📄 বেশি ভয় পেলেও জ্বিনে আছর করে
[আভিজ্ঞতা ৫] এখন যার কথা বলবো, সে একটি শিশু। বয়স আর কত হবে; দশ কি বারো বছর। একটি প্রাইভেট হিফজ মাদরাসায় পড়ে নাজেরা বিভাগে। ঢাকার শ্যামলীর কাছাকাছি থাকে। তো ঘটনার দিন সে বাসায় ছিলো। বাসায় বসে তার বাবার মোবাইল ফোনে একটি ভিডিওক্লিপ দেখছিলো; হঠাৎ ভয় পেয়ে খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলো। তার বাবা এসে বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাকে হালকা পাতলা মারপিট করলো না বলে মোবাইল নেয়ার জন্য।
এভাবে দিন গড়িয়ে রাত আসলো। যখন ইশার নামাজের সময় হলো, তখন ছেলেটি মসজিদে গেলো নামাজ পড়তে। নামাজে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করে আবার খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলো।
উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে গিয়ে শান্ত করতে চেষ্টা করল, তারা যতই তাকে থামানোর চেষ্টা করে সে আরো জোরে চিৎকার করে। -তারা জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?
কে শোনে কার কথা; সে অবিরাম কেঁদেই চলেছে, এরপর তারা তার বাবাকে খবর দিলো। তার বাবা এসে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসলো।
বাসায় এসে তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করলো,
-কি হয়েছে কিছু দেখে ভয় পেয়েছো?
সে কিছু বলছে না। শুধু চিৎকারই করে চলেছে। তখনই তার বাবা ফোন দিলো। তাকে মসজিদের ইমাম সাহেবকে ফোনে ধরিয়ে দিতে বললাম।
তারা ইমাম সাহেবকে দিলো। ইমাম সাহেবকে কিছু রুকইয়াহ সংশ্লিষ্ট আয়াত, ছেলেটির কানের কাছে উচ্চস্বরে পড়তে বললাম ও আরো প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দিলাম। ইমাম সাহেব জিনঘটিত ব্যাপার দেখে রাজি হলেন না। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন। এবং ছেলের বাবাকে এক হুযুরের কাছে গিয়ে তাবিজ নিতে পরামর্শ দিলেন। ছেলেটির বাবা তাবিজ নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি বললেন, ছেলে সুস্থ না হলেও আমি তাবিজ নিবো না। এরপর তিনি চলে আসলেন। সেদিন এভাবেই কেটে গেলো। পরের দিন তার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে যেতে বললেন, আমি অবস্থা বেগতিক দেখে আমাদের এক ভাইকে পাঠালাম।
সে বাসায় গিয়ে প্রথমে ছেলেটিকে রুকইয়াহর গোছল দিলো। এরপর তাকে রুকইয়াহ করলো।
টানা এক-দেড়ঘন্টা রুকইয়াহ করার পর, আলহামদুলিল্লাহ সে সুস্থ হয়ে যায়। সে চলে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো সমস্যা হয়নি, পরে ফোন দিয়ে জেনেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ্ কোনো সমস্যা হয়নি। সে এখন সুস্থভাবে মাদরাসায় লেখাপড়া করছে।
📄 আল কুরআনের বারাকাহ
[আভিজ্ঞতা ৬] এখন যে ছেলেটির কথা বলব তার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন ধাঁচের। আমরা এক পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে তার কথা জানতে পারি। ছেলেটির অবস্থা ছিলো খুবই নাজুক, এবং সে অস্বাভাবিক আচরণ করতো!
সবার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতো। যে কাউকে তেড়ে মারতে আসতে চাইতো! ছেলের করুণ অবস্থা দেখে তার মা রুকইয়াহ'র ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি ওই পরিচিত ভাইকে রুকইয়াহ করার জন্য অনুরোধ জানায়。
প্রথমে যে ভিন্নতার কথা বলেছিলাম, তা হলো তারা ছিলো হিন্দু সম্প্রদায়ের! তার মায়ের অনুরোধে আমাদের এক ভাই রুকইয়াহ করার জন্য তার বাসায় যান। বাসায় গিয়ে ছেলেটিকে রুকইয়াহ শুরু করে; আধাঘন্টা যেতে না যেতেই ছেলেটি হাত পা ছুড়তে লাগলো। এর কিছুক্ষণপরেই তার সাথে থাকা জিনটি হাজির হয়ে গেলো!
- সে জিনটিকে জিজ্ঞেস করলো, এই তোর নাম কি?
- কোন কথা বলে না!
- আবার জিজ্ঞেস করলো, তুই কোথায় থাকিস?
- কোন সাড়া নেই।
- তৃতীয়বার যখন জিজ্ঞেস করলো তোর বয়স কত? তখন সে কথা বলা শুরু করলো,
- জিন বলল আমার বয়স একহাজার বছর।
- সে জিজ্ঞেস করলো এর সাথে তুই এসেছিস কেন?
- জিন বললো আমি তাকে পছন্দ করি!
- সে বললো, তুই এই ছেলের কাছ থেকে চলে যা;
- জিন বললো আমি যেতে পারি একটা শর্ত!
- সে বললো কি শর্ত?
- জিন বিভিন্ন উদ্ভট কথাবার্তা বলতে লাগলো।
- সে বললো, শর্ত ছাড়া যাবি কিনা বল?
- জিন বললো না যাবো না।
- সে বললো, “তাহলে আল্লাহর কালাম মনোযোগ দিয়ে শোন। এরপর সে পুনরায় রুকইয়াহ শুরু করলো। এখন জিনটি চেঁচাতে লাগলো। কিছুক্ষণপরে সে বলতে লাগলো,
- আমি যাচ্ছি! আমি যাচ্ছি! আমাকে ছেড়ে দে আমি আর আসবো না।
এরকম কয়েকবার বলার পরে সে শান্ত হয়ে গেলো। এরপর সে রুকইয়াহ শেষ করলো এবং ছেলেটি সুস্থ হয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ এরপর ওই ভাই চলে আসলো। পরবর্তীতে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এরপর ছেলেটির আর কোনও সমস্যা হয়নি।
📄 বন্ধ্যা নারীর সন্তান লাভ
[অভিজ্ঞতা ৭] আমার পরিচিত বন্ধু গোছের এক পরিচিত ভাইয়ের কথা বলছি। তার নাম হচ্ছে, সাইফুল ইসলাম হাসান। বরিশালে কনফেকশনারি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। জন্মস্থান বরিশালে, সেখানেই বসবাস করতেন। বর্তমানে কাতার প্রবাসী। ঘটনাক্রমে সেদিন বরিশাল নবগ্রাম রোড, হাতেম আলি কলেজের সামনে তার সাথে আমার দেখা। তিনি মুলাকাতের পর কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন, “ভাই আপনার সাথে একটু জরুরী কথা আছে। যদি একটু সময় দিতেন খুবই উপকার হতো। আমি তখনই তাকে বললাম যে, ঠিক আছে বলুন এখন আমার হাতে বেশ সময় আছে।
- সে বললো, ভাই কথা হলো কী আমার স্ত্রীর এখন পর্যন্ত কোন বাচ্চাকাচ্চা হয়নি। অনেকে তাকে বন্ধ্যা বলেই ধরে নিয়েছে। কী করি বলেনতো? বিয়ে করেছি প্রায় পাঁচবছর হলো, কিন্তু এখনো কিছুতে কিছু হলো না।
- আমি বললাম, "নিরাশ হবেন না। সমস্যা হতেই পারে, আর সমস্যাটা তো আপনারও হতে পারে?
- সে বললো, "ভাই আমি অনেক টাকাপয়সা খরচ করেছি। আমি তার জন্য যেখানে যা প্রয়োজন চিকিৎসা করিয়েছি সাথে আমার নিজেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছি। আমার শারীরিক কোনই ত্রুটি ধরা পড়েনি।
- আমি তাকে অভয় দিয়ে বললাম, "ভাই যদি আল্লাহ্ আপনাদের তকদিরে সন্তান রাখেন তবে অবশ্যই আপনারা সন্তান পাবেন। নয়তো কখনোই সম্ভব নয়। আমি আপনাকে কিছু কুরআনি আমাল দিতে পারি যদি ঠিকমত পালন করতে পারেন তবে অবশ্যই সফলতার আশা করা যায়।
- সে বললো, “জি ভাই আপনি দিন আমি ঠিকমত আমাল করবো, কোন ত্রুটি করবো না।
- আমি তাকে পবিত্র কুরআনের থেকে কিছু নির্বাচিত আয়াত (রুকইয়াহ) একটি কাগজে লিখে দিলাম। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত তার স্ত্রীকে প্রায় তিলাওয়াত করতে বললাম। যতটুকু মনে পড়ছে, মোটামুটি চল্লিশ দিনের একটা কোর্সের মত নির্দেশনা দিলাম। ঘটনার প্রায় দুইমাস পর আমার মোবাইলে তার একটি রিং এলো। সালাম বিনিময়ের পর, ওপাশ থেকে বললো, “ভাই একটু জরুরী দেখা করা প্রয়োজন। আমি ঘাবড়ে বললাম, "কোন সমস্যায় পরেছেন নাকি? সে বললো, আপনার সময় হলে বলেন দেখা করতে পারবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ সময় তো আছে। আমি তখনই তার সাথে দেখা করলাম। সে আমাদেরকে একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করলো, তখন আমার সাথে জিহাদ নামে একজন ছোটভাই ছিলো। সে বর্তমানে চট্টগ্রামে একটি রুকইয়াহ সেন্টারে আছে।
