📘 রুকইয়াহ > 📄 চোখের সমস্যার জন্য রুকইয়াহ

📄 চোখের সমস্যার জন্য রুকইয়াহ


চোখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য সূরা কাফ-এর ২২ নম্বর আয়াতের শেষাংশ এবং সাথে সূরা ফাতিহা বেশ উপকারি। সূরা কাফ-এর আয়াতটি হচ্ছে-
فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
“আমি তোমার থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। তাই আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।” ১
সালাত শেষে সূরা ফাতিহা এক বার এবং এই আয়াতটি ৩ বার পড়ুন। এরপর মুখের কাছে হাত নিয়ে ফুঁ দিন, যেন চোখে বাতাস লাগে। অথবা হাতে ফুঁ দিয়ে চোখ মুছে নিন। এভাবে প্রতি সালাতের পরেই করুন। ২

টিকাঃ
১. সূরা কাফ: ২২
২. আমলটি সালাতের পরে করতে বলার কারণ হচ্ছে, ওই সময় দুআ কবুল হয়। রুকইয়াহ যেহেতু এক প্রকার দুআ, তাই সালাত শেষে রুকইয়াহ করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ও আপনি এটা করতে পারেন।

📘 রুকইয়াহ > 📄 শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, ফুসফুসের সমস্যা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ

📄 শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, ফুসফুসের সমস্যা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ


অনেক সময় হঠাৎ হাঁপানি হয়, অথবা কাশতে কাশতে দম বের হয়ে যাবে মনে হয়। অ্যালার্জির জন্য হাঁচি হচ্ছে তো হচ্ছেই, থামার নামগন্ধ নেই। চোখ চুলকিয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, ওদিকে আবার ঔষধ খেয়ে খেয়েও বিরক্ত হয়ে যান। হাতের কাছে ঔষধ ও থাকে না, অথবা সাওম রাখার কারণে কিছু খাবার সুযোগ নেই। এমতাবস্থায়, দুই হাত মুনাজাতের মতো করে মুখের কাছে নিন, এরপর হাতের ওপর কয়েকবার (৩/৭ বার) সূরা ফাতিহা পড়ুন। এরপর হাত দুটো দ্বারা অক্সিজেন মাস্কের মতো নাক-মুখ ঢেকে নিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিন। এই কাজটা মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার করুন। ইনশাআল্লাহ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
ব্যাপারটা এমন, যেন আপনার হাতটা নেবুলাইজারের মাস্ক। সেখানে ঔষধও দেওয়া আছে, তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে টেনে নিয়ে আপনি উপকৃত হচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী উপকারের জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই নিয়মে করুন। এর পাশাপাশি চলতি অধ্যায়ের শেষ অনুচ্ছেদে বলা আয়াত এবং দুয়া পড়ে অলিভ অয়েল আর মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন বুকে তেল মালিশ করা এবং মধু খাওয়া উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

