📘 সাহাবীদের আলোকিত জীবন > 📄 ওরাকা ইবনে মালিক (রাঃ)

📄 ওরাকা ইবনে মালিক (রাঃ)


‘শুরাকা! সেই দিনটি তোমার জন্য কতই না আনন্দদায়ক হবে, যেদিন পারস্য সম্রাটের মহামূল্যবান বালা দুটি তোমাকে পরিয়ে দেওয়া হবে।’
-মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চলাফেরা গতিবিধি ও প্রত্যেক কর্মকাণ্ডের ওপর মক্কাবাসীর সজাগ দৃষ্টি। তাঁর জীবননাশই তাদের মূল লক্ষ্য। এমন এক পরিস্থিতিতে রাতের আঁধারে অজানা অভিমুখে তাঁর হিজরতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল মক্কার অলি-গলিতে। মক্কাবাসী এ খবর পাওয়ার সাথে সাথে দিশেহারা হয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম ফেলে তাঁর সন্ধানে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে দিল। কিন্তু কুরাইশ নেতৃবর্গ এ সংবাদ মোটেও বিশ্বাস করতে পারছিল না। তারা বনু হাশিম গোত্রের প্রতিটি ঘরে ঘরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খোঁজাখুঁজি শুরু করল। বনূ হাশিম গোত্রে তাঁকে না পেয়ে তারা সাহাবীদের ঘরে ঘরেও তল্লাশি চালাল। পরিশেষে তারা আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বাড়িতে এসে উপস্থিত। তাদের উদ্দেশ্যে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কন্যা আসমা ঘর থেকে বেরিয়ে এলে আবূ জাহেল তাঁকে জিজ্ঞাসা করল :

'হে মেয়ে! তোমার আব্বা কোথায়?'

আসমা উত্তর দিলেন :
'তিনি এ মুহূর্তে কোথায় আছেন, ঠিক বলতে পারছি না।'

তাঁর এই উত্তর শোনামাত্রই আবু জাহেল তাঁর গালে সজোরে চপেটাঘাত লাগায়। যার দরুন তিনি দূরে ছিটকে পড়েন। তাঁর দু'দুটি দাঁতও ভেঙে যায়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ পথ অনুসরণ করেছেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তারা মক্কার পদচিহ্ন বিশেষজ্ঞদের ডেকে এনে তাদের সঙ্গে নিয়ে খুঁজতে বের হলো। সওর গুহায় পৌঁছে পদচিহ্ন বিশেষজ্ঞরা কুরাইশ নেতৃবর্গকে বলল :

'আল্লাহর শপথ! মুহাম্মদ এ গুহা অতিক্রম করেনি।'

বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে নির্ভুল তথ্যই দিয়েছিল। কেননা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথী আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মূলত এ গুহাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। কুরাইশরা তখন তাদের মাথার উপরেই দাঁড়িয়েছিল। আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু গুহার ভিতর থেকে তাদের গতিবিধি প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং তিনি তাদের পা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি শংকিত হয়ে পড়েন ও তাঁর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে এ অবস্থায় দেখে আল্লাহর রাসূল তাঁর দিকে অভয় ও স্নেহের দৃষ্টিতে তাকান। তখন আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলে উঠেন:

'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি নিজের জন্য ভীত ও শঙ্কিত নই। তারা আপনার সাথে না জানি কী আচরণ করে, সেটা চিন্তা করেই আমি কাঁদছি।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অত্যন্ত ধীরস্থির ও প্রত্যয়ের সাথে বলেন:
'হে আবূ বকর! কোনো চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গেই আছেন।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভয়বাণী শুনে আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর অন্তর থেকে ভয়ভীতি সেই মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় এবং আল্লাহর কথা স্মরণ করে ঈমানী দৃঢ়তাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এরপর তিনি নিশ্চিন্ত মনে কুরাইশদের গতিবিধি ও পায়ের দিকে লক্ষ্য করতে থাকেন এবং সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবগত করাতে থাকেন। তিনি বলেন:

'ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাদের কেউ যদি একটু নিচু হয়ে গুহার দিকে লক্ষ্য করে, তাহলেই কিন্তু আমাদের দেখে ফেলবে।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে তাঁকে বললেন: 'হে আবূ বকর! তুমি জানো না? আমাদের দু'জনের সাথে তৃতীয় যিনি আছেন, তিনি আল্লাহ।'

ঠিক এই মুহূর্তে এক যুবক কুরাইশ নেতাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলে: 'আসুন, আমরা এ গুহায় ঢুকেই দেখি, তারা এখানেও তো লুকিয়ে থাকতে পারে।'

তাকে তিরস্কার করে কুরাইশ সরদার উমাইয়া ইবনে খালফ বলে: নির্বোধ আর কাকে বলে? গুহার মুখে এই মাকড়সাকে দেখছ না, সে কত বিরাট জাল বিস্তার করে বসে আছে? আল্লাহর শপথ! এটা তো মুহাম্মদের জন্মেরও পূর্বের মাকড়সা।'

কিন্তু আবু জাহেলই একমাত্র ব্যক্তি, যে নিশ্চিত হয়ে বলে উঠল: 'লাত ও উযযা দেবতার শপথ! আমার ধারণা যে, তারা আমাদের অতি নিকটতম কোনো স্থানেই লুকিয়ে আছে। আমরা যে তাদের সন্ধান করছি, তা তারা দেখছে এবং আমাদের কথাও শুনছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের চোখে জাদু করেছে।'

সওর গুহা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বন্দী করতে না পারলেও তারা হাল ছাড়ল না। ব্যর্থতার পরও আশাহত হলো না। তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহকে খুঁজে পাবে। তাই তারা মক্কা থেকে মদীনাগামী দীর্ঘ পথের দু'পাশের গোত্রগুলোর মাঝে ঘোষণা দিয়ে দিল:

'যে মুহাম্মদকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় কুরাইশদের হাতে সোপর্দ করতে পারবে, তাকে আরবের সর্বোৎকৃষ্ট একশ'টি উট উপহার দেওয়া হবে।'

মক্কার অদূরে 'কুদাইদ' নামক স্থানে শুরাকা ইবনে মালিক আল মাদলাজী তার গোত্রের কোনো এক মজলিসে বসেছিল। ঠিক এমন সময়ে কুরাইশ ঘোষকরা তাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দিতে এল। তারা জানিয়ে দিল যে, মুহাম্মদকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় তাদের হাতে সোপর্দকারীকে আরবের সর্বোৎকৃষ্ট একশ' উট পুরস্কার দেবে।

শুরাকা ইবনে মালিক একশটি উটের এ বিরাট পুরস্কারের কথা শোনামাত্রই এ পুরস্কারের প্রতি তার মোহ জন্মে গেল। যে কোনো মূল্যে এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য তার মনে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হলো। কিন্তু সে তার এই আগ্রহকে আপাতত চেপে রাখল। সে তাতে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে সবাইকে অন্যমনস্ক করে ফেলল। যেন এ পুরস্কারের প্রতি তাদের কারো আগ্রহ না জন্মে। সে তার উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে মজলিস থেকে বেরিয়ে আসার পূর্বেই তার গোত্রের এক ব্যক্তি সেখানে এসে বলল:

'আল্লাহর শপথ! কিছুক্ষণ আগেই আমার চোখের সামনে দিয়ে তিন ব্যক্তি মদীনার দিকে চলে গেছে। আমার ধারণা, তাদের তিন জনের একজন মুহাম্মদ, অপরজন আবূ বকর ও তৃতীয় জন তাদের পথ-প্রদর্শক।'

শুরাকা ইবনে মালিক তৎক্ষণাৎ তাকে উত্তর দিল: 'আরে তারা তো অমুক গোত্রের লোক, যারা তাদের হারানো উট খোঁজার জন্য সেদিকে যাচ্ছিল।'

সে ব্যক্তি শুরাকার এ কথা শুনে বলল: হতেও পারে, তারা সে গোত্রেরই লোকজন। তাদের হারানো উটের সন্ধান করছে। এই বলে সে খামোশ হয়ে গেল।

