📄 শিরক এবং কুফরি তাবীজ কীভাবে চিনবেন
শিরকি এবং কুফরি তাবিজ হলো: যাতে অস্পষ্ট লিখা থাকে যা বুঝা যায় না। সেটা আরবী হরফেই লেখা হোক না কেন; যাতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া হয় এবং কুরআনের আয়াতের সাথে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট অক্ষরে শিরকী কথা লেখা থাকে। এবং যা দ্বারা মানুষের বা কোন কিছুর ক্ষতি সাধন করা হয় অথবা ভালোবাসা বা প্রেম লাগিয়ে দেয়া হয়। অনুরূপ যেসব তাবিজে বিভিন্ন চিত্র বা নকশা আঁকা থাকে যা স্বয়ং লেখকেরও বোধগম্য নয়বা তাতে কোন মন্ত্র ইত্যাদির নকশা লেখা থাকে। যাতে বিভিন্ন চিত্র বা নকশা একে মন্ত্র পাঠ করা হয়।
টিকাঃ
[১৫] ফাতহুল হাক্কিল মুবীন: ৪৩৫
📄 নকশা ও ছক লিখে তাবিজের ইতিহাস
ইতিহাসের পাতা থেকে যতটুকু পাওয়া যায়, তাবীজের নকশা লেখা শুরু হয় অনেক পূর্বযুগ থেকেই। বশীকরণ, পাগলকরণ, বিপদ থেকে আত্মরক্ষা ইত্যাদির কাজে খুব বেশি ব্যবহার হতো। তবে সেগুলো ছিল বাক্যের উপর নির্ভর। ১, ২ দিয়ে আবজাদী অক্ষরের নকশা ও ছক তৈরি করণ এটা শুরু হয়েছে আরব দেশে ইসমাঈল আ. এর বসবাসের পরে। বিশেষ করে ফেরআউনের যুগ থেকে এটাকে যাদুর ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ইহুদীরা এটাকে খুব বেশি ব্যবহর করতো। হাদীসে বর্ণিত আছে, কাবে আহবার রহ. বলেন, আমি যদি এই কলেমাগুলো না পড়তাম, তাহলে আমাকে ইহুদীরা গাধা বানিয়ে ফেলতো। তাছাড়া ইহুদীরা যে রাসূল স. কে যাদু করেছিল তা তো প্রসিদ্ধ।
টিকাঃ
[১৬] মুয়াত্তা ইমাম মালেক রহ, হাদীস নং-৩৫০২ مَالِكٌ، عَنْ سُمّي مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ: أَنَّ كَعْبَ الْأَحْبَارِ قَالَ: لَوْلَا كَلِمَاتٌ أَقُولُهُنَّ لَجَعَلَتْنِي يَهُودُ حِماراً، فَقِيلَ لَهُ: وَمَا هُنَّ ؟ فَقَالَ: أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ. وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لا يُجَاوِزُهُنَّ بَرِّ وَلا فَاجِرٌ. وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا. مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمُ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَا
📄 নকশার মাধ্যমে তাবিজ লেখা ও তা ব্যবহার করা
নকশার দ্বারা আসলে শুধু ইঙ্গিত বুঝায়। বাস্তবে নকশার কোন অর্থ নেই। আমরা যেমন দিক বুঝানোর জন্য তীর চিহ্ন ব্যবহার করি কিন্তু এর কোন অর্থ নেই। ঠিক তেমনিভাবে .....। অক্ষরগুলোকে ।৮.৮.৫ এর মাধ্যমে প্রকাশ করার কোন অর্থ নেই। কিন্তু যত তাবিজ-তুমার লেখা হয় তার অধিকাংশেই এই সংখ্যার ব্যবহার খুব বেশি। সংখ্যার যদি নিজস্ব কোন অর্থ না থাকে, তাহলে সেটা দ্বারা কোরআনের আয়াতের নকশা বানানো বা পবিত্র কোরআনের সূরাসমূহের নকশা বানানো কতটুকুট বৈধ তা আমরা বলতে পারবো না।
কতগুলো আঁকিবুকি করে যদি বলা হয় এগুলো কোরআনের আয়াতের সারাংশ বা মান তাহলে সেটা কতটুকু সঠিক হতে পারে তা সহজেই বোধগম্য।
থানাবি রহ. তাবিজ সম্পর্কে দুইটি কিতাব লিখেছেন। একটি হলো আমালে কোরআনী। অন্য আরেকটি লিখেছেন। অনেক আগে কিতাবটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কিতাবটির নাম মনে নেই। উক্ত কিতাবে তিনি বলেছেন, কোন নকশার অর্থ জানা না থাকলে তা দিয়ে তাবিজ লেখা বৈধ নয়। আমাদের বাজারে প্রচলিত যতগুলো তাবিজের বই আছে তাতে প্রায় সবগুলোতেই পবিত্র কোরআনের সূরাগুলোর নকশা দেওয়া আছে। প্রশ্ন হলো, কে এই নকশাগুলো তৈরি করলো?
আর কীভাবেই বা তৈরি করা হলো?
কোন সংখ্যার জন্য কোরআনের কোন কোন আয়াত নির্ধারিত করা হলো?
এই সংখ্যা দিয়ে কোরআনের আয়াতের মান লিখার কি মূলনীতি রয়েছে?
নকশার মাধ্যমে কোরআনের আয়াতগুলোর প্রতীকি তাবিজ লেখার কেন প্রয়োজন হলো?
এসব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাই আমরা বলি নকশার মাধ্যমে কোন তাবিজ লেখা বৈধ নয়। কিন্তু আমাদের দেশে বড় বড় শায়খ ও অনেক উলামায়ে কেরাম এই তাবিজ দেদারছে লিখে যাচ্ছেন আর এটাকে বৈধ বলেও ফতোয়া দিচ্ছেন। জানিনা এর বৈধতা কোরআন-সুন্নাহর কোন উৎস থেকে নির্গত! আল্লাহ আমাদের সবধরনের ভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন।
📄 কিছু বাস্তব নমুনা
নিচের চিত্রে আটটি তাবীজের চিত্র দেয়া আছে। যে তাবীজগুলো আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে যা বান মারা, গর্ভের সন্তান নষ্ট করা, ছেলে বা মেয়েকে বশ করা, মানুষকে অসুস্থ করে রেখে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন কুফরি এবং শিরকী তাবিজ যা বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমরা কোনো তাবিজের জন্য সাথে কোন ক্যাপশন দেইনি; যাতে এগুলোর দ্বারা কেউ উৎসাহিত হয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারে।