📄 যাদুর বিধান
যাদুর সমস্ত কারবার তথা শিক্ষা করা বা শিখানো, কাউকে যাদু করা বা করানো, কিংবা যাদুর সাহায্যে উপকৃত হওয়া বা চিকিৎসা নেয়া সবই কুফরি এবং হারাম।
আর এমন কিছু যাদু রয়েছে যা শিরক। যাদুকররা যাদুতে জিন ও শয়তানদের ব্যবহার করে এবং উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের নামে কুরবানী ভোগ, বা সেজদা দিয়ে থাকে যা স্পষ্ট শিরক। যাদু হলো শয়তানের শিক্ষা।
এ বিষয়ে আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন,
وَلَكِنَّ الشَّيْطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
"বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিলো তারা মানুষকে যাদু বিদ্যা শিখাতো,।"
যাদুর মধ্যে ইলমে গায়েব তথা অদৃশ্যের দাবী রয়েছে, যার অধিকার একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালারই। আল্লাহ্ সুবহানু অতায়ালা পবিত্র কুরআনে এ প্রসঙ্গে বলেছেন,
قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ (৬) “বলুন আসমান ও জমিনে যারা আছে আল্লাহ্ ব্যতীত কেউই গায়েব জানে না,
অতএব যাদু একরকমের স্পষ্ট গায়েব জানার মতই। আর গায়েব জানা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করারই শামিল। আর আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত কারী সুস্পষ্ট কাফির এবং মুশরিক।
টিকাঃ
[৯১] সুরা বাকারাহ আয়াত নং ১০২
[৯২] সুরা নামল আয়াত নং ৬৫
📄 যাদুকরের বিধান
যাদুকরদের বিধান হলো যদি তার যাদু, কুফুরি পর্যায়ের হয় তাহলে তাকে মুরতাদ হিসেবে হত্যা করা হবে। আর যদি কুফুরি পর্যায়ের না হয় তাহলে উম্মাহকে তার অনিষ্টতা ও বিপর্যয়ের থেকে বাঁচানোর জন্য হত্যা করতে হবে।
বাজালা ইবনে আব্দাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, "উমর ইবনে খাত্তাব রাযি. এর মৃত্যুর একবছর পূর্বে আমাদের নিকট আদেশ আসে, প্রতিটি যাদুকর ও যাদুকরনিকে হত্যা করো, বর্ণনাকারী বলেন অতপর আমরা তিনজন যাদুকরকে হত্যা করি。
হাফসা বিনতে উমর রাযি. নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী। তার একজন দাসী ছিলো। সে তাকে যাদু করেছিলো এবং স্বীকার করে তা বের করে দিয়েছিলো। অতঃপর হাফসা রাযি. তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
ইমাম ইবনে মুনযির রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন কোন ব্যক্তি স্বীকার করে যে, সে কুফুরী কালাম দিয়ে যাদু করেছে, তখন তাকে হত্যা করা ওয়াজিব, যদি সে তাওবা না করে থাকে。
ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কোন যাদুকর যদি নিজেই যাদু করে অন্য কেই তা জন্য যাদু করে দিয়েছে এমন না হয় তাহলে সুংয় যাদুকারী এ আয়াতের উদাহরণ হবে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যে এটা খরিদ করেছে সে জানে যে, আখেরাতে তার জন্য কিছুই নেই। তাই আমি মনে করি, তাকে হত্যা করতে হবে যদি সে নিজেই যাদু করে থাকে。
টিকাঃ
[৯৩] আবু দাউদ হাদিস নং৩০৪৩ আহমদ১/১৯০ও বায়হাকী ৮/১৩৫ نجالة يحدث عمرو بن اوس وأبا الشعثاء قال: كنت كاتباً لجزء بن معاوية عم الأحنف بن قيس، إذ جاءنا كتاب عمر قبل موته بسنةٍ: اقْتُلُوا كل ساحر، وفَرِّقُوا بين كل ذي محرم من المجوس، وانهوهم عن الزمزمة، فقتلنا في يوم ثلاث سواحر،
[৯৪] বায়হাকী ৮/২৩৪ হা: ১৬৪৯৯ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَن حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ، رَضِيَ الله عَنْهُمَا ، مَحْرَتْهَا جَارِيَةٌ لَهَا فَأَفَرَّتْ بِالسِّحْرِ وَأَخْرَجَتْهُ فَقَتَلْتُهَا
[৯৫] আল ইকনা': ২/৬৮৫
[৯৬] মুআত্তা মালেক: হাদীস নং-৩২৪৮ اذا اقر الرجل طائعا أنه سحر بكلام يكون ذلك الكلام كفرا وجب قتله إن لم يتب ٣٢٤٨ - قال مَالِكٌ: السَّاجِرُ الَّذِي يَعْمَلُ السِّحْرَ وَلَمْ يَعْمَلْ ذلِكَ لَهُ غَيْرُهُ هُوَ مَثَلُ الَّذِي قَالَ اللَّهُ تبَارَكَ وَتَعَالَى فِي كِتَابِهِ: (وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خلاق) [البقرة ١٠٢:٢] فَأَرَى أَنْ يُقْتَلَ ذلِكَ إِذَا عَمِلَ ذلِكَ هُوَ نَفْسُهُ.