📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা

📄 একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা


যারা তাবীজ-কবজ জায়েজ হওয়ার পক্ষে কথা বলেন, তারা কুরআনের এই আয়াতটি উল্লেখ করেন, "আমি অবতীর্ণ করেছি কুরআন, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু যালিমরা ক্ষতিই বৃদ্ধি করেছে।”
তাদের যুক্তি হলোঃ যেহেতু হাদিসে ঝাড়ফুঁককেও (রুকইয়াহ) শিরক বলা হয়েছে, সেহেতু যদি তাবিজ-কবজ শিরক হয় তবে রুকইয়াহ'ও শিরক। এই সূত্রেই তারা রুকইয়াহ'র সাথে তাবীজ-কবজকে কিয়াস করেন।
আর একটি যুক্তি হলো, যে ধরনের তাবিজে কুরআনের আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ থাকে সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই; তা ব্যবহার করা জায়েজ। কেননা, কুরআনের তাসির (প্রভাব) অনস্বীকার্য। এখানেও তারা উপরোক্ত আয়াত দ্বারা কিয়াস করেন।
তাদের প্রথম যুক্তির উত্তর হলো এই যে, একথার সাথে আমাদের কোনই দ্বিমত থাকতো না যদি কর্মে এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা হতো। কিন্তু এই আয়াত বা আয়াতাংশের সাথে যে তাবিজ ওয়ালারা শিরকি ও কুফরি কথা মিলিয়ে লেখা হয় সেটা কী করে জায়েজ হতে পারে? যদিও তা আরবী ভাষায় লেখা হয়? পরের কথা হলো, রুকইয়াহ'কে শিরক বলা হয়েছে অন্য কারণে তা হলো, রুকইয়াহ দুই প্রকার:
১. শিরকি রুকইয়াহ। ২. কুরআনের আয়াত দ্বারা রুকইয়াহ।
এখানে শিরকি রুকইয়াহ'র কথা বলা হয়েছে। কেননা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকইয়াহ'র বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। আমল করেছেন, সাহাবীদেরকে করতে বলেছেন আবার তিনি কেন রুকইয়াহকে শিরক বলবেন? আসলে স্পষ্ট কথা হলো নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে বৈপরিত্যের লেশমাত্রও নেই। সমস্যা আমাদের গোঁড়ামি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানসিকতায়। কোন বুজুর্গানে দ্বীনের ব্যক্তি জীবনে অস্পষ্ট কোন বিষয়ের যদি কিছু আমাল থেকেও থাকে, তাই বলে সেটা শরিয়ত হয়ে যায় না। সেটা কেন উম্মাহর ঘাড়ে ইসলামত্ব বলে চাপিয়ে দেয়া হবে?
প্রিয় রাসুলের নবুয়তী জামানায়, যে জাহেলী যুগের তাবীজকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এ জামানায়ও তা নিষিদ্ধ; কেননা, ইসলাম সর্বকালের ধর্ম।
আমাদের দেশের মাজার পূজারীদের মধ্যে তাবীজের ব্যবহার প্রচলন ব্যাপকভারে করতে দেখা যায়। আর একটা কথা হলো, কুরআনের আয়াত বা আয়াতাংশ শুধু শরীরে বা বাড়িতে ঝুলানো বা লটকালেই ফায়দা হাসিল হয় না; যদি শুধু ঝুলানোর দ্বারা ফায়দা হতো; তবে আমাদের সমাজে অনেকের বাড়িতে, ঘরে দোকানে, কুরআনের হাজার হাজার নুসখা ধুলামলিন হয়ে বছরের পর বছর পরে আছে, তাহলে তো কুরআনের কপি সেখানে থাকার কারণে ঘরওয়ালাদের অনেক অনেক বেশি নেকী ও বরকত হতো।
কুরআন মাজীদ কী গলায় ঝুলিয়ে ব্যবহার করার জন্য নাজিল হয়েছে? নাকি; নাজিল হয়েছে তিলাওয়াত করার জন্য, আমল করার জন্য?
আলকুরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াত "ইক্করা, অর্থ: পড়। পড়তে বলা হয়েছে। তিলাওয়াত করলে প্রতি হরফে দশ নেকী।
সূরা ফাতিহা পড়ার ফজিলত বয়ান করা হয়েছে। সূরা ফাতিহাকে শিফা বলা হয়েছে। কুরআন খতমে নেকীর ফজিলত বয়ান করা হয়েছে। কোথাও তাবীজ হিসেবে গলায়, হাতের বাজুতে বা কোমরে ঝুলিয়ে ব্যবহার করার কথা বলা হয়নি। বরকত তো হবে যেই স্থান বা ঘরে যেখানে কুরআনের তিলাওয়াত হবে আমাল হবে। এরপরও যারা পূর্বসুরী উলামা বা ব্যক্তিত্বশীল আকাবিরের অথবা বিশেষ কারও নাম ভাঙিয়ে শিরকী তাবিজের বৈধতা দিতে চায়; তারা যেন একরকমের, ভন্ড ওঝা, মাজার পূজারী, জ্যোতিষ-যাদুকরদের এহেন দুষ্কর্মে উৎসাহ দিতে চায়; এবং ওদের ভিত মজবুত করতে চায়। ইয়া আল্লাহ্ উম্মাহকে ফেতনা থেকে হিফাজত করুন, আমিন।

টিকাঃ
[১৪] সুরা ইসরা আয়াত ৮২

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 শিরক এবং কুফরি তাবীজ কীভাবে চিনবেন

📄 শিরক এবং কুফরি তাবীজ কীভাবে চিনবেন


শিরকি এবং কুফরি তাবিজ হলো: যাতে অস্পষ্ট লিখা থাকে যা বুঝা যায় না। সেটা আরবী হরফেই লেখা হোক না কেন; যাতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া হয় এবং কুরআনের আয়াতের সাথে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট অক্ষরে শিরকী কথা লেখা থাকে। এবং যা দ্বারা মানুষের বা কোন কিছুর ক্ষতি সাধন করা হয় অথবা ভালোবাসা বা প্রেম লাগিয়ে দেয়া হয়। অনুরূপ যেসব তাবিজে বিভিন্ন চিত্র বা নকশা আঁকা থাকে যা স্বয়ং লেখকেরও বোধগম্য নয়বা তাতে কোন মন্ত্র ইত্যাদির নকশা লেখা থাকে। যাতে বিভিন্ন চিত্র বা নকশা একে মন্ত্র পাঠ করা হয়।

টিকাঃ
[১৫] ফাতহুল হাক্কিল মুবীন: ৪৩৫

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 নকশা ও ছক লিখে তাবিজের ইতিহাস

📄 নকশা ও ছক লিখে তাবিজের ইতিহাস


ইতিহাসের পাতা থেকে যতটুকু পাওয়া যায়, তাবীজের নকশা লেখা শুরু হয় অনেক পূর্বযুগ থেকেই। বশীকরণ, পাগলকরণ, বিপদ থেকে আত্মরক্ষা ইত্যাদির কাজে খুব বেশি ব্যবহার হতো। তবে সেগুলো ছিল বাক্যের উপর নির্ভর। ১, ২ দিয়ে আবজাদী অক্ষরের নকশা ও ছক তৈরি করণ এটা শুরু হয়েছে আরব দেশে ইসমাঈল আ. এর বসবাসের পরে। বিশেষ করে ফেরআউনের যুগ থেকে এটাকে যাদুর ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ইহুদীরা এটাকে খুব বেশি ব্যবহর করতো। হাদীসে বর্ণিত আছে, কাবে আহবার রহ. বলেন, আমি যদি এই কলেমাগুলো না পড়তাম, তাহলে আমাকে ইহুদীরা গাধা বানিয়ে ফেলতো। তাছাড়া ইহুদীরা যে রাসূল স. কে যাদু করেছিল তা তো প্রসিদ্ধ।

