📄 বড়ই পাতার গোছল
গোছলের নিয়মঃ প্রথমে সাতটি যে কোনো কচি বড়ই পাতা নিতে হবে। এরপর এগুলো পিষে একটি পাত্রে পানিতে গুলিয়ে নিতে হবে। এরপর-
✓ সূরা ফাতেহা ✓ আয়াতুল কুরছি ✓ সূরা ফালাক্ক ✓ সূরা নাছ ✓ দুরুদ শরীফ
সাতবার করে পাঠ করে সেই পানিতে ফুঁক দিতে হবে। এরপর এই পানি রোগীকে তিনদিন/সাতদিন পর্যন্ত রোগীর সিচুয়েশান অনুযায়ী গোছল করাতে হবে এবং পান করাতে হবে। এতে পানি মিশানো যাবে না। প্রতিদিন নতুন করে তৈরি করতে হবে।
📄 যাদুতে আক্রান্ত হলে করণীয় কী?
কেউ যদি যাদু টোনায় আক্রান্ত হয়; তার সর্ব প্রথম করনীয় হলো, ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিনতে কাজ করা। তাড়াহুড়া না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ বা সিম্পটম গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণকরা। যদি লক্ষণগুলো সঠিক প্রমাণিত হয় তবে সর্বপ্রথম ও উত্তম কাজ হলো, কোনো যাদুকর, জ্যোতিষী, কবিরাজ, ওঝা, ও মাজারকেন্দ্রিক ফকীরদের কাছে না যাওয়া। এবং যারা তাবিজ-কবজ দেয় তাদের কাছে না যাওয়া এবং তাবিজ কবজ গ্রহণ না করা। বরং কোনো আলিমে দ্বীনের কাছে যাওয়া। যিনি শরীয়াহ নির্দেশিত চিকিৎসা, কুরআনের আয়াত দ্বারা রুকইয়াহ পাঠ করবেন, তার কাছে যাওয়া। এবং তাদের অনুসন্ধান করা। এবং ধৈয্যের সাথে আল্লাহর কাছে দুয়া করা।
📄 যাদুতে আয়ওয়া খেজুর খাওয়া
হাদীস: সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযি. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে একটি আযওয়াহ (মদিনায় উৎপন্ন উৎকৃষ্ট খেজুর) খেজুর খাবে, রাত্রি না আসা পর্যন্ত ওই দিনে সে আর কোনো বিষ অথবা জাদুটোনা দ্বারা আক্রান্ত হবে না,। অন্য বর্ণনায় এসেছে, "সাতটি খেজুর।”
টিকাঃ
[১০৯] সহিহুল বুখারী হাদীস নং ৫৭৬৮
📄 যাচেনা থেকে কীভাবে বেঁচে থাকবেনা
{এক} সর্বদা অযু অবস্থায় থাকা। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে ফেরেশতা নির্ধারিত থাকে।
হাদীস: ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের অঙ্গসমূহকে পবিত্র রাখ, আল্লাহ্ তায়ালা তোমাদেরকে পবিত্র করবেন। কেননা, যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় রাত্রি যাপন করবে, পোষাকের ন্যায় তার শরীরে এক হেফাযতকারী ফেরেশতা নির্ধারণ করে দিবেন। রাতের যে মুহূর্তে সে পার্শ পরিবর্তন করবে তখনই ফেরেশতা তার জন্য প্রার্থনা করবে যে, হে আল্লাহ্ তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো, সে অযু অবস্থায় ঘুমিয়েছে।
হাদীস: বারা'আ ইবনু আযিব রাযি. বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সলাতের উযুর মত উযু করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবে-
اللهم أسلمت وجهي إليك، وفوضت أمري إليك، وألجأت ظهري إليك، رغبة ورهبة إليك، لا ملجأ ولا منجا منك إلا إليك، اللهم آمنت بكتابك الذي أنزلت وبنبيك الذي أرسلت
(আল্লাহুম্মা আসলামতু অজহি ইলাইকা। অফাওজতু আমরিই ইলাইকা। অআলজা'তু জহরিই ইলাইকা রগবাতান ও রহবাতান ইলাইকা। লা মুলজা'ন অলা মুনজান মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আল্লহুম্মা আ-মান-তু বিকিতা-বিকা। আল্লাজি আনঝালতা অবি নাবিয়্যিকাল্লাজি আরসালতা।)
“হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার নিকট সমর্পন করলাম। আমার সকল কাজ আপনার নিকট অর্পন করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ব্যতীত প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থল ও পরিত্রানের স্থান নেই। এহ আল্লাহ আমি ঈমান আনলাম, আপনার অবর্তীণ কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নাবির প্রতি,।
অতঃপর যদি সেই রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর তোমার মৃত্যু হবে।
{দুই} জামাতের সাথে সালাত আদায় করা। জামাতের সাথে সালাত আদায় করলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হওয়া যায়। আর সালাত থেকে গাফিল হলে শয়তান তাকে বশীভূত করে ফেলে।
আবু দারদা রাযি. বর্ণনা করেন যে, নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোন গ্রামে অথবা মরুভূমিতে কমপক্ষে তিনব্যক্তি বিদ্যমান থাকে, অতঃপর তারা যদি জামাতের সাথে সলাত আদায় না করে, তবে শয়তান তাদের বশীভূত করে নেয়। তাই তোমরা জামাতের সাথে সলাত আদায়ের গুরুত্ব দিও, কেননা বাঘের শিকার সেই বকরীই হয়ে থাকে যে পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়。
