📄 বদনজরে রুকইয়াহ করতে নবী (স.) এর নির্দেশ
আলী রাযি. বলেন, জিবরাইল আ. একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিন্তিত দেখে তার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাসান এবং হুসাইনের উপর বদনজর লেগেছে। "তখন জিবরাইল আ. বললেন, বদনজর এক বাস্তব বিষয়, আমি তাদের জন্য একটি দু'আ পড়বো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে দু'আটি শিখান। তখন তিনি শিখলেন (এবং তাদের জন্য পাঠ করলেন)। তখন তাঁরা সুস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, "তোমরা তোমাদের ও তোমাদের স্ত্রী ও পুত্রদের জন্য আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।
ইবনে কায়েস মাক্কি রহ. বলেন, জাফর ইবনে আবি তুলিব রাযি. এর দুটি ছেলে নাবির কাছে আসলো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একজন পারিচারিকাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এই ছেলেরা এত জীর্ণশীর্ণ ও দূর্বল কেন? পারিচারিকা উত্তর দিলো, "ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাদের উপর খুব সহজেই বদনজর লেগে যায়। আর তাদেরকে রুকইয়াহ করাইনি। কারণ হয়তোবা আপনি তা পছন্দ করেন না। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এদের জন্য রুকইয়াহর ব্যবস্থা করো। কেননা যদি কোন বস্তু তাক্বদ্বিরের আগে চলতে পারতো তা হতো বদনজর。
উরওয়াহ ইবনে যুবাইর রহ. বর্ণনা করেন, নাবি পত্নী উম্মে সালামাহ রাযি. এর ঘরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করেন। তখন ঘরে একটি বাচ্চা কাঁদছিল। লোকেরা আরয করলো, বাচ্চাটির উপর বদনজর লেগেছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করাচ্ছো না কেন?
উম্মু সালামাহ রাযি. বর্ণনা করেছেন, নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরে একটি মেয়েকে এমন অবস্থায় দেখলেন যে তার চেহারা মলিন। তখন তিনি বললেন, “তাকে রুকইয়াহ করাও; কেননা তার উপর নজর লেগেছে।
আবদুল্লাহ ইবনে সালিম রাযি. এ হাদিস অনুযায়ী যুবাইদি থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
[৩৫] তাফসির ইবনে কাসির খন্ড ৪ পৃষ্ঠা ৫৩৮।
إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ أَخِيهِ، أَوْ مِنْ نَفْسِهِ، أَوْ مِنْ مَالِهِ مَا يُعْجِبُهُ، فَلْيُبَرِّكْهُ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ عن علي رضي الله عنه أن جبريل أتى النبي صلى الله عليه وسلم فوافقه مغتما فقال: يا محمد ما هذا الغم الذي أراه في وجهك قال: «الحسن والحسين أصابتهما عين قال: صدق بالعين فإن العين حق أفلا عودتهما بهؤلاء الكلمات؟ قال وما هن يا جبريل؟ قال: قل اللهم ذا السلطان العظيم والمن القديم ذا الوجه الكريم ولي الكلمات التامات والدعوات المستجابات، عاف الحسن والحسين من أنفس الجن وأعين الإنس، فقالها النبي صلى الله عليه وسلم، فقاما يلعبان بين يديه فقال النبي صلى الله عليه وسلم «عوذوا أنفسكم ونساءكم وأولادكم بهذا التعويذ فإنه لم يتعوذ المتعوذون بمثله =
[৩৬] মুয়াত্তা ইমাম মালেক খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৬৫৯। হা: ৩৪৬২
مَالِكٌ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسِ الْمَكِيِّ: أَنَّهُ قَالَ: دُخِلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بابني جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ. فَقَالَ لِحَاضِنَتِهِمَا: «مَا لِي أَرَاهُمَا ضَارِعَيْنِ فَقَالَتْ: حَاضِنَتُهُمَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! [ف: ٣٣٦] إِنَّهُ تَسْرَعُ إِلَيْهِمَا الْعَيْنُ. وَلَمْ يَمْنَعْنَا أَنْ نَسْتَرْقِي لَهُمَا إِلا أَنَّا لَا نَدْرِي مَا يُوَافِقُكَ مِنْ ذلِكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَرْقُوا لَهُمَا، فَإِنَّهُ لَوْ سَبَقَ شَيْءٌ الْقَدَرَ. لَسَبَقَتْهُ الْعَيْنُ».
[৩৭] মুয়াত্তা ইমাম মালেক খন্ড-২, পৃষ্ঠা ৬৬০, হা: ৩৪৬৩
مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ: أَنْ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ بَيْتَ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَفِي الْبَيْتِ صَبِيٌّ يَبْكِي فَذَكَرُوا (۱) أَنَّ بِهِ الْعَيْنَ. قَالَ عُرْوَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «ألا تَسْتَرْقُونَ [ ص: ٥٩ - 1] لَهُ مِنَ الْعَيْنِ؟
[৩৮] সহীহুল বুখারী ৫৭৩৯, সহীহুল মুসলিম ২১৯৩ (ইফা ৫২১৫)। عن أم سلمة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى في بيتها جارية في وجهها سفعة، فقال: «استرقوا لها، فإن بها النظرة
📄 সাহাবির আশ্চর্য ঘটনা
আবু উমামাহ সাহল ইবনে হুনাইফ বলেন, একবার আবু সাহল ইবনে হানিফ খারারে (মদীনার একটি কূপ) গোসল করছিলেন। গোসলের সময় তিনি তাঁর কাপড় খুলে ফেলেন এবং আমর ইবনে রাবিয়াহ তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সাহল ছিলেন ফর্সা এবং খুবই সুদর্শন। আমর বলেন, "আমি এত সুন্দর আর কখনো দেখিনি, এমনকি কোন কুমারী নারীর ত্বকও দেখিনি। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হাদীসের শেষ অংশে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই ঘটনা বলা হলে তিনি বলেন "তোমরা কেন তোমাদের এক ভাইকে হত্যা করছো? কেন তোমরা তাঁর কল্যাণ কামনা করে দু'আ করছো না!
পরে রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে আমরকে ওজু করানো হয় এবং সেই ওজুর পানি সাহল ইবনে হানিফ এর শরীরের পিছন দিক থেকে ঢেলে দেওয়া হয়। এতে সাহল সুস্থ হয়ে উঠে।
📄 সৌদি আরবের বাস্তব ঘটনা
শাইখ আবদুল আযীয বিন বায রহিমাহুল্লাহ একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, রিয়াদের নিকটবর্তী এক গ্রামের ঘটনা। একবার এক লোক অন্য একজন ব্যক্তির কিছু ভেড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো।
এসময় সে লোকটি ভেড়ার দিকে বদনজর দেয়, ফলে সবগুলো ভেড়া মারা যায়। ভেড়াগুলোর মালিক এসে সবগুলো ভেড়া মৃত দেখে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞেস করে "তোমার পাশ দিয়ে কেউ গেছে, ছেলে জানায় যে অমুকের ছেলে অমুক ছাড়া আর কেউ যায় নি।
এরপর ভেড়ার মালিক সেই লোককে খুঁজে বের করেন এবং তাকে একটি বিল্ডিং এর ছাদে উপবিষ্ট অবস্থায় পান। তখন ভেড়ার মালিক তাকে বলেন "হে অমুক! তুমি আমার ভেড়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কুনজর দিয়েছ, এখন তুমি এর বদলে তোমার দেহ দিবে অথবা তোমার নতুন ভবন দিয়ে দিবে।
ভবনের মালিক তার নিচে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললো। লোকটি ছাদ থেকে নেমে আসলো আর সাথে সাথেই ভবনটি ধসে পড়লো।
এই দুইটি ঘটনা থেকে বুঝা যায় বদনজরের প্রভাব কতটা প্রাণসংহারী আর ক্ষতিকর হতে পারে।
📄 বদনজরের চিকিৎসা
শিশুদের বদনজরের রুকইয়াহ পদ্ধতি ১] প্রথমে শিশুর মাথায় হাত রেখে এই দুয়া পাঠ করুন-
