📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 যাদু দ্বারা যৌন ক্ষমতা নষ্ট করা

📄 যাদু দ্বারা যৌন ক্ষমতা নষ্ট করা


যাদুর দায়িত্বে নিয়োজিত শয়তান পুরুষের মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে। যা মানুষের কেন্দ্রবিন্দু ও যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণকারী। আর অন্য সব অংগ ভালো থাকে। আর যখন পুরুশ তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চায়; তখন শয়তান পুরুষের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে যৌন শক্তিকে দুর্বল করে ফেলে। যার ফলে রক্ত সঞ্চালক ক্রিয়া থেমে যায়। আর যৌনাঙ্গের রক্ত ফিরে যায়। ফলে পুরুষাঙ্গ নিস্তেজ হয়ে যায়। আবার কখনো এমনো হয় যে, যখন একজন পুরুষের দুজন স্ত্রী থাকে। তখন সে তার মধ্যে একজনের সাথে তো মিলিত হতে পারে; কিন্তু অন্যজনের সাথে মিলনে ব্যর্থ হয়। এটা এজন্য যে হয়ত তাদের মধ্যে কোন স্ত্রী এই যাদু কর্মের মূল হোতা। আর যাদুর নিয়োজিত শয়তান একজনের থেকে দূরে রাখার জন্যে সে যখন ঐ স্ত্রীর নিকট যায়, তখন তার যৌন উত্তেজনার কেন্দ্র নষ্ট করে দেয়। যদি কাউকে যাদু করে যৌন ক্ষমতা নষ্ট করা হয়, তবে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর যদি অন্য কোন প্রবলেমের কারণে নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে সেটা অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে হবে।
রুকইয়াহ দ্বারা যৌন রোগের চিকিৎসা
[চিকিৎসা ১৬] যাদু দ্বারা যৌন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার অনেক প্রকারের চিকিৎসা রয়েছে আমরা শুধু এখানে ছয়টি পদ্ধতি উল্লেখ করবো।
{পদ্ধতি নং ১} হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি যাফর মুস্তাগফিরির কিতাবে ঝাড়ফুঁকের পদ্ধতি অধ্যয়ন করেছি যে, যাফর মুস্তাগফিরি বলেন, আমি নাসুহ বিন ওয়াসেলের হাতে (কুতাইবা ইবনে আহমদ বুখারীর ব্যাখ্যার একাংশে) পেলাম যে, “কাতাদাহ সাইদ ইবনে মুসাইয়িয়বের নিকট জিজ্ঞেস করলেন, কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে ব্যর্থ হওয়ার রোগে আক্রান্ত হয়, তবে কি তার জন্য রুকইয়ার চিকিৎসা বৈধ?
তিনি বললেন, “ঝাড়ফুকের উদ্দেশ্য তো সুস্থ্য করা তাই এতে কোন সমস্যা নেই। শরিয়তে মানব কল্যানে কোন কার্যকর বিষয় নিষেধ নেই। নাসুহ বলেন যে, হাম্মাদ শাকির আমাকে চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে বলেন কিন্তু আমি বলতে পারিনি।
এরপর তিনি আমাকে বললেন, যখন এমন ব্যক্তি যে, স্ত্রী সহবাস ব্যতীত অন্য সকল কাজই করতে পারে, এমন রোগী কিছু জালানী বা লাকড়ী একত্রিত করে তাতে আগুন লাগিয়ে দিবে, এবং সেই আগুনের মাঝখানে একটি কুড়াল রেখে দিবে আর যখন কুড়াল গরম হয়ে যাবে তখন সেটাকে বের করে তাতে পেসাব করে দিবে। ইনশাআল্লাহ্ এতে সে আরোগ্য লাভ করবে।
{পদ্ধতি নং ২} রোগীর কানের কাছে উচ্চস্বরে এগুলো পাঠ করবে- সূরা ফাতেহা ৭০ বার আয়াতুল কুরসী ৭০ বার সূরা নাস ও ফালাক্ক একই ভাবে সাত দিন পাঠ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ্ যাদু নিষ্ক্রিয় হয়ে রোগী সুস্থ্য হয়ে যাবে।
{পদ্ধতি নং ৩} একটি পরিষ্কার পাত্রে পরিচ্ছন্ন কালি দিয়ে সূরা ইউনুসের ৮১- ৮২ নং আয়াত লিখে সেই পাত্রে কালোজিরার তেল ঢেলে নেড়েচেড়ে পান করবে এবং কপালে ও বুকে মালিশ করবে। ইনশাআল্লাহ্ যাদু বিনষ্ট ও নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং রোগী আরোগ্য লাভ করবে।
কুরআনের আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত জিকরসমূহ লিখে পানিতে গুলিয়ে তা রোগীকে পান করানো জায়েজ।
{পদ্ধতি নং ৪} একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে সূরা ফালাক্ক ও সূরা নাস এবং بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّه يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ দোয়াটি সাতবার পড়ে তাতে ফুঁক দিবে এবং এই পানি রোগী পরপর তিনদিন পান করবে এবং গোছল করবে তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন অপবিত্র স্থানে গোছল করা যাবে না। ইনশাআল্লাহ্ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে এবং রোগী সুস্থ্য হয়ে যাবে।
{পদ্ধতি নং ৫} সাতটি সবুজ কচি বড়ই পাতা পিষে পানিতে গুলিয়ে মিক্স করে- > আয়াতুল কুরসি সাতবার > সূরা ইখলাস সাতবার > সূরা ফালাক্ব সাতবার > সূরা নাছ সাতবার পড়ে সেই পানিতে ফুঁক দিয়ে রোগী পান করবে এবং গোছল করবে কয়েকদিন পর্যন্ত। এই পানিতে অন্য পানি মিশানো যাবেনা আর গরম ও করা যাবেনা। শীতকাল থাকলে রোদে গরম করা যাবে। আর গোছল পবিত্র স্থানে করতে হবে। ইনশা আল্লাহ্ প্রথম গোছলেই যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।
{পদ্ধতি নং ৬} এই পদ্ধতি হলো- সূরা ইউনুস এর ৮১-৮২ নং আয়াত ইন্না-ল্লাহা সাইউবতিলুহ্ আয়াতাংশটি বারবার পড়বে।
সূরা আরাফ এর ১১৭-১২২ নং আয়াত সাতবার করে পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে সেই পানি রোগী পান করবে এবং কিছুদিন গোছল করবে।

