📄 জ্বিনের বিবিধ পরিচয়
জিন আল্লাহ তা'আলারই এক সৃষ্টি জাতি। যেমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা ও মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মতই তাদের আক্কল, অনুভূতি-বিবেক রয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুর'আনে বলেনঃ وَأَنَّا مِنَّا الصُّلِحُوْنَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَر ائِقَ قِدَدًا আমাদের কেউ কেউ সৎ কর্মপরায়ণ এবং কেউ কেউ এরূপ নয়।
অর্থ্যাৎ কুর'আন অবতীর্ণের পূর্বেও সব জিন এক ধর্ম বিশ্বাসের উপর ছিলো না। স্বল্প সংখ্যক জিন সৎকর্মশীল ছিলো আর অধিকাংশই ছিলো অসৎ। হয়তোবা তাদের মধ্যেও ছিলো বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়; মূর্তিপূজক, খ্রীষ্টান, অগ্নিপূজক ইত্যাদি। হতে পারে তাদের ইবাদাত বন্দেগীর পদ্ধতি ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। তবে কুর'আন এ সকল মতবিরোধ ও এসকল মত ভিন্নতার মিমাংসা চায়। ওরা কি এতই উত্তম যে সত্য গ্রহণ করে সকলেই একই পথের পথিক হয়ে যাবে? মতবিরোধ তো কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।
টিকাঃ
[৫৪] সূরা জিন, আয়াত ১১
[৫৫] তাফসিরে উসমানি, সূরা জিন ১১ আয়াত দ্রষ্টব্য
📄 জ্বিন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য
আল্লাহ মানুষকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, একই উদ্দেশ্যে জিন সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ও তা'আলা'র ইবাদাত করার জন্য।
পবিত্র কুরআনে এর প্রমাণ রয়েছে যেমন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ﴿٥٦﴾ “আর আমি জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদাতের জন্য。
এমনকি জিনদের কাছে আল্লাহ তা'আলা নাবি-রাসুল ও প্রেরণ করেছেন অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন- يُمَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُضُونَ عَلَيْكُمْ ايْتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هُذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيُوةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى انْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَفِرِينَ ﴿١٠﴾
"হে জিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য হতে পয়গম্বরগন আগমন করেনি, যারা তোমাদের কে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন? এবং তোমাদেরকে আজকের এদিনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন? তারা বলবে, আমরাই আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিচ্ছি। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে তারা কাফের ছিল।"
কাজি সানাউল্লাহ পানিপথি রহিমাহুল্লাহ স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে এ অভিমত গ্রহণ করে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। যার সারমর্ম হলো,
“এ আয়াত থেকে প্রমানিত হয় যে আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে জিনদের রাসুল জিনদের মধ্য হতে আবির্ভূত হতো। এবং মানুষ আগমনের হাজার বছর পুর্বে জিন জাতি বসবাস করত। এবং তারাও মানুষের মত আল্লাহ তায়ালার বিধি-বিধান পালন করতে আদিষ্ট ছিলো। শরিয়ত ও যুক্তির মানদণ্ডে জিনদের মধ্যে আল্লাহর বিধান পৌঁছানোর জন্য পয়গম্বর হওয়া অপরিহার্য।
টিকাঃ
[৭০] সুরা জারিয়াত আয়াত নং৫৬
[৭১] সুরা আনআম আয়াত নং ১৩০
📄 জ্বিনের প্রকারভেদ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিন তিন প্রকার-
১) যারা বাতাসে উড়ে বেড়ায়। ২) কিছু সাপ ও কুকুর। ৩) যারা মানুষের কাছে আসা-যাওয়া করে।
সাধারণত জিনেরা বিভিন্ন প্রাণীর রূপ ধারণ করতে পারে, তবে তাদের একটি দল সাপ ও কুকুরের রূপ ধারণ করে মানব সমাজে চলাচল করে。
টিকাঃ
[৭২] জামেউস সগীর হাদীস নং ৩১১৪
📄 যেসব কারণে জ্বিন আছর করে
এমন কিছু কারণ রয়েছে যে কারণে সাধারণত জিনেরা মানুষের উপর আছর করে। সেগুলো হলো যথাক্রমে:
১) যদি কোন মানুষ জিনকে কষ্ট দেয়। (অর্থাৎ, বেখেয়াল বশত জিনের গায়ে আঘাত করে, তার খাবার নষ্ট করে, তার গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে, যেটা গর্তে প্রসাব করার মাধ্যমেও হতে পারে, কেননা কতেক জিন গর্তে বাস করে।)
২) প্রেমাসক্তি। সেটা কোন পুরুষ জিন কোনো নারীর প্রেমে পড়ে, অথবা কোনো নারী জিন কোনো পুরুষের প্রেমে পড়ে, তখন জিনটি তার প্রিয় ব্যক্তির উপর আছর করে।
৩) যদি কোনো গণক বা মুশরিক জাদুকর জিনকে চালান দেয়। সেটা দুইভাবে হতে পারে, প্রথমত: জাদুকর নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে পাকড়াও করার জন্য জিনকে প্রেরণ করে। দ্বিতীয়ত: জাদুকর নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে পাকড়াও করতে জিন চালান দিয়েছে, কিন্তু জিন চলাচলের পথে এমন কাউকে পেয়ে যায়, যাকে তখন সে আছর করে।
৪) অতিরিক্ত রাগ। অর্থাৎ মানুষ যখন অতিরিক্ত রাগের কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তখন জিন তাকে আছর করে।
৫) অতিরিক্ত ভয়। সেটা হলো মানুষ যখন অন্ধকার রাতে কোনো জনমানবহীন বন-জঙ্গল, বাগান বা কোনো মাঠঘাট দিয়ে যাতায়াত করে তখন যদি কোনো ছায়া বা কোনও বস্তু দেখে প্রচণ্ড ভয় পায় তখন জিন তাকে আছর করে।
৬) অতিরিক্ত উদাসীনতা। অর্থাৎ ভরদুপুরে বা সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে, বা কোনো বাগান বা মাঠে একাকী উদাসীন অবস্থায় যদি কেউ বসে থাকে, তখন সেখান থেকে জিন অতিক্রম কালে তাকে আছর করে।
৭) অপবিত্র অবস্থায়। এটা হলো অনেক মানুষ এমন রয়েছে যারা নোংরা এবং অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে। যেহেতু শয়তান জিন অপবিত্রতা ও নোংরা পছন্দ করে, সেহেতু যদি সে এ অবস্থায় কাউকে পেয়ে যায়, তখন তাকে আছর করার সুযোগ গ্রহণ করে থাকে।