📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 কালো যাদু

📄 কালো যাদু


আরেকটি বিষয় হলো যে, যাদুকর কোনো ব্যক্তিকে কুফুরি বাক্য বা মন্ত্র দ্বারা, অথবা কোন শয়তান বা যাদুকর জিন দ্বারা, স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে মানুষকে অসুস্থ করে রেখে, ধীরে ধীরে মৃত্যু ঘটায় এবং কোনো মেয়ে বা ছেলের বিয়ে না হওয়া, আটকে রাখা, ইত্যাদি বিষয়ের জন্য যে যাদু ক্রিয়া ঘটানো হয়, সাধারণত একে আমরা কালো যাদু (BLACK MAGIC) বা বাণমারা বলে বুঝি।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 যাদুর প্রভাব

📄 যাদুর প্রভাব


উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস সমূহের দ্বারা সুস্পষ্ট হলো যে যাদুর কুপ্রভাব রয়েছে। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সঠিক আকিদাহ্ যাদুর বিভিন্ন প্রকারও ধরণ রয়েছে।
যাদু দ্বারা যাদুকৃত ব্যক্তির বা জিনিষের ক্ষতিসাধন করাই যাদুকরদের মূল উদ্দেশ্য হয়। যাদু দ্বারা যাদুকৃত ব্যক্তির অন্তর, বিবেক ও ইচ্ছার মধ্যে প্রভাব পরে।
এর ফলে সে, কোন জিনিষ থেকে ফিরে যায় অথবা কোন জিনিষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এজন্যই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টিকারী যাদুকে আতফ, তথা ভালোবাসা সৃষ্টিকারী যাদু এবং সম্পর্ক ছিন্নকারী যাদুকে সুরফ বা বিরত রাখার যাদু বলে, যা জাহিলিয়াতের যুগে করা হত。
যাদুর মাধ্যমে হত্যা করা, অসুস্থ করে রাখা, সহবাস থেকে বিরত রাখা, স্বামী-স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, এবং ভালোবাসা সৃষ্টি সহ ইত্যাদি হারাম কাজ করা হয়।
ইমাম কুরতুবি রহিমাহুল্লাহ বলেন, কিছু যাদুর প্রভাব থাকে মানুষের মনের উপর ভালোবাসা ও ঘৃনার বিষয়ে, মানুষের মনে ভালো ও খারাপ চিন্তা গেঁথে দেয়ার ক্ষেত্রে এবং কিছু যাদুর প্রভাব থাকে মানুষের শরীরের উপর, যা দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথা তৈরী করে এবং অসুস্থ বানিয়ে রাখে।

টিকাঃ
[১৮] তাফসীরে কুরতুবী ২/৫৫
ولا ينكر أن السحر له تأثير فى القلوب بالحب والبغض وبإلقاء الشرور حتى يفرق الساحر بين المرء وزوجه. ويحول بين المرء وقلبه، وذلك بإدخال الألام وعظيم الأسقام

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 মুশরিক যাদুকরদের যাদু করার পদ্ধতি

