📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 সন্ধ্যাবেলার যিকির ও দুআসমূহ

📄 সন্ধ্যাবেলার যিকির ও দুআসমূহ


সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলারই জন্য, আর সালাت و সালাম পেশ করছি এমন নাবির ওপর, যাঁর পরে আর কোনো নাবি নেই।
১. আয়াতুল কুরসী (একবার): أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُۥ حِفْظُهُمَا وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ “আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, গোটা সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আকাশসমূহে যা রয়েছে ও জমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর 'কুরসী' আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দু-টির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনিই সুউচ্চ, সুমহান।”
২. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার করে পাঠ করবে।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, তিনি আল্লাহ, এক- অদ্বিতীয়। আল্লাহ হচ্ছেন 'সামাদ' (তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।"
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدٌ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের কাছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, রাতের আঁধারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়, সেসকল ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষদের মধ্য থেকে।
৩. একবার বলবে:
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ فِي النَّارِ وَعَذَابِ فِي الْقَبْرِ
"আমরা আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আর সকল রাজত্বও তাঁরই অধীনে সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে। সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে রব! আমি আপনার কাছে এ রাতের মাঝে ও এর পরে যে কল্যাণ রয়েছে; তা প্রার্থনা করি। আর এ রাত ও এর পরে যে অকল্যাণ রয়েছে; তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অলসতা ও বার্ধক্যের অনিষ্ট থেকে। হে রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামে আজাব হওয়া থেকে এবং কবরে আজাব হওয়া থেকে।”
৪. একবার বলবে: اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوْتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ "হে আল্লাহ! আমরা আপনারই অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং আপনারই অনুগ্রহে সকালে উপনীত হই। আর আপনারই ইচ্ছায় আমরা জীবিত থাকি, আপনারই ইচ্ছায় আমরা মারা যাব; আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হব।”
৫. সায়্যিদুল ইস্তিগফার (একবার): اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلَّا أَنْتَ “হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আর আমি আমার সাধ্যমতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে আপনার যে নেয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমাকারী নেই।”
৬. চারবার বলবে: اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَائِكَتِكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ “হে আল্লাহ আমি সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার 'আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর ওপর) যে, নিশ্চয়ই আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।”
৭. একবার বলবে: اللَّهُمَّ مَا أَمْسَى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشَّكْرُ “হে আল্লাহ! যে নেয়ামত আমার সাথে সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে, অথবা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও সাথে; এসব নেয়ামত কেবল আপনার নিকট থেকেই, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই। আর সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই প্রাপ্য।”
৮. তিনবার বলবে:
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالفَقْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، لَا إِلَهَ إلا أنت
"হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফর ও দারিদ্র্য থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।”
৯. সাতবার বলবে:
حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
"আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব।”
১০. একবার বলবে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي، وَمَالِي اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمُ احْفَظْنِي مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أَغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাজত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পেছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার ওপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের ওসীলায় আশ্রয় চাই আমার নিম্নদেশ হতে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে।”
১১. একবার বলবে: اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرَكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءاً، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ
“হে আল্লাহ! হে দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, হে সবকিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা ও তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের ওপর কোনো অনিষ্ট করা অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।”
১২. তিনবার বলবে: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ "আল্লাহর নামে, যাঁর নামে শুরু করলে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”
১৩. তিনবার বলবে: رَضِيتُ بِاللهِ رَبَّاً، وَبِالْإِسْلامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا "আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নাবিরূপে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।”
১৪. একবার বলবে: يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ أَصْلِحْ لِي شَأْنِيَ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ “হে চিরঞ্জীব, হে মহা-নিয়ন্ত্রক! আমি আপনার রহমতের ওসীলায় আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আর এক পলকের জন্যও আমাকে আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না।”
১৫. একবার বলবে: أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ: فَتْحَهَا. وَنَصْرَهَا، وَنُورَهَا، وَبَرَكَتَهَا، وَهُدَاهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কামনা করি এ রাতের কল্যাণ: বিজয়, সাহায্য, নূর, বরকত ও হিদায়াত। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই এ রাতের এবং এ রাতের পরের অকল্যাণ থেকে।
১৬. একবার বলবে: أَمْسَيْنَا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلامِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلاصِ، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ . وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً مُسْلِماً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ "আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিতরাতের ওপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহীদ)-এর ওপর, আমাদের নাবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর দ্বীনের ওপর, আর আমাদের পিতা ইবরাহীম আ. এর মিল্লাতের ওপর; যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
১৭. একশ' বার বলবে: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ "আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।”
১৮. দশবার বলবে (অথবা অলসতার সময় ১ বার) لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ "একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর। আর তিনি সকল কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।"
১৯. তিনবার বলবে: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ “আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের উসীলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।”

টিকাঃ
[১৫৯] আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি হাদীসটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, "কোনো গোষ্ঠী যারা যিকির করছে, তাদের সাথে ফজরের নামাজের পরে সূর্য ওঠা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে ইসমাঈল আ. এর বংশধরদের চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়। অনুরূপভাবে কোনো গোষ্ঠী যারা যিকির করছে, তাদের সাথে আসরের নামাজের পরে সূর্য ডুবা পর্যন্ত সময় বসা আমার কাছে চার জন দাস মুক্তির থেকেও বেশি প্রিয়।, -সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৬৭
[১৬০] সূরা বাকারা: ২৫৫ "যে ব্যক্তি সকালে তা বলবে সে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। -মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৬২।
[১৬১] হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সকাল ও সন্ধ্যা 'কুলহু আল্লাহু আহাদ' (সূরা ইখলাস), 'সূরা ফালাক' ও 'সূরা নাস' তিনবার করে বল, এটাই তোমার সবকিছুর জন্য যথেষ্ট হবে। -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮২ (৪/৩২২); সুনানে তিরমিযী: ৩৫৭৫ (৫/৫৬৭)
[১৬২] সহীহ মুসলিম: ২৭২৩ (৪/২০৮৮)
[১৬৩] সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯১ (৫/৪৬৬)
[১৬৪] "যে ব্যক্তি সকালবেলা এটি ('সায়্যিদুল ইসতিগফার') অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাসসহকারে পড়বে, সে ঐ দিনে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাসসহকারে পড়বে, সে ঐ রাতে সকালের আগ পর্যন্ত রাতে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। - সহীহ বুখারী: ৬৩০৬ (৭/১৫০)
[১৬৫.]"যে ব্যক্তি সকালে/সন্ধ্যায় তা চারবার বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন। -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭১ (৪/৩১৭); বুখারী- আল- আদাবুল মুফরাদ: ১২০১; সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ১
[১৬৬] "যে ব্যক্তি সকালবেলা উপরোক্ত দুআ পাঠ করল, সে যেন সেই দিনের শুকরিয়া আদায় করল। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলা এ দুআ পাঠ করল, সে যেন রাতের শুকরিয়া আদায় করল। -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৫ (৪/৩১৮); সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৭
[১৬৭] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯২ (৪/৩২৪); মুসনাদে আহমাদ: ২০৪৩০ (৫/৪২)
[১৬৮] "যে ব্যক্তি দুআটি সকালবেলা সাতবার এবং সন্ধ্যাবেলা সাতবার বলবে তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল চিন্তা-ভাবনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন। -ইবনুস সুমী: ৭১; আবু দাউদ: ৫০৮১ (৪/৩২১); যাদুল মা'আদ: ২/৩৭৬
[১৬৯] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১
[১৭০] সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯২; সুনানে আবু দাউদ: ৫০৬৭
[১৭১] যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং সন্ধ্যায় তিনবার এটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৮ (৪/৩২৩); সুনানে তিরমিযী: ৩৩৮৮ (৫/৪৬৫); সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ: ৪৪৬
[১৭২] "যে ব্যক্তি এ দুআ সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে বলবে, আল্লাহর কাছে তাঁর অধিকার হয়ে যায় তাকে কিয়ামাতের দিন সন্তুষ্ট করা। -মুসনাদে আহমাদ: = ১৮৯৬৭ (৪/৩৩৭); সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩১ (৪/৩১৮); সুনানে তিরমিযী: ৩৩৮৯ (৫/৪৬৫)
[১৭৩] মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৪৫, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আরও দেখুন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ১/২৭৩।
[১৭৪] আবু দাউদ: ৫০৮৪ (৪/৩২২); যাদুল মা'আদ: ২/৩৭৩
[১৭৫] মুসনাদে আহমাদ: ৪০৭, ১৫৩৬০, ১৫৫৬৩ (৩/৪০৬)
[১৭৬] “যে ব্যক্তি তা সকালে একশ' বার ও সন্ধ্যায় একশ' বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উৎকৃষ্ট কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না; তবে সে ব্যক্তি যে তার মতো বলবে বা তার চেয়ে বেশি আমল করবে।, -সহীহ মুসলিম: ২৬৯২ (৪/২০৭১)
[১৭৭] সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ২৪
[১৭৮] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৭৯৮; মুসনাদে আহমাদ: ৮৭১৯
[১৭৯] যে কেউ সন্ধ্যাবেলা এ দুআটি তিনবার বলবে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না। -মুসনাদে আহমাদ: ৭৮৯৮ (২/২৯০); সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৫৯০; ইবনুস সুন্নী: ৬৮

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 ঘুমানোর সময়কার যিকির ও দুআসমূহ

📄 ঘুমানোর সময়কার যিকির ও দুআসমূহ


১. দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে নিম্মোলিখিত সূরাগুলো পড়ে তাতে ফুঁ দেবে। তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে মাথা, মুখম-ল ও দেহের সামনের দিক থেকে। [এভাবে ৩ বার করবে]
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, তিনি আল্লাহ, এক- অদ্বিতীয়। আল্লাহ হচ্ছেন 'সামাদ' (তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।"
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের কাছে। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, রাতের আঁধারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়, সেসকল ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।"
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে; যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনদের মধ্য থেকে এবং মানুষদের মধ্য থেকে।”
২. আয়াতুল কুরসী (একবার): ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ مَن ذَا ٱلَّذِى يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُۥ حِفْظُهُمَا وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
"আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, গোটা সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আকাশসমূহে যা রয়েছে ও জমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর 'কুরসী' আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দু-টির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনিই সুউচ্চ, সুমহান।
৩. একবার পাঠ করবে:
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّnā وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّnā لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّnā وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّnā وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
"রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি নাজিল করা হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও (ঈমান এনেছেন)। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তাঁরা বলে, আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কিছু কামাই করে তার প্রতিফল তার ওপরই বর্তায়। 'হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের ওপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এমন কিছু বহন করাবেন না; যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
৪. একবার বলবে: بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ. فَإِن أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
"আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা ওঠাব। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তার প্রতি দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন তাহলে আপনি তার হেফাজত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাজত করে থাকেন।
৫. একবার বলবে: اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا. وَإِنْ أَمَتَهَا فَاغْفِرْ لَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ
“হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন; তাহলে আপনি তার হেফাজত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান; তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।”
৬. একবার বলবে: اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
“হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আজাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।”
৭. একবার বলবে: بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أُمُوتُ وَأَحْيَا
“হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হব।”
৮. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদু লিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়বে।
سُبْحَانَ اللهِ - وَالْحَمْدُ لِلهِ - وَاللَّهُ أَكْبَرُ "আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ অতি মহান।
৯. একবার বলবে: اللَّهُمَّ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْأَرْضِ. وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ أَخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ.
“হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব, জমিনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না, আপনি সর্বশেষ আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না, আপনি সবকিছুর ওপরে আপনার ওপরে কিছুই নেই, আপনি সর্বনিকটে আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদের অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।”””
১০. একবার বলবে:
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ
“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।”
১১. একবার বলবে:
اللَّهُمَّ عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءاً، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ
“হে আল্লাহ! হে দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, হে সবকিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ক ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা ও তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের ওপর কোনো অনিষ্ট করা অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।”
১২. সূরা সাজদা ও সূরা মুলক তিলাওয়াত করবে。
১৩. একবার বলবে:
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
“হে আল্লাহ, আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম, আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো (পাকড়াও) উপায় নেই মুক্তির। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নাবির ওপর।

টিকাঃ
[১৮০] সহীহ বুখারী: ৫০১৭ (৯/৬২ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২১৯২ (৪/১৭২৩)
[১৮১] সূরা বাকারা: ২৫৫ "যে ব্যক্তি সকালে তা বলবে সে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা বলবে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। -মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৬২।
[১৮২] সূরা বাকারা: ২৮৫-২৮৬। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন "যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা বাকারার শেষ দু'টি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। -সহীহ বুখারী: ৪০০৮ (৯/৯৪ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ৮০৭ (১/৫৫৪)
[১৮৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যদি তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করে, আবার ঘুমাতে ফিরে আসে; সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, = (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাওয়ার পর এতে কী পতিত হয়েছে? তারপর সে যখন শুইবে, তখন যেন এ দুআটি বলে। (হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার' 'صنف'।) সহীহ বুখারী: ৬৩২০ (১১/১২৬ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১৪ (৪/২০৮৪)
[১৮৪] সহীহ মুসলিম: ২৭১২ (৪/২০৮৩); মুসনাদে আহমাদ: ৫৫0২ (২/৭৯)
[১৮৫] রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর ঐ দুআটি বলতেন。
[১৮৬] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৪৫ (৪/৩১১); সুনানে তিরমিযী: ৩৩৯৮
[১৮৭] সহীহ বুখারী: ৬৩২৪ (১১/১১৩ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১১ (৪/২০৮৩)
[১৮৮] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাযি. এবং ফাতেমা রাযি. কে বলেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দেব না; যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু'জনে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ, এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে, তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে। -সহীহ বুখারী: ৩৭০৫ (৭/৭১ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৯১)
[১৮৯] সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)
[১৯০] সহীহ মুসলিম: ২৭২৬ (৪/২০৮৪)
[১৯১] সুনানে আবু দাউদ: ৫০৬৭ (৪/৩১৭); সুনানে তিরমিযী: ৩৬২৯
[১৯২] রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা সাজদা এবং সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতেন না। -সুনানে তিরমিযী: ৩৪০৪; সুনানে নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৭০৭
[১৯৩] রাসূলুল্লাহ স. বলেন, "যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের মতো ওযু করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বলবে ..... (বর্ণিত দুআটি)।
[১৯৪] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে এ দুআটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন, যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও; তবে 'ফিতরাত' তথা দ্বীন ইসলামের ওপর মারা গেলে। -সহীহ বুখারী: ৬৩১৩ (১১/১১৩ ফাতহুল বারীসহ); সহীহ মুসলিম: ২৭১০ (৪/২০৮১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00