পূর্বের যুগ। অন্য মতে নূহ-আলাইহিস সালাম-এর কাল। অন্য এক মতে ইবরাহীম-আলাইহিস সালাম-এর যুগ থেকে ঈসা-আলাইহিস সালাম-এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত। বর্ণনায় আছে, সেই যুগে নারীরা বাইরে সৌন্দর্য প্রকাশ করে বেড়াতো। বায়হাকী।
৫৬. সূরা আহযাব (৩৩) : আয়াত ৩৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00