📄 মুশরিক যাদুকরদের যাদু করার পদ্ধতি


[পদ্ধতি নং ১] একটি অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করে যাদুকর আগুন জ্বালায়। আগুনে তার উদ্দেশ্য মতো এক প্রকার ধূপ দেয়। সে যদি পরস্পর বিচ্ছেদ সৃষ্টি বা শত্রুতা হিংসা বা এমন কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করে তবে সে আগুনে দুর্গন্ধযুক্ত ধূপ নিক্ষেপ করে।
আর যদি পরস্পর ভালোবাসা সৃষ্টি বা স্ত্রীর প্রতি স্বামীকে আকৃষ্ট করা বা অন্য যাদু নষ্ট করার ইচ্ছা হয় তবে সে আগুনে সুগন্ধিযুক্ত ধূপ মিশায়। তারপর যাদুকর নির্ধারিত শিরকী মন্ত্র পাঠ করতে থাকে। যাতে সে জিনদের নেতাদের দোহাই বা শপথ দেয়, তার মহত্তের দোহাই দিয়ে চায়! এমনিভাবে তার মন্ত্রে আরো বিভিন্ন বিষয়ের শিরক মিশ্রিত থাকে। যেমন জিনদের সম্মান করা এবং বড়ত্বের বর্ণনা করা, সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি।
শর্ত হলো এমতাবস্থায় যাদুকরকে নাপাক থাকতে হবে এবং নাপাক পোশাক পরে থাকতে হবে ইত্যাদি। তার কুফরি মন্ত্র পড়া শেষ হওয়া মাত্রই কুকুর বা অজগর বা অন্য কোন আকৃতিতে ভূত-প্রেতের আবির্ভাব ঘটে। অতঃপর যাদুকর যা তার ইচ্ছা তাকে নির্দেশ করে। আবার কখনও কোন কিছুই শুনতে পায় না, তবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কোন চিহ্নতে যাদুর গিরা লাগায়। যেমন: তার চুলে বা তার পোশাকের টুকরা যাতে তার দেহের গন্ধ থাকে ইত্যাদি। এরপর সে যা ইচ্ছা সে অনুয়ায়ী জিনকে আদেশ করে।
উক্ত পদ্ধতি থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ফুটে উঠে জিন অন্ধকার কক্ষ ভালোবাসে জিন ধূপের গন্ধ গ্রহণ করে, যাতে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয়। এ পদ্ধতিতে স্পষ্ট শিরক হলো, জ্বিনের দোহাই বা শপথ ও তাদের নিকট আবেদন ও সাহায্য প্রার্থনা করা। জিন নাপাকি ভালোবাসে এবং শয়তান নাপাকের নিকটতম হয়ে থাকে।

[পদ্ধতি নং ২ যবাই করা]
যাদুকর একটি পাখি বা জন্তু বা মুরগি বা কবুতর বা অন্য কিছু জ্বিনের আবদার অনুযায়ী উপস্থিত করে। সাধারণত যা কালো রঙের হয়ে থাকে। কেননা, জিন কালো রং ভালোবাসে। তারপর আল্লাহ্র নাম না দিয়ে তা যবাই করে। অতঃপর কখনও সে রক্ত রুগীকে মাখায়। কখনো এরূপ না করে পরিত্যক্ত ঘরে বা কূপে বা মরুভূমিতে ফেলে দেয়।
যেগুলোতে সাধারণত জিন বসবাস করে থাকে। নিক্ষেপের সময় আল্লাহর নাম নেয় না। এরপর নিজ ঘরে প্রত্যাবর্তন করে শিরকী মন্ত্র পড়ে। এরপর জিনকে যা ইচ্ছা আদেশ করে।
উক্ত পদ্ধতির ব্যাখা এ পদ্ধতিতে দু'ভাবে শিরক হয়ে থাকে।
প্রথমত: জ্বিনের উদ্দেশ্য যবাই করা। যা পূর্ব ও পরবর্তী সকল ইমামের ঐক্যমতে হারাম, বরং তা হলো শিরক। কেননা আল্লাহ তাআলা ছাড়া কারো নামে যবাই করা কোন মুসলমানের জন্য খাওয়া হারাম। আর যবাই করা তো বহুদূরের বিষয় তা সত্ত্বেও কোন কোন অজ্ঞতা প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক স্থানে এ জাতীয় কাজ করে থাকে।
এক্ষেত্রে ইয়াহইয়াহ ইবনে ওয়াহাব আমাকে বলেন, কোন এক খলীফা একটি ঝর্ণা খনন করে। যখন সে তা প্রবাহিত করতে চায়। সে জিনের জন্য সেখানে যবাই করে, যাতে তারা তার পানি ভূ-গর্ভে না নামিয়ে দেয়। অতঃপর তা জনগণকে খাওয়ায়।
এ সংবাদ ইবনে শিহাব আয যুহরীকে পৌঁছালে তিনি বলেন, সে তা যবাই করেছে তার উদ্দেশ্যে, যার উদ্দেশ্যে যবাই করা হারাম; আবার তা জনগণকে আহার করিয়েছে যা তাদের জন্য হারাম; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন ঐ জিনিষ ভক্ষণ করতে যা জ্বিনের উদ্দেশ্যে যবাই করা ইত্যাদি।
সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত আলি ইবনে আবু তালেব রা. তার বর্ণনায় বলেন, "নাবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে যবাই করল আল্লাহ্ তার প্রতি অভিশাপ করুন।
দ্বিতীয়ত: শিরকী মন্ত্র: আর তা হল, ঐ সমস্ত শিরকী কালাম যা জিন উপস্থিত করার সময় সে পেশ করে থাকে, যা স্পষ্ট শিরক। যেমন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) তার গ্রন্থের অনেক স্থানের উল্লেখ করেন। (আল ইবানা ফী উমুমির রিসালা।)

