📄 যাদু: অদৃশ্য আওয়াজ শোনা
এই যাদু যেভাবে করা হয় যাদুকর কোন জিনকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়ে বলে যে, অমুক ব্যক্তিকে ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় ভীতিজনক কিছু দেখাও, অতঃপর সেই জিন ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর জন্তুর রূপ ধারণ করে রোগীকে ভয় দেখায়।
আর কখনো জাগ্রত অবস্থায় ভীতিকর আওয়াজে তাকে ডাকে। কখনো সেই কন্ঠ পরিচিত মনে হয়, কখনো বা অপরিচিত। এই যাদুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ কখনো পাগল হয়ে যায়। আবার কখনো ওয়াসওয়াসা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। যাদুর শক্তি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া কম বা বেশি হয়ে থাকে।
এই ধরনের যাদুর ক্রিয়ায় রোগীরা নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো অনুভব করে--
জাগ্রত অবস্থায়:
* জাগ্রত অবস্থায় কোনো আওয়াজ শোনা অথচ কাউকে দেখতে না পাওয়া।
* নিকটাত্মীয় এবং বন্ধুদের সম্পর্কে অতিমাত্রায় সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া।
* ওয়াসওয়াসা বৃদ্ধি পাওয়া।
ঘুমন্ত অবস্থায়:
* ভীতিকর স্বপ্ন দেখা।
* স্বপ্নে ভয়ঙ্কর জন্তু দেখতে পাওয়া যা তাকে তাড়া করছে।
* স্বপ্নে উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা।
এই প্রকার যাদুর চিকিৎসা
[চিকিৎসা ১১] নিচে প্রদত্ত রুকইয়াহ তিলাওয়াত করতে হবে।
আল-কাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ ﴿۱﴾ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿۲﴾ مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿۳﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿۴﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿۶﴾
অর্থ: ১) শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। ২) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। ৩) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। ৪) যিনি বিচার দিনের মালিক। ৫) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৬) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, ৭) সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
আল-বাকারাহ
الذلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَ فِيْهُ هُدًى لِلْمُتَّقِيْنَ ﴿﴾ الَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ يُنْفِقُوْنَ ﴿﴾ وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ ﴿﴾
অর্থ:] ১) আলিফ লাম মীম। ২) এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, ৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে ৪) এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।
وَاتَّبَعُوْوا مَا تَتْلُوا الشَّيٰطِيْنُ عَلٰى مُلْكِ سُلَيْمٰنَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمٰنُ وَلٰكِنَّ الشَّيٰطِيْنَ كَفَرُوْا يُعَلِّمُوْنَ النَّاسَ السِّحْرَ * وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوْتَ وَمَارُوْتَ وَمَا يُعَلِّمٰنِ مِنْ أَحَدٍ حَتّٰى يَقُوْلَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُوْنَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُوْنَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهٖ وَمَا هُمْ بِضَارِّيْنَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللّٰهِ وَيَتَعَلَّمُوْنَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوْوا لَمَنِ اشْتَرٰهُ مَا لَهُ فِي الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهٖ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوْوا يَعْلَمُوْنَ ﴿١٠٢﴾
অর্থ: ১০২) তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফির হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্মবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।
وَالْهُكُمْ إِلهُ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ ﴿١٣﴾ অর্থ: ১৬৩) আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَةً إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ﴿۲۵۵﴾ অর্থ: ২৫৫) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিরাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
أمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ، وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّnā وَ إِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّnā لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّnā وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّnā وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۚ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلنَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ ﴿۲۸﴾
অর্থ: ২৮৫) রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। ২৮৬)
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভু! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্যে কর।
আল-ইমরান
شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَئِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَZِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٨﴾ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللهِ الْإِسْلَامُ، وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِأَيْتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿১৯﴾
অর্থ: ১৮) আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। ১৯) নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
وَنَادَى أَصْحَبُ الْجَنَّةِ أَصْحَبَ النَّارِ أَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُمْ مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمْ ، فَأَذَنَ مُؤَذِنْ بَيْنَهُمْ أَنْ لَّعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّلِمِينَ ﴿৪৪﴾
অর্থ: ৪৪) জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবে: আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবে: হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবে: আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।
আল-মু'মিনুন أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْتُكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ﴿১১৫﴾ فَتَعْلَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ﴿১১৬﴾
অর্থ: ১১৫) তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? ১১৬) অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ্, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।
আস-সককাত وَالصَّقَتِ صَفًّا فَالرُّجِرْتِ زَجْرًا ﴿২﴾ فَالتَّلِيتِ ذِكْرًا ﴿৩﴾ إِنَّ إِلَهَكُمْ لَوَاحِدٌ رَبُّ السَّمواتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ ﴿৫﴾ إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ ﴿৬﴾ وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَنٍ مَّارِدٍ ﴿৭﴾ لَا يَسْمَعُوْنَ إِلَى الْمَلَا الْأَعْلَى وَ يُقْذَفُوْnā مِنْ كُلِّ جَانِبٍ ﴿۸﴾ دُخُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ ﴾৯﴿ إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ ﴿১০﴾
অর্থ: ১) শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো, ২) অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের, ৩) অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের- ৪) নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক। ৫) তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের। ৬) নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি। ৭) এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ৮) ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। ৯) ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি। ১০) তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
আল-হাশর هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلْمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَZِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَنَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللهُ الْخَالِيُّ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَZِيزُ الْحَكِيمُ ﴿۲۴﴾
অর্থ: ২২) তিনিই আল্লাহ্ তা'আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। ২৩) তিনিই আল্লাহ্ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ম্যশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ্ তা' আলা তা থেকে পবিত্র। ২৪) তিনিই আল্লাহ্ তা'আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
আল-জিন قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ تُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا ﴿٢﴾ وَأَنَّهُ تَعَلَى جَدُّ رَبّnā مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةٌ وَلَا وَلَدًا
অর্থ: ১) বলুন: আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি; ২) যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না। ৩) এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। তিনি কোন পতী গ্রহণ করেননি এবং তাঁর কোন সন্তান নেই
ইখলাস قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾ অর্থ: ১) বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক, ২) আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী, ৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি ৪) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
কালাক قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾ অর্থ: ১) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, ২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, ৩) অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ৪) গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে ৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
