📘 সাহাবীদের আলোকিত জীবন > 📄 বাল্য জীবন

📄 বাল্য জীবন


পিতৃহীন শিশু উমাইর ইবনে সা'দ জন্ম থেকেই সীমাহীন অভাব-অনটন ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবনাতিবাহিত করতে থাকেন। তাঁর পিতা তাঁকে অভিভাবক ও কপর্দকহীন রেখে ইনতিকাল করেন। তাঁর অসহায় মা আওস গোত্রের জুলাস ইবনে সুওয়াইদ নামক ধনাঢ্য জনৈক ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জুলাস ইবনে সুওয়াইদ শিশু উমাইর ইবনে সা'দকেও তার মা'র সাথে নিজ পরিবারভুক্ত করে তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জুলাস উমাইরকে এমন পিতৃস্নেহে সযত্নে লালন-পালন করতে থাকে যে, উমাইর তাঁর পিতৃবিয়োগের কথা একেবারেই ভুলে যায়। উমাইর যেমন জুলাসকে নিজ পিতার মতোই ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সম্মান করত, তেমনি জুলাসও উমাইরকে নিজ সন্তানের মতোই আদর ও স্নেহ করত।

উমাইরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার প্রতি জুলাসের স্নেহও বাড়তে থাকে। প্রতিটি কাজে, আচার-আচরণে, চলাফেরায়, শিষ্টাচারে, নীতি-নৈতিকতায়, চারিত্রিক গুণাবলিতে, সততা ও দীনদারীতে উমাইরের সমকক্ষ দ্বিতীয় আর কাউকে জুলাস দেখেনি। তাই উমাইরের প্রতি জুলাস খুবই খুশি। দশ বছর বয়স হওয়ার আগেই উমাইর ইসলাম গ্রহণ করেন। নিষ্পাপ বালক উমাইরের পবিত্র অন্তরে ইসলাম তার সৌরভ ছড়াতে থাকে। শিশুকাল থেকেই উমাইর নিয়মিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে জামাআতে নামায আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। উমাইরকে কখনো একা একা, কখনো বা স্বামীর সাথে মসজিদে নববীতে নামাযের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে দেখে উমাইরের মায়ের বুক আনন্দে ভরে উঠতো। সোহাগ-যত্নে ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে আনন্দঘন পরিবেশে উমাইর খুবই শান্তির সাথে দিনাতিপাত করছিলেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাঁর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অন্তরায় বলতে কিছু ছিল না; কিন্তু এই ঈমানদার কিশোরকে আল্লাহ এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করলেন। এত অল্প বয়সে খুব কমই কেউ এরূপ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।

নবম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোমান সম্রাটের বিরুদ্ধে তাবুক যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন এবং এ যুদ্ধের জন্য আর্থিক সাহায্য ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সর্বস্তরের মুসলমানদের কাছে উদাত্ত আহবান জানালেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো যুদ্ধাভিযানে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন, তখন কার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন বা কোন্ দিকে অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তা কখনো প্রকাশ করতেন না। বরং যেদিকে অভিযান পরিচালনা করতেন, ভাবখানা এমন দেখাতেন, যেন তার বিপরীত দিকে অভিযান পরিচালিত হবে। কিন্তু তাবুকের যুদ্ধে এর বিপরীত ঘটনা ঘটল। এবার তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যুদ্ধ যাত্রার ঘোষণা দিলেন। এর কারণ হয়তো এই ছিল যে, যুদ্ধক্ষেত্রের দূরত্ব ও দুর্গম পথ অতিক্রম করা ও বিশাল শত্রুবাহিনীর মোকাবেলায় মুসলমানরা নিজেদের সার্বিক প্রস্তুতির পূর্ণ সুযোগ যেন গ্রহণ করতে পারে। সময়টিও ছিল এমন যে, গ্রীষ্মের দাবদাহ চলছিল, খেজুর কাটা আরম্ভ হয়েছিল। মরুভূমির প্রচণ্ড গরমে ছায়া-শীতল পরিবেশের প্রতি মানুষ যেন খুবই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। আরাম-আয়েশ ও অলসতা লোকালয়কে অনেকটা আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মুসলমানগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যথাসাধ্য যুদ্ধের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

অপরদিকে মুনাফিক শ্রেণী নানাভাবে মুসলমানদের সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে থাকল এবং সভা ও মাহফিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে নানারূপ কুৎসা রটনা ও অযথা ইঙ্গিত করতে থাকল। এমনকি মুনাফিকরা বিশেষ বিশেষ বৈঠকে এমন সব অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করতে শুরু করল, যা সন্দেহাতীতভাবে কুফরীর পর্যায়ে পড়ে। যুদ্ধ প্রস্তুতির দিনগুলোর কোনো একদিন উমাইর মসজিদে নববী থেকে নামায আদায়শেষে যে অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখলেন, তা তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করল। কিভাবে মুজাহিদরা জিহাদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক নাম লেখাচ্ছেন, জিহাদের ফান্ডে অকাতরে দানের যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাও তিনি স্বচক্ষে দেখলেন। এসব দৃশ্য দেখে তিনি অভিভূত হলেন। তিনি আরো দেখছিলেন, মুহাজির ও আনসার রমণীরা দলে দলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাজির হয়ে তাদের হাতের বালা, গলার মালা ও অন্যান্য স্বর্ণালংকার খুলে পেশ করছেন। এসবের বিক্রয়লব্ধ অর্থ জিহাদে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা ও জিহাদের বহুমুখী প্রয়োজনে ব্যয় করার জন্য তারা আবেদন জানাচ্ছেন। তিনি স্বচক্ষে এও প্রত্যক্ষ করলেন যে, উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ১০০০ (এক হাজার) স্বর্ণমুদ্রার একটি থলে এনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে পেশ করলেন। আবদুর রহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ২০০ (দুই শত) স্বর্ণখণ্ডের একটি বস্তা কাঁধে করে এনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে পেশ করলেন। এমনকি এক ব্যক্তি তার বিছানাপত্র এনে হাজির করলেন, যেন তা বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ জিহাদের প্রয়োজনে তরবারি ক্রয়ে ব্যয় করা হয়। ত্যাগ ও কুরবানীর এসব ঘটনা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে একদিকে উমাইর যেমন উৎসাহিত ও আনন্দিত হন, অপরদিকে জুলাসের বিপুল অর্থ-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহবানে সাড়া দিচ্ছেন না, তা দেখেও অবাক হচ্ছিলেন।

জুলাসের মনে যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি ও ঈমানী চেতনা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রত্যক্ষ করা ঘটনাবলি উমাইর তাকে শোনাতে মনস্থ করলেন। বিশেষ করে সমরাস্ত্র ও যানবাহনবিহীন লোকদের কথা, যারা ঈমানী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিজেদের পেশ করছিলেন এই বলে যে, তাদেরকে অস্ত্র ও যানবাহন সরবরাহ করলে তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ফেরৎ দিচ্ছিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এত যানবাহন ছিল না। তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে এবং শাহাদাতের জান্নাতী সুধা পানে ব্যর্থ হয়ে ভগ্নহৃদয়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে স্ব-স্ব গৃহে প্রত্যাবর্তন করছিলেন। এ সব দৃশ্যও জুলাসের কাছে উমাইর বর্ণনা করতে সিদ্ধান্ত নিলেন। অতঃপর এসব ঘটনা ও দৃশ্য উমাইর তাকে বলতে লাগলেন। আর অত্যন্ত আগ্রহভরে জুলাসও তার কথাগুলো শুনছিল। এসব শুনতে শুনতে হঠাৎ জুলাস এমন একটি মন্তব্য করে ফেলল, যা শুনে উমাইর হতভম্ব হয়ে গেলেন।

জুলাসের সে কথা ছিল এই: 'মুহাম্মদ যদি তার নবুওয়াতের দাবিতে সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমরা গাধার চেয়েও নিকৃষ্ট।'

উমাইর তো হতভম্ব! একি! জুলাসের মতো বয়ঃপ্রাপ্ত জ্ঞানী ব্যক্তির মুখ থেকে এসব বাক্য কি উচ্চারিত হতে পারে? এমন বাক্য উচ্চারণ মাত্রই ঈমান চলে যায় এবং সাথে সাথে সে কুফরীর অতল গহবরে নিমজ্জিত হয়। এই নাজুক মুহূর্তে কী করা যায়, এ নিয়ে তড়িৎ চিন্তা-ভাবনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌছলেন যে, জুলাসের ব্যাপারে নীরব থাকা যায় না। তার এ কথা কাউকে না বলার অর্থই হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা। ইসলামী সংগঠন ও আন্দোলনের ক্ষতি করা এবং ইসলামবিরোধী শক্তির বিশেষ করে মুনাফিকদের সাহায্য করা। উমাইর এ কথাও চিন্তা করলেন যে, জুলাস পিতৃতুল্য এবং তার নিজের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার এ কথা প্রচার করা তো রীতিমতো নাফরমানী এবং তার ইহসান ও দয়ার প্রতিদানের কৃতঘ্ন হওয়া। কারণ, তাঁর নিরাশ্রয় ও ইয়াতীম অবস্থায় জুলাস তাঁর আশ্রয়দাতা। তার যত দুঃখ-কষ্ট ও অভাব ছিল সবই তার ওসীলায় দূর হয়েছে। দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের যে কোনো একটি তাঁকে গ্রহণ করতে হবে। একটি পথই তাঁকে ধরতে হবে। তাই অতি দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জুলাসকে বললেন:

'আল্লাহর কসম! এই ভূ-পৃষ্ঠে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আমার নিকট আপনার চেয়ে প্রিয়জন আর কেউ নেই। আমার কাছে আপনি এমন এক অতীব প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তি, যার প্রতিদান দেওয়া কোনোদিনই আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি যা বলেছেন, তা যদি প্রকাশ করে দেই, তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে লাঞ্ছিত হবেন। আর যদি তা প্রকাশ না করি, তাহলে তা হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে খিয়ানত। যার অর্থ সত্য ও দীনকে ধ্বংস করে মুনাফিকদের হাতে হাত মিলানোর নামান্তর। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে, আপনি যা বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা জানাব, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যা করার তা করুন।'

এই কথা বলে উমাইর ওঠে দাঁড়ালেন এবং মসজিদে নববীর দিকে রওয়ানা হলেন। উমাইর মসজিদে নববীতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে জুলাস যে কটূক্তি করেছে তা জানালেন।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমাইরকে তাঁর কাছে বসিয়ে রেখে এক সাহাবীকে দিয়ে জুলাস ইবনে সুওয়াইদকে ডেকে পাঠালেন। জুলাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর খিদমতে উপস্থিত হলো এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম জানিয়ে তাঁর সামনে বসে পড়ল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে উমাইরের অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন উমাইর যা বলেছে, তা সঠিক কি না?

উত্তরে জুলাস বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার উপর শান্তি বর্ষণ করুন। সে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং মনগড়া অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। আমি কখনো এসব বাক্য উচ্চারণ করিনি।'

উপস্থিত সাহাবীগণ জুলাস ও বালক উমাইর ইবনে সা'দ-এর মুখমণ্ডলের দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন এবং তাদের অন্তরের গোপন অবস্থা যা তাদের চেহারায় পরিস্ফুটিত হচ্ছিল তা অবলোকনের চেষ্টা করছিলেন। তারা উভয়ের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি পেশ করতে লাগলেন। মুনাফিকদের একজন বলে উঠল: 'নাফরমান ছেলে! যে তার উপকার করেছে, সে তাকেই কষ্ট দিচ্ছে ও তাকেই বেইজ্জতি করছে।'

সাহাবীদের একজন প্রত্যুত্তরে বললেন: 'তা কী করে হয়! সে একটি খোদাভীরু ছেলে, সে ইসলামী অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। তার চেহারার অভিব্যক্তিতে সত্যবাদিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমাইরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তার মুখমণ্ডল অত্যধিক রক্তিম হয়ে উঠেছে এবং দু'চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে তার দু'গাল ও বুক সিক্ত করছে।'

উমাইর ক্রন্দনরত স্বরে বললেন:
اللَّهُمَّ أَنْزِلْ عَلى نَبِيِّكَ بَيَانَ مَا تَكَلَّمْتُ بِهِ... اللَّهُمَّ أَنْزِلْ عَلى نَبِيِّكَ بَيَانَ مَا تَكَلَّمْتُ بِهِ....
'হে আল্লাহ, আমি যা বলেছি, তার সমর্থনে তোমার নবীর উপর ওহী নাযিল করো।'

উমাইরের এই আহাজারীর প্রতিবাদে জুলাস নিজের সাফাই দিয়ে বলল: 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি আপনাকে যা বলেছি সেটাই সত্য। আপনি চাইলে আমি আপনার সামনে আল্লাহর নামে শপথ করব।'

আমি আল্লাহর কসম করে বলছি: 'উমাইর আপনাকে আমার সম্পর্কে যা বলেছে, আমি তার কিছুই বলিনি।'

তার এ ধরনের শপথবাক্য শ্রবণের পর উপস্থিত সবার দৃষ্টি উমাইরের প্রতি নিবদ্ধ হলো। এদিকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর প্রশান্তভাব নেমে এল। নিথরতা আচ্ছাদিত হলো। সাহাবীগণ বুঝতে পারলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে। সবাই নিজ নিজ জায়গায় নীরব ও নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহও যেন অসাড় হয়ে পড়ল। সবারই দৃষ্টি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে। না জানি কার বিপক্ষে আল্লাহর নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। এবার জুলাস আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল। উপস্থিত সবাই বরং আনন্দ অনুভব করে উমাইরের দিকে তাকাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর থেকে প্রশান্তভাব কেটে গেল। তিনি অবতীর্ণ ওহী তিলাওয়াত করে শোনালেন-
يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنْ يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ وَإِنْ يَتَوَلَّوا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا .

'তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, তারা কিছু বলেনি, অথচ তারা নিশ্চয়ই কুফরীর কথা বলেছে। তারা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরী অবলম্বন করেছে। আর তারা সেসব কাজ করার ইচ্ছা করেছিল, যা তারা করতে পারেনি। তাদের এসব ক্রোধ কেবল এ কারণেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল ও ধনশালী করে দিয়েছেন। এখন যদি তারা নিজেদের এ আচরণ থেকে ফিরে আসে, তবে তাদের পক্ষেই ভালো, অন্যথায় আল্লাহ তাদের অত্যন্ত পীড়াদায়ক শাস্তি দান করবেন দুনিয়ায় ও আখিরাতেও, আর পৃথিবীতে তারা নিজেদের কোনো সমর্থক ও সাহায্যকারী পাবে না।' (সূরা তাওবা: ৭৪)

জুলাস তার সম্পর্কে কুরআনের অবতীর্ণ আয়াত শুনে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল। ভয়ে তার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসছিল, এমনকি মুখে একটি কথাও উচ্চারণ করতে পারছিল না। আতঙ্কিত জুলাস হাত জোড় করে কেঁদে কেঁদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল:

'আমি তাওবা করছি ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমি তাওবা করছি ইয়া রাসূলাল্লাহ। উমাইর সত্য বলেছে, আমিই মিথ্যাবাদী। দু'আ করুন আল্লাহ যেন আমার তাওবা কবুল করেন। আমি এ মুহূর্ত থেকে আপনার জন্য নিজেকে কুরবান করে দিলাম। আমি সত্যিকার অর্থেই আপনার খিদমতে সাচ্চা মনে নিজেকে বিলিয়ে দিলাম।'

এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালক উমাইর ইবনে সা'দ-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। ঈমানী জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হলো উমাইরের চেহারা, যা আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত মোবারক স্নেহাস্পদ উমাইরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আদরভরে তাঁর কান ধরে বললেন:

وَفَّتْ أُذُنُكَ بَاغُلَامُ مَا سَمِعَتْ وَصَدَّقَكَ رَبُّكَ .

'হে বালক! তোমার কান যা শুনেছে, যথার্থই শুনেছে এবং তোমার রব তোমার সত্যবাদিতার সাক্ষ্যদান করেছেন।'

এখন থেকে জুলাস সত্যিকার অর্থে ইসলামে প্রবেশ করে নিষ্ঠার সাথে ইসলামী জীবন যাপন আরম্ভ করলেন ও কায়মনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে লাগলেন। তিনি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ উমাইরের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও ভালোবাসার পরিচয় দিতেন বলে সাহাবীরা জানতেন। যখনই উমাইরের কথা উঠত তিনি বলতেন, আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করুক। কেননা, সে আমাকে কুফরী থেকে বাঁচিয়েছে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেছে। যা কিছু বর্ণিত হলো তা বালক সাহাবী উমাইর ইবনে সা'দ-এর বিপ্লবী জীবনের শৈশবকাল মাত্র। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে তাঁর জীবনের আর একটা বিপ্লবী দিক থেকে, যা খুবই চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর। যা প্রিয় পাঠকদের খিদমতে তাঁর যৌবনের আর একটা চমকপ্রদ ঘটনা।

টিকাঃ
১. আল ইসাবাহ: জীবনী নং ৬০৩৬.
২. আল ইসতিয়াব (ইসাবাহর টীকা) ২য় খণ্ড, ৪৮৭ পৃ.
৩. উসদুল গাবাহ: ১ম খণ্ড, ২৯৩ পৃ.
৪. সিয়ারু আ'লামুন নুবালা: ১ম খণ্ড, ৮৬ পৃ.
৫. হায়াতুস সাহাবা: ৪র্থ খণ্ড, সূচিপত্র দ্রষ্টব্য.
৬. কাদাতুল ফাতহিল ইরাক ওয়াল জাযীরা: ৫১৩ পৃ.
৭. আল আ'لام: ৫ম খণ্ড, ২৬৪ পৃ।

📘 সাহাবীদের আলোকিত জীবন > 📄 কর্মজীবন

📄 কর্মজীবন


‘তোমাদের কাছে আশা করছি যে, তোমাদের ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা আমার কাছে উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার মতো নির্ভরযোগ্য হোক, যেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার দিয়ে আস্থা রাখতে পারি।’
-উমর ইবনুল খাত্তাব (রা)

প্রিয় পাঠক!
প্রখ্যাত সাহাবী উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বাল্যকালের চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। এখন আমরা তাঁর কর্মবহুল জীবনের আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করছি। উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কর্মজীবনের এ ঘটনা তাঁর বাল্য-জীবনের বর্ণিত ঘটনার চেয়ে কোনো অংশে কম আকর্ষণীয় নয়।

মধ্য সিরিয়ায় দামেশক ও হালাব-এর মধ্যবর্তী স্থানে 'হিম্স' নগরী অবস্থিত। যেখানে রয়েছে প্রখ্যাত সাহাবী খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কবর। হিস্সবাসী সর্বদাই তাদের গভর্নরের নানাবিধ ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজত এবং তিলকে তাল করে আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর নিকট অভিযোগ করত। কোনো গভর্নরই তাদের তীব্র সমালোচনা থেকে মুক্ত ছিলেন না। যাকেই গভর্নর নিযুক্ত করা হতো, তারই বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি বের করে আমীরুল মুমিনীন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কাছে অভিযোগ দায়ের করত এবং তদস্থলে ভালো অন্য কোনো ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের আবেদন জানাত। এই প্রেক্ষাপটে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাদের জন্য এমন এক ব্যক্তিকে গভর্নর নিযুক্ত করার চিন্তা করলেন, যিনি হবেন সব অভিযোগের ঊর্ধ্বে ও তাঁর চরিত্র হবে ত্রুটিমুক্ত। এ লক্ষ্যে তিনি একজন সুদক্ষ তীরন্দাযের ন্যায় তৃণ থেকে একটা একটা করে তীর বের করে একটা পছন্দসই তীর বাছাই করার ন্যায় এমন এক ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকলেন, যিনি হিম্স-এর গভর্নর হিসেবে উপযুক্ত হতে পারেন।

পরিশেষে তিনি উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর চেয়ে খোদাভীরু ও যোগ্য ব্যক্তি আর কাউকে পেলেন না। অথচ উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এ সময় বিজয়ী মুজাহিদদের এক বিশাল বাহিনীর সেনানায়ক হিসেবে সিরিয়ায় যুদ্ধরত ছিলেন। তিনি সিরিয়ায় একের পর এক দুর্গ জয় করে একদিকে ইসলামী রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তৃত করছিলেন, অপরদিকে ঘটাচ্ছিলেন তাওহীদের ব্যাপ্তি। সে অঞ্চলের গোত্রগুলো তাঁর আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষা নিতে শুরু করে। বিজিত অঞ্চলের প্রতিটি জনপদে তিনি ইসলামী শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মসজিদ নির্মাণ করতে থাকেন! ইসলামী জ্ঞান ও শিক্ষাবিস্তারের মাধ্যমে সকল নাগরিকের ঈমানী মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে মযবুত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পরও আমীরুল মুমিনীন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁকে মদীনায় ডেকে পাঠান। তিনি মদীনায় পৌছলে তাঁকে হিস্স প্রদেশের গভর্নর হিসাবে নিযুক্ত করেন এবং সেখানে গিয়ে দায়িত্বভার বুঝে নিতে নির্দেশ দেন। একজন সৈনিক হিসেবে আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে তাঁর কাছে গভর্নরের পদটি অধিক গৌরবের ছিল না। তাই তিনি তা গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করলেও পরিশেষে আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে সে পদ গ্রহণ করতে সম্মত হলেন।

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু নবনিযুক্ত গভর্নর হিসেবে হিসে পৌঁছে জনসাধারণকে হিসের জামে মসজিদে সমবেত হতে আহ্বান জানালেন। নামাযশেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পাঠ করে বললেন:

'প্রিয় ভাইয়েরা, ইসলাম নিঃসন্দেহে একটি সুরক্ষিত দুর্গ, তেমনি এর দরজাও দুর্ভেদ্য। আর ইসলামের দুর্গ হলো ন্যায়বিচার এবং এর দরজা হলো ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা। ন্যায়বিচারে পক্ষপাতিত্ব, সত্যের পরিপন্থী কার্যকলাপ, ইসলামের দুর্গকে ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা ইসলামকে ধ্বংস করার শামিল। ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত বিজয়ী ও শক্তির উৎস হিসেবে বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত শাসক তার শাসন ক্ষমতায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। শাসকের বলিষ্ঠ ভূমিকার অর্থ ক্ষমতাবলে জনগণকে দমিয়ে রাখা বা তলোয়ারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিপাত করা নয়; বরং ন্যায়বিচার ও সত্যবাদিতায় অটল থাকা।'

এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর তিনি জনগণের সামনে তাঁর কর্মসূচি তুলে ধরলেন। উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু দীর্ঘ এক বছর অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হিস্সের শাসনভার পরিচালনা করেন। হিস্সবাসী আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। আর না এ সময়ে উমাইর রাদিয়াল্লাহ আনহু উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কাছে কোনো পত্র দেন কিংবা কেন্দ্রীয় বায়তুল মালে খিরাজের এক কপর্দক প্রেরণ করেন।

এ দীর্ঘ নীরবতা উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। কেননা, তিনি তাঁর গভর্নরদের প্রতি সর্বদাই সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন, যেন ক্ষমতা তাদের কোনো রকম অন্যায় কাজে জড়িত না করে ফেলে। কারণ, উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দৃষ্টিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত কোনো ব্যক্তিই মাসূম বা নিষ্পাপ হিসেবে গণ্য ছিলেন না।

অতঃপর তিনি তাঁর সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিলেন যে, উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে এই বলে নির্দেশ প্রেরণ করুন যে,
'এ পত্র পাওয়ামাত্র হিম্স ছেড়ে আমীরুল মুমিনীন-এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনায় চলে আসুন এবং আসার প্রাক্কালে মুসলমানদের খিরাজের যে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তাও সঙ্গে নিয়ে আসুন।'

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর পক্ষ থেকে পত্র পাওয়ামাত্রই হিস্সবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। অতঃপর তাঁর খাদ্যদ্রব্য বহনের একমাত্র থলেটিতে ওযু করার বদনাটি ঢোকালেন, যুদ্ধাস্ত্র ও বর্মটি হাতে নিলেন এবং হিম্স নগর-এর গভর্নরের পদটি পেছনে রেখে পদব্রজে মরুপথে মদীনার দিকে রওনা হলেন। মদীনায় পৌছতে উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর চেহারা কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করল। পানাহারের অভাবে স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ল, দাড়ি, গোঁফ ও মাথার চুল লম্বা হয়ে গেল এবং সফরের ক্লান্তি তাঁকে ভীষণভাবে দুর্বল করে ফেলল। ভগ্ন স্বাস্থ্য, ক্লান্ত দেহে উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দরবারে হাজির হলেন। তাঁর অবস্থা দেখে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং বলে উঠলেন:

'উমাইর! তোমার এ কী অবস্থা হয়েছে?'

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু খালীফাতুল মুসলিমীনকে উত্তর দিলেন:
'কিছু হয়নি আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর রহমতে আমার স্বাস্থ্য ভালো। কুরবানীর পশুকে যেভাবে তার দুটি শিং ধরে করায়ত্ত করা হয়, ঠিক সেভাবেই দুনিয়াকে সম্পূর্ণ বহন করে এনেছি।'

উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি সাথে করে কী পরিমাণ দুনিয়া বহন করে এনেছ?'

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ভাবছিলেন যে, বায়তুলমালের জন্য পর্যাপ্ত খিরাজের অর্থ বহন করে এনেছেন।

উমাইর ইবনে সা'দ উত্তরে বললেন: 'আমার বহন করে আনা সম্পদের মধ্যে আমার থলিটিতে আমার জিনিসপত্র ভরে এনেছি। যার একটি হলো প্লেট, যাতে খাবার খাই, কখনো বা তাতে কাপড়-চোপড় ধুই, কখনো বা তাতে পানি নিয়ে গোসল করি এবং একটি বদনা যা ওযূ ও পানি পানের জন্য ব্যবহার করে থাকি। এই আমার পুরো দুনিয়া। হে আমীরুল মুমিনীন! এরচেয়ে অধিক আর কিছুই আমার প্রয়োজন নেই। এমনকি আমার পরে আমার পক্ষের নিকটতমদের জন্যও নয়।'

উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি কি হিম্স থেকে হেঁটে এসেছ?'

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উত্তর দিলেন: 'জী হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন।'

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জিজ্ঞাসা করলেন: 'রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আরোহণের জন্য একটি ঘোড়াও দেওয়া হয়নি?'

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উত্তর দিলেন: 'হিম্স-এর বর্তমান দায়িত্বশীলগণ আমার জন্য এ ব্যবস্থা করেননি এবং আমিও তাদের কাছে তা চাইনি।'

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'বাইতুল মালের জন্য যা কিছু এনেছ তা কোথায়?'

উমাইর ইবনে সা'দ জানালেন : 'খালি হাতেই এসেছি।'

উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু প্রশ্ন করলেন: 'কেন?'

তিনি উত্তর দিলেন: 'হিম্স পৌছে সেখানকার খোদাভীরু, নেক ও সৎ লোকদের একত্র করি এবং তাদেরকে জনগণ হতে খিরাজ সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেই। যখনই তারা খিরাজের অর্থ সংগ্রহ করে আনত, তা কিভাবে খরচ করা যায়, সে ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রকৃত অভাবী লোকদের মধ্যে তা বিতরণ ও যথাযথ খাতে ব্যয় করা হতো।'

আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে হিম্সের গভর্নর হিসেবে বহাল রাখার লিখিত ফরমান দেওয়ার জন্য সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিলেন।

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সে পদে পুনরায় যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করে বললেন: 'আমি এই দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা জানাচ্ছি। আমীরুল মুমিনীন! আমি কোনোক্রমেই আপনার অর্পিত এই দায়িত্বভার নিতে আগ্রহী নই। শুধু আপনারই নয়, আপনার পরেও যদি কেউ এ দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেন, তাঁর দেওয়া এ দায়িত্বও গ্রহণ করব না।'

অতঃপর উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর কাছে মদীনার পার্শ্ববর্তী স্থানে নিজ গ্রামে যেখানে তাঁর পরিবার-পরিজন অবস্থান করছেন তাদের সঙ্গেই বসবাস করার অনুমতি চাইলে উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁকে সেখানে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেন।

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁর সাবেক গভর্নরকে পরীক্ষা করতে মনস্থ করলেন। উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হিল্স থেকে ফিরে এসে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার উদ্যোগ নিলেন।

আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাঁর একান্ত আস্থাভাজন হারেস নামক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ডেকে বললেন:

'হারেস! উমাইরের বাড়িতে অতিথি হিসেবে যাও এবং তার সাথে সাক্ষাৎ কর। যদি তার মধ্যে বিন্দুমাত্র ভোগ-বিলাসিতা বা স্বাচ্ছন্দ্যের লক্ষণ দেখ, তবে কিছু না বলে মেহমান হিসেবেই চলে এস। আর যদি দেখ যে, দারিদ্র্যক্লিষ্ট অবস্থায় অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছে, তাহলে স্বর্ণমুদ্রার এই থলিটি তাকে অর্পণ কর।'

এই বলে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ১০০ স্বর্ণমুদ্রার থলিটি হারেসের হাতে দিলেন।

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর নির্দেশে হারিস উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হলেন ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বাড়ি খুঁজে বের করলেন। উমাইর-এর সাথে দেখা হওয়া মাত্র বললেন:

'আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।'

জওয়াবান্তে। উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আগন্তুককে জিজ্ঞাসা করলেন:
'আপনি কোথা থেকে আগমন করেছেন?'

হারেস উত্তর দিলেন:
'মদীনা মুনাওয়ারা থেকে।'

উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু প্রশ্ন করলেন: 'আমীরুল মুমিনীন উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কেমন আছেন?'

হারেস উত্তর দিলেন: 'ভালো ও নেক শাসক হিসেবে দায়িত্বে রত আছেন।'

উমাইর আবার প্রশ্ন করলেন: 'তিনি কি হদ্দ'1 জারি করেন?'

হারেস উত্তর দিলেন: 'অবশ্যই। তাঁর ছেলেকেও ব্যভিচারের অপরাধে অপরাধী হওয়ার কারণে বেত্রাঘাত করেছেন, এমনকি বেত্রাঘাতের কারণে সে মৃত্যুবরণ করেছে।'

উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু একথা শুনে বললেন: 'হে আল্লাহ! তুমি উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে সাহায্য কর। আমি তাঁর মতো আর কাউকে তোমাকে এত গভীরভাবে ভালোবাসতে দেখিনি।'

অতঃপর উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দাওয়াতে হারিস তাঁর বাড়িতে তিন রাত কাটালেন। প্রতিটি রাতে মেহমানকে একটি মাত্র যবের পাতলা শুকনো রুটি খেতে দিতেন। তৃতীয় রাতে তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর মেহমান হারেসকে উদ্দেশ্য করে বললেন: 'হে মেহমান! আপনি উমাইরের মেহমান হয়ে তাঁকে এবং তার স্ত্রীকে মহা বিপদে ফেলেছেন। তাদের ঘরে যবের এই পাতলা শুকনো রুটি ছাড়া অন্য কোনো খাবার নেই। তাও গত তিনদিন যাবৎ আপনাকে খেতে দিয়ে তারা উভয়েই ক্ষুধার্ত ও কষ্টের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। যদি মনে কিছু না করেন, তবে তাঁর পরিবর্তে আমার বাড়িতে মেহমান হতে পারেন।'

তখন হারেস তার নিকট উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দেওয়া স্বর্ণমুদ্রা বের করে উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে প্রদান করলেন। উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন: 'এটা কী?'

হারেস উত্তর দিলেন: 'আমীরুল মুমিনীন উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এগুলো আপনাকে পৌছানোর জন্য আমাকে প্রেরণ করেছেন।'

উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তা গ্রহণ না করে হারেসকে বললেন: 'উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে এসব ফেরৎ দিয়ে তাঁকে আমার সালাম জানাবেন আর বলবেন যে, উমাইরের এই স্বর্ণমুদ্রার কোনো প্রয়োজন নেই।'

উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর স্ত্রী পর্দার আড়াল থেকে মেহমান ও উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মধ্যকার কথোপকথন শুনছিলেন। তিনি স্বামীকে বললেন: 'গ্রহণ করুন, গ্রহণ করুন। যদি প্রয়োজন বোধ করেন নিজের জন্য খরচ করুন, নতুবা প্রকৃত হকদারদের মধ্যে বিতরণ করুন। এখানে তো অগণিত অভাবী লোকজন রয়েছে।'

হারেস তাঁর স্ত্রীর প্রস্তাব শুনে স্বর্ণমুদ্রাগুলো উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সামনে রেখে দ্রুত উঠে পড়লেন। উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু স্বর্ণমুদ্রাগুলো ছোট ছোট থলেতে ভরে গরীব-মিসকীন, বিধবা ও অসহায় বিশেষ করে শহীদ পরিবারের অসহায় সদস্যদের মাঝে রাতেই বিতরণ করেন।

হারেস মদীনায় ফিরে এলে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী দেখে এলে হারেস?

হারেস উত্তর দিলেন: 'চরম সংকটাপন্ন অবস্থা।'

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তাকে প্রশ্ন করলেন: 'স্বর্ণমুদ্রাগুলো কি তাকে দিয়েছো?'

হারেস উত্তর দিলেন: 'হ্যাঁ, হে আমীরুল মুমিনীন!'

উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু জিজ্ঞাসা করলেন: 'সে তা কী করেছে?'

হারেস বললেন: 'জানি না, তবে মনে হচ্ছে, সে তার জন্য স্বর্ণমুদ্রা কেন, একটি রৌপ্য মুদ্রার সমপরিমাণও রাখবে না। হারেসের এ বক্তব্য শোনে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে পত্র প্রেরণ করলেন। তাতে লিখলেন:

আমার এই পত্র পাওয়ার সাথে সাথে এমনকি পত্রখানা হাত থেকে রাখার পূর্বেই আমার সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হও।'

আমীরুল মুমিনীনের নির্দেশ মোতাবেক উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মদীনার পথে রওয়ানা হলেন। উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দরবারে প্রবেশ করামাত্র খালীফাতুল মুসলিমীন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। সম্মানের সাথে নিজের পাশে বসতে দিলেন এবং কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন:

'স্বর্ণমুদ্রাগুলো কী করেছ?'

উমাইর উত্তর দিলেন:
'যখন স্বর্ণমুদ্রাগুলো আমার জন্য পাঠিয়েছেন, তখন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে কী লাভ?'

উমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন:
'আমি আশা করছি, তুমি সেসব স্বর্ণমুদ্রা দ্বারা কী করলে আমাকে একটু জানাবে।'

উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন:
'আমার নিজের জন্য সংরক্ষণ করেছি। যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, সেদিন তা আমার উপকারে আসবে ভেবে। তার এ উত্তর শুনে উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর দু'চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।'

তিনি বলে উঠলেন:
'উমাইর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি নিশ্চয়ই সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজের প্রয়োজনের উপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা ভীষণ অভাবী।'

অতঃপর উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে এক ওয়াসাক-৬০ সা' যা বহনে একটি উটের প্রয়োজন হয়- পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ও এক জোড়া কাপড় প্রদানের নির্দেশ দিলেন।

উমাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন:
আমীরুল মুমিনীন! আমাদের খাদ্যের প্রয়োজন নেই। আমি আসার সময় পরিবারের জন্য দু' সা' পরিমাণ যব রেখে এসেছি। আশা করছি, এ দু' সা' যব শেষ হতে না হতেই আল্লাহ আমাদের জন্য আরো রিযিকের ব্যবস্থা করবেন। আর কাপড় জোড়া নিচ্ছি এ জন্য যে, আমার স্ত্রীর কাপড় এমনভাবে ছিঁড়ে গেছে যে, সে প্রায় বিবস্ত্র হয়ে পড়েছে।

উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সাথে এ সাক্ষাতের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে আল্লাহ এ দুনিয়া থেকে পরপারে আহবান জানালেন। তাঁর দীর্ঘদিনের আশা যে, পরকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হবেন। দুনিয়ার এ মায়াবী বেড়াজাল থেকে মুক্ত পবিত্র আত্মার অধিকারী এ সাধক সাহাবী উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু রহমত ও মাগফিরাতের দৃঢ় প্রত্যাশী ছিলেন। তাই তিনি দুনিয়ার সর্বপ্রকার বিষয় ও দায়দায়িত্ব হতে মুক্ত হয়ে পরকালের পথে নির্ঝঞ্চাটভাবে রওনা হতে সক্ষম হন। যাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে ছিল তাঁর ইবাদত-বন্দেগী, তাকওয়া-পরহেযগারী, হেদায়াত, দৃঢ় ঈমান ও নেক আমল এবং নূরের দীপ্ত মশাল। তাঁর ওফাতের সংবাদ শোনামাত্র উমর ফারূক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং বেদনায় মন ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন:
'আমি কতই না আশা করছিলাম যে, উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মতো লোক পাব, যাদেরকে মুসলমানদের খিদমতের জন্য রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োগ করতে পারব।'

আল্লাহ্ উমাইর ইবনে সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকেও সন্তুষ্ট করুন। নিঃসন্দেহে কর্মবীরদের মধ্যে তিনি এক ব্যতিক্রমধর্মী, অনুকরণযোগ্য ও মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক মহান ব্যক্তিত্ব।

বি. দ্র. উমাইর ইবনে সা'দ (রা)-এর জীবনী সম্পর্কে জানার জন্য তাঁর বাল্য জীবনীতে উল্লিখিত গ্রন্থাবলি দেখুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00