📘 রুকইয়াহ > 📄 হাড়ক্ষয় রোগের জন্য রুকইয়াহ

📄 হাড়ক্ষয় রোগের জন্য রুকইয়াহ


আয়াতে ইজাম হাড়ক্ষয় রোগের চিকিৎসা এবং মেরুদণ্ডের ব্যথায় বিশেষভাবে উপকারি। ইজাম অর্থ হাড়সমূহ। কুরআনের যে আয়াতগুলোতে হাড় শব্দ আছে, সেগুলোকে আয়াতে ইজাম বলে। আয়াতগুলো হচ্ছে-
সূরা বাকারা: ২৫৯, সূরা বনী ইসরাঈল: ৪৯ এবং ৯৮, সূরা মারইয়াম: ৪, সূরা মুমিনুন: ১৪, ৩৫ এবং ৮২, সূরা ইয়াসীন: ৭৮ ও ৭৯, সূরা সফফাত: ১৬ এবং ৫৩, সূরা ওয়াকিয়াহ: ৪৭, সূরা কিয়ামাহ: ৩ ও ৪ এবং সূরা নাযিআত: ১১ নম্বর আয়াত। উল্লেখ্য, এখানে বলা সবগুলো আয়াত পড়তে না পারলে অল্প কিছু আয়াত (যেমন: শুধু সূরা ইয়াসীন এবং সূরা কিয়ামাহর আয়াতগুলো) কয়েকবার পড়ে রুকইয়াহ করা যেতে পারে। যথা-
۱. وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
٢. أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَجْمَعَ عِظَامَهُ بَلَى قُدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوِيَ بَنَانَهُ
হাড়ক্ষয় সমস্যার জন্য রুকইয়ার নিয়ম হলো, উল্লিখিত আয়াতগুলো পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে হাত বুলিয়ে নেওয়া। সুস্থ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েকবার করে এই নিয়মে রুকইয়াহ করা উচিত। এছাড়া অলিভ অয়েলে ফুঁ দিয়ে, আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন মালিশ করা যেতে পারে। আর সম্ভব হলে হিজামা করানো যেতে পারে, কারণ হাড়ক্ষয়ের চিকিৎসায় হিজামা থেরাপি অনেক কার্যকরী।

টিকাঃ
১. সবগুলো আয়াত একত্রে http://ruqyahbd.org ঠিকানায় পাওয়া যাবে।

📘 রুকইয়াহ > 📄 অলসতা, ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ

📄 অলসতা, ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ


প্রথমে প্রাসঙ্গিক হাদীসটির উদ্ধৃতি দিচ্ছি-
আলী রা. থেকে বর্ণিত, ফাতিমা রা. এক বার খবর পান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েকজন বন্দি আনা হয়েছে। তিনি আটা পেষার কষ্টের কথা জানিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন খাদিম চাওয়ার জন্য গেলেন (অন্য বর্ণনায় কূপ থেকে পানি তোলার কথাও আছে)। কিন্তু তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেলেন না, তখন বিষয়টা আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে জানালেন। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলে আয়িশা রা. তাঁকে ব্যাপারটা অবহিত করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) তখন নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। আমরা বিছানায় শুয়ে ছিলাম। আমরা (তাকে দেখে) উঠতে লাগলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাকো। আমি আমার বুকে তাঁর পায়ের স্পর্শ অনুভব করলাম। (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বুকের কাছে বসলেন) এরপর বললেন, তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চাইতে উত্তম বস্তুর সন্ধান দেব? যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহ আকবার’ তেত্রিশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এটা তোমরা যা চেয়েছ, তোমাদের জন্য তার চাইতে উত্তম হবে। ১

হাদীসটি প্রসিদ্ধ, আমরা অনেকেই জানি। এর ওপর আমল করলে কর্মক্ষমতা বাড়ে, অলসতা দূর হয়, একটুতেই ক্লান্ত হওয়ার ভাব চলে যায়। যদি সালাতে বা অন্যান্য ইবাদাতে আলসেমি লাগে, তখন এই আমল করলে সেটা চলে যায়। এটা আপনি ঘুমের আগেও করতে পারেন, এছাড়া দিনের মধ্যে কোনো সময় ক্লান্তি ভর করলে তাৎক্ষণিক উপকারের জন্য তখনই এই আমলটা করতে পারেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছিলেন 'এটা তোমরা যা চেয়েছিলে তার থেকে উত্তম'—কথাটির কারণ খুবই পরিষ্কার। এই তাসবীহগুলোতে ক্লান্তি দূর হচ্ছে, কাজ সহজেই হয়ে যাচ্ছে, খাদেমের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বেঁচে যাচ্ছে। উপরন্তু ১০০ বার তাসবীহ পড়ার জন্য আখিরাতের হিসাবের খাতায় অনেক সওয়াবও জমে যাচ্ছে। এর চেয়ে উত্তম নাসীহাহ আর কী হতে পারে!

টিকাঃ
১. বুখারী: ২৯৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00