আন-নাস قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾ অর্থ: ১) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, ২) মানুষের অধিপতির, ৩) মানুষের মা'বুদের ৪) তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্বগোপন করে, ৫) যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে ৬) জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
📄 শারীরিক অসুস্থতা বা হত্যা প্রক্রিয়া
এই যাদু করা হয় যেভাবে
এটা সবার কাছেই জানা যে মানুষের মস্তিষ্ক শরীরের সব অঙ্গের মূল। শরীরের যে কোন অঙ্গকে মস্তিষ্ক পরিচালনা করে। কোন বিপদ দেখলে তড়িৎ গতিতে সংকেত দিয়ে সমস্ত অঙ্গকে রক্ষা করে। আর তা সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যেই হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের সূক্ষ্মতার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
هُذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ “এটা আল্লাহর সৃষ্টি, আর আল্লাহ্ ব্যতীত যে মাবুদ রয়েছে তাদের সৃষ্টি কিছু আমাকে দেখাও।”
যখন মানুষ এই ধরনের যাদুতে আক্রান্ত হয়, তখন জিন লোকটির মস্তিষ্ককে আয়ত্ত করে ফেলে।
অতঃপর যাদুকর যে অঙ্গের সমস্যা করতে বলে জিন সেই অঙ্গের সমস্যা করে।
তখন হয়ত জিন মানুষের শ্রবনশক্তি অথবা দৃষ্টিশক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাব বিস্তার করে। অথবা মস্তিষ্কের সাথে সম্পর্ক যে কোনো রগে, যার ক্রিয়ায় যে কোনো অঙ্গ প্রভাবিত হয়।
এই ধরনের যাদুর লক্ষণসমূহ:
* শরীরের কোন অঙ্গে সর্বদাই ব্যথা থাকা।
* শরীরে ঝাঁকুনি বা খিচুনি এসে বেহুঁশ হয়ে যাওয়া।
* শরীরের কোনো অঙ্গ অচল হয়ে যাওয়া।
* সমস্ত শরীর নির্জীব হয়ে যাওয়া।
* পঞ্চইন্দ্রিয়ের কোনো একটি কাজ না করা।
এখানে একটি জরুরী বিষয় হলো এই সিকনেসগুলো সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
তবে এর পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপর রুকইয়াহ প্রয়োগ করতে হবে।
রোগী যদি কোনরূপ খিঁচুনি অনুভব করে, অবশ হয়ে যায়, অথবা বেহুঁশ হয়ে পড়ে, বা শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়, অথবা মাথায় ব্যথা অনুভব হয়, তবে বুঝতে হবে যে রোগী যাদু দ্বারা আক্রান্ত।
আর এমনটি না হলে বুঝতে হবে, এটা সাধারণ রোগ। সুতরাং এর চিকিৎসা কোন বিশেষজ্ঞ সার্জন দ্বারা করাতে হবে।
এই যাদুর চিকিৎসা
[চিকিৎসা ১৭] রোগীর সামনে নিম্মোক্ত রুকইয়াহ'র আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে। তিলাওয়াতের মধ্যে যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়, পূর্বের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আর যদি বেহুঁশ না হয় তবে সূরা ফাতেহা আয়াতুল কুরছি- সূরা দুখান- সূরা জিন- সূরা ইখলাছ- সূরা ফালাক্ক- সূরা নাছ- এই সূরা গুলোর অডিও ক্লিপ রোগী প্রতিদিন তিনবার শুনবে।
যাদুতে শারীরিক অসুস্থতার রুকইয়াহ
আল-ইসরা
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا ۸۲
অর্থ: ৮২) আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।
হাদিসে বর্ণিত রুকইয়াহ
بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهِ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
উচ্চারণ: বিসমিললা-হি আরকিক্ক, মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইউ'জি-ইক, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও যাইনি হা—সিদ, আল্লহু ইয়াশফি-ইক, বিসমিল্লাহি আরব্বিইক্ক।
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ إِشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاء لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: আল্লহুম্মা রব্বান-না-স, আজহিবিল বা-স, ইশফি আনতাশ শা-ফিই, লা শিফা-আ, ইল্লা শিফা- উকা, শিফা-আ, লা ইউগঅ-দির ছাক্কমা-।
ফাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ ﴿﴾ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿٢﴾ مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿﴾
অর্থ: ১) শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। ২) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। ৩) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। ৪) যিনি বিচার দিনের মালিক। ৫) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৬) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, ৭) সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
সূরা বাক্বারাহ
الم ذلِكَ الْكِتَبُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ ﴿﴾ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَمِمَّا رَزَقْتُهُمْ يُنْفِقُونَ ﴿﴾ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴾ أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ * وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿﴾
অর্থ: ১) আলিফ লাম মীম। ২) এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, ৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে ৪) এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। ৫) তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।
টিকাঃ
[১০০] সুরা লোকমান আয়াত নং ১১
📄 বিয়ে না হওয়া আটকে থাকা বা ভেঙ্গে যাওয়া (বানমারা)
আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা কোন বিশেষ বিষয় ঘটিত কারণে বা হিংসার বশবর্তী হয়ে অসদুপায়ে কোন ছেলে বা মেয়ের বিয়ে বন্ধ করে দেয় ! তাই তারা জ্যোতিষ বা যাদুকরের কাছে গিয়ে বলে যে, অমুকের মেয়েকে এমন যাদু করো যেন তার বিয়ে না হয় অথবা পাত্র পক্ষ বিয়েতে অসম্মতি প্রকাশ করে কিংবা মেয়ে বিয়েতে অনিহা প্রকাশ করে। যাদুকর তাকে বলে, এই কাজ আমার জন্য কোনই কঠিন নয়; তুমি শুধু ওই মেয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বস্তু এনে দাও এবং মেয়ের আর তার মায়ের নাম এনে দাও ব্যস ককাজ হয়ে যাবে। এরপর যাদুকর নির্ধারিত জিনকে পাঠায়, তখন জিন সেই মেয়ের পিছু নেয়; এরপর সুযোগ খুঁজে তার মধ্যে প্রবেশ করার। জিন সবসময় মানুষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। সাধারণত যে অবস্থায় জিন মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে তা হলোঃ-
• ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। • অতিমাত্রায় রাগান্বিত অবস্থায়। • অতিমাত্রায় যৌন স্পৃহার অবস্থায়। • অতি উদাসীন বা গাফলতির অবস্থায়।
এক্ষেত্রে জিন দুটি পদ্ধতির যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করে- প্রথমত: সে মেয়ের মধ্যে প্রবেশ করে মেয়ের অন্তরে ঘৃনা সৃষ্টি করে। ফলে যে পাত্রই প্রস্তাব দেয় মেয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করে।
দ্বিতীয়ত: জিনটি মেয়ের মধ্যে কোন কারণে প্রবেশ করতে না পারলে সে ছেলের মধ্যে প্রবেশ করে। তার অন্তরে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করে এবং পাত্রীর প্রতি ঘৃনা জন্ম নেয়। এবং পাত্রীর বিভিন্ন দোষ তার সামনে ফুটে উঠে। ফলে যে পাত্রই তাকে দেখতে আসে সে পাত্রই মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এই প্রবলেম মেয়েদের ক্ষেত্রেই বেশি হয়ে থাকে।
এই যাদুর কিছু লক্ষণ:
• মানষিক প্রবলেম বিশেষ করে বিকেল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত।
• বিয়ের প্রস্তাব দাতাকে খুব খারাব মনে হওয়া।
• ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি বোধ করা।
• মাথায় সর্বদাই আজে-বাজে চিন্তা আসা।
• পেটে ব্যথা অনুভব হওয়া।
• এমন মাথা ব্যথা হওয়া যা পাওয়ারফুল ঔষধেও কাজ হয় না।
এই যাদুর চিকিৎসা
[চিকিৎসা ১৩] এই ধরনের পেসেন্টকে নিচের রুকইয়াহ পাঠ করতে হবে। যদি পেসেন্ট রুকইয়াহ'র প্রতিক্রিয়ায় জ্ঞান হারায় এবং জিন কথা বলে, তবুও তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে হবে। আর যদি প্রতিক্রিয়া না দেখা যায় তবে উল্লেখিত প্রেসক্রিপশন ফলো করতে হবে।
এই রোগের জন্য নিচের বুকইয়াহ রোগীর কানের কাছে সশব্দে পড়তে হবে।
এই রোগের রুকইয়াহ
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّه يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أُرْقِيْكَ উচ্চারণ: বিসমিললা-হি আরকিক্ক, মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইউ'জি-ইক, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও যাইনি হা-সিদ, আল্লহু ইয়াসফি-য়ি-ক, বিসমিল্লাহি আরক্কিক্ক।
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّانِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاء لَا يُغَادِرُ سقما উচ্চারণ: আল্লহুম্মা রব্বান-না-স, আজহিবিল বা-স, ইশফি আনতাশ শা-ফিই, লা শিফা-আ, ইল্লা শিফা- উকা, শিফা-আ, লা ইউগা-দিরু ছাক্কমা-।
ফাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ ﴿ا﴾ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿٢﴾ مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ﴿﴾ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴿٢﴾ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ﴿٥﴾ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ﴿٤﴾
অর্থ: ১) শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। ২) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। ৩) যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। ৪) যিনি বিচার দিনের মালিক। ৫) আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৬) আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, ৭) সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
আল-ইসরা وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا ﴿۳﴾ অর্থ: ৮২) আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌوا اللهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
অর্থ: ১) বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক, ২) আল্লাহ্ অমুখাপেক্ষী, ৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি ৪) এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
