📄 এক তাগড়া জ্বিনের কবলে
[আভজ্ঞতা ৩] যে ছেলেটির কথা বলছি, বয়স তার আট কি নয় বছর ছুঁইছুঁই। লেখাপড়া করে। ছাত্র হিসেবে মেধাবী। তার বাবা একজন স্থানীয় মাসজিদের ইমাম। ছেলেটি হাসিখুশি ও চঞ্চল টাইপের। তো হঠাৎ করে ছেলেটি কেমন যেন আনমনা হয়ে গেলো। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তার দিকে চোখ কটমট করে চেয়ে থাকে। এবং সবার সাথে রুক্ষ ব্যবহার করে। পড়তে চায়না। তার ফ্যামিলির সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো। হল কি ছেলেটার, তার বাবার সাথে আমাদের এক পরিচিত ভাইয়ের সাথে পরিচয় ছিলো ছেলেটির বাবা ওই, ভাইয়ের মাধ্যমে রুকিয়াহ সম্পর্কে জানতে পারলো। আমাদের ওই ভাই তাকে তার ছেলেকে নিয়ে বুকইয়াহ করতে আসতে বললেন。
তো সেদিনই সন্ধ্যায় সে ছেলেটাকে নিয়ে চলে আসলো। আমাদের এক ভাই ছেলেটাকে রুকইয়াহ করার জন্য বসালো। এমন সময় সে দৌড় দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। কেউ একজন ছেলেটাকে দৌড়ে গিয়ে ধরে নিয়ে আসলো। এরপর একজন তাকে শক্ত করে ধরে রাখলো। কিন্তু সে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলএবং আবার দৌড় দিলো,। কিন্তু সে তাড়াতাড়ি উঠে পিছন থেকে ছেলেটিকে ধরে ফেললো। ছেলেটি এবার আর পালাতে পারলো না। সে ছেলেটিকে এবার আর ছুটে যাওয়ার চান্স দিলোনা। ছেলেটি ছুটতে না পেরে রাগে কটমট করতে লাগলো। আমাদের ওই ভাই দ্রুত রুকইয়াহ শুরু করলো。
কিছুক্ষণরুকইয়াহ শোনার পরছেলেটি তাকে ছিটা মারতে লাগলো,। কিন্তু সেও ছাড়বার পাত্র নয় সে তাকে আরো ভালোভাবে ধরে রাখলো যেন ছুটে যেতে না পারে। ওদিকে আমাদের ওই ভাই রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে লাগলো। ছেলেটি এবার ছটফট করতে লাগলো। রুকইয়াহ চলতে লাগলো। কিছুক্ষণপরে সহ্য করতে না পেরে জিনটি এবার কথা বলা শুরু করল। আমাকে কষ্ট দিস না, আমাকে ছেড়ে দেআমি আর আসবো না, আমি চলে যাচ্ছি, ইত্যাদি। এবং আরো অনেক অশ্লীল কথা বলতে লাগলো。
মূলত আছর করার পর থেকে জিনটি ছেলেটির সাথেই ছিল এবং রুকইয়াহ করা পর্যন্ত তার মধ্যে ঘাপ্টি মেরে ছিল কিন্তু যখন রুকইয়াহ শুনে তার জ্বালা শুরু; হয়ে গেলো, তখন কথা বলা শুরু করলো। এরূপ দীর্ঘক্ষণ (রুকইয়াহ চলার পরে ছেলেটি আস্তে আস্তে চুপসে গেল। মানে জিন চলে গিয়েছে। এরপর রুকইয়াহ শেষ করা হলো। আলহামদুলিল্লাহ সেই যে জিন চলে গিয়েছে এখন পর্যন্ত আমার জানামতে আর ছেলেটিকে জিনে আছর করেনি।
📄 বিচ্ছেদ করার যাদু সফল হয়নি