[পদ্ধতি নং ৩ নিকৃষ্টতম পদ্ধতি]
এটি অতি নিকৃষ্টতম পদ্ধতি। এতে শয়তানের এক বড় দল অংশ নেয় ও যাদুকরের সেবা করে এবং তার আদেশ বাস্তবায়ন করে। কেননা যাদুকর এতে সর্ববৃহৎ কুফরি ও কঠিনভাবে নাস্তিকদের পরিচয় দেয়।
এ পদ্ধতির ব্যাখাঃ যাদুকর (আল্লাহর অভিশাপ হোক) জুতা পায়ে কুরআন কারিম পদদলিত করে তা নিয়ে পায়খানায় প্রবেশ করে। অতঃপর পায়খানায় কুফরি কালাম পড়ে একটি কক্ষে প্রত্যাবর্তন করে ও আদেশ পালন করে থাকে। আর জিন তা করে থাকে শুধুমাত্র যাদুকরের মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করার জন্য। এভাবে সে শয়তানের ভাইয়ে পরিণত হয় এবং স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। যার ফলে তার প্রতি আল্লাহ্ অভিশাপ বর্ষিত হয়।
এ পদ্ধতি যাদুকরের সাথে বেশ কিছু কবীরা গুনায় লিপ্ত হওয়ার শর্তারোপ করা হয়। যেমনঃ যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা ছাড়াও হারাম কাজগুলোতে পতিত হওয়া, সহকামিতা, ব্যভিচার, ধর্মকে গালি দেওয়া ইত্যাদি। এসবগুলো করে থাকে শয়তানের সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে।

[পদ্ধতি নং ৪ অপবিত্রতার পদ্ধতি]
মালাউন যাদুকর এ পদ্ধতিতে কুরআনের সূরা ঋতুস্রাবের (হায়েজের) রক্ত দ্বারা বা অন্য কোন অপবিত্র কিছু দ্বারা লিখে, তারপর শিরকী মন্ত্র পড়ে, যার ফলে জিন উপস্থিত হয়। এরপর তার যা ইচ্ছা তাকে আদেশ করে। এ পদ্ধতি যে স্পষ্ট কুফরী তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা, কোন সূরা এবং কোন আয়াতকে উপহাস করা আল্লাহর সাথে কুফরি। আর যেখানে তা অপবিত্র জিনিষ দ্বারা লিখা হয়, আল্লাহর নিকট আমরা এ অবমাননা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরে ঈমানকে শক্তিশালী করেন ও ইসলামের ওপর মৃত্যদান করেন ও নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হাশর করেন। (আমিন)

[পদ্ধতি নং ৫ উল্টাকরণ পদ্ধতি]
এ পদ্ধতি মালাউন যাদুকর কুরআনের সূরাকে উলটা অক্ষরে লিখা থাকে। অর্থাৎ শেষ হতে প্রথম, অতঃপর শিরকী কালাম বা মন্ত্র পড়ে, যার ফলে জিন উপস্থিত হয় ও তাকে তার আদেশ করে।
এপদ্ধতিতেও শিরক ও কুফর থাকার কারণে তা হারাম।

[পদ্ধতি নং ৬ জ্যোতিষ পদ্ধতি]
এ পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিও বলা হয়। কেননা যাদুকর নির্ধারিত এক তারকা উদয়ের উপেক্ষায় থাকে। অতঃপর সে তাকে ডেকে যাদু মন্ত্র পড়তে থাকে। তারপর অন্যান্য শিরকী ও কুফরি কালাম পাঠ করতে থাকে। যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তারপর সে এমনভাবে নড়া-চড়া করে যাতে সে ধারণা পোষণ করায় যে, সে উক্ত তারকার আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতে করছে, কিন্তু বাস্তবে সে আল্লাহ ছাড়া তারকার ইবাদত করছে। কিন্তু বাস্তবে সে আল্লাহ্ ছাড়া তারকার ইবাদত করছে।
যদিও এ জ্যোতিষী বুঝতে পারে না যে, তার এ কর্ম আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত ও অন্যের মহত্ব প্রকাশ হয়। এরপর শয়তানরা তার নির্দেশে সাড়া দেয়; আর সে ধারণা করে যে, এ তারকায় তাকে এসবে সাহায্য করে। অথচ উক্ত তারকার এ বিষয়ে কিছুই অবগতি নেই।
যাদুকর ধারণা করে থাকে যে, এ যাদু আর খুলবে না যে পর্যন্ত দ্বিতীয়বার প্রকাশ না পাবে। (এ বিশ্বাস একান্তই যাদুকরদের; কিন্তু কুরআনের চিকিৎসা দ্বারা এ যাদু আল্লাহর ফজলে নষ্ট করা যায়।)
আর সত্যই কোন কোন তারকা বছরে মাত্র একবারই প্রকাশ পায়। কাজেই যাদুকররা তার প্রকাশের অপেক্ষায় থাকে ও পরে সে তারকার নিকট আবেদন ও সাহায্য কামনা করে মন্ত্র পড়তে থাকে যাতে তাদের যাদু খুলে দেয়।
নিঃসন্দেহে এ পদ্ধতিও আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা ও তার বড়ত্বের প্রকাশের জন্য শিরক ও কুফুরী।

[পদ্ধতি নং ৭ পাঞ্জা পদ্ধতি]
এ পদ্ধতি তে যাদুকর এমন একটি বালককে উপস্থিত করে যে এখনও প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছেনি। আর সে যেন অপবিত্র থাকে, তারপর সে বালকের বাম পাঞ্জা (হাতের তালু) ধরে তার হাতে এরূপ চতুর্ভুজ আঁকে।
এরপর এই চতুর্ভুজের চারপাশে শিরকি যাদুমন্ত্র লিখে। এরপর বালকের হাতের তালুতে চতুর্ভূজ অংকনের মাঝে কিছু তেল একটি নীল ফুল বা কিছু নীল কালি রাখে। অতঃপর আরেক মন্ত্র লিখে একক অক্ষর দ্বারা এক লম্বা কাগজে, সে কাগজটি ছেলেটির চেহারার উপর ছায়ার আকৃতিতে রাখে। এরপর তার উপর পড়িয়ে দেয় একটি টুপি যাতে তা ঠিক থাকে, এরপর বালকটিকে মোটা কাপড় দ্বারা পুরোপুরি ঢেকে ফেলা হয়। এমতাবস্থায় বালকটি তার তালুর দিকে তাকাতে থাকে; কিন্তু ভেতরে অন্ধকার হওয়ার কারণে কিছু দেখতে পায় না।
অতঃপর মুশরিক যাদুকর কঠিন প্রকৃতির যাদু মন্ত্র পড়তে থাকে। এতে বালকটি হঠাৎ করে আলো দেখতে পায় এবং তার হাতের মধ্যে একটি ছবি নড়াচড়া করে এমন অনুভব হয়।
এরপর যাদুকর বালককে প্রশ্ন করে কি দেখছ? বালক জবাব দেয়, আমি আমার সামনে এক ব্যক্তির ছবি দেখছি! যাদুকর বলে, তাকে বলো, তোমাকে যাদুকর বা পীর ছাহেব এই এই বিষয়ে বলছে, এরপর ছবিটি আদেশ অনুযায়ী নড়াচড়া করতে থাকে। এ পদ্ধতি তারা সাধারণত হারানো বস্তু খুঁজে পেতে ব্যবহার করে। এ পদ্ধতিও শিরক, কুফর, ও তন্ত্রে মন্ত্রে ভরা।

[পদ্ধতি নং ৮ চিহ্ন পদ্ধতি]
যাদুকর এ পদ্ধতিতে রোগীর নিকট থেকে তার কোনও চিহ্ন খোঁজ করে। যেমন: জামা, পাগড়ী, রুমাল, বা এমন কোন ব্যবহৃত জিনিষ যাতে রোগীর দেহের গন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সে রুমালের একপাশে গিরা লাগায়।
এরপর চার আংগুল পরিমাণ খুব শক্ত করে রুমালটি ধারণ করে সূরা কাওছার বা অন্য যে কোন একটি ছুরা উচ্চ আওয়াজে পড়ে, আর চুপিচুপি শিরকি মন্ত্র পড়ে। এরপর জিনকে আহ্বান করতে থাকে ও বলতে থাকে, যদি তার রোগ জিনের কারণে হয়ে থাকে তবে সে রুমাল বা কাপড়টি ছোঁট করে দাও।
আর যদি তার রোগ বদনজরের কারণে হয় তবে তা লম্বা করে দাও। আর যদি সাধারণ ডাক্তারী কোন রোগ হয় তবে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও। এরপর সেটি পুনরায় মেপে যদি তা চার আঙ্গুলের চেয়ে বড় পায় তাহলে বলে; তুমি হিংসুকের বদ নজরে আক্রান্ত হয়েছ।
যদি তা ছোট পায় তবে বলে তুমি জিনের আছরে পরেছ। আর যদি তা এক রকমেই পায় তবে বলে যে তোমার নিকট কিছু নেই বা তুমি ডাক্তারের কাছে যাও। যদিও এখানে নজরে তেমন কিছু দেখতে পাওয়া যায় না।
আসুন দেখি এ রহস্যের ব্যাখ্যা কী
ব্যাখ্যাঃ
✓ রোগীর মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করে দেওয়া। উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করে কিন্তু চুপিচুপি সে শিরকী মন্ত্র পড়ে।
✓ জিনের নিকট আবেদন ও সাহায্য কামনা এবং তাদেরকে ডাকা ও তাদের নিকট প্রার্থনা করা, এগুলো স্পষ্ট শিরক।
✓ জিনদের মাঝে অনেক মিথ্যা পাওয়া যায়, যা হাদিসে বর্ণনা রয়েছে, অতএব আপনি কীভাবে বুঝবেন যে জিন এ বিষয়ে আপনাকে সত্য বলছে?
নোট: আমরা অনেক যাদুকরের কথা ও কাজকে কখনো কখনো পরীক্ষা করে দেখেছি, তাতে দেখা গেছে সে কখনো কিছু কথা সত্য বলেছে কিন্তু অধিকাংশই মিথ্যা। এমনও হয়েছে যে, আমাদের নিকট কোন রোগী এসে বলেছে, তাকে যাদুকর বলেছে যে, তোমার বদনজর লেগেছে। কিন্তু যখন তার উপর রুকইয়াহ তিলাওয়াত করা হয়েছে তখন জিন কথা বলে উঠেছে, আর তা বদ নজর নয়; এমন আরো বিভিন্ন বিষয় রয়েছে যা আমরা অবগত।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 যাদুকর কারা কীভাবে বুঝবেন

📄 যাদুকর কারা কীভাবে বুঝবেন


* যারা রোগীকে তার নাম ও মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে।
* যারা রোগীর শরীরের সাথে লেগে থাকা কাপড় বা বস্তু, ইত্যাদি আনতে বলে।
* যারা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পশুপাখি অর্থাৎ, লাল বা কালো রঙের মোরগ বা খাসী ইত্যাদি তলব করে। (এসব পশু বা পাখি কোন জিনের নামে জবাই করে। কখনো বা সেই পশু বা পাখির রক্ত দ্বারা রোগীকে গোছল করায়।)
* যারা এমন যাদুমন্ত্র লিখে বা পড়ে, যা বুঝা যায় না এবং যার কোন অর্থও নেই।
* যারা রোগীকে আরবী হরফের নকশা, মূর্তি সাদৃশ চিত্র, চতুর্ভুজ দাগ কাটা কাগজের মধ্যে বিভিন্ন অক্ষর ও নম্বর লিখে দেয়।
* যারা রোগীকে নির্দিষ্ট সময় ধরে অন্ধকার ঘরে একাকী থাকতে বলে।
* যারা রোগীকে নির্দিষ্ট সময় পানি স্পর্শ করতে নিষেধ করে।
* যারা রোগী কথা বলার বা শোনার পূর্বে, অগ্রিম রোগীর কিছু বৈশিষ্ট বলে যাতে রোগী প্রভাবিত হয়। (এটা সে জিনকে বশীভূত করে তার মাধ্যমে জেনে নেয়।)
* যারা রোগীর প্রবেশের সাথে সাথে তার রোগ নির্ণয় করে ফেলে।
* যারা শরীয়াহ অনুযায়ী ঝাড়ফুক (রুকইয়াহ) করে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00