📄 জ্বিন যদি পুনরায় ফিরে আসে
[চিকিৎসা ৪ [কাউকে আসরকৃত কোন জিন যদি বিতাড়িত হওয়ার পর কোনো কারণে আবার আছর করে তবে নিচের এই রুকইয়াহ খুবই প্রভাবক যা জিনকে চলে যেতে বাধ্য করবে যদি না যেতে চায় তবে জলেপুড়ে মরে যাবে। নিম্মোক্ত রুকইয়াহ খুবই গাম্ভির্যের সাথে রোগীর সামনে উঁচু আওয়াজে পাঠ করতে হবে।
এই রোগের জন্য রুকইয়াহ সূরা বাক্বারাহ
وَلَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَاسِقُونَ ﴿9﴾ أَوَكُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَبَذَهُ فَرِيقٌ مِنْهُم بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠٠﴾ وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ (101)
অর্থ: ৯৯) আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না। ১০০) কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। ১০১) যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না।
সূরা আনফাল
إِنَّ شَرَّ الدَّوَاتِ عِندَ اللَّهِ الَّذِينَ كَفَرُوا فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٥﴾ الَّذِينَ عَاهَدتَ مِنْهُمْ ثُمَّ يَنقُضُونَ عَهْدَهُمْ فِي كُلِّ مَرَّةٍ وَهُمْ لَا يَتَّقُونَ ﴿٥٦﴾ فَإِمَّا تَثْقَفَنَّهُمْ فِي الْحَرْبِ فَشَرِدْ بِهِم مَّنْ خَلْفَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ﴿٥৩﴾ وَإِمَّا تَخَافَنَ مِن قَوْمٍ خِيَانَةٌ فَانبِنُ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ ﴿৫৮﴾
অর্থ: ৫৫) সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি। ৫৬) যাদের সাথে তুমি চুক্তি করেছ তাদের মধ্য থেকে অতঃপর প্রতিবার তারা নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন করে এবং ভয় করে না। ৫৭) সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়। ৫৮) তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের ভয় থাকে, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে যেন হয়ে যাও তোমরাও তারা সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।
সূরা তওবাহ
وَإِن تَكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِيَّةَ الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ ﴿১২﴾ أَلَّا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَنُوا بِإِخْرَاجٍ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿১৩﴾ قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ ﴿১৪﴾
অর্থ: ১২) আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রূপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে। ১৩) তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসুলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ্-যদি তোমরা মুমিন হও। ১৪) যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্চিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
সূরা নাহল
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿٢٠﴾ وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ )
অর্থ: ৯০) আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। ৯১) আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা জানেন।
এই পর্যন্ত পূর্ণ মনোযোগের সাথে পাঠ করতে হবে।
📄 কর্তৃত্ব দ্বারা ধূর্ত জ্বিনকে পাকড়াও করার বিশেষ পদ্ধতি
[চিকিৎসা ৫] সাধারণত এমন অনেক ধূর্ত জিন রয়েছে যারা আছর করলে সহজে যেতে চায়না। সেসব দুষ্ট জিনদের শায়েস্তা করার জন্য এ পদ্ধতিটি খুবই ফলদায়ক। এটা হলো ভারতীয় কস্টাসের (সুগন্ধীযুক্ত বৃক্ষের) তৈরী নাকের ড্রপ। এটার ব্যবহার পদ্ধতি হলো- রোগী এ কস্তরী দ্বারা তৈরীকৃত ড্রপ এমনভাবে নাকে ব্যবহার করবে যেন এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ সরাসরি মস্তিষ্কে চলে যায়, যেখানে জিন অবস্থান করে। এ ড্রপের ক্রিয়ায় জিন দিশেহারা হয়ে দ্রুত পালাবার পথ খুজঁবে, নয়তো রাক্কীর সাথে কথা বলবে দ্রুত চলে যাওয়ার জন্য এবং আর কখনো ফিরে না আসার প্রতিজ্ঞা করবে। সহিহ্বল বুখারীতে চিকিৎসার অধ্যায়ে এ সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে যে,