সে যাইহোক; আমি বললাম, "কেন এত জরুরি তলব সেটাতো এখন পর্যন্ত জানা হলোনা।
সে বলল ভাইয়া, আল্লাহ্র কাছে হাজারো শুকরিয়া! আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হয়েছে। আমি চমকে উঠলাম। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে কালবিলম্ব করলাম না, জোরেসোরে আলহামদুলিল্লাহ্ বললাম। সে আমাকে বললো, ভাই আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
আমি বললাম, “লা হাওলা অলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ। না ভাই, এটা আল্লাহর কালামের বারাকাহ। আর তা সম্পূর্ণ আল্লাহর মর্জিতেই হয়েছে। আমি বললাম, "দেখুন আমরা যদি আমাদের সমস্ত সমাধান কুরআনে খুঁজি তাহলে আমাদের আর কারো কাছে ধর্না দেয়ার প্রয়োজন হবে না। কখনোই হতাশা ফিল করতে হবে না। সেদিন অনেক কথা হলো তার সাথে। তার পরদিনই তার, কাতারের ফ্লাইট ছিলো। এখন সে প্রবাসি। মাঝে মাঝে অনলাইনে কথা হয়। এই লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত তার স্ত্রীর পেটের সন্তানের বয়স সাত মাস, তাই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সুখবরটি লিখতে পারিনি। দুয়ার দরখাস্ত।
📄 যে ছেলেটি বোবা হয়ে গেলো
[অভিজ্ঞতা ৮] ছেলেটির বয়স নয় কি দশ বছর। বাড়ি চট্টগ্রামে। ছেলেটি খুবই হাসিখুশি প্রকৃতির ছিলো। কথাবার্তা এমনভাবে বলত মানুষ অবাক হয়ে যেত!
একেবারে জ্ঞানী মানুষের মত কথা বলত। হঠাৎ করে একেবারে নির্জিব হয়ে গেলো। কারো সাথে কোনো কথা বার্তা বলে না。
এমন কি মা-বাবার সাথেও না। খাওয়া-দাওয়া ও ঠিকমত করেনা। সারাক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকে। বিষন্ন মনে কথাগুলো বললেন, "চট্টগ্রাম থেকে ট্রিটমেন্ট নিতে আসা ছেলেটির বাবা।
- আমি জিজ্ঞাসা করলাম সমস্যা শুরু কখন থেকে?
- তিনি জানান, আমাদের সাথে একদিন গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলো, সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়ীতে বসে কথাবার্তা বলছিলো, হঠাৎ করে দেখি সে নিশ্চুপ, তখন আমরা বিষয়টি লক্ষ করিনি; কিন্তু তখন থেকেই মূলত সমস্যা শুরু।
এরপর ডাক্তার দেখিয়েছি, ওঝা-ফকির, কাউকে বাদ রাখিনি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
- আমি ছেলেটির অভিভাবকদের বললাম, "দেখুন আপনাদের ছেলের মারাত্মক বদনজর লেগেছে, এবং এর প্রভাব এতই স্পর্শকাতর যে, আপনারা নিজেরাই তার চাক্ষুষ প্রমাণ।
যাইহোক আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এরপর আমরা তার উপর রুকইয়াহ শুরু করলাম। প্রথমে যখন তাকে রুকইয়াহ করা হলো, তখন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না।
পরে যখন আবার তাকে একটানা দীর্ঘক্ষণ রুকইয়াহ শুরু করা হলো; এবার অনেক্ষণপর তার কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো। তাকে কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথা আর বলতে পারলো না, তবে আমরা তাকে দুইমাসের রুকইয়াহ'র প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দিলাম। তাদেরকে ধৈর্যের সাথে আমল করতে বললাম। দেখা গেলো দুইমাস সময়ও লাগলো না, মাত্র চল্লিশ বিয়াল্লিশ দিন পরেই মুঠোফোনে তারা জানালো যে, ছেলে কথা বলা শুরু করেছে। এরপর পরবর্তিতে তাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্ ছেলেটি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছে।