📄 বন্ধ্যা নারীর সন্তান লাভ
[অভিজ্ঞতা ৭] আমার পরিচিত বন্ধু গোছের এক পরিচিত ভাইয়ের কথা বলছি। তার নাম হচ্ছে, সাইফুল ইসলাম হাসান। বরিশালে কনফেকশনারি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। জন্মস্থান বরিশালে, সেখানেই বসবাস করতেন। বর্তমানে কাতার প্রবাসী। ঘটনাক্রমে সেদিন বরিশাল নবগ্রাম রোড, হাতেম আলি কলেজের সামনে তার সাথে আমার দেখা। তিনি মুলাকাতের পর কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন, “ভাই আপনার সাথে একটু জরুরী কথা আছে। যদি একটু সময় দিতেন খুবই উপকার হতো। আমি তখনই তাকে বললাম যে, ঠিক আছে বলুন এখন আমার হাতে বেশ সময় আছে।
- সে বললো, ভাই কথা হলো কী আমার স্ত্রীর এখন পর্যন্ত কোন বাচ্চাকাচ্চা হয়নি। অনেকে তাকে বন্ধ্যা বলেই ধরে নিয়েছে। কী করি বলেনতো? বিয়ে করেছি প্রায় পাঁচবছর হলো, কিন্তু এখনো কিছুতে কিছু হলো না।
- আমি বললাম, "নিরাশ হবেন না। সমস্যা হতেই পারে, আর সমস্যাটা তো আপনারও হতে পারে?
- সে বললো, "ভাই আমি অনেক টাকাপয়সা খরচ করেছি। আমি তার জন্য যেখানে যা প্রয়োজন চিকিৎসা করিয়েছি সাথে আমার নিজেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছি। আমার শারীরিক কোনই ত্রুটি ধরা পড়েনি।
- আমি তাকে অভয় দিয়ে বললাম, "ভাই যদি আল্লাহ্ আপনাদের তকদিরে সন্তান রাখেন তবে অবশ্যই আপনারা সন্তান পাবেন। নয়তো কখনোই সম্ভব নয়। আমি আপনাকে কিছু কুরআনি আমাল দিতে পারি যদি ঠিকমত পালন করতে পারেন তবে অবশ্যই সফলতার আশা করা যায়।
- সে বললো, “জি ভাই আপনি দিন আমি ঠিকমত আমাল করবো, কোন ত্রুটি করবো না।
- আমি তাকে পবিত্র কুরআনের থেকে কিছু নির্বাচিত আয়াত (রুকইয়াহ) একটি কাগজে লিখে দিলাম। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত তার স্ত্রীকে প্রায় তিলাওয়াত করতে বললাম। যতটুকু মনে পড়ছে, মোটামুটি চল্লিশ দিনের একটা কোর্সের মত নির্দেশনা দিলাম। ঘটনার প্রায় দুইমাস পর আমার মোবাইলে তার একটি রিং এলো। সালাম বিনিময়ের পর, ওপাশ থেকে বললো, “ভাই একটু জরুরী দেখা করা প্রয়োজন। আমি ঘাবড়ে বললাম, "কোন সমস্যায় পরেছেন নাকি? সে বললো, আপনার সময় হলে বলেন দেখা করতে পারবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ সময় তো আছে। আমি তখনই তার সাথে দেখা করলাম। সে আমাদেরকে একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করলো, তখন আমার সাথে জিহাদ নামে একজন ছোটভাই ছিলো। সে বর্তমানে চট্টগ্রামে একটি রুকইয়াহ সেন্টারে আছে।
সে যাইহোক; আমি বললাম, "কেন এত জরুরি তলব সেটাতো এখন পর্যন্ত জানা হলোনা।
সে বলল ভাইয়া, আল্লাহ্র কাছে হাজারো শুকরিয়া! আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হয়েছে। আমি চমকে উঠলাম। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে কালবিলম্ব করলাম না, জোরেসোরে আলহামদুলিল্লাহ্ বললাম। সে আমাকে বললো, ভাই আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
আমি বললাম, “লা হাওলা অলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ। না ভাই, এটা আল্লাহর কালামের বারাকাহ। আর তা সম্পূর্ণ আল্লাহর মর্জিতেই হয়েছে। আমি বললাম, "দেখুন আমরা যদি আমাদের সমস্ত সমাধান কুরআনে খুঁজি তাহলে আমাদের আর কারো কাছে ধর্না দেয়ার প্রয়োজন হবে না। কখনোই হতাশা ফিল করতে হবে না। সেদিন অনেক কথা হলো তার সাথে। তার পরদিনই তার, কাতারের ফ্লাইট ছিলো। এখন সে প্রবাসি। মাঝে মাঝে অনলাইনে কথা হয়। এই লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত তার স্ত্রীর পেটের সন্তানের বয়স সাত মাস, তাই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সুখবরটি লিখতে পারিনি। দুয়ার দরখাস্ত।
📄 যে ছেলেটি বোবা হয়ে গেলো
[অভিজ্ঞতা ৮] ছেলেটির বয়স নয় কি দশ বছর। বাড়ি চট্টগ্রামে। ছেলেটি খুবই হাসিখুশি প্রকৃতির ছিলো। কথাবার্তা এমনভাবে বলত মানুষ অবাক হয়ে যেত!
একেবারে জ্ঞানী মানুষের মত কথা বলত। হঠাৎ করে একেবারে নির্জিব হয়ে গেলো। কারো সাথে কোনো কথা বার্তা বলে না。
এমন কি মা-বাবার সাথেও না। খাওয়া-দাওয়া ও ঠিকমত করেনা। সারাক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকে। বিষন্ন মনে কথাগুলো বললেন, "চট্টগ্রাম থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে আসা ছেলেটির বাবা।
- আমি জিজ্ঞাসা করলাম সমস্যা শুরু কখন থেকে?
- তিনি জানান, আমাদের সাথে একদিন গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলো, সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়ীতে বসে কথাবার্তা বলছিলো, হঠাৎ করে দেখি সে নিশ্চুপ, তখন আমরা বিষয়টি লক্ষ করিনি; কিন্তু তখন থেকেই মূলত সমস্যা শুরু।
এরপর ডাক্তার দেখিয়েছি, ওঝা-ফকির, কাউকে বাদ রাখিনি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
- আমি ছেলেটির অভিভাবকদের বললাম, "দেখুন আপনাদের ছেলের মারাত্মক বদনজর লেগেছে, এবং এর প্রভাব এতই স্পর্শকাতর যে, আপনারা নিজেরাই তার চাক্ষুষ প্রমাণ।
যাইহোক আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এরপর আমরা তার উপর রুকইয়াহ শুরু করলাম। প্রথমে যখন তাকে রুকইয়াহ করা হলো, তখন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না।
পরে যখন আবার তাকে একটানা দীর্ঘক্ষণ রুকইয়াহ শুরু করা হলো; এবার অনেক্ষণপর তার কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো। তাকে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা আর বলতে পারলো না, তবে আমরা তাকে দুইমাসের রুকইয়াহ'র প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দিলাম। তাদেরকে ধৈর্যের সাথে আমল করতে বললাম। দেখা গেলো দুইমাস সময়ও লাগলো না, মাত্র চল্লিশ বিয়াল্লিশ দিন পরেই মুঠোফোনে তারা জানালো যে, ছেলে কথা বলা শুরু করেছে। এরপর পরবর্তিতে তাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্ ছেলেটি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছে।