📘 রুকইয়াহ > 📄 অলসতা, ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ

📄 অলসতা, ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ


প্রথমে প্রাসঙ্গিক হাদীসটির উদ্ধৃতি দিচ্ছি-
আলী রা. থেকে বর্ণিত, ফাতিমা রা. এক বার খবর পান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েকজন বন্দি আনা হয়েছে। তিনি আটা পেষার কষ্টের কথা জানিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন খাদিম চাওয়ার জন্য গেলেন (অন্য বর্ণনায় কূপ থেকে পানি তোলার কথাও আছে)। কিন্তু তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না, তখন বিষয়টা আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে জানালেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে আয়িশা রা. তাঁকে ব্যাপারটা অবহিত করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তখন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। আমরা বিছানায় শুয়ে ছিলাম। আমরা (তাকে দেখে) উঠতে লাগলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাকো। আমি আমার বুকে তাঁর পায়ের স্পর্শ অনুভব করলাম। (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বুকের কাছে বসলেন) এরপর বললেন, তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চাইতে উত্তম বস্তুর সন্ধান দেব? যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহ আকবার’ তেত্রিশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এটা তোমরা যা চেয়েছ, তোমাদের জন্য তার চাইতে উত্তম হবে। ১

হাদীসটি প্রসিদ্ধ, আমরা অনেকেই জানি। এর ওপর আমল করলে কর্মক্ষমতা বাড়ে, অলসতা দূর হয়, একটুতেই ক্লান্ত হওয়ার ভাব চলে যায়। যদি সালাতে বা অন্যান্য ইবাদাতে আলসেমি লাগে, তখন এই আমল করলে সেটা চলে যায়। এটা আপনি ঘুমের আগেও করতে পারেন, এছাড়া দিনের মধ্যে কোনো সময় ক্লান্তি ভর করলে তাৎক্ষণিক উপকারের জন্য তখনই এই আমলটা করতে পারেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছিলেন 'এটা তোমরা যা চেয়েছিলে তার থেকে উত্তম'—কথাটির কারণ খুবই পরিষ্কার। এই তাসবীহগুলোতে ক্লান্তি দূর হচ্ছে, কাজ সহজেই হয়ে যাচ্ছে, খাদেমের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বেঁচে যাচ্ছে। উপরন্তু ১০০ বার তাসবীহ পড়ার জন্য আখিরাতের হিসাবের খাতায় অনেক সওয়াবও জমে যাচ্ছে। এর চেয়ে উত্তম নাসীহাহ আর কী হতে পারে!

টিকাঃ
১. বুখারী: ২৯৪৫

📘 রুকইয়াহ > 📄 অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ

📄 অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ


বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের রুকইয়ার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক দুআ-কালাম পাওয়া যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগীর মাথায় বা কপালে হাত রেখে এসব পড়তেন। কখনো এসব পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে ফুঁ দিতেন, আবার কখনো শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। কলেবর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বিধায় সব এখানে লেখা সম্ভব নয়। এজন্য কুতুবে সিত্তার হাদীসগ্রন্থগুলো, বিশেষত তিরমিযি শরীফের চিকিৎসা অধ্যায় দেখা যেতে পারে।
আর প্রতিটা রোগের জন্য আলাদা আলাদা রুকইয়ার নিয়ম, বিশেষ বিশেষ দুআ বা আয়াত উল্লেখ করা তো মুশকিল। উপরন্তু বিভিন্ন রোগের আমালে কোরআনি বিষয়ে যেহেতু আরও বই আছে, তাই এ প্রসঙ্গে এখানে আলোচনা দীর্ঘ না করে সংক্ষেপে কিছু মৌলিক পদ্ধতি বলে দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর ওপর তাওয়াককুল করে একটু মাথা খাটিয়ে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ এতটুকুই অনেক ফলদায়ক হবে।

কুরআন থেকে প্রসিদ্ধ কিছু রুকইয়াহ—
১. সূরা ফাতিহা;
২. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস;
৩. এ ছাড়া ৬টি আয়াতে শিফা পড়া যেতে পারে—সূরা তাওবাহ: ১৪, ইউনুস: ৫৭, নাহল: ৬৯, বনী ইসরাঈল: ৮২, সাজদা: ৪৪।

১. وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
২. وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
৩. يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيْهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ
৪. وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
৫. وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
৬. قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء

এর পাশাপাশি কিছু হাদীসের দুআ পড়া উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক দুআ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো-
১. اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اِشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
২. بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ ، اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيْكَ
৩. بِاسْمِ اللهِ يُبْرِيكَ ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيْكَ ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
৪. بِسْمِ اللهِ (৩ বার)
৫. أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ (৭ বার)
৬. أَسْأَلُ اللهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، أَنْ يَشْفِيَكَ (৭ বার)

এছাড়াও অন্যান্য নবীদের কিছু দুআ পড়া যেতে পারে-
১. رَبِّ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
২. رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
৩. لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

রুকইয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি-
১. এগুলো পড়ে সরাসরি রোগীকে ফুঁ দেওয়া। বিশেষত যে অঙ্গ আক্রান্ত, সেখানে ফুঁ দেওয়া।
২. রোগীর মাথায় হাত রেখে এগুলো পড়া, অথবা ব্যথার জায়গা বা আক্রান্ত অঙ্গে হাত রেখে পড়া।
৩. এসব পড়ার পর কালোজিরার তেল বা অলিভ অয়েলের ওপর ফুঁ দেওয়া, এরপর যে অঙ্গ আক্রান্ত সেখানে মালিশ করা।
৪. পড়ার পর পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন কয়েকবেলা খাওয়া। গোসলের পানিতে ফু দিয়ে অথবা রুকইয়ার পানি মিশিয়ে গোসল করা। পানি প্রস্তুতের সময় নিয়ত করে নেয়া যে আমি অমুক রোগের জন্য রুকইয়াহ করছি।
৫. মধু, কালোজিরা অথবা ডাক্তারের দেওয়া কোনো ওষুধে এগুলো পড়ে ফুঁ দিয়ে খাওয়া। অয়েন্টমেন্ট বা ক্রিমে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করা।
এসবের পাশাপাশি সুস্থতার নিয়তে রুকইয়ার আয়াতগুলো তিলাওয়াত করা অথবা রুকইয়ার নিয়াতে কোন তিলাওয়াত শোনা।
সারকথা হচ্ছে, ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি উপরিউক্ত এক বা একাধিক পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করা। আর অবশ্যই আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদ এবং অন্যান্য সালাত পড়ে বেশি বেশি দুআ করা এবং দান করা। আল্লাহ চায় তো সুস্থতার জন্য এগুলো যথেষ্ট হবে।
শেষে দুটি কথা, যেহেতু আল্লাহর ফায়সালা এবং তাকদীরের পর মানুষ সবচেয়ে বেশি মারা যায় বদনজরের কারণে। ১ সুতরাং অনেক রোগের পেছনেই দায়ী থাকে বদনজর। তাই ওষুধ বা ডাক্তারের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফায়দা হচ্ছে না মনে হলে, চিকিৎসা চালু রেখে বদনজরের রুকইয়াহ করা উচিত। আর রোগ একটু জটিল হলে এক্ষেত্রে ৭ দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করা যেতে পারে। ইনশাআল্লাহ অনেক উপকার হবে।

টিকাঃ
১. মুসনাদে আবূ দাউদ ত্বয়ালিসী: ১৮৫৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00