📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 সাহাবীদের স্বপ্নের বাস্তবতা

📄 সাহাবীদের স্বপ্নের বাস্তবতা


১। ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান রাযি. এর বাসভবন ঘেরাও করল থকন উসমান রাযি. আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম, রাসূল স. বললেন, উসমান! তুমি আমাদের সাথে ইফতার করবে। সেদিনই তিনি ইফতারের আগেই শাহাদত বরণ করেন)।
২। আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশআরী রাযি. বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গিয়ে দেখলাম যে পাহাড়ের উপর রাসূল স. ছিলেন। তার পাশে আবু বকর রাযি.। আবু বকর রাযি. তার হাত দিয়ে হযরত ওমর রাযি. এর দিকে ইশারা করছেন। আমি মূসা আশআরী রাযি. এর কথা শুনে বললাম, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন..। আল্লাহর শপথ ওমর রাযি. তো মারা যাবেন। আচ্ছা আপনি কি ওমর রাযি. কে বিষয়টি লিখে জানাবেন? আবু মূসা রাযি. বলেন, আমি ওমর রাযি. কে তার জীবদ্ধশায় তার নিজের মৃত্যুর খবর জানাবো এটা কি করে হয়? এ কয়েকদিন পরেই স্বপ্নটি সত্যে পরিণত হলো। ওমর রাযি. শাহাদাত বরণ করলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোন ব্যাখ্যা দেওয়ারও কোন সুযোগ নেই।
ভালো স্বপ্নের কী বাস্তবায়ন হয়
যে স্বপ্নের ফলাফল ভালো তা বাস্তবায়নে দেরী হয়। আর যার ফলাফল খারাপ তার কোন দেরী হয় না। দেখুন হযরত ইউসুফ আ. স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র-সূর্য আর এগারোটি নক্ষত্র তাকে সিজদা করছে। তার এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন অনেক দেরীতে হয়েছে।
ইমাম ইবনে সীরিন রহ. এর দরবারে একজন নারী তার একটি শিশুর ব্যাপারে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানার জন্য উপস্থিত হলেন। স্বপ্নের বর্ণনা শুনে এক বোকা লোক বলে উঠলো, সে তো পেট ফুলে মারা যাবে। আশ্চর্য! শিশুটি তৎক্ষণাৎ পেটের পীড়ায় চিৎকার করতে করতে মারা গেল।
আমরা এসব উদাহরণ থেকে বুঝতে পারলাম যে, খারাপ স্বপ্নের বাস্তবায়ন খুব তাড়াতাড়ি হয়ে থাকে।
মক্কী জীবনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার স্বপ্নে দেখলেন যে, আবু জাহেল জান্নাতে ঘোরাফেরা করছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবলেন তাহলে হয়ত আবু জাহেল ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু সে ইসলাম গ্রহণ করলো না। মক্কা বিজয়ের যখন আবু জাহেলের ছেলে ইকরিমা রাযি. ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা ছিল আমার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

টিকাঃ
[১২৩] আল-কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবিলির রুইয়া, পৃঃ ২৪

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 স্বপ্ন ব্যাখ্যার মূলনীতি

📄 স্বপ্ন ব্যাখ্যার মূলনীতি


ইমাম বাগাভী রহ. বলেন, স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার মূলনীতি কয়েক প্রকার হতে পারে। প্রথমত: আল কুরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা। দ্বিতীয়ত: হাদীস দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা। তৃতীয়ত: মানুষের মাঝে প্রচলিত বিভিন্ন প্রসিদ্ধ সহিহ উক্তি দিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা। চতুর্থত: কখনো বিপরীত অর্থ গ্রহণ নীতির আলোকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 স্বপ্ন বিড়ম্বনা ও করণীয়

📄 স্বপ্ন বিড়ম্বনা ও করণীয়


স্বপ্ন বিড়ম্বনা
অনেকের উপর দুষ্টু জিন দূর থেকে আছর করে থাকে। তার প্রতফিলন হিসেবে সে মানুষকে আজেবাজে স্বপ্ন দেখায়। কখনো বা ভীতি প্রদর্শন করে। কখনো বা লোভ ও আশা দেয়। যেসব স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয় সেটা বাহ্যত ভালো মনে হলেও তা অকল্যাণ মুক্ত নয়। আবার কিছু স্বপ্ন এমনও আছে শয়তান যেগুলোর পুনরাবৃত্তি মানুষের সামনে বার বার করে থাকে। সেটা যদি হয় কোন ভীতিকর স্বপ্ন তাহলে তো বিড়ম্বনার আর শেষ থাকে না।
এতে করণীয় কী
এ ধরনের বাজে স্বপ্ন থেকে মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছে জিন তাড়ানোর জন্য যে রুকইয়াহ রয়েছে তার আমল করা। আবার কিছু স্বপ্ন এমনও রয়েছে যেগুলো কারো উপর কুদৃষ্টি লাগলে সে তা দেখতে পায়। এ ধরনের স্বপ্ন দেখলে বদনযরের রুকইয়াহ করলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। আবার এমনও কিছু স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো কারো উপর যাদু করা হলে সে তা দেখতে পায়। মোটকথা স্বপ্নবিড়ম্বনা যে ধরনেরই হোক তা মুক্তি লাভের জন্য স্বপ্নের ধরণ বিবেচনা করা সে অনুপাতে রুকইয়াহ করলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00