📘 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা > 📄 প্রথমত: আল-কুরআন থেকে সাহাবীগণের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ

📄 প্রথমত: আল-কুরআন থেকে সাহাবীগণের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ


প্রথম আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا ﴾ [الفتح: ١٨]
"অবশ্যই আল্লাহ মুমিনগণের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বাই'আত গ্রহণ করেছিল, অতঃপর তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি জেনে নিয়েছেন। ফলে তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয়ে পুরস্কৃত করলেন।” [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ১৮]
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বলেন,
«كنا ألفا وأربعمائة».
"আমরা (সে শপথ অনুষ্ঠানে) ছিলাম সংখ্যায় এক হাজার চারশত। "¹⁰
সুতরাং এ আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেছেন আর এ তাযকিয়া বা পরিশুদ্ধির সংবাদ আল্লাহই পরিবেশন করেছেন। আর আল্লাহ ব্যতীত তা সম্পন্ন করার ক্ষমতা অন্য কেউ রাখে না। আর তা হলো তাদের অভ্যন্তরীণ ও হৃদয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার পরিশুদ্ধি। আর সেখান থেকেই তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। (আর আল্লাহ তা'আলা যার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, কুফুরীর ওপর তার মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, তার শিক্ষা হলো ইসলামের ওপর মারা যাওয়া। সুতরাং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ঐ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও ওপর প্রযোজ্য হবে না, যার ব্যাপারে তিনি জানেন যে, তার মৃত্যু হবে ইসলামের ওপর)। ¹¹
আর সহীহ মুসলিমে যা বিদ্যমান রয়েছে, তা এ বক্তব্যকে আরও সুদৃঢ় করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لَا يَدْخُلُ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ أَحَدُ الَّذِينَ بَايَعُوا تَحْتَهَا».
"আল্লাহ চায় তো গাছের নিচে শপথ গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে একজনও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।"¹²
ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি একটি প্রাচীন গুণ। সুতরাং তিনি শুধু ঐ বান্দার ওপরই সন্তুষ্ট হন, যার ব্যাপারে তিনি জানেন যে, সে তাকে সন্তুষ্টির আবশ্যকীয় উপাদানগুলো পূর্ণ করে দিবেন। আর যার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন, তার ওপর তিনি কখনও অসন্তুষ্ট হন নি। অতএব, এমন প্রত্যেক ব্যক্তিই জান্নাতের অধিবাসী, যার ব্যাপারে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যদিও তার ওপর তাঁর সন্তুষ্ট হওয়ার বিষয়টি ছিল তার ঈমান আনয়ন ও সৎকর্মের পরে। সুতরাং তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করেন তার গুণগান ও প্রশংসা করার ক্ষেত্রে। অতএব, তিনি যদি জানতেন যে, সে এর পরবর্তীতে এমন কাজ করবে, যাতে প্রতিপালক অসন্তুষ্ট হবেন, তাহলে সে জান্নাতের অধিবাসী হত না। "¹³
ইবনু হাযম রহ. বলেন: “যাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সংবাদ জানিয়েছেন, তিনি তাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে জানেন এবং তিনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন; আর তাদের উপর নাযিল করেছেন প্রশান্তি। সুতরাং কারও জন্য বৈধ হবে না তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করা অথবা তাদের ব্যাপারে কখনও সন্দেহ পোষণ করা। "¹⁴
দ্বিতীয় আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ وَ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَتْهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَنَةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْهُ، فَازَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ، يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللهُ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا [الفتح: ٢٩]
"মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, তাদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু' ও সাজদাহয় অবনত দেখবেন। তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডল সাজদাহর প্রভাবে পরিস্ফুট; এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন একটি চারাগাছ, যা থেকে নির্গত হয় কচিপাতা, তারপর তা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কাণ্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীর জন্য আনন্দদায়ক। এভাবে আল্লাহ মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে-আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের।” [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]