টিকাঃ
[১০৮] ফাতহুল বারী খণ্ড ১০পৃঃ২২৩

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 বড়ই পাতার গোছল

📄 বড়ই পাতার গোছল


গোছলের নিয়মঃ প্রথমে সাতটি যে কোনো কচি বড়ই পাতা নিতে হবে। এরপর এগুলো পিষে একটি পাত্রে পানিতে গুলিয়ে নিতে হবে। এরপর-
✓ সূরা ফাতেহা ✓ আয়াতুল কুরছি ✓ সূরা ফালাক্ক ✓ সূরা নাছ ✓ দুরুদ শরীফ
সাতবার করে পাঠ করে সেই পানিতে ফুঁক দিতে হবে। এরপর এই পানি রোগীকে তিনদিন/সাতদিন পর্যন্ত রোগীর সিচুয়েশান অনুযায়ী গোছল করাতে হবে এবং পান করাতে হবে। এতে পানি মিশানো যাবে না। প্রতিদিন নতুন করে তৈরি করতে হবে।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 যাদুতে আক্রান্ত হলে করণীয় কী?

📄 যাদুতে আক্রান্ত হলে করণীয় কী?


কেউ যদি যাদু টোনায় আক্রান্ত হয়; তার সর্ব প্রথম করনীয় হলো, ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিনতে কাজ করা। তাড়াহুড়া না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ বা সিম্পটম গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণকরা। যদি লক্ষণগুলো সঠিক প্রমাণিত হয় তবে সর্বপ্রথম ও উত্তম কাজ হলো, কোনো যাদুকর, জ্যোতিষী, কবিরাজ, ওঝা, ও মাজারকেন্দ্রিক ফকীরদের কাছে না যাওয়া। এবং যারা তাবিজ-কবজ দেয় তাদের কাছে না যাওয়া এবং তাবিজ কবজ গ্রহণ না করা। বরং কোনো আলিমে দ্বীনের কাছে যাওয়া। যিনি শরীয়াহ নির্দেশিত চিকিৎসা, কুরআনের আয়াত দ্বারা রুকইয়াহ পাঠ করবেন, তার কাছে যাওয়া। এবং তাদের অনুসন্ধান করা। এবং ধৈয্যের সাথে আল্লাহর কাছে দুয়া করা।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ 📄 যাদুতে আয়ওয়া খেজুর খাওয়া

📄 যাদুতে আয়ওয়া খেজুর খাওয়া


হাদীস: সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাযি. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে একটি আযওয়াহ (মদিনায় উৎপন্ন উৎকৃষ্ট খেজুর) খেজুর খাবে, রাত্রি না আসা পর্যন্ত ওই দিনে সে আর কোনো বিষ অথবা জাদুটোনা দ্বারা আক্রান্ত হবে না,। অন্য বর্ণনায় এসেছে, "সাতটি খেজুর।”

টিকাঃ
[১০৯] সহিহুল বুখারী হাদীস নং ৫৭৬৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px