কালাক قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ اللهِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٢﴾ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٢﴾ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ د অর্থ: ১) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, ২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, ৩) অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ৪) গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে ৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
আন-নাস قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ المَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿٢﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ . الْخَنَّاسِ ﴿٢﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ )
অর্থ: ১) বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, ২) মানুষের অধিপতির, ৩) মানুষের মা'বুদের ৪) তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্বগোপন করে, ৫) যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে ৬) জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
সর্বশেষে দরূদ শরিফ পাঠ করে শেষ করতে হবে।
রোগীর জন্য করনীয়:
• সঠিক সময় সলাতের পাবন্দি করতে হবে।-
• ঘুমানোর পূর্বে এবং প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরছি পাঠ করতে হবে।
• ফজরের সালাতের পর প্রতিদিন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা-- শারিকালাহু-পাঠ করতে হবে।
• সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক্ক, সূরা নাছ রেকর্ড করে প্রতিদিন অন্তত একবার শুনবে।
• রুকইয়াহ পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে সেই পানি পান করবে। এবং গোছল করবে অন্তত তিনদিন আর গোছল করবে কোন পবিত্র স্থানে।
• গান-বাজনা শোনা যাবে না।
• কোন গুনাহে লিপ্ত থাকলে তওবা করতে হবে।
• আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দুয়া করতে হবে।
• শরীয়াহ অনুযায়ী পূর্ণ পর্দার অনুশীলন করতে হবে।
এভাবে একমাস পর্যন্ত আমল চালিয়ে যেতে হবে। ইনশা-আল্লাহ্ রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। আর যদি রুকইয়াহ চলা অবস্থায় কষ্ট বেড়ে যায় তবে বুঝতে হবে যাদুর ক্রিয়া ধীরে ধীরে কাজ করছে, তবুও আমল চালু রাখতে হবে।
📄 যাদু: স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো
আমাদের সমাজে এমন মানুষ ও আছে যারা কারো সুখ-স্বাচ্ছন্দ, উন্নতি সহ্য করতে পারে না। তারা হিংসা ও বিদ্বেষ বশত দু ব্যক্তির মাঝে যাদু করে বিচ্ছেদ ঘটায়। এ প্রকারের যাদু কয়েক ধরনের হয়ে থাকে যেমন-
• পিতা ও সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ।
• মা ও সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ।
• দু ভাইয়ের মাঝে বিচ্ছেদ।
• দু বোনের মাঝে বিচ্ছেদ।
• বন্ধু ও স্বজনদের মাঝে বিচ্ছেদ।
• স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ।
শেষোক্ত প্রকারটি আমাদের সমাজে অধিক প্রচলিত, এবং এটাই এখনকার আমাদের আলোচ্য বিষয়।
এই যাদু যেভাবে করা হয়
নির্দিষ্ট ব্যক্তি যখন যাদুকরের কাছে গিয়ে বলে, অমুক দুই ব্যক্তির মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে; তখন যাদুকর বলে, তাহলে তাদের মায়ের নাম, তাদের ব্যবহৃত পোষাক, চুল ইত্যাদি নিয়ে আস। আর যদি এসব না পাওয়া যায়, তবে তাদের খাদ্যদ্রব্যে যাদুমন্ত্র পড়ে ফুঁক দেয় বা তাদের চলাচলের পথে যাদুকৃত পানি ঢেলে দেয়া হয় যা অতিক্রম করা মাত্রই উক্ত ব্যক্তি যাদুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায়। বা অভিনব অন্য কোন পন্থায় যাদু করা হয়।
এই যাদুর লক্ষণসমূহ:
• যাদুগ্রস্তের নিকটে অপরজনের প্রত্যেক কর্মই অপছন্দ হওয়া। যেমন স্বামী বাড়ির বাইরে অধিক ভালো থাকে, ঘরে ঢুকলেই অন্তরে সংকীর্ণতাবোধ অনুভব করে। [জগৎবিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাছীরের মুসান্নিফ আল্লামা ইবনে কাছির রহিমাহুল্লাহ বলেন, "স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছিন্নতার প্রতি কৃত যাদুর প্রতিক্রিয়ায়, যাদুগ্রস্ত অপরজনকে খারাপ নজরে দেখবে বা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখবে বা এ জাতীয় অনান্য বিচ্ছেদ সৃষ্টিকারী বিষয়ে পতিত হবে,]
• স্বামী স্ত্রীর মাঝে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মতানৈক্য সৃষ্টি হওয়া।
• হঠাৎ করে ভালোবাসা শত্রুতায় পরিনত হওয়া।
• উভয়ের মধ্যে বেশি বেশি সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া।
• কারো মাঝে ক্ষমা চাওয়ার মানষিকতা না থাকা।
• স্বামীর কাছে স্ত্রীর সৌন্দর্য অসুন্দরে পরিনত হওয়া। যদিও সে অত্যন্ত রূপসী হোক না কেন। এবং স্ত্রীর কাছে স্বামীকে নিকৃষ্ট মনে হওয়া।
এই যাদুর চিকিৎসা
শুরুতে যিনি চিকিৎসা করবেন তিনি রোগীর মাথায় ডান হাত রাখবেন এবং নিচের বুকইয়াহর আয়াতসমূহ রোগীর কানের কাছে উচ্চস্বরে সতর্কতার সাথে বিশুদ্ধ উচ্চারণে পড়তে হবে।
টিকাঃ
[১০১] তাফসীরে ইবনে কাসীর খণ্ড ১ পৃঃ ১৪৪