উম্মে কয়েছ বিনতে মেহছান রাযি. বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তোমরা হিন্দের এই কস্তুরীটি ব্যবহার করবে কেননা নিশ্চয় তাতে সাতটি রোগের নিরাময় রয়েছে। এটি নাকে টেনে নেয়া যায়। (ড্রপ আকারে ব্যবহার করা যায়) এবং তা গলায় বা মুখে জ্বলন সৃষ্টি করে।
কস্তুরির প্রকার- ১. ইন্ডিয়ান কস্তুরী (কালো)। ২. সামুদ্রিক কস্তুরী (সাদা)।
ভারতীয় কস্তুরী এমন এক প্রজাতির গাছ যার গন্ধ তীব্র ঝাঁঝালো। যা জিন সহ্য করতে পারে না এবং প্রচন্ডভাবে বিরক্ত হয়।
কস্টাস প্রয়োগ পদ্ধতি
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে হাফিজ ইবনে হাজার আসকলানী রহিমাহুল্লাহ কস্টাস বা কস্তুরীর ব্যবহার পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন এভাবে-
"প্রথমে রোগী পিঠ নিচের দিকে দিয়ে শোবে। এরপর এমন ভাবে শোবে যেন মাথা একটু নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে। এরপর কস্টাসের ছাতু জয়তুন তেলের সাথে মিশিয়ে রোগীর নাক দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় ঢালতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে তেল যেন রোগীর মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এতে করে রোগীর হাঁচি তৈরি হবে এবং যে কোনো ধরনের সমস্যা এর মাধ্যমে বের হয়ে যাবে। এ উপায়ে জিনও বের হয়ে যেতে পারে তবে কোনো কারণে যদি জিন পুনরায় ফিরে যায় বা রোগীর দেহে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে রোগী এর সাথে নিচে প্রদত্ত সূরাগুলো (রুকইয়াহ) রেকর্ড করে মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। ইনশাআল্লাহ্ জিন কোনক্রমেই থাকতে পারবে না।
সূরাগুলো এই- > সূরা আল ফাতিহা, > সূরা আল বাক্কারা, > সূরা আল ইমরান, > সূরা ইয়াসিন, > সূরা আর-রহমান, > সূরা আল মুলক, > সূরা আল-জিন, > সূরা আল কাফিরুন, > সূরা আল ইখলাছ, > সূরা আল ফালাক, > এবং সূরা আন-নাস পর্যন্ত।
টিকাঃ
[81] সহিহ বুখারী হাদিস নং-৫৬৯২ [ফাতহুল বারী কিতাবুত তিব্ব] عن أم قيس بنت محصن قالت: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " عليكم بهذا العود الهندي، فإن فيه سبعة أشفية: يستعط به من العذرة، ويلد به من ذات الجنب "
[৭৫] السعوط وهو أن يستلقي على ظهره ويجعل بين كتفيه ما يرفعهما لينحدر رأسه ويقطر في أنفه ماء أو دهن فيه دواء مفرد أو مركب ليتمكن بذلك من الوصول إلى دماغه لاستخراج ما فيه من الداء بالعطاس
[ফাতহুল বারী চিকিৎসা অধ্যায়]
📄 জ্বিনের রোগী, রুকইয়াহ’র গোছল যেভাবে করবে
গোছলের নিয়ম: প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্র বা জগ নিতে হবে। তাতে পানি নিতে হবে। এবং নিচের এই সূরাগুলো পাঠ করে তাতে ফুঁক দিতে হবে। এর থেকে পানি নিয়ে একাধারে ৭দিন অবস্থা ভেদে পান করতে হবে। এবং অন্য পানির সাথে মিশিয়ে গোছল করতে হবে। রুকইয়াহ'র পানি শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে অন্য পানি মিক্স করা যাবে। পাঠ করার সূরাগুলো এই-
১) সূরা ফাতিহা- সাতবার
২) আয়াতুল কুরছি- সাতবার
৩) সূরা আরাফ ১১৭- ১২২ আয়াত- সাতবার
৪) সূরা ইউনুস ৮০-৮৩ নং আয়াত- সাতবার
৫) সূরা ত্ব-হা ৬৯ নং আয়াত- সাতবার
৬) সূরা ইখলাছ- সাতবার
৭) সূরা ফালাক্ক- সাতবার
৮) সূরা নাছ- সাতবার
৯) যে কোনো দুরুদ শরীফ- সাতবার
কোন কারণে যদি এটা না পারা যায় তবে জিনে আসর করা, প্রদত্ত রুকইয়াহ পাঠ করে দিলেও হবে।
📄 শাইখ যাকারিয়া রাহিমাহুল্লাহ যে রুকইয়াহ পাঠ করতেন
বিশ্ববিখ্যাত বুযুর্গ, উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন, একাধিক কালজয়ী আরবী কিতাবের সফল মুসান্নিফ, একাধিক হাদীস শাস্ত্রের ব্যাখ্যাকার, ফাজায়িলে আমালের যুগান্তকারী কাতিব, আকাবীরে দেওবন্দ, শাইখুল হাদীস আল্লামা যাকারিয়া মুহাজিরে মাদানি রহ. নিম্নোক্ত বুকইয়াহ [মানযিল] নিয়মিত পাঠ করতেন যা সর্বদা পাঠ করলে যে কোন শক্তিশালী জিন যাদু বদনজরসহ, বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়। নিচে রুকইয়াহটি দেয়া হলো-