📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 যে ছেলেটি বোবা হয়ে গেলো

📄 যে ছেলেটি বোবা হয়ে গেলো


[অভিজ্ঞতা ৮] ছেলেটির বয়স নয় কি দশ বছর। বাড়ি চট্টগ্রামে। ছেলেটি খুবই হাসিখুশি প্রকৃতির ছিলো। কথাবার্তা এমনভাবে বলত মানুষ অবাক হয়ে যেত!
একেবারে জ্ঞানী মানুষের মত কথা বলত। হঠাৎ করে একেবারে নির্জিব হয়ে গেলো। কারো সাথে কোনো কথা বার্তা বলে না。
এমন কি মা-বাবার সাথেও না। খাওয়া-দাওয়া ও ঠিকমত করেনা। সারাক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকে। বিষন্ন মনে কথাগুলো বললেন, "চট্টগ্রাম থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে আসা ছেলেটির বাবা।
- আমি জিজ্ঞাসা করলাম সমস্যা শুরু কখন থেকে?
- তিনি জানান, আমাদের সাথে একদিন গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলো, সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়ীতে বসে কথাবার্তা বলছিলো, হঠাৎ করে দেখি সে নিশ্চুপ, তখন আমরা বিষয়টি লক্ষ করিনি; কিন্তু তখন থেকেই মূলত সমস্যা শুরু।
এরপর ডাক্তার দেখিয়েছি, ওঝা-ফকির, কাউকে বাদ রাখিনি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
- আমি ছেলেটির অভিভাবকদের বললাম, "দেখুন আপনাদের ছেলের মারাত্মক বদনজর লেগেছে, এবং এর প্রভাব এতই স্পর্শকাতর যে, আপনারা নিজেরাই তার চাক্ষুষ প্রমাণ।
যাইহোক আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এরপর আমরা তার উপর রুকইয়াহ শুরু করলাম। প্রথমে যখন তাকে রুকইয়াহ করা হলো, তখন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না।
পরে যখন আবার তাকে একটানা দীর্ঘক্ষণ রুকইয়াহ শুরু করা হলো; এবার অনেক্ষণপর তার কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো। তাকে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা আর বলতে পারলো না, তবে আমরা তাকে দুইমাসের রুকইয়াহ'র প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দিলাম। তাদেরকে ধৈর্যের সাথে আমল করতে বললাম। দেখা গেলো দুইমাস সময়ও লাগলো না, মাত্র চল্লিশ বিয়াল্লিশ দিন পরেই মুঠোফোনে তারা জানালো যে, ছেলে কথা বলা শুরু করেছে। এরপর পরবর্তিতে তাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্ ছেলেটি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00