📄 সাহাবির আশ্চর্য ঘটনা
আবু উমামাহ সাহল ইবনে হুনাইফ বলেন, একবার আবু সাহল ইবনে হানিফ খারারে (মদীনার একটি কূপ) গোসল করছিলেন। গোসলের সময় তিনি তাঁর কাপড় খুলে ফেলেন এবং আমর ইবনে রাবিয়াহ তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সাহল ছিলেন ফর্সা এবং খুবই সুদর্শন। আমর বলেন, "আমি এত সুন্দর আর কখনো দেখিনি, এমনকি কোন কুমারী নারীর ত্বকও দেখিনি। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হাদীসের শেষ অংশে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই ঘটনা বলা হলে তিনি বলেন "তোমরা কেন তোমাদের এক ভাইকে হত্যা করছো? কেন তোমরা তাঁর কল্যাণ কামনা করে দু'আ করছো না!
পরে রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে আমরকে ওজু করানো হয় এবং সেই ওজুর পানি সাহল ইবনে হানিফ এর শরীরের পিছন দিক থেকে ঢেলে দেওয়া হয়। এতে সাহল সুস্থ হয়ে উঠে।
📄 সৌদি আরবের বাস্তব ঘটনা
শাইখ আবদুল আযীয বিন বায রহিমাহুল্লাহ একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, রিয়াদের নিকটবর্তী এক গ্রামের ঘটনা। একবার এক লোক অন্য একজন ব্যক্তির কিছু ভেড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো।
এসময় সে লোকটি ভেড়ার দিকে বদনজর দেয়, ফলে সবগুলো ভেড়া মারা যায়। ভেড়াগুলোর মালিক এসে সবগুলো ভেড়া মৃত দেখে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞেস করে "তোমার পাশ দিয়ে কেউ গেছে, ছেলে জানায় যে অমুকের ছেলে অমুক ছাড়া আর কেউ যায় নি।
এরপর ভেড়ার মালিক সেই লোককে খুঁজে বের করেন এবং তাকে একটি বিল্ডিং এর ছাদে উপবিষ্ট অবস্থায় পান। তখন ভেড়ার মালিক তাকে বলেন "হে অমুক! তুমি আমার ভেড়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কুনজর দিয়েছ, এখন তুমি এর বদলে তোমার দেহ দিবে অথবা তোমার নতুন ভবন দিয়ে দিবে।
ভবনের মালিক তার নিচে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললো। লোকটি ছাদ থেকে নেমে আসলো আর সাথে সাথেই ভবনটি ধসে পড়লো।
এই দুইটি ঘটনা থেকে বুঝা যায় বদনজরের প্রভাব কতটা প্রাণসংহারী আর ক্ষতিকর হতে পারে।
📄 বদনজরের চিকিৎসা
শিশুদের বদনজরের রুকইয়াহ পদ্ধতি ১] প্রথমে শিশুর মাথায় হাত রেখে এই দুয়া পাঠ করুন-
৩৯ بسمِ اللهِ يُبرِيكَ مِنْ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَاسَدُ وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَينٍ উচ্চারণ: ৪০ বিসমিল্লা-হি ইউবরিক, মিন দ্বা-ইন ইয়াশফিইক, অমিন শাররি হা- সিদিন ই-যা হা-সাদ, অমিন শাররি কুল্লি যী আই-ন।
بِسْمِ اللَّهِ ارْقِيْكَ وَاللَّهُ يَشْفِقْ مِنْ دَاءٍ يُؤْذِيكَ وَ مِنْ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
৪১ উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক, অল্লা-হু ইয়াশফিইক, মিন দ্বা-ইন ইউ'জিই- ক, অমিন কুল্লি নাফছিন আও যাইনি হা-ছিদ, আল্ল-হু ইয়াশফিই-ক, বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক।
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ البَاسَ، وَشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاء إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَاقَمًا ৪২ (উচ্চারণ: আল্লহুম্মা রব্বান না-স, আযহিবিল বা'স, অশফি আনতাশ শা-ফী, লা শিফাআ, ইল্লা শিফা-উকা শিফা-আল, লা-ইউ গয়া-দিরু ছাক্কামা-।)
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهم ذا السُّلْطَانَ الْعَظِيمِ ، ذَا الْمَنِ الْقَدِيمِ. ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ. وَلِيُّ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ. وَالدَّعْوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ عَافِ (....) مِنْ أَنْفُسِ الْجِنِّ وَاعْيُنِ الْإِنْسِ " ৪৩ উচ্চারণ: আল্লহুম্মা যা সুলতা-নিল আজী-ম, যাল মান্নিল কদীম, যাল অজহিল কারীম, অলিয্যিল কালিমা-তিত তা-ম্মা, অদ্দাওয়া-তিল মুস্তাজা-বা-ত, 'আ- ফি (শিশুর নাম বলবে) মিন আংফুছিল জিন্নি অ আইনিল ইংহ্
শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করে রুকইয়াহ শেষ করতে হবে। আর ব্রাকেটের স্থানে শিশুর নাম বলবে।
পদ্ধতি ২] বদনজরের কারণে যদি শরীরের কোন স্থান ব্যথা বা অবশ হয়ে যায়, তখন সেই ব্যথার স্থানে হাত রেখে-
> সূরা ইখলাস - সাতবার > সূরা ফালাক্ক - সাতবার > সূরা নাস - সাতবার > ও শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে।
পদ্ধতি ৩] বদনজরের কারণ যদি না জানা যায় বা যদি আশংকা হয় যে, জিনের বদনজর লেগেছে তাহলে নিচের আয়াত ও সূরা পাঠ করে রুকইয়াহ করতে হবে।
টিকাঃ
[৩৯] সহিহ মুসলিম হাদিস নং ২১৮৬
[৪০] আরবী হরফের তিলাওয়াত কউচ্চারণ বাংলা বর্ণে করা অনুচিত। কেননা তাতে উচ্চারণ বিশুদ্ধ হয়না। (যারা বিশুদ্ধভাবে কুরআন রতে পারেন না প্রত্যেকেরই অনতিবিলম্বে শিখে নেয়া অত্যন্ত জরুরী) তা সত্ত্বেও পাঠকের পক্ষ থেকে এতএত সুপরামর্শ ও অনুরোধ অনলাইনে অফলাইনে অধমের নিকট এবং প্রকাশকের নিকট এসেছে যে, তাদের আগ্রহে আমরা অভিভূত ও আনন্দিত। পাঠকের চাহিদা হলো যেন দ্বিতীয় সংস্করণে আরবির উচ্চারণ বাংলায় যুক্ত করে দেই, সেইসব= সুহৃদ পাঠকের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমরা শুধুমাত্র হাদিসে বর্নিত দুয়ার রুকইয়াহ সমুহের বাংলা উচ্চারণ যুক্ত করে দিয়েছি। কুরআনের আয়াত পূর্বানুরূপই থাকবে। এতদ্বসত্ত্বেও অশুদ্ধ উচ্চারণের দায়ভার পাঠকের জিম্মায় থাকবে।
[৪১] প্রাগুক্ত
[৪২] সহিহ বুখারী- চিকিৎসা অধ্যায়
[৪৩] তাফসীরে ইবনে কাসীর খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৫৩৮
📄 শিশুদের বদনজরের রুকইয়াহ
পদ্ধতি ১] প্রথমে শিশুর মাথায় হাত রেখে এই দুয়া পাঠ করুন-
৩৯ بسمِ اللهِ يُبرِيكَ مِنْ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَاسَدُ وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَينٍ উচ্চারণ: ৪০ বিসমিল্লা-হি ইউবরিক, মিন দ্বা-ইন ইয়াশফিইক, অমিন শাররি হা- সিদিন ই-যা হা-সাদ, অমিন শাররি কুল্লি যী আই-ন।
بِسْمِ اللَّهِ ارْقِيْكَ وَاللَّهُ يَشْفِقْ مِنْ دَاءٍ يُؤْذِيكَ وَ مِنْ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
৪১ উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক, অল্লা-হু ইয়াশফিইক, মিন দ্বা-ইন ইউ'জিই- ক, অমিন কুল্লি নাফছিন আও যাইনি হা-ছিদ, আল্ল-হু ইয়াশফিই-ক, বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক।
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ البَاسَ، وَشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاء إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَاقَمًا ৪২ (উচ্চারণ: আল্লহুম্মা রব্বান না-স, আযহিবিল বা'স, অশফি আনতাশ শা-ফী, লা শিফাআ, ইল্লা শিফা-উকা শিফা-আল, লা-ইউ গয়া-দিরু ছাক্কামা-।)
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهم ذا السُّلْطَانَ الْعَظِيمِ ، ذَا الْمَنِ الْقَدِيمِ. ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ. وَلِيُّ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ. وَالدَّعْوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ عَافِ (....) مِنْ أَنْفُسِ الْجِنِّ وَاعْيُنِ الْإِنْسِ " ৪৩ উচ্চারণ: আল্লহুম্মা যা সুলতা-নিল আজী-ম, যাল মান্নিল কদীম, যাল অজহিল কারীম, অলিয্যিল কালিমা-তিত তা-ম্মা, অদ্দাওয়া-তিল মুস্তাজা-বা-ত, 'আ- ফি (শিশুর নাম বলবে) মিন আংফুছিল জিন্নি অ আইনিল ইংহ্
শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করে রুকইয়াহ শেষ করতে হবে। আর ব্রাকেটের স্থানে শিশুর নাম বলবে।
টিকাঃ
[৩৯] সহিহ মুসলিম হাদিস নং ২১৮৬
[৪০] আরবী হরফের তিলাওয়াত কউচ্চারণ বাংলা বর্ণে করা অনুচিত। কেননা তাতে উচ্চারণ বিশুদ্ধ হয়না। (যারা বিশুদ্ধভাবে কুরআন রতে পারেন না প্রত্যেকেরই অনতিবিলম্বে শিখে নেয়া অত্যন্ত জরুরী) তা সত্ত্বেও পাঠকের পক্ষ থেকে এতএত সুপরামর্শ ও অনুরোধ অনলাইনে অফলাইনে অধমের নিকট এবং প্রকাশকের নিকট এসেছে যে, তাদের আগ্রহে আমরা অভিভূত ও আনন্দিত। পাঠকের চাহিদা হলো যেন দ্বিতীয় সংস্করণে আরবির উচ্চারণ বাংলায় যুক্ত করে দেই, সেইসব= সুহৃদ পাঠকের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমরা শুধুমাত্র হাদিসে বর্নিত দুয়ার রুকইয়াহ সমুহের বাংলা উচ্চারণ যুক্ত করে দিয়েছি। কুরআনের আয়াত পূর্বানুরূপই থাকবে। এতদ্বসত্ত্বেও অশুদ্ধ উচ্চারণের দায়ভার পাঠকের জিম্মায় থাকবে।
[৪১] প্রাগুক্ত
[৪২] সহিহ বুখারী- চিকিৎসা অধ্যায়
[৪৩] তাফসীরে ইবনে কাসীর খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৫৩৮