যাতে তার বন্ধু-বান্ধবদের মনে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি না হয়, সেজন্য কিছুক্ষণ সেখানেই তাদের সাথে আলাপচারিতার পর যখন তারা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল, তখন শুরাকা খুবই সন্তর্পণে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ল। শুরাকা অতি দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে চাকরানীকে তার ঘোড়াটি বের করে লোকচক্ষুর আড়ালে মাঠের মাঝখানে বেঁধে রেখে আসতে বলে। অপর এক খাদেমকে কয়েক দিনের খাবার এবং তার বর্শাটিকে এমনভাবে বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে ঘোড়ার নিকট রেখে আসতে বলে, যেন কেউ না দেখে ফেলে। শুরাকা ইবনে মালিক তার লৌহবর্ম পরিধান করে পূর্ণ প্রস্তুতি সহকারে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ঘোড়ার দিকে রওয়ানা হলো। আর কেউ যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেয়ে একশ' উটের সেই বিরাট পুরস্কার ছিনিয়ে না নেয়, সে জন্য মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে খুবই দ্রুত রওনা হয়ে গেল।

নিঃসন্দেহে শুরাকা ইবনে মালিক ছিল দৃঢ়সংকল্পের অধিকারী ছিল। সে ছিল তার গোত্রের গুটিকয়েক দক্ষ ঘোড়সওয়ারের অন্যতম। বিরাট মাথা ও সুঠামদেহী দুর্দান্ত সাহসী পুরুষ ছিল সে। পদচিহ্ন বিশেষজ্ঞ, পথঘাটের প্রতিকূল পরিবেশে সীমাহীন ধৈর্যশীল হিসেবে পরিচিত সে আরবের একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিও বটে।

এসব গুণ ছাড়াও অত্যন্ত দূরদর্শী, বিচক্ষণ ও একজন বড় কবি। তার ঘোড়াটিও ছিল আরবের স্বীকৃত উচ্চ বংশজাত ঘোড়া। ঘোড়ায় চড়ে চাবুক মারামাত্রই ঘোড়াটি বিদ্যুৎবেগে চলল মদীনার পথে। এক পর্যায়ে তার ঘোড়াটি হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে সেও দূরে ছিটকে পড়ল। এটি তার নিজের জন্য খারাপ লক্ষণ ভেবে সে বলে উঠল:

'এটা কিসের লক্ষণ?'

সে মনে করল, 'ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে পড়া নিঃসন্দেহে একটা খারাপ লক্ষণ।' এ কথা ভাবতে ভাবতে আবার ঘোড়ায় চড়ে মদীনার পথে ছুটতে থাকল। দ্বিতীয় বারের মতোও ঘোড়াটি ফের হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল এবং সেও ছিটকে পড়ল। এবার তার সন্দেহ গাঢ় হলো। আলামত খারাপ মনে করে ফিরে আসতে মনস্থ করল। কিন্তু একশ' সর্বোৎকৃষ্ট উট পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা তাকে মাঝপথে পরিত্যাগ করতে হবে, তাতে তার মন সায় দিল না। এবারও সে ঘোড়ায় উঠে সামনের দিকে ছুট লাগাল। দ্বিতীয় বারের মতো হোঁচট খাওয়ার স্থান থেকে সামান্য কিছুদূর যেতে না যেতেই সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীদের পেয়ে গেল। তৎক্ষণাৎ সে ধনুকের দিকে হাত বাড়াতেই অনুভব করল যে, তার হাত অবশ হয়ে পড়ছে, ঘোড়ার চারটি পা-ই বালুতে দেবে যাচ্ছে এবং তার সামনের রাস্তা কালো ধোঁয়া আর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।

এতদসত্ত্বেও সে বারবার ঘোড়াকে সজোরে চাবুকাঘাত করে সামনের দিকে এগুলোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাল; কিন্তু সে ঘোড়াকে এগিয়ে নিত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। মনে হচ্ছিল জমিনের সাথে ঘোড়ার পাগুলোকে মযবুতভাবে পেরেক মেরে দেওয়া হয়েছে। তার পরিণতি বুঝতে বিলম্ব হলো না। সে এক মহাবিপদ আঁচ করল। নিরুপায় হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর উদ্দেশ্যে আর্তনাদ করে বলতে থাকল:

'আপনারা দু'জন আমার জন্য আপনাদের রবের নিকট দু'আ করুন, যেন আমার ঘোড়ার পা মুক্ত হয়ে যায় এবং ঘোড়া চলতে সক্ষম হয়। এর প্রতিদানস্বরূপ আমি আপনাদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকব।'

তার এই করুণ আর্তনাদের পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু'আ করলেন। সাথে সাথে আল্লাহ তার ঘোড়ার পা মুক্ত করে দিলেন এবং ঘোড়া চলতে আরম্ভ করল। এ বিপদ থেকে মুক্ত হতে না হতেই শুরাকা ইবনে মালিকের মনে একশ' উটের বিরাট পুরস্কারের লোভ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় সে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। সে তার ঘোড়া হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলো। এবারও তার ঘোড়ার পা পূর্বের চেয়ে আরো অধিক মাত্রায় মাটির সাথে আটকে গেল এবং তার শরীর আরও দ্রুত নিস্তেজ হতে থাকল। পূর্বের ন্যায় এবারও শুরাকা ইবনে মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কাছে দু'আ করার জন্য মিনতি করতে লাগল। তাদেরকে সে আরয করল যে, আপনারা আমার নিকট থেকে সফরের সমস্ত খাবার ও পানীয়, সাজ-সরঞ্জাম এবং অস্ত্র ও বর্শা ইত্যাদি যা আছে সব কিছু নিয়ে নিন। তার বিনিময়ে আমাকে ও আমার ঘোড়াকে পাথর হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহর শপথ! আমি এর বিনিময়ে আপনাদের ধরার উদ্দেশ্যে পিছনে যারা আসছে, তাদের প্রতিহত করব এবং তাদের ফেরত পাঠাব।'

শুরাকা ইবনে মালিককে তাঁরা বললেন: 'তোমার কাছে থাকা অস্ত্র ও পানাহারের কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই, শুধুমাত্র আমাদের অনুসরণকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তেই তোমার জন্য দু'আ করতে পারি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তার জন্য দু'আ করলেন। এবারও তার ঘোড়ার পা মুক্ত হলো ও চলতে আরম্ভ করল।'

শুরাকা এবার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ফিরতে মনস্থ করতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে সম্বোধন করে বলল:

'আপনারা একটু দাঁড়ান, আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলছি, আল্লাহর শপথ! আমার পক্ষ থেকে আপনাদের কোনোই ক্ষতি হবে না। আমি শুধু আপনাদের সাথে একটু কথা বলতে চাই।'

তাঁরা বললেন: 'আমাদের কাছে কী চাচ্ছ?'

সে বলল: 'হে মুহাম্মদ! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আরবে আপনার দীন অবশ্যই বিস্তার লাভ করবে এবং আপনার শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আপনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিন যে, আমি তখন যদি আপনার রাজ্যে আসি, তখন আমাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করবেন কি না? করলে আপনার নিকট থেকে লিখিতভাবে আমি তার প্রতিশ্রুতি চাই।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎক্ষণাৎ শুরাকা ইবনে মালিককে এ প্রতিশ্রুতি লিখিতভাবে দেওয়ার জন্য আবূ বকর সিদ্দীককে নির্দেশ দিলেন। তিনি সাথে সাথে তা পরিত্যক্ত একটি হাড্ডিতে শুরাকাকে লিখে দিলেন।

সে এই লিখিত প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরে আসার মনস্থ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
وَكَيْفَ بِكَ يَا سُرَاقَةُ إِذَا لَبِسْتُ سِوَارَى كِسْرى?

'শুরাকা! সেই দিনটি তোমার জন্য কতই না আনন্দদায়ক হবে, যেদিন তোমাকে পারস্য সম্রাটের মহামূল্যবান বালা দুটি পরিয়ে দেওয়া হবে!

শুরাকা ইবনে মালিক আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল :
'কিস্সা বিন হুরমুযের বালা দুটি?'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন:
'হ্যাঁ, কিস্সা ইবনে হুরমুযের বালা দুটি।'

শুরাকা ইবনে মালিক তার গোত্রের দিকে ফিরে চলল। পথে সে দলে দলে লোকদের মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খোঁজার জন্য আসতে দেখে বলল:

'তোমরা ফিরে যাও। আমি মুহাম্মদ ও তার সাথীকে রাস্তার প্রতি ইঞ্চি জায়গায় তন্নতন্ন করে খুঁজেছি। আর তোমরা আমাকে একজন পদাঙ্কচিহ্ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন। ব্যর্থ চেষ্টায় তোমাদের পা না বাড়িয়ে ফিরে যাওয়াই উত্তম। এভাবে সে পিছু করা লোকদেরকে দলে দলে ফেরত দিতে থাকল। যতদিন না সে নিশ্চিত হলো যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ঠিকঠাক মতো কুরাইশদের নাগালের বাইরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেছেন, ততদিন পর্যন্ত সে তার সাথে সংঘটিত ঘটনাটি গোপন রাখল। সে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরই এ ঘটনা প্রকাশ করলে আবূ জাহল তাকে একজন স্বার্থপর, সুযোগ সন্ধানী ও কাপুরুষ বলে গালমন্দ করে।

শুরাকা ইবনে মালিক তাঁর তিরস্কারের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত কবিতায় আবূ জাহলকে জবাব দেয়:
أَبَا حَكَمٍ، وَاللَّهِ لَوْ كُنْتَ شَاهِدًا لا مَرَجَوَادِي إِذْ تَسُوخُ قَوَائِمُهُ عَلِمْتَ وَلَمْ تَشْكُكَ بِأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولٌ بِبُرْهَانٍ، فَمَنْ ذَا يُقَاوِمُهُ!

'হে আবুল হাকাম! আল্লাহর শপথ! তুমি যদি আমার বেগবান যুদ্ধ-ঘোড়ার পা মাটিতে আটকে যাওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে, তাহলে তুমি নিঃসন্দেহে সাক্ষ্য দিতে যে, মুহাম্মদ সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুজিযাপ্রাপ্ত রাসূল। এমন কে আছে, যে তাঁর সামনে এক মুহূর্তও টিকতে পারে?'

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হলো। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি একদিন নিঃসহায় ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে রাতের আঁধারে মক্কা নগরী ত্যাগ করেছিলেন, তিনিই আজ বিজয়ী হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাঁর পদতলেই আরবের নেতৃত্ব-কর্তৃত্বের অহমিকা আজ অবনত। চোখ ঝলসানো তলোয়ার ও ধনুক এবং ঝকঝকে বর্শায় সুসজ্জিত হাজার হাজার অনুসারী আজ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে নিবেদিত। অপরদিকে আরবের যালিম কুরাইশ নেতৃবর্গ যাদের দাপটে একদিন মুসলমানগণ মক্কায় শান্তির একটি নিঃশ্বাসও নিতে পারেনি, তারাই আজ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে ভীত ও সন্ত্রস্ত মনে দয়া ও করুণা লাভের জন্য নতজানু। জীবন ভিক্ষা চেয়ে তারাই আজ আবেদন-নিবেদনরত। তারাই আজ দয়া, করুণা ও ক্ষমার ভিখারী!

তাদের প্রতি আজ মহানবীর হৃদয় দয়া ও করুণার জোয়ারে উথলে পড়ছে।

তাদেরকে আশ্বস্ত করা হলো:
اذْهَبُوا فَأَنْتُمُ الطَّلَقَاءُ.

'তোমরা আপনজন ও নিজ নিজ ঘর-বাড়িতে নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে ফিরে যাও, তোমরা সবাই আজ মুক্ত ও ক্ষমাপ্রাপ্ত।'

মক্কা বিজয়ের পর শুরাকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হতে মনস্থ করল। ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার এবং দশ বছর পূর্বের তাকে দেওয়া সেই লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সে বের হয়ে পড়ল।

শুরাকা ইবনে মালিক নিজ বর্ণনায় বলেন:
'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী জি'রানা নামক স্থানে আনসারদের ক্ষুদ্র একটি বাহিনী কর্তৃক পরিবেষ্টিত অবস্থায় পেলাম।

তাদের বেষ্টনী ভেদ করে আমি তাঁর দিকে অগ্রসর হতে থাকলাম। তখন তারা তাদের বর্শা দ্বারা আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে বলতে লাগল:
'পিছনে যাও পিছনে যাও, তুমি কী চাও?'

আমি তাদের বাধা অতিক্রম করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর উটনীর পিঠে বসেছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া লেখাটি তাঁর দিকে উঁচু করে ধরে বলতে থাকলাম:

'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শুরাকা ইবনে মালিক। আর এ হলো আমাকে দেওয়া আপনার লিখিত প্রতিশ্রুতি।'

আমাকে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
ادْنُ مِني يَا سُرَاقَةً أَدْنُ ..... هَذَا يَوْمُ وَفَاء وَبَرٍ

'হে শুরাকা আমার কাছে এস।'

আমি তাঁর নিকটে এলে তিনি বললেন: 'আজ তোমাকে প্রতিদান দেওয়ার ও ধন্য করার দিন।'

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর সামনেই ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে অতীব সম্মান ও কল্যাণে ভূষিত হই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে শুরাকা ইবনে মালিকের ইসলাম গ্রহণের কয়েক মাস যেতে না যেতেই আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে নিজ রহমতের ছায়ায় ডেকে পাঠান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালে শুরাকা ইবনে মালিকের মন ভেঙে পড়ে। তিনি খুবই মর্মাহত হন। সেদিনের কৃত অপরাধের কথা মনে পড়লেই অনুতাপ করতেন, যেদিন তিনি মাত্র একশ'টি উটের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন। অথচ আজ সারা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়েও নবীর প্রতি একটু দৃষ্টিলাভই অধিক মূল্যবান। তিনি অতীতের প্রতি তাকিয়ে আফসোস করতেন এবং বার বার সেই মহাবাণীর পুনরাবৃত্তি করতেন:

'সেই দিনটি তোমার জন্য কতই না আনন্দদায়ক হবে, যেদিন তোমাকে পারস্য সম্রাটের মহামূল্যবান বালা দুটি পরিয়ে দেওয়া হবে।'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে এক বিন্দু সন্দেহ ও সংশয় তাঁর মনে ছিল না। তিনি খুবই নিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁকে সহসাই এ সম্মানে ভূষিত করা হবে। মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছিল আর দীন ইসলামের বিজয় দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। এক পর্যায়ে ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্বভার উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ওপর ন্যস্ত হলো। তাঁর গৌরবময় খিলাফতকালেই ইসলামী বাহিনী পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ঝড়ো হাওয়ার ন্যায় আক্রমণ করল। মুসলিম বাহিনী পারস্য সৈন্যদের পরাজিত করে দুর্গের পর দুর্গ দখল করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকল। তাদের হাতে প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর পতন হতে থাকলে গনীমতের বিপুল সম্পদ হস্তগত হয়। এ বিজয়ের এক পর্যায়ে আল্লাহ পুরো পারস্য সাম্রাজ্যের ওপর মুসলমানদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব দান করলেন। খালীফাতুল মুসলিমীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর খিলাফতের শেষের দিকে মদীনায় সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দূত পারস্য বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে উপস্থিত হলেন। এ সুসংবাদের সাথে তিনি বহন করে এনেছেন বায়তুল মালের জন্য এক-পঞ্চমাংশ (১/৫) গনীমতের সম্পদ। উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সামনে বিপুল পরিমাণ গনীমতের মূল্যবান সম্পদ রাখা হলে তিনি অবাক হয়ে তা দেখতে থাকেন। সেসব সম্পদের মধ্যে ছিল পারস্য সম্রাটের মণিমুক্তা খচিত মুকুট এবং স্বর্ণজালিকার কারুকার্য খচিত রাজকীয় পোশাক ও হীরে-জহরত খচিত তাঁর মালা এবং দু'হাতের মহামূল্যবান বালা দু'খানা। ইতঃপূর্বে এত সুন্দর বালা আর কেউ কখনো দেখেনি। উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এসব মহামূল্যবান গনীমতের সম্পদ তাঁর হাতের লাঠি দ্বারা উলট-পালট করে দেখছিলেন ও তাঁর দরবারে উপবিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে লক্ষ্য করে বলছিলেন:

'নিঃসন্দেহে মুসলিম বাহিনী এই মূল্যবান সম্পদকে যথাস্থানে ও সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়ে পূর্ণ আমানতদারীর পরিচয় দিয়েছে।'

আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সে মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি খলীফাকে বললেন:
'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি নিজেই যেহেতু সত্যিকারের আমানতদারী রক্ষা করে চলছেন, সেহেতু আপনার অধীনস্থ ব্যক্তিবর্গও জনসাধারণের অর্থ আত্মসাতের মতো জঘন্য কাজ থেকে আত্মরক্ষা করে চলেছে। আর যদি আপনি নিজে মুসলমানদের সম্পদ আত্মসাৎ করতেন, তাহলে তারাও আত্মসাতের পথ বেছে নিত।'

এই মজলিসেই খালীফাতুল মুসলিমীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু শুরাকা ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে ডেকে পাঠান। তিনি উপস্থিত হলে খালীফাতুল মুসলিমীন তাঁকে পারস্য সম্রাটের রাজকীয় জামা ও তার রাজকীয় চাদর ও পায়ের মোজা পরিধান করিয়ে দেন। তারপর পারস্য সম্রাটের কোমরে বাঁধা বেল্টখানা শুরাকা ইবনে মালিকের কোমরে এঁটে দিয়ে তার তলোয়ারখানাও তাঁর কাঁধে ঝুলিয়ে দেন। এরপর তার মাথায় সম্রাটের মুকুট ও দু'হাতে পৃথিবীর সর্বাধিক মূল্যবান ও কারুকার্যখচিত বালা দু'খানা পরিয়ে দেন।

মজলিসে উপস্থিত সবাই শুরাকা ইবনে মালিককে দেখে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার তাকবীর ধ্বনি দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন। আর উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু শুরাকা ইবনে মালিকের দিকে লক্ষ্য করে গর্বের সাথে বলতে থাকেন:

بُخٍ ......... بُخٍ أَعْرَبِي مِنْ بَنِي مَدْلَجٍ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ كِسْرَى ... وفي يده سواريه.
'বাহ!... বাহ!...

'বনূ মাদলাজ গোত্রের নগণ্য এক আরব সন্তান! আল্লাহর কুদরতে আজ তারই মাথায় পারস্য সম্রাটের তাজ এবং দু'হাতে তারই দু'খানা বালা...!! তারপর খালীফাতুল মুসলিমীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আকাশের দিকে মাথা তুলে আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন:

'হে আল্লাহ! তোমার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম এবং আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আমার চেয়ে তোমার নিকট অধিক প্রিয় ও সর্বাধিক সম্মানিত ছিলেন। তুমি তাদেরকে এই সম্পদ দান করনি। অথচ আমাকে তুমি এই অঢেল সম্পদ দান করে পরীক্ষায় ফেলেছ। আমি এর সঠিক ব্যবহার না করার অপরাধে অপরাধী হওয়া এবং আমানতের খিয়ানত করা থেকে তোমার নিকট পানাহ চাই।' এই বলে এ অঢেল সম্পদ যথাযথভাবে মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করার পরই তিনি মজলিস ত্যাগ করেন।

টিকাঃ
১. উসদুল গাবাহ: ২য় খণ্ড, ২৩২ পৃ.
২. আল ইসাবাহ: ২য় খণ্ড, ১৮ পৃ.
৩. আমারুল কুলুব ফিল মুদাফ ওয়াল মানসুব লিসসা'আলাবী: ৯৩ পৃ.
৪. আত তাবাকাতুল কুবরা লি-ইবনে সা'দ: ১ম খণ্ড, ১৮৮ পৃঃ, ২৩২ পৃ., ৪র্থ খণ্ড: ৩৬৬ পৃঃ, ৫ম খণ্ড, ৯০ পৃ.
৫. আস সীরাতুন নুবুবিয়াহ লিইবনি হিশাম: ২য় খণ্ড, ১৩৩-১৩৫ পৃ. এবং সূচিপত্র দ্রষ্টব্য.
৬. হায়াতুস সাহাবা: ৪র্থ খণ্ডের সূচিপত্র দ্রষ্টব্য.
৭. তাজুল উরুস মিন জাওয়াহিরুল কামুস: ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮৩ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00