৩৯ بسمِ اللهِ يُبرِيكَ مِنْ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَاسَدُ وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَينٍ উচ্চারণ: ৪০ বিসমিল্লা-হি ইউবরিক, মিন দ্বা-ইন ইয়াশফিইক, অমিন শাররি হা- সিদিন ই-যা হা-সাদ, অমিন শাররি কুল্লি যী আই-ন।
بِسْمِ اللَّهِ ارْقِيْكَ وَاللَّهُ يَشْفِقْ مِنْ دَاءٍ يُؤْذِيكَ وَ مِنْ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
৪১ উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক, অল্লা-হু ইয়াশফিইক, মিন দ্বা-ইন ইউ'জিই- ক, অমিন কুল্লি নাফছিন আও যাইনি হা-ছিদ, আল্ল-হু ইয়াশফিই-ক, বিসমিল্লা-হি আরক্কিইক।
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ البَاسَ، وَشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لا شِفَاء إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَاقَمًا ৪২ (উচ্চারণ: আল্লহুম্মা রব্বান না-স, আযহিবিল বা'স, অশফি আনতাশ শা-ফী, লা শিফাআ, ইল্লা শিফা-উকা শিফা-আল, লা-ইউ গয়া-দিরু ছাক্কামা-।)
এরপর এই দুয়া পাঠ করুন-
اللهم ذا السُّلْطَانَ الْعَظِيمِ ، ذَا الْمَنِ الْقَدِيمِ. ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ. وَلِيُّ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ. وَالدَّعْوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ عَافِ (....) مِنْ أَنْفُسِ الْجِنِّ وَاعْيُنِ الْإِنْسِ " ৪৩ উচ্চারণ: আল্লহুম্মা যা সুলতা-নিল আজী-ম, যাল মান্নিল কদীম, যাল অজহিল কারীম, অলিয্যিল কালিমা-তিত তা-ম্মা, অদ্দাওয়া-তিল মুস্তাজা-বা-ত, 'আ- ফি (শিশুর নাম বলবে) মিন আংফুছিল জিন্নি অ আইনিল ইংহ্
শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করে রুকইয়াহ শেষ করতে হবে। আর ব্রাকেটের স্থানে শিশুর নাম বলবে।
পদ্ধতি ২] বদনজরের কারণে যদি শরীরের কোন স্থান ব্যথা বা অবশ হয়ে যায়, তখন সেই ব্যথার স্থানে হাত রেখে-
> সূরা ইখলাস - সাতবার > সূরা ফালাক্ক - সাতবার > সূরা নাস - সাতবার > ও শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে।
পদ্ধতি ৩] বদনজরের কারণ যদি না জানা যায় বা যদি আশংকা হয় যে, জিনের বদনজর লেগেছে তাহলে নিচের আয়াত ও সূরা পাঠ করে রুকইয়াহ করতে হবে।
টিকাঃ
[৩৯] সহিহ মুসলিম হাদিস নং ২১৮৬
[৪০] আরবী হরফের তিলাওয়াত কউচ্চারণ বাংলা বর্ণে করা অনুচিত। কেননা তাতে উচ্চারণ বিশুদ্ধ হয়না। (যারা বিশুদ্ধভাবে কুরআন রতে পারেন না প্রত্যেকেরই অনতিবিলম্বে শিখে নেয়া অত্যন্ত জরুরী) তা সত্ত্বেও পাঠকের পক্ষ থেকে এতএত সুপরামর্শ ও অনুরোধ অনলাইনে অফলাইনে অধমের নিকট এবং প্রকাশকের নিকট এসেছে যে, তাদের আগ্রহে আমরা অভিভূত ও আনন্দিত। পাঠকের চাহিদা হলো যেন দ্বিতীয় সংস্করণে আরবির উচ্চারণ বাংলায় যুক্ত করে দেই, সেইসব= সুহৃদ পাঠকের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমরা শুধুমাত্র হাদিসে বর্নিত দুয়ার রুকইয়াহ সমুহের বাংলা উচ্চারণ যুক্ত করে দিয়েছি। কুরআনের আয়াত পূর্বানুরূপই থাকবে। এতদ্বসত্ত্বেও অশুদ্ধ উচ্চারণের দায়ভার পাঠকের জিম্মায় থাকবে।
[৪১] প্রাগুক্ত
[৪২] সহিহ বুখারী- চিকিৎসা অধ্যায়
[৪৩] তাফসীরে ইবনে কাসীর খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৫৩৮