📄 ঘুমানোর সময়কার যিকির ও দুআসমূহ
১. দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে নিম্মোলিখিত সূরাগুলো পড়ে তাতে ফুঁ দেবে। তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে মাথা, মুখম-ল ও দেহের সামনের দিক থেকে। [এভাবে ৩ বার করবে]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, তিনি আল্লাহ, এক- অদ্বিতীয়। আল্লাহ হচ্ছেন 'সামাদ' (তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।"
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের কাছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, রাতের আঁধারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়, সেসকল ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।"
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষদের মধ্য থেকে।”
২. আয়াতুল কুরসী (একবার): ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُۥ حِفْظُهُمَا وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
"আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, গোটা সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আকাশসমূহে যা রয়েছে ও জমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর 'কুরসী' আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দু-টির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনিই সুউচ্চ, সুমহান।
৩. একবার পাঠ করবে:
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّnā وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّnā لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّnā وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّnā وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
"রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি নাজিল করা হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও (ঈমান এনেছেন)। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তাঁরা বলে, আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কিছু কামাই করে তার প্রতিফল তার ওপরই বর্তায়। 'হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের ওপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না; যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
৪. একবার বলবে: بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ. فَإِن أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
"আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা ওঠাব। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তার প্রতি দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন তাহলে আপনি তার হেফাজত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাজত করে থাকেন।
৫. একবার বলবে: اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا. وَإِنْ أَمَتَهَا فَاغْفِرْ لَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ
“হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন; তাহলে আপনি তার হেফাজত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান; তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।”
৬. একবার বলবে: اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
“হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আজাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।”
৭. একবার বলবে: بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أُمُوتُ وَأَحْيَا
“হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হব।”
৮. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদু লিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়বে।
سُبْحَانَ اللهِ - وَالْحَمْدُ لِلهِ - وَاللَّهُ أَكْبَرُ "আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ অতি মহান।
৯. একবার বলবে: اللَّهُمَّ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْأَرْضِ. وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ أَخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ.
“হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সবকিছুর ওপরে আপনার ওপরে কিছুই নেই, আপনি সর্বনিকটে আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদের অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।”””
১০. একবার বলবে:
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ
“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।”
১১. একবার বলবে:
اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءاً، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ
“হে আল্লাহ! হে দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, হে সবকিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ক ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা ও তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের ওপর কোনো অনিষ্ট করা অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।”
১২. সূরা সাজদা ও সূরা মুলক তিলাওয়াত করবে。
১৩. একবার বলবে:
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
“হে আল্লাহ, আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম, আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো (পাকড়াও) উপায় নেই মুক্তির। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নাবির ওপর।
টিকাঃ
[১৮০] সহীহ বুখারী: ৫০১৭ (৯/৬২ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২১৯২ (৪/১৭২৩)
[১৮১] সূরা বাকারা: ২৫৫ "যে ব্যক্তি সকালে তা বলবে সে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। -মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৬২।
[১৮২] সূরা বাকারা: ২৮৫-২৮৬। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন "যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা বাকারার শেষ দু'টি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। -সহীহ বুখারী: ৪০০৮ (৯/৯৪ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ৮০৭ (১/৫৫৪)
[১৮৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যদি তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করে, আবার ঘুমাতে ফিরে আসে; সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, = (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাওয়ার পর এতে কী পতিত হয়েছে? তারপর সে যখন শুইবে, তখন যেন এ দুআটি বলে। (হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার' 'صنف'।) সহীহ বুখারী: ৬৩২০ (১১/১২৬ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১৪ (৪/২০৮৪)
[১৮৪] সহীহ মুসলিম: ২৭১২ (৪/২০৮৩); মুসনাদে আহমাদ: ৫৫0২ (২/৭৯)
[১৮৫] রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর ঐ দুআটি বলতেন。
[১৮৬] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৪৫ (৪/৩১১); সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯৮
[১৮৭] সহীহ বুখারী: ৬৩২৪ (১১/১১৩ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১১ (৪/২০৮৩)
[১৮৮] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাযি. এবং ফাতেমা রাযি. কে বলেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দেব না; যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু'জনে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ, এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে। -সহীহ বুখারী: ৩৭০৫ (৭/৭১ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৯১)
[১৮৯] সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)
[১৯০] সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)
[১৯১] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৬৭ (৪/৩১৭); সুনানে তিরমিযী: ৩৬২৯
[১৯২] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা সাজদা এবং সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতেন না। -সুনানে তিরমিযী: ৩৪০৪; সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৭০৭
[১৯৩] রাসূলুল্লাহ স. বলেন, "যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের মতো ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বলবে ..... (বর্ণিত দুআটি)।
[১৯৪] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এ দুআটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন, যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও; তবে 'ফিতরাত' তথা দ্বীন ইসলামের ওপর মারা গেলে। -সহীহ বুখারী: ৬৩১৩ (১১/১১৩ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১০ (৪/২০৮১)