📄 তোতলামির সমস্যায় করণীয়
তোতলামি সমস্যাটাকে আমরা দুইভাগে ভাগ করব-
প্রথমত: জন্মগত বা কোনো রোগের কারণে সৃষ্ট সমস্যা। এক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে-
১. দিনে কয়েকবার (সম্ভব হলে প্রতি ওয়াক্তের সালাতের পরেই) হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর দুআটা পড়া।
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِى وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
“হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।” ১
২. সামনের 'অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ' অংশে বলা দুআ এবং আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন পান করা।
দ্বিতীয়ত: বদনজরের কারণে সমস্যা। হয়তো কেউ অনেক সুন্দর করে কথা বলত। এরপর দেখা গেল, হঠাৎ সে তোতলামি শুরু করেছে অথবা কথা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। বাচ্চা অথবা প্রাপ্তবয়স্ক-উভয়ের ক্ষেত্রেই এমনটা হতে পারে। এরকম অবস্থায় সমস্যা শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত রুকইয়াহ করা যাবে, ততই ভালো। আর এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, কিছুদিন বদনজরের জন্য রুকইয়াহ করা, পাশাপাশি পূর্বের দুটি পরামর্শও অনুসরণ করা।
টিকাঃ
১. সূরা ত্বহা: ২৫-২৮
📄 চোখের সমস্যার জন্য রুকইয়াহ
চোখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য সূরা কাফ-এর ২২ নম্বর আয়াতের শেষাংশ এবং সাথে সূরা ফাতিহা বেশ উপকারি। সূরা কাফ-এর আয়াতটি হচ্ছে-
فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
“আমি তোমার থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। তাই আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।” ১
সালাত শেষে সূরা ফাতিহা এক বার এবং এই আয়াতটি ৩ বার পড়ুন। এরপর মুখের কাছে হাত নিয়ে ফুঁ দিন, যেন চোখে বাতাস লাগে। অথবা হাতে ফুঁ দিয়ে চোখ মুছে নিন। এভাবে প্রতি সালাতের পরেই করুন। ২
টিকাঃ
১. সূরা কাফ: ২২
২. আমলটি সালাতের পরে করতে বলার কারণ হচ্ছে, ওই সময় দুআ কবুল হয়। রুকইয়াহ যেহেতু এক প্রকার দুআ, তাই সালাত শেষে রুকইয়াহ করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ও আপনি এটা করতে পারেন।
📄 শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, ফুসফুসের সমস্যা ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ
অনেক সময় হঠাৎ হাঁপানি হয়, অথবা কাশতে কাশতে দম বের হয়ে যাবে মনে হয়। অ্যালার্জির জন্য হাঁচি হচ্ছে তো হচ্ছেই, থামার নামগন্ধ নেই। চোখ চুলকিয়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, ওদিকে আবার ঔষধ খেয়ে খেয়েও বিরক্ত হয়ে যান। হাতের কাছে ঔষধ ও থাকে না, অথবা সাওম রাখার কারণে কিছু খাবার সুযোগ নেই। এমতাবস্থায়, দুই হাত মুনাজাতের মতো করে মুখের কাছে নিন, এরপর হাতের ওপর কয়েকবার (৩/৭ বার) সূরা ফাতিহা পড়ুন। এরপর হাত দুটো দ্বারা অক্সিজেন মাস্কের মতো নাক-মুখ ঢেকে নিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিন। এই কাজটা মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার করুন। ইনশাআল্লাহ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
ব্যাপারটা এমন, যেন আপনার হাতটা নেবুলাইজারের মাস্ক। সেখানে ঔষধও দেওয়া আছে, তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে টেনে নিয়ে আপনি উপকৃত হচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী উপকারের জন্য প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই নিয়মে করুন। এর পাশাপাশি চলতি অধ্যায়ের শেষ অনুচ্ছেদে বলা আয়াত এবং দুয়া পড়ে অলিভ অয়েল আর মধুতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন বুকে তেল মালিশ করা এবং মধু খাওয়া উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
📄 হাড়ক্ষয় রোগের জন্য রুকইয়াহ
আয়াতে ইজাম হাড়ক্ষয় রোগের চিকিৎসা এবং মেরুদণ্ডের ব্যথায় বিশেষভাবে উপকারি। ইজাম অর্থ হাড়সমূহ। কুরআনের যে আয়াতগুলোতে হাড় শব্দ আছে, সেগুলোকে আয়াতে ইজাম বলে। আয়াতগুলো হচ্ছে-
সূরা বাকারা: ২৫৯, সূরা বনী ইসরাঈল: ৪৯ এবং ৯৮, সূরা মারইয়াম: ৪, সূরা মুমিনুন: ১৪, ৩৫ এবং ৮২, সূরা ইয়াসীন: ৭৮ ও ৭৯, সূরা সফফাত: ১৬ এবং ৫৩, সূরা ওয়াকিয়াহ: ৪৭, সূরা কিয়ামাহ: ৩ ও ৪ এবং সূরা নাযিআত: ১১ নম্বর আয়াত। উল্লেখ্য, এখানে বলা সবগুলো আয়াত পড়তে না পারলে অল্প কিছু আয়াত (যেমন: শুধু সূরা ইয়াসীন এবং সূরা কিয়ামাহর আয়াতগুলো) কয়েকবার পড়ে রুকইয়াহ করা যেতে পারে। যথা-
۱. وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ
٢. أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَجْمَعَ عِظَامَهُ بَلَى قُدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوِيَ بَنَانَهُ
হাড়ক্ষয় সমস্যার জন্য রুকইয়ার নিয়ম হলো, উল্লিখিত আয়াতগুলো পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে হাত বুলিয়ে নেওয়া। সুস্থ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েকবার করে এই নিয়মে রুকইয়াহ করা উচিত। এছাড়া অলিভ অয়েলে ফুঁ দিয়ে, আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন মালিশ করা যেতে পারে। আর সম্ভব হলে হিজামা করানো যেতে পারে, কারণ হাড়ক্ষয়ের চিকিৎসায় হিজামা থেরাপি অনেক কার্যকরী।
টিকাঃ
১. সবগুলো আয়াত একত্রে http://ruqyahbd.org ঠিকানায় পাওয়া যাবে।