📄 স্বপ্নের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে
ইসলাম হলো, আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতীর জন্য পরিপূর্ণ এক জীবনব্যবস্থা। তাই তো ইসলাম মানুসের স্বপ্ন সম্পর্কেও উদাসীন থাকেনি। স্বপ্ন সম্পর্কে অবশ্যই ইসলামের একটি নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে। এ বক্তব্য কোন দর্শক বা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মিলে যাওয়া জরুরি নয়। তবে যদি মিলেও যায় তাতে কোন সমস্যা নেই। বিশিষ্ট স্বপ্নবিশারদ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ. বলেছেন, স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। ১। মনের কল্পনা। ২। শয়তানের কুমন্ত্রণা। ৩। আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।
📄 স্বপ্নের ধরণ কেমন হয়
অবশ্যই স্বপ্ন হলো ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে একচোখা বস্তুবাদীরা অন্য রকম ব্যাখ্যা করে। তাদের থিউরি মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন তার মস্তিষ্ক তার স্মৃতিগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে, যাচাই-বাছাই করে।
কিছু পুনর্বিন্যাস করে। তারপরে স্মৃতির ফাইলে যত্ন করে রেখে দেয়। এই কাজটি তখনই করে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। মস্তিষ্কের এই কর্মপদ্ধতিকেই আমরা স্বপ্ন হিসেবে বুঝি।
ইসলাম বলে স্বপ্ন তিন প্রকার-
হাদীসে বর্ণিত আছে, আবু হুরাইরা রাযি. বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, স্বপ্ন তিন প্রকার। ১। আল্লাহর পক্ষ হতে সুসংবাদ। ২। বান্দার মনের খেয়াল। ৩। শয়তানের পক্ষ হতে ভীতিপ্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব তোমাদের মধ্য হতে কেউ পছন্দনিয়ম কোন স্বপ্ন দেখলে তা ইচ্ছা করলে অপরের কাছে ব্যক্ত করতে পার।
📄 স্বপ্ন সম্বন্ধে কুরআন কি বলে
إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيْهِ يَابَتِ إِنِّي رأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سْجِدِينَ قَالَ يُبْنَى لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَنَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
অর্থ: যখন ইউসুফ পিতাকে বলল: পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সূর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি। তিনি বললেন: বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يُبْنَى إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَابَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللهُ مِنَ الصُّبِرِيْنَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَ تَلَّهُ لِلْجَبِيْنِ وَنَادَيْنُهُ أَنْ يَابْرُ هِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴾
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহীম তাকে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি: এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বলল: পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ্ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইবরাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
মক্কা বিজয়ের পূর্বে আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে স্বপ্নের মাধ্যমেই আগام সংবাদ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ امِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَ مُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِنْ دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ্ তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ্ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়। আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে মক্কা বিজয়ের আগাম সংবাদ স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। আর সে স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করেছেন।
📄 ভাল ও খারাপ স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে
হাদীসে বর্ণিত আছে,
আবু কাতাদা রাযি. এর সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ তেকে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ খারাপ স্বপ্নে দেখে তখন সে যেন তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। তাহলে তা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না。
ভালো স্বপ্ন দেখলে শুভাকাংক্ষী ছাড়া অন্য কারো কাছে বলা ঠিক নয়। এ জন্যই ইয়াকুব আ. তার ছেলে ইউসুফ আ. কে বলেছিলেন,
قَالَ يُبْنَى لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا إِنَّ الشَّيْطَنَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ) তিনি বললেন, বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
অপছন্দনীয় বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে
খারাপ স্বপ্ন দেখার পর বাম দিকে তিন বার থুথু নিক্ষেপ করতে হবে এবং আউযুবিল্লাহ... পড়তে হবে। এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে শুতে হবে। আর কারো কাছে এই স্বপ্ন প্রকাশ করবে এবং নিজেও এর ব্যাখ্যা করবে না। হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে আর আমি তার পেছনে পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সহাস্য মুখে ধমক দিয়ে বললেন, ঘুমের মধ্যে শয়তান তোমাদের কারো সাথে যদি দুষ্টুমি করে তবে তা মানুষের কাছে বলবে না。
টিকাঃ
[১১৬] সহীহুল বুখারী, হাদীস নং-৬৯৮৬, ই: ফা: ৬৫১৫
عن أبي قتادة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرؤيا الصالحة من الله، والحلم من الشيطان، فإذا حلم فليتعوذ منه، وليبصق عن شماله، فإنها لا تضره»
[১১৭] মুসলিম হাদীস নং-২২৬৮ عَنْ جَابِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِأَعْرَابِيَ جَاءَهُ فَقَالَ: إِنِّي حَلَمْتُ أَنْ رَأْسِي قُطِعَ فَأَنَا أَتَّبِعُهُ، فَزَجَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «لَا تُخْبِرُ بِتَلَعَبِ الشَّيْطَانِ بك في المنام