[অভিজ্ঞতা ৪] একজন মধ্যবয়স্ক ভদ্রমহিলা এসেছিলেন আমাদের কাছে। ঢাকার ইসলামবাগে তার নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তার সমস্যা হলো, তার স্বামী তাকে হঠাৎ করে কেমন যেন অপছন্দ করছে। তিনি প্রায়ই রাতে বাসায় আসতেন না। স্ত্রীর সাথে কথা পর্যন্ত বলতেন না। এমনকি বর্তমানে তিনি স্ত্রীর সাথে অভিমান করে দেশের বাহিরে চলে গিয়েছেন। এই হল তার মূল প্রবলেম。
এখানে মূলত তার স্বামীকে ব্লাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে স্ত্রী থেকে ফিরিয়ে রাখা হয়েছে। হয়তো নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ করে থাকবে, তো আমরা তাকে তার প্রবলেম অনুযায়ী রুকইয়াহ করলাম এবং তাকে দুইমাসের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিলাম。
তিনি আমলের বিষয়টি যত্ন সহকারে করেছেন, এবং মাঝে মাঝে ফোন করে যেটা না বুঝেছেন আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করে নিয়েছেন। এভাবে দিন চলতে লাগলো। একদিন দুদিন করে প্রায় দেড়মাস কেটে গেলো, কিন্তু কোনো খবর আসে না。
পরে একদিন হঠাৎ করে তার স্বামী দেশে ফিরে সরাসরি বাসায় এসে তার সামনে হাজির। তিনি ভাবতেও পারেননি যে তার স্বামী এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে。
এমনকি একমাসও সময় লাগলো না। এটা নিতান্তই আল্লাহর কালামের বারাকাহ্। এরপর ভদ্র মহিলা আমাদের কাছে এসে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্
📄 বেশি ভয় পেলেও জ্বিনে আছর করে
[আভিজ্ঞতা ৫] এখন যার কথা বলবো, সে একটি শিশু। বয়স আর কত হবে; দশ কি বারো বছর। একটি প্রাইভেট হিফজ মাদরাসায় পড়ে নাজেরা বিভাগে। ঢাকার শ্যামলীর কাছাকাছি থাকে। তো ঘটনার দিন সে বাসায় ছিলো। বাসায় বসে তার বাবার মোবাইল ফোনে একটি ভিডিওক্লিপ দেখছিলো; হঠাৎ ভয় পেয়ে খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলো। তার বাবা এসে বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাকে হালকা পাতলা মারপিট করলো না বলে মোবাইল নেয়ার জন্য।
এভাবে দিন গড়িয়ে রাত আসলো। যখন ইশার নামাজের সময় হলো, তখন ছেলেটি মসজিদে গেলো নামাজ পড়তে। নামাজে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করে আবার খুব জোরে চিৎকার করতে লাগলো।
উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে গিয়ে শান্ত করতে চেষ্টা করল, তারা যতই তাকে থামানোর চেষ্টা করে সে আরো জোরে চিৎকার করে। -তারা জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?
কে শোনে কার কথা; সে অবিরাম কেঁদেই চলেছে, এরপর তারা তার বাবাকে খবর দিলো। তার বাবা এসে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসলো।
বাসায় এসে তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করলো,
-কি হয়েছে কিছু দেখে ভয় পেয়েছো?
সে কিছু বলছে না। শুধু চিৎকারই করে চলেছে। তখনই তার বাবা ফোন দিলো। তাকে মসজিদের ইমাম সাহেবকে ফোনে ধরিয়ে দিতে বললাম।
তারা ইমাম সাহেবকে দিলো। ইমাম সাহেবকে কিছু রুকইয়াহ সংশ্লিষ্ট আয়াত, ছেলেটির কানের কাছে উচ্চস্বরে পড়তে বললাম ও আরো প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দিলাম। ইমাম সাহেব জিনঘটিত ব্যাপার দেখে রাজি হলেন না। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলেন। এবং ছেলের বাবাকে এক হুযুরের কাছে গিয়ে তাবিজ নিতে পরামর্শ দিলেন। ছেলেটির বাবা তাবিজ নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি বললেন, ছেলে সুস্থ না হলেও আমি তাবিজ নিবো না। এরপর তিনি চলে আসলেন। সেদিন এভাবেই কেটে গেলো। পরের দিন তার বাবা আমাকে ফোন দিয়ে যেতে বললেন, আমি অবস্থা বেগতিক দেখে আমাদের এক ভাইকে পাঠালাম।
সে বাসায় গিয়ে প্রথমে ছেলেটিকে রুকইয়াহর গোছল দিলো। এরপর তাকে রুকইয়াহ করলো।
টানা এক-দেড়ঘন্টা রুকইয়াহ করার পর, আলহামদুলিল্লাহ সে সুস্থ হয়ে যায়। সে চলে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো সমস্যা হয়নি, পরে ফোন দিয়ে জেনেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ্ কোনো সমস্যা হয়নি। সে এখন সুস্থভাবে মাদরাসায় লেখাপড়া করছে।
📄 আল কুরআনের বারাকাহ
[আভিজ্ঞতা ৬] এখন যে ছেলেটির কথা বলব তার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন ধাঁচের। আমরা এক পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে তার কথা জানতে পারি। ছেলেটির অবস্থা ছিলো খুবই নাজুক, এবং সে অস্বাভাবিক আচরণ করতো!
সবার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতো। যে কাউকে তেড়ে মারতে আসতে চাইতো! ছেলের করুণ অবস্থা দেখে তার মা রুকইয়াহ'র ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি ওই পরিচিত ভাইকে রুকইয়াহ করার জন্য অনুরোধ জানায়。
প্রথমে যে ভিন্নতার কথা বলেছিলাম, তা হলো তারা ছিলো হিন্দু সম্প্রদায়ের! তার মায়ের অনুরোধে আমাদের এক ভাই রুকইয়াহ করার জন্য তার বাসায় যান। বাসায় গিয়ে ছেলেটিকে রুকইয়াহ শুরু করে; আধাঘন্টা যেতে না যেতেই ছেলেটি হাত পা ছুড়তে লাগলো। এর কিছুক্ষণপরেই তার সাথে থাকা জিনটি হাজির হয়ে গেলো!
- সে জিনটিকে জিজ্ঞেস করলো, এই তোর নাম কি?
- কোন কথা বলে না!
- আবার জিজ্ঞেস করলো, তুই কোথায় থাকিস?
- কোন সাড়া নেই।
- তৃতীয়বার যখন জিজ্ঞেস করলো তোর বয়স কত? তখন সে কথা বলা শুরু করলো,
- জিন বলল আমার বয়স একহাজার বছর।
- সে জিজ্ঞেস করলো এর সাথে তুই এসেছিস কেন?
- জিন বললো আমি তাকে পছন্দ করি!
- সে বললো, তুই এই ছেলের কাছ থেকে চলে যা;
- জিন বললো আমি যেতে পারি একটা শর্ত!
- সে বললো কি শর্ত?
- জিন বিভিন্ন উদ্ভট কথাবার্তা বলতে লাগলো।
- সে বললো, শর্ত ছাড়া যাবি কিনা বল?
- জিন বললো না যাবো না।
- সে বললো, “তাহলে আল্লাহর কালাম মনোযোগ দিয়ে শোন। এরপর সে পুনরায় রুকইয়াহ শুরু করলো। এখন জিনটি চেঁচাতে লাগলো। কিছুক্ষণপরে সে বলতে লাগলো,
- আমি যাচ্ছি! আমি যাচ্ছি! আমাকে ছেড়ে দে আমি আর আসবো না।
এরকম কয়েকবার বলার পরে সে শান্ত হয়ে গেলো। এরপর সে রুকইয়াহ শেষ করলো এবং ছেলেটি সুস্থ হয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ এরপর ওই ভাই চলে আসলো। পরবর্তীতে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এরপর ছেলেটির আর কোনও সমস্যা হয়নি।