ইমাম মালেক রহ, বলেন: "আমার নিকট এ খবর এসেছে যে, খ্রিস্টানগণ যখন ঐসব সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমকে দেখেছিল, যারা শাম (সিরিয়া) জয় করেছেন, তখন তারা বলতে লাগল: আল্লাহর কসম! নিশ্চয় তারা ঐসব হাওয়ারীদের চেয়ে উত্তম, যাদের ব্যাপারে আমরা ইতোপূর্বে জানতে পেরেছি।
আর এ প্রসঙ্গে তারা সত্যই বলেছে। কারণ, এ উম্মত (জাতি) পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের মধ্যে সম্মানিত। আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। আর আল্লাহ তা'আলা নাযিলকৃত কিতাবসমূহে ও হাদীসের মধ্যে তাদের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। আর এ জন্যই আল্লাহ তা'আলা সেখানে বলেছেন: ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّورَية “এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত”।
অতঃপর তিনি বলেন: وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْءَهُ “আর ইঞ্জীলে তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন একটি চারাগাছ, যা থেকে নির্গত হয় কচিপাতা"।
)فَازَرَهُ "তারপর তা শক্ত হয়”। অর্থাৎ মজবুত হয়। ﴿فَاسْتَغْلَظَ “তারপর তা পুষ্ট হয়” অর্থাৎ তা পুষ্ট ও লম্বা হয়। ﴾فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ، يُعْجِبُ الزُّرَاعَ "অতঃপর তা কাণ্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীর জন্য আনন্দদায়ক”
অর্থাৎ অনুরূপ হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। তারা তাকে শক্তিশালী করেছেন, সমর্থন করেছেন এবং তাকে সাহায্য করেছেন। সুতরাং তাঁর সাথে তাদের সম্পর্ক গাছের সাথে পাতা বা কচিপাতার সম্পর্কের মতো, (আল্লাহ) তাদের সমৃদ্ধি দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন।"¹⁵
ইবনুল জাওযী বলেন, "এ গুণটি অধিকাংশের নিকট সকল সাহাবীর জন্য সাব্যস্ত।"¹⁶
তৃতীয় আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَبِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ * وَالَّذِينَ تَبَوَّءُ وَ الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ، فَأُوْلَابِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَالَّذِينَ جَاءُو مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴾ [الحشر: ٨، ١٠]
"এ সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি থেকে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। এরাই তো সত্যাশ্রয়ী। আর তাদের জন্যও, মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এ নগরীকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছে ও ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা তাদের কাছে যারা হিজরত করে এসেছে তাদেরকে ভালোবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা তাদের অন্তরে কোনো (না পাওয়া জনিত) হিংসা অনুভব করে না, আর তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। বস্তুত যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।" [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৮-১০]
আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতসমূহের মধ্যে 'ফায়'¹⁷ তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হকদারদের অবস্থা ও গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। আর তারা হলেন তিন প্রকারের:
প্রথম প্রকার: ﴾لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ﴿ অর্থাৎ নিঃস্ব মুহাজিরগণ।
দ্বিতীয় প্রকার: ﴾وَالَّذِينَ تَبَوَّءُ و الدَّارَ وَالْإِيمَنَ مِن قَبْلِهِمْ﴿ অর্থাৎ মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এ নগরীকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছে ও ঈমান গ্রহণ করেছে।
তৃতীয় প্রকার: ﴾وَالَّذِينَ جَاءُو مِنْ بَعْدِهِمْ﴿ অর্থাৎ যারা তাদের পরে এসেছে।
আর ইমাম মালেক রহ, এ আয়াত থেকে কি সুন্দর ফতোয়া উদ্ভাবন করছেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাহাবীগণকে গালি দিবে, তার জন্য 'ফায়' বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদে কোনো অংশ নেই। কারণ, সে ঐসব সাহাবীগণের গুণে গুণান্বিত হতে পারে নি, আল্লাহ তা'আলা যাদের প্রশংসা করেছেন। তাদের কথায়: ﴾رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ﴿ [الحشر: ١٠]
"হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]
সা'আদ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন,
«الناس على ثلاث منازل فمضت منزلتان و بقيت واحدة فأحسن ما أنتم كائنون عليه أن تكونوا بهذه المنزلة التي بقيت قال : ثم قرأ: ﴿لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا﴾ [الحشر: ٨] فهؤلاء المهاجرين وهذه منزلة قد مضيت: ﴿وَالَّذِينَ تَبَوَّءُو الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ﴾ [الحشر: ٩] قال: هؤلاء الأنصار وهذه منزلة قد مضيت ثم قرأ: ﴿وَالَّذِينَ جَاءُو مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴾ [الحشر: ١٠] قد مضيت هاتان وبقيت هذه المنزلة فأحسن ما أنتم كائنون عليه أن تكونوا بهذه المنزلة التي بقيت: أن تستغفروا لهم»
“মান-মর্যাদার দিক থেকে মানুষ তিন শ্রেণী বা স্তরে বিভক্ত। সুতরাং দুই শ্রেণির মানুষ অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর অবশিষ্ট আছে এক শ্রেণির মানুষ। অতএব, সবচেয়ে সুন্দর হয় যখন তোমাদের অবস্থান হবে ঐ স্তরের সাথে যা অবশিষ্ট আছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি পাঠ করেন:
﴿لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا ﴾ [الحشر: ٨]
“এ সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও সম্পত্তি থেকে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৮]
তারা হলেন মুহাজিরগণ এবং এ স্তরটি অতিবাহিত হয়ে গেছে।
﴿وَالَّذِينَ تَبَوَّءُو الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ ﴾ [الحشر: ٩]
“আর তাদের জন্যও, মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এ নগরীকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছে ও ঈমান এনেছে, তারা তাদের কাছে যারা হিজরত করে এসেছে তাদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা তাদের অন্তরে কোনো (না পাওয়া জনিত) হিংসা অনুভব করে না, আর তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৯]
তিনি বলেন, তারা হলেন আনসার। আর এ স্তরটিও অতিবাহিত হয়ে গেছে।
অতঃপর তিনি পাঠ করেন:
﴿وَالَّذِينَ جَاءُو مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ في قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴾ [الحشر: ١٠]
“আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।" [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ১০]
ঐ দু’টি স্তর অতিবাহিত হয়ে গেছে; আর বাকি আছে এ স্তরটি। সুতরাং সবচেয়ে সুন্দর হবে যখন তোমাদের অবস্থান হবে ঐ স্তরের সাথে, যা অবশিষ্ট আছে। তিনি বলেন: তোমরা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।”¹⁸
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন,
«أُمِرُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَسَبُّوهُمْ».
“তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে। অথচ তারা তাদেরকে গালি দিয়েছে।”¹⁹
আবু না'ঈম বলেন, “সুতরাং তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কে হতে পারে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং তাদেরকে অবাধ্যতার মাধ্যমে অস্বীকার করে। তুমি কি লক্ষ্য করবে না যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর সাহাবীগণকে ক্ষমা করে দিতে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং তাদের প্রতি পক্ষপুট অবনত করে দিতে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ ﴾ [آل عمران: ١٥٩]
“আর যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোনো সংকল্প করলে আল্লাহর ওপর নির্ভর করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯]
তিনি আরও বলেন,
﴿وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]
“এবং যারা আপনার অনুসরণ করে, সেসব মুমিনদের প্রতি আপনার পক্ষপুট অবনত করে দিন।” [সূরা আশ-শু'আরা, আয়াত: ২১৫]
সুতরাং যে ব্যক্তি তাদেরকে গালি দিবে, ঘৃণা করবে এবং তাদের মধ্যকার ব্যাখ্যা বা মন্তব্য ও সংঘটিত যুদ্ধসমূহকে অসুন্দর উদ্দেশ্যে বয়ে বেড়াবে, সে ব্যক্তি তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ, শিক্ষা ও অসীয়্যত (উপদেশ) থেকে বিচ্যুত। সে তাদের ব্যাপারে তার জিহ্বাকে প্রসারিত করে শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি কলুষিত অন্তর ও মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে। ²⁰
মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
لا تسبوا أصحاب محمد إن الله قد أمر بالاستغفار لهم وقد علم أنهم سيقتتلون».
"তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহাবীগণকে গালি দিও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি জানেন যে, তারা অচিরেই নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে।"²¹
চতুর্থ আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَرُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ) [التوبة: ١٠٠]
"আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য তৈরী করেছেন জান্নাত, যার নিচে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এ তো মহাসাফল্য।" [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০]
আর এ আয়াতের তাৎপর্য অত্যন্ত পরিষ্কার। ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, “পূর্ববর্তী সহাবীগণের ব্যাপারে আমার দায়িত্ব হলো নিঃশর্তভাবে তাদের সাথে ইহসান তথা সদাচরণ করা। আর তিনি (আল্লাহ) তাবেঈনদের ওপর সন্তুষ্ট নন যতক্ষণ না তারা তাদেরকে (সাহাবীগণকে) ইহসানের সাথে অনুসরণ করবে।”²²
আর তাদেরকে ইহসানের সাথে অনুসরণ করার অন্যতম দিক হলো তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
পঞ্চম আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿لَا يَسْتَوِى مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَتَلَ أُوْلَابِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴾ [الحديد: ١٠]
“তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা (এবং পরবর্তীরা) সমান নয়। তারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা পরবর্তী কালে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়ের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১০]
আর আয়াতে উল্লিখিত الْحُسْنَى শব্দের অর্থ হলো 'জান্নাত'। মুজাহিদ ও কাতাদা রহ, অনুরূপ বলেছেন।²³
আর ইবন হাযম রহ, এ আয়াত থেকে অকাট্যভাবে দলীল গ্রহণ করেন যে, সাহাবীগণ সকলেই জান্নাতের অধিবাসী, যেহেতু আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴿وَكُلًّا وَعَدَ اللهُ الْحُسْنَى [الحديد: ١٠]﴾ "আর আল্লাহ সকলের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।" [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১০]
ষষ্ঠ আয়াত: আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيعُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴾ [التوبة: ١١٧]
"আল্লাহ অবশ্যই নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তার অনুসরণ করেছিল সংকটময় মুহূর্তে -তাদের এক দলের হৃদয় সত্যচ্যুত হওয়ার উপক্রম হবার পর। তারপর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাদের প্রতি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৭]
আর তাবুকের যুদ্ধে বিদ্যমান প্রায় সকল সাহাবীই উপস্থিত হয়েছিলেন; কিন্তু নারী ও অক্ষমদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর নিকট অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন তারা ব্যতীত। তবে যে তিনজন সাহাবী যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে পিছনে রয়ে গেলেন, যুদ্ধের অব্যবহিত পরে তাদের তাওবার ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়।

টিকাঃ
¹⁰ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: মাগাযী, পরিচ্ছেদ: হুদায়বিয়ার যুদ্ধ, হাদীস নং ২৯২৩; ফতহুল বারী: ৭/৫০৭ (রাইয়ান প্রকাশনা)।
¹¹ আস-সাওয়ায়েক আল-মুহরিক্কা, পৃষ্ঠা ৩১৬।
¹² সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: গাছের অধিকারী বায়'আতে রিদওয়ানের অনুসারীগণের মর্যাদা, হাদীস নং ৬৫৬০。
¹³ ইমাম উবনু তাইমিয়্যাহ, আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭২, ৫৭৩, মুদ্রণ: দারুল কুতুব আল-'ইলমিয়াহ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ মহি উদ্দীন আব্দুল হামীদ।
¹⁴ আল-ফাসলু ফিল মিলালে ওয়ান্নিহাল: ৪/১৪৮。
¹⁵ ইবনু আবদিল বার, আল-ইসতিয়াব, ১/৬, মুদ্রণ, দারুল কিতাব আল-আরাবী-ইবনুল কাসিম থেকে আল-ইসাবা গ্রন্থের প্রান্তটিকা বা হাশিয়াসহ; তাফসীরু ইবন কাছীর: ৪/৩৪০, মুদ্রণ: দারুল মা'আরেফা, বাইরুত, সনদ ব্যতীত।
¹⁶ যাদুল মাসীর, ৪/২০৪।
¹⁷ 'ফায়' শব্দের অর্থ: যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অথবা বিনাযুদ্ধে লব্ধ সম্পদ।
¹⁸ আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭৪; হাকেম, আল-মুসতাদরাক, তাফসীর অধ্যায়, হাদীস নং ৩৮০০। ইমাম যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
¹⁹ সহীহ মুসলিম, তাফসীর অধ্যায়, বাব নং- ২, হাদীস নং ৭৭২৪
²⁰ আবু না'ঈম, আল-ইমামা, পৃষ্ঠা ৩৭৫-৩৭৬, পর্যালোচনা: ড. আলী ফকীহী, মাকতাবাতুল 'উলুম ওয়াল হিকাম, মদীনা, প্রথম মুদ্রণ: ১৪০৭ হি.
²¹ আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭৪; আরও দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ, ২/১৪; আছার, ইমাম আহমদ, তা ফাযায়েল অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ১৮৭, ১৭৪১。
²² আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭২
²³ তাফসীরু ইবন জারির: ২৭/১২৮, দারুল মা'রেফাহ, বাইরুত, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪০০ হি.

📘 সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান ও মর্যাদার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের আকীদা > 📄 দ্বিতীয়ত; সুন্নাহ থেকে সাহাবীগণের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ

📄 দ্বিতীয়ত; সুন্নাহ থেকে সাহাবীগণের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ


প্রথম হাদীস: আবু সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ بَيْنَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَبَيْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ شَيْءٌ فَسَبَّهُ خَالِدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : «لا تَسُبُّوا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِي، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَوْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ.
"খালিদ ইবন ওয়ালিদ ও আব্দুর রহমান ইবন 'আউফ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমার মধ্যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছিল। এক পর্যায়ে খালিদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে গালি দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তোমরা আমার সাহাবীগণের কাউকে গালি দিবে না। কারণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবে সে তাদের এক মুদ²⁴ বা তার অর্ধেক পরিমাণ দানের সাওয়াবও অর্জন করতে পারবে না।"²⁵
ইবন তাইমিয়্যা রহ, আস-সারিমুল মাসলুল (الصارم المسلول) নামক গ্রন্থে বলেন: অনুরূপভাবে ইমাম আহমদ রহ. ও অন্যান্য আলেমগণও বলেন: “প্রত্যেক এমন ব্যক্তি, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য পেয়েছেন এক বছর অথবা এক মাস অথবা এক দিন অথবা তাঁর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে শুধু তাকে দেখেছেন, তবে তিনিই তাঁর সাহাবী বলে গণ্য হবেন। যেহেতু তিনি তাঁর এ পরিমাণ সাহচর্য পেয়েছেন।
অতঃপর যদি বলা হয় কেন তিনি খালিদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে তাঁর সাহাবীগণকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন, যখন সেও তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে একজন ছিল? আর কেনই বা তিনি বললেন,
لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ
"তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবে তা তাদের এক মুদ বা তার অর্ধেক পরিমাণ দানের সমানও হবে না?”
তখন আমরা বলব: যেহেতু আব্দুর রহমান ইবন 'আউফ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুসহ তার মতো সাহাবীগণ ছিলেন প্রথম সারির সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত, যারা এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সঙ্গ দিয়েছেন, যে সময়ের মধ্যে খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ তার মতো সাহাবীগণ তার প্রতি শত্রুতা করতেন। আর অপরদিকে তারা (পূর্ববর্তীগণ) তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করেছেন বিজয়ের পূর্বে এবং যুদ্ধ করেছেন। আর তাদের মর্যাদা অনেক বেশি তাদের চেয়ে, যারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করেছেন বিজয়ের পরে এবং যুদ্ধ করেছেন। তবে তাদের উভয় গ্রুপের জন্যই আল্লাহ তা'আলা কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সুতরাং সহচর্যের দিক থেকে তারা হলেন স্বতন্ত্র, যেহেতু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ তার মতো সাহাবীগণ পূর্বের যুদ্ধে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করেন নি। কারণ, তিনি হলেন এমন সাহাবী, যিনি ইসলাম কবুল করেছেন হুদায়বিয়ার সন্ধির মতো বিজয়ের পরে এবং যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং তিনি তাকে ঐসব সাহাবীগণকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন, যারা তার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর্য লাভ করেছেন। আর যে ব্যক্তি রাসূলের সাহাবীর সাথে তার সম্পর্ক প্রথম সারির সাহাবীগণের সাথে খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সম্পর্কের ন্যায় আদৌ তাঁর সহচর্য লাভ করেন নি, এমনকি তার চেয়ে আরও অনেক দূরসম্পর্ক। ²⁶
দ্বিতীয় হাদীস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ... إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ».
"... নিশ্চয়ই সে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। আর তুমি কি জান, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। যার ফলে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা তোমাদের ইচ্ছামত কাজ কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। "²⁷
বলা হয়: তাঁর কথা: اعملوا )তোমরা কর)-এর মধ্যে যে আদেশ বা নির্দেশ রয়েছে, তা সম্মানের জন্য। "আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বদরী সাহাবী যে কাজই করুক, এ সত্য প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি তাকে পাকড়াও করবেন না।" আরও বলা হয়: "এর অর্থ হলো: তাদের মন্দ কাজগুলো সংঘটিত হয় ক্ষমা অবস্থায়। সুতরাং মনে হয় যেন তা সংঘটিত হয় নি।"²⁸
আর ইমাম নববী রহ. বলেন, "আলেমগণ বলেন, তার অর্থ হলো পরকালে তাদের জন্য ক্ষমার ব্যবস্থা থাকবে, তবে যদি তাদের কারও ওপর হদ তথা শরী'আত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি অথবা অন্য কোনো শাস্তি আবশ্যক হয়, তবে তা তার ওপর দুনিয়াতেই প্রয়োগ করা হবে। আর কাযী 'আইয়াদ্ব রহ, হদ বা শরী'আত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগের ওপর ইজমা হয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন। আর উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাদের কারও কারও ওপর হদ কায়েম করেছেন। কুদামা ইবন মায'উন বলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসতাহকে হদের আঘাত করেছেন, অথচ তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী।"²⁹
আর ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন: "আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। নিশ্চয় এ সম্বোধনটিতে এমন এক জাতিকে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা জানেন যে, তারা তাদের দীনকে ছেড়ে যাবে না; বরং তারা ইসলামের ওপর মারা যাবে। আর তাদের কেউ কেউ কখনও কখনও পাপে জড়িয়ে যাবে, যেমনিভাবে অন্যরা পাপে জড়িয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ঐ পাপের ওপর অব্যাহত রাখবেন না; বরং তিনি তাদেরকে খাঁটি তাওবা, ক্ষমা প্রার্থনা ও সৎকর্ম কারার তাওফীক দিবেন, যা এর প্রভাবকে মুছে দিবে। আর তারা ভিন্ন অন্যদেরকে ব্যতীত শুধু তাদেরকে এর দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। কারণ, তাদের মধ্যে এ বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়েছে আর তাদের জন্য ক্ষমার ব্যবস্থা রয়েছে। আর এটি তাদের দ্বারা সংঘটিত ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা অর্জিত হওয়াটাকে বাধাগ্রস্ত করে না, যেমনিভাবে তা দাবি করে না যে, ক্ষমার প্রতিশ্রুতির কারণে তারা ফরযসমূহ পালন করা বন্ধ করে দিবে। সুতরাং যদি নির্দেশসমূহ পালনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা লংঘিত হয়, তবে এর পরে তাদের সালাত, সাওম, হজ, যাকাত ও জিহাদের প্রয়োজন হয় না আর এটা অসম্ভব। "³⁰
তৃতীয় হাদীস: 'ইমরান ইবনুল হোসাইন রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «خير أمتي قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم. قال عمران: فلا أدري أذكر بعد قرنه قرنين أو ثلاثا».
"আমার যুগের উম্মত হলো আমার শ্রেষ্ঠ উম্মত, অতঃপর তাদের সাথে যারা সম্পৃক্ত হবে তারা শ্রেষ্ঠ, তারপর তাদের সাথে যারা সম্পৃক্ত হবে তারা শ্রেষ্ঠ। 'ইমরান বলেন: আমি জানিনা, তিনি তাঁর যুগের পরে দু'টি যুগের কথা উল্লেখ করেছেন, নাকি তিনটি যুগের উল্লেখ করেছেন।"³¹
চতুর্থ হাদীস: আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةٌ لأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ».
"তারকারাজি হলো আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন তারকারাজি চলে যাবে তখন আকাশের ওপর প্রতিশ্রুত বিপর্যয় নেমে আসবে। আর আমি হলাম আমার সাহাবীগণের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীগণের ওপর প্রতিশ্রুত বিপর্যয় নেমে আসবে। আর আমার সাহাবীগণ হলো আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবে তখন আমার উম্মতের ওপর প্রতিশ্রুত বিপর্যয় নেমে আসবে।"³²
পঞ্চম হাদীস: উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «أكرموا أصحابي، فإنهم خياركم».
"তোমরা আমার সাহাবীগণকে সম্মান কর; কারণ, নিশ্চয়ই তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম।"³³
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে:
«احفظوني في أصحابي».
"তোমরা আমাকে আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে হিফাযত কর।"³⁴
ষষ্ঠ হাদীস: ওয়াসেলা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا تزالون بخير ما دام فيكم من رآني وصاحبني، والله لا تزالون بخير ما دام فيكم من رأى من رآني وصاحب من صاحبني».
"তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো অবস্থায় থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বিদ্যমান থাকবে, যে আমাকে দেখেছে এবং আমার সহচর্য লাভ করেছে। আল্লাহর কসম! তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বিদ্যমান থাকবে, যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তিকে দেখেছে, যে আমাকে দেখেছে এবং যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তির সহচর্য লাভ করেছে, যে আমার সহচর্য লাভ করেছে।"³⁵
সপ্তম হাদীস: আনাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: آية الإيمان حب الأنصار، وآية النفاق بغض الأنصار».
"আনসারদেরকে ভালোবাসা ঈমানের লক্ষণ আর আনসারদেরকে ঘৃণা করা নিফাকীর লক্ষণ।"³⁶
আর অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের ব্যাপারেও বলেন, «الأنصار لا يحبهم إلا مؤمن، ولا يبغضهم إلا منافق، فمن أحبهم أحبه الله، ومن أبغضهم أبغضه الله ».
"আনসারদেরকে শুধু মুমিনরাই ভালোবাসে আর তাদেরকে শুধু মুনাফিকরাই ঘৃণা করে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসবে আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন। আর যে ব্যক্তি তাদেরকে ঘৃণা করবে আল্লাহও তাকে ঘৃণা করবেন।"³⁷
আর এ বিষয়ে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে তাদের মর্যাদার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। আর বিস্তারিতভাবে তাদের মর্যাদা ও ফযীলতের বিবরণ অনেক বেশি। ইমাম আহমদ রহ, দুই খণ্ডে লিখিত তার 'ফাযায়েলুস সাহাবা নামক গ্রন্থে প্রায় দুই হাজার হাদীস ও আছার উল্লেখ করেছেন। আর এ বিষয়ে এ গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী গ্রন্থ। ³⁸

টিকাঃ
²⁴ মুদ পরিমাপ যন্ত্রবিশেষ; তবে এখানে তুলনামূলক সামান্য পরিমাণকে বুঝানো হয়েছে。
²⁵ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আমি যদি অন্তরঙ্গ বন্ধু গ্রহণকারী হতাম, হাদীস নং ৩৪৭০; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: সাহাবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমকে গালি দেওয়া হারাম, হাদীস নং ৬৬৫২
²⁶ আস-সারিমুল মাসলুল, পৃষ্ঠা ৫৭৬。
²⁷ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: যুদ্ধবিগ্রহ, পরিচ্ছেদ: বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর ফযীলত, হাদীস নং ৩৭৬২; মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমের ফযীলত ও হাতেম ইবন আবি বালতা'আ'র কাহিনী, হাদীস নং ৬৫৫৭
²⁸ ইবন হাজার 'আসকালানী, মা'আরেফাতুল খিসালিল মুকাফফারা, পৃষ্ঠা ৩১, সম্পাদনা: জাসিম আদ-দাওসারী, প্রথম মুদ্রণ: ১৪০৪ হি.
²⁹ ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম: ১৬/৫৬, ৫৭
³⁰ ইবনুল কায়্যিম, আল-ফাওয়ায়েদ, আল-মাকতাবাতুল কায়্যিমা, প্রথম প্রকাশ, ১৪০৪ হি., পৃষ্ঠা ১৯。
³¹ সহীহ বুখারী, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ফযীলত, হাদীস নং ৩৪৫০; মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: সাহাবী, তৎপরবর্তী ও তৎপরবর্তীদের ফযীলত, হাদীস নং ৬৬৩৮
³² সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সাহাবীদের ফযীলত, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতি সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ এবং তার সাহাবীদের উপস্থিতি উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, হাদীস নং ৬৬২৯
³³ হাদীসখানা ইমাম আহমদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেন; আর হাকেম সহীহ সনদে বর্ণনা করেন; দেখুন: মেশকাতুল মাসাবীহ, ৩/১৬৯৫; আর মুসনাদে আহমদ, বিশ্লেষণে আহমদ শাকের: ১/১১২
³⁴ ইবন মাজাহ: ২/৬৪; আহমদ: ১/১৮; হাকেম: ১/১১৪; তিনি বলেন: হাদিসটি সহীহ; আর যাহাবীও হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন; আর আল-বুসাইরী বলেন: সনদের সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত; যাওয়ায়েদু ইবন মাজাহ: ৩/৫৩
³⁵ হাদীসখানা ইবন আবি শায়বা তার 'মুসান্নাফে' বর্ণনা করেছেন: ১২/১৭৮; ইবন আবি 'আসেম, আস-সুন্নাহ: ৩/৬৩০; তাবারানী, আল-কবীর: ২২/৮৫; আবু না'য়ীম, মা'আরেফাতুস সাহাবা: ১/১৩৩; হাফেয ইবন হাজার 'আসকালানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, আল-ফাতহ: ৭/৫; আর হাইসাম 'আল-মাজমা': (১০/২০) এর মধ্যে বলেন: তাবারানী এই হাদীসখানা অনেকগুলো সনদে বর্ণনা করেছেন, তন্মধ্যে একটি সনদ বিশুদ্ধ。
³⁶ সহীহ বুখারী: ৭/১১৩; সহীহ মুসলিম: ১/৮৫
³⁷ সহীহ বুখারী: ৭/১১৩; সহীহ মুসলিম: ১/৮৫ (হাদিসটি বারা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত)।
³⁸ এ গ্রন্থটি ড. অসিউল্ল্যাহ ইবন মুহাম্মদ আব্বাস সম্পাদনা করেছেন; আর তা ১৪০৩ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00