📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 স্বপ্ন সম্বন্ধে কুরআন কি বলে

📄 স্বপ্ন সম্বন্ধে কুরআন কি বলে


إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيْهِ يَابَتِ إِنِّي رأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سْجِدِينَ قَالَ يُبْنَى لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَنَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
অর্থ: যখন ইউসুফ পিতাকে বলল: পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সূর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি। তিনি বললেন: বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يُبْنَى إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَابَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللهُ مِنَ الصُّبِرِيْنَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَ تَلَّهُ لِلْجَبِيْنِ وَنَادَيْنُهُ أَنْ يَابْرُ هِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴾
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহীম তাকে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি: এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বলল: পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ্ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইবরাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
মক্কা বিজয়ের পূর্বে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্বপ্নের মাধ্যমেই আগام সংবাদ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ امِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَ مُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِنْ دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ্ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ্ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়। আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে মক্কা বিজয়ের আগাম সংবাদ স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। আর সে স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করেছেন।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 ভাল ও খারাপ স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে

📄 ভাল ও খারাপ স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে


হাদীসে বর্ণিত আছে,
আবু কাতাদা রাযি. এর সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ তেকে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ খারাপ স্বপ্নে দেখে তখন সে যেন তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। তাহলে তা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না。
ভালো স্বপ্ন দেখলে শুভাকাংক্ষী ছাড়া অন্য কারো কাছে বলা ঠিক নয়। এ জন্যই ইয়াকুব আ. তার ছেলে ইউসুফ আ. কে বলেছিলেন,
قَالَ يُبْنَى لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَنَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ) তিনি বললেন, বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
অপছন্দনীয় বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে
খারাপ স্বপ্ন দেখার পর বাম দিকে তিন বার থুথু নিক্ষেপ করতে হবে এবং আউযুবিল্লাহ... পড়তে হবে। এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে শুতে হবে। আর কারো কাছে এই স্বপ্ন প্রকাশ করবে এবং নিজেও এর ব্যাখ্যা করবে না। হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে আর আমি তার পেছনে পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সহাস্য মুখে ধমক দিয়ে বললেন, ঘুমের মধ্যে শয়তান তোমাদের কারো সাথে যদি দুষ্টুমি করে তবে তা মানুষের কাছে বলবে না。

টিকাঃ
[১১৬] সহীহুল বুখারী, হাদীস নং-৬৯৮৬, ই: ফা: ৬৫১৫
عن أبي قتادة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الصالحة من الله، والحلم من الشيطان، فإذا حلم فليتعوذ منه، وليبصق عن شماله، فإنها لا تضره»
[১১৭] মুসলিম হাদীস নং-২২৬৮ عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِأَعْرَابِيَ جَاءَهُ فَقَالَ: إِنِّي حَلَمْتُ أَنْ رَأْسِي قُطِعَ فَأَنَا أَتَّبِعُهُ، فَزَجَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «لَا تُخْبِرُ بِتَلَعَبِ الشَّيْطَانِ بك في المنام

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 স্বপ্নের ব্যাখ্যা কার কাছে জানবেন

📄 স্বপ্নের ব্যাখ্যা কার কাছে জানবেন


এমন ব্যক্তি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার রাখেন যিনি কোরআন-হাদীসের জ্ঞান রাখেন এবং স্বপ্নব্যাখ্যার মূলনীতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। সাথে সাথে তাকে মানবদরদী ও সকলের প্রতি কল্যাণকামী মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ স্বপ্নে দেখলে তা আলিম কিংবা কল্যাণকামী ব্যতীত অন্য কারো কাছে বর্ণনা করবে না。

টিকাঃ
[১১৮] আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম, হাদীস নং-৮১৭৭ إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا فَلَا يُحَدِّثُ بِهَا إِلَّا نَاصِحًا أَوْ عَالما ان الله

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি স্বপ্নের তাবীর (ব্যাখ্যা)

📄 হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি স্বপ্নের তাবীর (ব্যাখ্যা)


স্বপ্নে দুধ দেখা
সহীহুল বুখারীর এক বর্ণনায় রয়েছে, ইবনে ওমর রাযি. বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার কাছে একটি দুধের পেয়ালা পেশ করা হলো। আমি তা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করলাম। তৃপ্তির চিহ্ন আমার নখ দিয়ে প্রকাশ পেতে লাগলো। অতঃপর অবশিষ্টাংশ ওমর রাযি. কে দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কি ব্যাখ্যা দিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইলম।
স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা করবে বাস্তবায়ন সেরকম হতে পারে
হাদীসে এসেছে, আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বপ্ন যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয় সেভাইে বাস্তবায়ন হয়। যখন তোমাদের কেউ স্বপ্নে দেখবে তখন আলেম অথবা কল্যাণকামী ব্যতীত অন্য কারো কাছে বর্ণনা করবে না。
অন্য হাদীসে এসেছে, ইমাম আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ প্রমূখ আবু রাজিন আল উকাইলী থেকে বর্ণনা করেন,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বপ্ন হলো উড়ন্ত পায়ের মত- (য ভালো খারাপ উভয়ের সম্ভাবনা রাখে) যতক্ষণ না তার ব্যাখ্যা করা হয়। যখন একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তা বাস্তবায়িত হয়।

টিকাঃ
[১১৯] সহীহুল বুখারি, হাদীস নং-৬৯৮৭, মুসলিম, হাদীস নং- ২২৬৪ رؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءا من النبوة
[১২০] সহীহুল বুখারী হাদীস নং-৭০০৬ ابن عمر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «بينا أنا نائم أتيت بقدح لبن، فشربت منه، حتى إني لأرى الري يخرج من أظفاري، ثم أعطيت فضلي - يعني - عمر» قالوا: فما أولته يا رسول الله؟ قال: «العلم»
[১২১] আল মুস্তাদরাক লিল হাকিম, হাদীস নং-৮১৭৭ إِنَّ الرُّؤْيَا نَفَعُ عَلَى مَا تُعَبِّرُ، فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا فَلَا يُحَدِّثْ بِهَا إِلَّا نَاصِحًا أَوْ عَالِمٌ
[১২২] আবু দাউদ, হাঃ ৫০২০, তিরমিজি, হাঃ ২২৭৮, ইবনে মাজাহ, হাঃ ৩৯১৪ الرؤيا على رِجْلِ طَائِرٍ، ما لم تُعْبَرَ، فَإِذا عُبِرَتْ وقَعَت

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00