📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 প্রয়োজনের তাগিদে যদি হতো...

📄 প্রয়োজনের তাগিদে যদি হতো...


প্রতিদিনই আমাদের প্রয়োজনীয় জরুরত সম্পন্ন করতে হয়। আর এসব ক্ষেত্রে মাসনূন যিকির ও দুআসমূহ আদায়ে আমাদের মাঝে প্রায়ই উদাসীনতা ও গাফিলতি লক্ষ করা যায়। অথচ আমরা একটু মনোযোগী হলে, একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে অতি সহজেই নিত্য দিনের কাজকর্মের শুরু এবং শেষে মাসনূন যিকির ও দুআসমূহ আদায় করতে পারি। এতে যেমন মহান আল্লাহর স্মরণে আমরা আমাদের অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারব, ঠিক তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ'র অনুসরণে অর্জন করতে পারব অধিক সাওয়াব ও উত্তম প্রতিদান। এ কথা পরম সত্য যে, একমাত্র মাসনূন যিকির আর দুআ আদায়ের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভ করে দুশ্চিন্তামুক্ত সুখী জীবন কাটাতে পারব।
আমরা যেন আমাদের প্রতিদিনকার কাজকর্মগুলো আল্লাহর স্মরণ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ'র অনুসরণে কাটাতে পারি। এ বইয়ের প্রায় বিষয়বস্তু শাইখ সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী রহ. রচিত 'হিসনুল মুসলিম মিন আযকারিল কিতাব ওয়াস্ সুন্নাহ' কিতাব হতে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ জ্ঞাতব্য যে, এ সংক্ষিপ্ত সংকলনে উল্লেখিত আযকার ও দুআসমূহ ছাড়াও অসংখ্য মাসনুন দুআ ও আযকার রয়েছে, যা বিভিন্ন কাজের সূচনা-সমাপ্তিতে পড়ে নেওয়া উত্তম। এতে পাঠক আমলের উত্তম কিছু খোরাক পাবেন। এগুলো আমরা এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি থেকে জেনে আমল করার চেষ্টা করব ইন-শাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই গ্রন্থ থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন, এবং আমাদেরকে তাঁরই আনুগত্যশীল কৃতজ্ঞ যাকেরীন বান্দাদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন!

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 যিকিরের ফযীলত

📄 যিকিরের ফযীলত


মহান আল্লাহ বলেন,
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ "অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।"
তিনি আরো বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱذْكُرُواْ ٱللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।”
তিনি আরো বলেন,
وَٱلذَّٰكِرِينَ ٱللَّهَ كَثِيرًا وَٱلذَّٰكِرَٰتِ أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا "আর আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী: আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।”
তিনি আরো বলেন,
وَاذْكُر رَّبَّكَ فِى نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ ٱلْجَهْرِ مِنَ ٱلْقَوْلِ بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْـَٔاصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْغَٰفِلِينَ "আর আপনি আপনার রবকে স্মরণ করুন মনে মনে, মিনতি ও ভীতিসহকারে, অনুচ্চ স্বরে; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর আপনি উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।”
যিকিরের গুরুত্ব বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا يَذْكُرُ رَبَّهُ، مَثَلُ الحَيِّ وَالمَيِّت “যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে, আর যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে না; তারা যেন জীবিত আর মৃত।”
مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْبَيْتِ "যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয়, আর যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয় না, তার দৃষ্টান্ত যেন জীবিত আর মৃত।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, "আমি কি তোমাদের তা জানিয়ে দেবো না? আমলের মধ্যে যা সর্বোত্তম, তোমাদের মালিক (আল্লাহর) কাছে যা অত্যন্ত পবিত্র, তোমাদের জন্য যা অধিক মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, (আল্লাহর পথে) সোনা-রূপা ব্যয় করার তুলনায় যা তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে তাদের হত্যা করা এবং তারা তোমাদের হত্যা করার চেয়েও অধিকতর শ্রেষ্ঠ?, সাহাবীগণ বললেন, অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি বললেন, (তা হলো) “আল্লাহ তাআলা'র যিকির।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, "আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করে, আমাকে সে তদ্রুপই পাবে; আর যখন সে আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথে থাকি। সুতরাং যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে; তাহলে আমি তাকে এর চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়; তাহলে আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হই। সে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হলে আমি তার দিকে এক বাহু পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দ্রুতবেগে যাই।”
আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের বিধি-বিধান আমার জন্য বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন; যা আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা জিহ্বা যেন সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকিরে সজীব থাকে।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করে, সে তার বিনিময়ে একটি সাওয়াব পায়, আর একটি সাওয়াব হবে দশটি সাওয়াবের সমান। আমি আলিফ-লাম-মীমকে একটি হরফ বলছি না। বরং 'আলিফ' একটি হরফ, 'লাম' একটি হরফ এবং 'মীম' একটি হরফ।"
উকবা ইবনে আমের রাযি. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। আমরা তখন সুফফায় (মাসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে প্রতিদিন সকালে বুতহান বা আকীক উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে কোনো প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট দু'টি উষ্ট্রী নিয়ে আসতে পছন্দ করে?, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা পছন্দ করি। তিনি বললেন, “তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পারো না যে, সকালে মাসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে দু'টি আয়াত জানবে (অথবা বলেছেন,) এটা তার জন্য দু'টি উষ্ট্রীর তুলনায় উত্তম। আর তিনটি আয়াত তিনটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম। আর (শুধু উষ্ট্রীই নয়; বরং একইসাথে) সমসংখ্যক উট লাভ করা থেকেও তা উত্তম হবে।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনো বৈঠকে (মজলিসে) বসেছে, যেখানে সে আল্লাহর যিকির করেনি; তার সে বসাই আল্লাহর নিকট থেকে তার জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো শয়নে শুয়েছে, যেখানে সে আল্লাহর যিকির করেনি; তার সে শোয়াই আল্লাহর নিকট থেকে তার জন্য দুর্ভাগ্যের কারণ হবে।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, "যদি কোনো দল কোনো বৈঠকে বসে আল্লাহর যিকির না করে এবং তাদের নাবির ওপর দুরুদও পাঠ না করে; তাহলে তাদের সেই বৈঠক তাদের জন্য কমতি ও আফসোসের কারণ হবে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যদি কোনো একদল লোক এমন কোনো বৈঠক থেকে উঠে, যেখানে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি; তবে তারা যেন গাধার লাশের কাছ থেকে উঠে আসল। আর এরূপ মজলিস তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px