📘 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা > 📄 চতুর্থত: অবশিষ্ট মুমিন জননীদেরকে গালি দেওয়ার বিধান

📄 চতুর্থত: অবশিষ্ট মুমিন জননীদেরকে গালি দেওয়ার বিধান


অবশিষ্ট মুমিন জননীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করার বিধানের ক্ষেত্র আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে অধিকাংশের নিকট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত হলো এ ধরনের আচরণকারী কাফির। কারণ, অপবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আর আল্লাহ তা'আলা তার (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা) জন্য রাগান্বিত হয়েছেন। কেননা তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী। সুতরাং তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা) এবং তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণ সকলেই আইনের চোখে সমান।⁹³
অনুরূপভাবে আরেকটি কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মধ্যে তাঁর জন্য মর্যাদাহানি ও কষ্টের কারণ নিহিত রয়েছে। যার বর্ণনা আমরা করেছি 'যে ব্যক্তি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহার প্রতি অপবাদ আরোপ করবে, তার বিধান আলোচনা করার সময়।' তবে এ অপবাদ ব্যতীত মুমিন জননীদেরকে গালি দিলে, তখন তাদের বিধান হবে অপরাপর সাহাবীগণকে গালি দেওয়ার বিধানের মতো, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।⁹⁴

টিকাঃ
⁹³ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/৯৫
⁹⁴ কাযী 'আইয়াদ্ব, আশ-শিফা, বিশ্লেষণ: আল-বাজাবী, ২/১১০৯; আরও দেখুন: আস-সাওয়ায়েক আল-মুহরিক্কা, পৃষ্ঠা ৩৮৭; আল-মুহাল্লা: ১১/৪১৫

📘 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা > 📄 পঞ্চমত: যে সাহাবীর মর্যাদা মুতাওয়াতির বর্ণনার দ্বারা সাব্যস্ত হয় নি, তাকে এমন গালি দেওয়া, যা তার দীনে আঘাত করে

📄 পঞ্চমত: যে সাহাবীর মর্যাদা মুতাওয়াতির বর্ণনার দ্বারা সাব্যস্ত হয় নি, তাকে এমন গালি দেওয়া, যা তার দীনে আঘাত করে


যে ব্যক্তি এমন কোনো সাহাবীকে গালি দেয়, দীনী দৃষ্টিকোণ থেকে যার মর্যাদার ব্যাপারে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বর্ণনা রয়েছে, সে গালিদাতাকে কাফির বলে আখ্যায়িত করার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতামতটি আমরা ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি।
তবে যার মর্যাদার ব্যাপারে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বর্ণনা আসে নি, তাকে যে ব্যক্তি গালি দিবে, অধিকাংশ আলেমের মতে সে কাফির হবে না। আর এটা এ জন্য যে, তার দ্বারা দীনের আবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞাত কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা হয় না, তবে তাকে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তথা সহচর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গালি দেওয়া হয়, তবে গালিদাতা কাফির হয়ে যাবে।
ইমাম মুহাম্মদ ইবন 'আবদিল ওহাব রহ, বলেছেন: "যদি তিনি এমন সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত হন, যার মর্যাদা ব্যাপারে মুতাওয়াতির পর্যায়ের বর্ণনা আসে নি, তাহলে পরিষ্কাভাবে ঐ সাহাবীকে গালিদাতা ফাসিক বলে গণ্য হবে, তবে তাকে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর সহচর্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গালি দেওয়া হয়, তবে গালিদাতা কাফির হয়ে যাবে।"⁹⁵
ষষ্ঠত: তাদের কাউকে এমন গালি দেওয়া, যা তাদের দীন ও ন্যায়পরায়ণতায় আঘাত করে না:
কোনো সন্দেহ নেই যে, এমন কাজ যে করবে, সে তিরস্কার ও শাস্তির অধিকারী হবে। কিন্তু আমরা অধ্যয়ন বা অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, উল্লিখিত তথ্যপঞ্জিতে আলেমদের উক্তিসমূহতে আমরা তাদের মধ্য থেকে একজনকেও এরূপ গালিদাতাকে কাফির বলে আখ্যায়িত করতে দেখি নি আর এ ব্যাপারে তাদের মতে সাহাবীগণের মধ্যে বড় বা ছোট বলে কোনো পার্থক্য নেই।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়‍্যা রহ. বলেন: “তবে যদি সে তাদেরকে এমন গালি দেয়, যা তাদের ন্যায়পরায়ণতা ও দীনকে কলুষিত করে না। যেমন, তাদের কাউকে কৃপণ বলা অথবা কাপুরুষ বলা অথবা অল্প বিদ্যান বলে আখ্যায়িত করা অথবা দুনিয়াদার বলে সম্বোধন করা ইত্যাদি, তবে সে তিরস্কার ও শাস্তির অধিকারী হবে। আর শুধু এ কারণে আমরা তাকে কাফির বলে ফতোয়া দিব না। আর এ যুক্তির ওপর নির্ভর করছে ঐ ব্যক্তির কথা, আলেমদের মধ্য থেকে যিনি তাকে (এ কারণে) কাফির বলে আখ্যায়িত করেন না।"⁹⁶
আবু ই'য়ালা রহ, কতিপয় দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছেন, যাতে রাজনৈতিক কারণে তাদেরকে স্বল্প জ্ঞানের দোষে দোষারোপ করা হয়েছে।⁹⁷
আর অনুরূপ বিধানই প্রযোজ্য হবে তার প্রতি যে তাদেরকে দুর্বল সিদ্ধান্ত, দুর্বল ব্যক্তিত্ব, অলসতা, দুনিয়ালোভী ইত্যাদি দোষে দোষারোপ করবে। বস্তুত এ প্রকারের অপবাদ দ্বারা ইতিহাসের কিতাবগুলো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। অনুরূপভাবে আহলে সুন্নাতের সাথে সম্পর্কিত সাম্প্রতিক শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতা ও পাঠ পদ্ধতির নামে এসব অপবাদে ভরপুর হয়ে আছে। মূলত এ প্রকারের অধিকাংশ শিক্ষায় প্রাচ্যবিদদের একটা প্রভাব রয়েছে।

টিকাঃ
⁹⁵ আর-রাদ্দু 'আলা আর-রাফেদা, পৃষ্ঠা ১৯
⁹⁶ আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৮৬
⁹⁷ আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭১

📘 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা > 📄 সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদ

📄 সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদ


আশা করা যায় এখানে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি অনুচ্ছেদের অবতারণা করাটা যথাযথ হবে, তাতে আমরা এ পদ্ধতির ভুল-ভ্রান্তিগুলো বর্ণনা করব। আরও তুলে ধরব সাহাবীগণের ইতিহাসের সাথে তার সমন্বয়সাধনের ভয়ঙ্কর দিকগুলো।
পাশ্চাত্যবিদগণের নিকট সৃজনশীল পদ্ধতি মানে বিষয়বস্তু নিয়ে ধর্মীয় চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে সরে গিয়ে শুধু বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনা ও গবেষণা করা।⁹⁸
সুতরাং আমরা এর জবাবস্বরূপ বলব: প্রথমত: মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে যে কোনো অবস্থা ও পরিবেশ-পরিস্থিতিতেই তার আকীদা-বিশ্বাস থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়, তবে সে তার বিশ্বাসকে অস্বীকার করলেই তা সম্ভব হবে।⁹⁹
দ্বিতীয়ত: ইসলামের ইতিহাসের ব্যাপারটিও অনুরূপ, যখন ঘটনাসমূহ সাব্যস্ত হবে বর্ণনা সমীক্ষার মানদণ্ডে, তখন আমরা কোন পদ্ধতিতে তা অনুধাবন করব এবং ব্যাখ্যা করব? যখন আমরা ইসলামী পদ্ধতিতে তা ব্যাখ্যা করব না, তখন অবশ্যই আমরা অপর একটি পদ্ধতি পছন্দ করব। ফলে আমরা এমনভাবে বিকৃতির মধ্যে পতিত হব যে, আমরা জানতেই পারব না।
সুতরাং এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো, আমরা সাহাবীগণের ইতিহাসের সাথে এ পদ্ধতিটির সমন্বয়সাধনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করব। আর যার মাধ্যমে আমি আমার নিজেকে এবং আমার গবেষক ভাইদেরকে সাহাবীগণের ইতিহাসের ব্যাপারে যে উপদেশ দিচ্ছি তা হলো, তারা যেন তাদের আকীদা-বিশ্বাস থেকে দূরে সরে না যায়। আর সে আকীদা-বিশ্বাসের মধ্যে অন্যতম দিক হলো সাহাবীগণের 'আদালত তথা ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আস্থা পোষণ করা, তাদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনার সময় তাদেরকে গালি দেওয়া হারাম মনে করা, তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা; যেহেতু তাদের মাধ্যমে ইসলাম এসেছে। আর তাদের জেনে রাখা উচিত, নিশ্চয়ই ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আহলে সুন্নাতের একটি স্পষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, যে ব্যাপারে শেষের দিকে একটি বিশেষ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

টিকাঃ
⁹⁸ দেখুন: 'উলইয়ানী, মানহাজু কিতাবাতুত তারীখ, পৃষ্ঠা ১৩৮
⁹⁹ এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুন: ডক্টর মুহাম্মদ রাশাদ খলিল, 'ফীর রাদ্দে 'আলা দা'ওয়াল মাওদু'য়ীইয়্যা': ৩৪-৩৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00