{তিন} তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করা। যে ব্যক্তি নিজেকে যাদুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে চায় সে যেন রাত্রির কিছু অংশ হলেও রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করে। এ থেকে একেবারে বিমুখ না থাকে। কেননা তা থেকে বিমুখ না থাকা শয়তানের প্রভাব পরার কারণ হয়ে থাকে। আর শয়তান যদি পেয়ে বসে তবে যাদুক্রিয়া সহজ হয়।
ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত যে, রাসুল্ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তির বিষয়ে অভিযোগ করা হয় যে, সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলো। এমনকি ফজরের সলাতও আদায় করতে পারেনি। অতপর নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সয়তান তার কানে প্রসাব করে দিয়েছে。
ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি বিতর নামাজ আদায় না করেই সকাল করে সে যেন মাথায় একচল্লিশ গজ বিশিষ্ট রশি নিয়ে সকাল করে。
{চার} শোয়ার পূর্বে আয়াতুল কুরছি পড়া। ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ওযু করতে হবে। এরপর আয়াতুল কুরছি পাঠ করে আল্লাহর জিকির করতে করতে ঘুমিয়ে পড়বে।
হাদিসঃ বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, শয়তান আবু হুরায়রা রাযি. কে বললো যে ব্যক্তিই শোয়ার পূর্বে আয়াতুল কুরছি পড়ে, সেই রাতে পাঠকারী ব্যক্তির জন্য আল্লাহ্ একজন ফেরেশতা জিযুক্ত করে দেন। আর সয়তান সেই রাতে সেই ব্যক্তির কাছে সকাল পর্যন্ত যেতে পারে না। নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ বর্ণনা সবীকার করে বলেন, হে আবু হোরায়রা! শয়তান তোমাকে সত্যই বলেছে, অথছ সে মিথ্যাবাদী।
{পাঁচ) সলাত দ্বারা বৈবাহিক জীবন শুরু করা। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন যে, যখন তোমার কাছে বাসর রাতে তোমার স্ত্রী আসবে তখন তুমি তাকে নিয়ে দু রাকাত নামাজ আদায় করো এবং নামাজের পর এই দুয়া পড়,
اللهُمَّ بَارِكْ لِي فِي أَهْلِي، وَبَارِكْ لَهُمْ فِيَّ، اللهُمَّ ارْزُقْنِي مِنْهُمْ وَارْزُقْهُمْ مِنِّي، اللهُمَّ اجْمَعَ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ إِلَى خَيْرٍ، وَفَرِّقُ بَيْنَنَا إِذَا فَرِّقْتَ إِلَى خَيْرٍ
“হে আল্লাহ্ আমার জন্য আমার স্ত্রী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বরকতময় করুন। এবং আমাকে আমার স্ত্রীর জন্য বরকতময় করে দিন। "হে আল্লাহ্ যতক্ষণআমরা উভয়ে একত্র থাকি যেন ভালোভাবেই থাকি আর যদি আমাদের মাঝে কল্যান না থাকে তাহলে আমাদেরকে বিচ্ছেদ করে দিন。
{ছয়} বিয়ের পর দম্পতিকে শয়তান থেকে রক্ষা করা।
হাদীসঃ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন যে, নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য যাবে তখন এই দুয়া পড়বে,
بسم الله، اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا
"আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি হে আল্লাহ্ তুমি আমাদের উভয়কে শয়তান থেকে রক্ষা করো।
এই মিলনে, যে সন্তান লাভ করবে তাকে শয়তান কোন ক্ষতি করতে পারবে না。
এক জিন ইসলাম গ্রহনের পর একথা বললো যে, সে যেই ব্যক্তিকে আছর করেছিলো সে যখনই নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হতো তখন আমিও তার সাথে অংশগ্রহণ করতাম! কেননা সে দুয়া পড়তো না। " সুবহানাল্লাহ্ আমাদের কাছে কত মুল্যবান সম্পদ রয়েছে যার মুল্য আমরা অনুধাবন করি না।
টিকাঃ
[১১০] সহীহ বুখারী হাদিস নং ২৪৭ عن البراء بن عازب، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: " إذا أتيت مضجعك، فتوضأ وضوءك للصلاة، ثم اضطجع على شقك الأيمن، ثم قل: اللهم أسلمت وجهي إليك. وفوضت أمري إليك وألجأت ظهري إليك رغبة ورهبة إليك لا ملجأ ولا منجا منك إلا إليك، اللهم آمنت بكتابك الذي انزلت وبنبيك الذي أرسلت، فإن مت من ليلتك، فأنت على الفطرة، واجعلهن آخر ما تتكلم به
[১১১] সহীহ বুখারী ৩/৩৪ মুসলিম ৬/৬৩
[১১১] বুখারী ৬/৩৩৫ হা: ১১৪৪ عن عبد الله رضي الله عنه، قال: ذكر عند النبي صلى الله عليه وسلم رجل، فقيل: ما زال نائما حتى أصبح ما قام إلى الصلاة، فقال: «بال الشيطان في أذنه
[১১৩] ফাতহুল বারী ৩/২৫
১১৪. তাবারানী-কাবীর, হাদীস নং৮৯৯৩
১১৫. সহিহুল বুখারী ১/২৯২
عن ابن عباس، يبلغ النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لو أن أحدكم إذا أتى أهله قال باسم الله. اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا فقضي بينهما ولد لم يضره