📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 ওয়াসওয়াসা কী?

📄 ওয়াসওয়াসা কী?


ওয়াসওয়াসা মানে হলো কুমন্ত্রণা। যা শয়তানের একটি বড় হাতিয়ার। কত মানুষকে যে এরা ধ্বংস করেছে এই হাতিয়ার দিয়ে তার ইয়ত্তা নেই। সব রোগের সমাধানে রোগীর চিকিৎসা গ্রহণের আগ্রহ থাকে; কিন্তু ওয়াসওয়াসা এমন ভিন্ন প্রকৃতির রোগ; যার রোগী রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওয়াসওয়াসায় ভুগতে থাকে। মনে করে, এ রোগ আমার জীবন বিপন্ন করে দিবে। এর কোন চিকিৎসা নেই।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 যে সর্বদা কনফিউশনে থাকে!

📄 যে সর্বদা কনফিউশনে থাকে!


এই ধরনের রোগী সবসময় কনফিউশান ফিল করে যে, আমার যে চিকিৎসা দিলো তাতে কি আমার এই অবস্থার কোন উন্নতি হবে?
সর্বদা একটি বিষণ্ণতা ও অস্থিরতার মধ্যে তার সময় অতিবাহিত হয়। কিন্তু তার কাছে এমন কোন সমাধান থাকে না যার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারে। আমি এমন লোকও দেখতে পেয়েছি যে, তাদেরকে বার বার বলা হয়েছে যে, আপনি এই আমল করতে থাকুন। কিন্তু সকালে বললে বিকালবেলা আবার উপস্থিত! হুজুর কি করবো, আমার এই সমস্যা ভালো হবে তো?
-হুজুর কিছুই বুঝতেছি না। আপনি যে আমল দিয়েছেন সেগুলো করলেই কি চলবে, না কী আরো কিছু আমল করতে হবে।
ওয়াসওয়াসার বাস্তবতা এমন হয়ে থাকে একটি সত্য ঘটনাঃ আমার এক সম্মানিত উস্তাযের কাছে শুনেছি, কোন এক মাদ্রাসার ছাত্র এই ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ছিল। তার ওয়াসওয়াসা এতটাই প্রকট ছিল যে, ওযুর সময় হাত অন্তত ত্রিশবার ধৌত করতো! অনুরূপ মাথাও অন্তত ত্রিশবার মাসেহ করতো!
অবশেষে বলতো, ধুর! এত মাসেহ করে কি লাভ? একবার ধুয়ে নিলেই তো চলে। এই বলেই মাথাটা পানির মধ্যে ডুবিয়ে দিতো।
আল্লাহু আকবার! ওয়াসওয়াসা এমনই বিভ্রান্তিতে ফেলে মানুষকে।
আমার চেনা এক ভাই
ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত আমার পরিচিত এক ভাইয়ের ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা হলো, তিনি বহুদিন যাবত বিভিন্ন ধরনের কুচিন্তা-দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত। আমার সাথে প্রায় সময় ফোনে আলাপ হয়। এমনকি কোন মাসাআলা জানার প্রয়োজন হলে আমার কাছে ফোনে জানতে চায়। আমি তাকে বারবার আমল বাতলে দিয়েছি কিন্তু দু চারদিন পরে আবার তার সমস্যার কথা এমনভাবে বলে যে, ইতিপূর্বে মনে হয় যেন এ বিষয়ে তার সাথে কোন কথাই হয় নি।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে

📄 ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে


মূলতঃ ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ
অর্থ: যারা মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে শয়তান উপস্থিত হয়ে বলে, কে এইগুলো সৃষ্টি করলো? কে ঐগুলো বানালো?
অবশেষে তার মনে এই ওয়াসওয়াসা দেয় যে, কে তোমার প্রভূকে সৃষ্টি করলো?
তাই তোমাদের কারো যদি এমনটা হয় তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং এসব চিন্তা থেকে ফিরে আসবে। কেউ যদি ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত হয় তাহলে শয়তান তাকে প্রথমে ঈমান বিষয়ক বিভিন্ন সংশয় তার অন্তরে সৃষ্টি করতে থাকে। শয়তানের প্রথম লক্ষ্য থাকে তার ঈমানের মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি করা।
হাদীসে বর্ণিত আছে, একবার কতিপয় সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এসে অভিযোগ করলেন যে, আমাদের অন্তরে এমন এমন কিছু কল্পনা আসে যা বর্ণনা করা আমাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, বাস্তবেই কি তোমাদের এমনটা হয়? সকলে বললেন, হ্যাঁ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা স্পষ্ট ঈমানের আলামত। শয়তান চায় না কোন মানুষ আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থেকে তার নৈকট্য অর্জন করুক। যাকে যেভাবে পারে সেভাবে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা করে থাকে। আমার কাছে ওয়াসওয়াসার যত রোগী অভিযোগ করেছে সেগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তাদেরকে সাধারণত দুই ধরনের অভিযোগ করতে শুনেছি।
এক. আল্লাহ, রাসূল, ইসলাম, কোরআন ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন সংশয়। দুই. কাজকর্ম এলোমেলো হয়ে যাওয়া।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 এই রোগের লক্ষণসমূহ

📄 এই রোগের লক্ষণসমূহ


কোন কাজ করলে মনে হয় সেটা করেনি বা শুদ্ধ হয় নি। আবার না করলেও মনে হয় করেছে কিনা? এভাবে তারা মহা সংশয় ও হতাশার মধ্যে থাকে।
> হৃদকম্পনের হার বেড়ে যাওয়া।
> যৌন আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে অনুভব হওয়া।
> লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
> মাইগ্রেন সমস্যা দেখা দেওয়া।
> সবসময় কোনও কথা বা কাজে আতংকিত থাকা।
> ঘুমে সমস্যা হয় এবং ওজন কমে যাওয়া।
> কোন কথা বা কাজে মনোযোগ স্থির থাকে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00