টিকাঃ
[১৬] মুয়াত্তা ইমাম মালেক রহ, হাদীস নং-৩৫০২ مَالِكٌ، عَنْ سُمّي مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ: أَنَّ كَعْبَ الْأَحْبَارِ قَالَ: لَوْلَا كَلِمَاتٌ أَقُولُهُنَّ لَجَعَلَتْنِي يَهُودُ حِماراً، فَقِيلَ لَهُ: وَمَا هُنَّ ؟ فَقَالَ: أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ. وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لا يُجَاوِزُهُنَّ بَرِّ وَلا فَاجِرٌ. وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا. مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمُ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَا

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 নকশার মাধ্যমে তাবিজ লেখা ও তা ব্যবহার করা

📄 নকশার মাধ্যমে তাবিজ লেখা ও তা ব্যবহার করা


নকশার দ্বারা আসলে শুধু ইঙ্গিত বুঝায়। বাস্তবে নকশার কোন অর্থ নেই। আমরা যেমন দিক বুঝানোর জন্য তীর চিহ্ন ব্যবহার করি কিন্তু এর কোন অর্থ নেই। ঠিক তেমনিভাবে .....। অক্ষরগুলোকে ।৮.৮.৫ এর মাধ্যমে প্রকাশ করার কোন অর্থ নেই। কিন্তু যত তাবিজ-তুমার লেখা হয় তার অধিকাংশেই এই সংখ্যার ব্যবহার খুব বেশি। সংখ্যার যদি নিজস্ব কোন অর্থ না থাকে, তাহলে সেটা দ্বারা কোরআনের আয়াতের নকশা বানানো বা পবিত্র কোরআনের সূরাসমূহের নকশা বানানো কতটুকুট বৈধ তা আমরা বলতে পারবো না।
কতগুলো আঁকিবুকি করে যদি বলা হয় এগুলো কোরআনের আয়াতের সারাংশ বা মান তাহলে সেটা কতটুকু সঠিক হতে পারে তা সহজেই বোধগম্য।
থানাবি রহ. তাবিজ সম্পর্কে দুইটি কিতাব লিখেছেন। একটি হলো আমালে কোরআনী। অন্য আরেকটি লিখেছেন। অনেক আগে কিতাবটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কিতাবটির নাম মনে নেই। উক্ত কিতাবে তিনি বলেছেন, কোন নকশার অর্থ জানা না থাকলে তা দিয়ে তাবিজ লেখা বৈধ নয়। আমাদের বাজারে প্রচলিত যতগুলো তাবিজের বই আছে তাতে প্রায় সবগুলোতেই পবিত্র কোরআনের সূরাগুলোর নকশা দেওয়া আছে। প্রশ্ন হলো, কে এই নকশাগুলো তৈরি করলো?
আর কীভাবেই বা তৈরি করা হলো?
কোন সংখ্যার জন্য কোরআনের কোন কোন আয়াত নির্ধারিত করা হলো?
এই সংখ্যা দিয়ে কোরআনের আয়াতের মান লিখার কি মূলনীতি রয়েছে?
নকশার মাধ্যমে কোরআনের আয়াতগুলোর প্রতীকি তাবিজ লেখার কেন প্রয়োজন হলো?
এসব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাই আমরা বলি নকশার মাধ্যমে কোন তাবিজ লেখা বৈধ নয়। কিন্তু আমাদের দেশে বড় বড় শায়খ ও অনেক উলামায়ে কেরাম এই তাবিজ দেদারছে লিখে যাচ্ছেন আর এটাকে বৈধ বলেও ফতোয়া দিচ্ছেন। জানিনা এর বৈধতা কোরআন-সুন্নাহর কোন উৎস থেকে নির্গত! আল্লাহ আমাদের সবধরনের ভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00